ঘটনাবহুল একটি দিন পার করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেওয়ায় মাঠে গড়ায়নি বিপিএলের কোনো ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে চলমান বিপিএল আসর।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করায় টস পর্যন্ত হয়নি। এমনকি খেলোয়াড়রা মাঠে উপস্থিতও হননি।
এর ফলে স্টেডিয়ামের ভেতরে অবস্থান করা দর্শক এবং বাইরে অপেক্ষমান দর্শক-জনতার মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্টেডিয়ামের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় কিছু মানুষ।
পরে স্টেডিয়ামের সামনে বিসিবির বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। বিপিএলের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে ঈদযাত্রার এই ব্যস্ততার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। বিভিন্ন দূরপাল্লার পরিবহনে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রী জানান, অগ্রিম টিকিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে দাঁড়িয়ে কিংবা ইঞ্জিনের ওপর বসে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে। বরিশালগামী যাত্রী জসিম অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ সময়ে ৫০০ টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এবার প্রতিটি টিকিটের জন্য ৮০০ টাকা গুনতে হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুধু বরিশাল নয়, চট্টগ্রাম ও খুলনাগামী পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নন-এসি বাসে যেখানে সাধারণ সময়ে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে এখন আদায় করা হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে তীব্র যাত্রীচাপের কারণে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সকাল থেকেই ছিল ভিড় আর বিশৃঙ্খল পরিবেশ।
একটি মানুষের জীবনের প্রথম এবং প্রধান শিক্ষক হলেন তাঁর পিতামাতা। অনেক সময় ক্যারিয়ার আর নিজেদের ছোট পরিবারের পেছনে ছুটতে গিয়ে সেই শেকড়কে ভুলে যাই। বৃদ্ধাশ্রমের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়। ইসলামে আল্লাহর ইবাদতের পরেই পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সন্তুষ্টিতে জীবনের বরকত লাভ। তাদের প্রতি ১০টি দায়িত্ব তুলে ধরা হলো: ১. আল্লাহর ইবাদতের পর প্রধান দায়িত্ব পিতামাতার সেবা করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মৌলিক ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণার ঠিক পরেই পিতামাতার প্রতি দয়া করার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ বলেছেন, “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩) ২. বার্ধক্যে বিশেষ ধৈর্য ও মমতা পিতামাতা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাঁদের মেজাজ বা আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। সেই সময়ে তাঁদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেছেন, “তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদের প্রতি ‘উফ’ শব্দটি পর্যন্ত বলো না এবং তাদের ধমক দিও না।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩) ৩. জান্নাতের সহজতম দরজা পেশাগত সাফল্য বা বিত্ত-বৈভব আপনাকে সাময়িক সুখ দিলেও, পরকালীন চূড়ান্ত সাফল্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে পিতামাতার দোয়ার মধ্যে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা। এখন তুমি চাইলে তা নষ্ট করতে পারো অথবা তা রক্ষা করতে পারো।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯০১) ৪. মায়ের বিশেষ অগ্রাধিকার সন্তানের ওপর বাবার চেয়েও মায়ের অধিকার ও ঋণ অনেক বেশি। নবীজি (সা.) তিনবার মায়ের কথা বলার পর বাবার কথা উল্লেখ করেছেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিকারী কে?” নবীজি বললেন, “তোমার মা।” তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কে?” নবীজি বললেন, “তোমার মা।” তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কে?” নবীজি বললেন, “তোমার মা।” লোকটি চতুর্থবার জিজ্ঞেস করলেন, “তারপর কে?” তিনি বললেন, “তোমার বাবা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৭১) ৫. জিহাদের চেয়েও বড় সেবা ঘরের মানুষের সেবা বাদ দিয়ে কোনো বড় নেক কাজ বা বাইরের দায়িত্ব পালন করা প্রকৃত ধার্মিকতা নয়। ঘরের সেবাকে ইসলাম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার পিতামাতা কি জীবিত?” সে বলল, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তবে তাদের সেবায় জিহাদ (শ্রম) করো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০০৪) ৬. পিতামাতার বন্ধুদের প্রতি সৌজন্য পিতামাতার মৃত্যুর পরও তাঁদের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাঁদের বন্ধুদের সম্মান করা এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা পিতামাতার প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, “বাবার বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা শ্রেষ্ঠতম সদ্ব্যবহার।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৫২) ৭. পিতামাতার জন্য দোয়া করা তাঁরা জীবিত থাকুন বা মৃত, সন্তানের পক্ষ থেকে দোয়া তাঁদের জন্য বড় উপহার। কোরআনে তাঁদের জন্য একটি বিশেষ দোয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, “হে আমার প্রতিপালক, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা শৈশবে আমাকে দয়া ও মমতার সঙ্গে লালনপালন করেছেন।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৪) ৮. পিতামাতার অবাধ্য না হওয়া পিতামাতাকে কষ্ট দেওয়া বা তাঁদের হক নষ্ট করা সরাসরি কবীরা পাপ। এর শাস্তি দুনিয়াতেই পাওয়া যায় বলে হাদিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ ইচ্ছা করলে সব পাপ মাফ করে দিতে পারেন, কিন্তু পিতামাতার অবাধ্যতার পাপ মাফ করেন না বরং মৃত্যুর আগেই দুনিয়াতে তার শাস্তি দেন।” (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৬৬৪৫) ৯. তাঁদের সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজা আপনি যতই ইবাদত করুন না কেন, পিতামাতা আপনার ওপর অসন্তুষ্ট থাকলে সেই শ্রম বৃথা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, “পিতার সন্তুষ্টিতে প্রতিপালকের সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে প্রতিপালকের অসন্তুষ্টি নিহিত।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৮৯৯) ১০. সম্মানজনক সম্বোধন তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর নিচু রাখা এবং সম্মানজনক শব্দ ব্যবহার করা ইসলামের শিষ্টাচার। আল্লাহ বলেছেন, “তাদের সঙ্গে কথা বলো সম্মানজনক ও নম্রভাবে এবং মমতাবশে তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করো।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩-২৪) পিতামাতা আমাদের জীবনে আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। বার্ধক্যে তাঁদের প্রতি আমাদের অবহেলা যেন আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের কারণ না হয়। তাঁদের সেবা করার সুযোগ পাওয়া মানে হলো নিজের জীবনের জন্য পরম এক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে আবারও পুনর্বহাল করা হচ্ছে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (ইসরায়েল ব্যতীত) শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ (ওয়াটারমার্ক) পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের ছবি ও দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও নিদর্শন। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার প্রায় এক ডজন ওয়াটারমার্ক নতুনভাবে ডিজাইন করা হবে। ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং অতীতেও কখনো ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘দিস পাসপোর্ট ইস ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিস অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ (এই পাসপোর্টটি ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ)। তবে ২০২০ সালের শেষ দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়। এখন সেটি পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এতে সম্মতি দিয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি সরকারপ্রধানের কাছে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূরুল আনোয়ার বলেন, এ উদ্যোগ তাদের অধিদপ্তর থেকে শুরু হয়নি। তিনি বলেন, এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। কূটনৈতিক পাসপোর্টে বিষয়টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। গত বছরের ৭ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত একটি আদেশও জারি করা হয়। তবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় এখন নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে পাসপোর্টের পাতার ওয়াটারমার্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন ডিজাইনে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের ছবি। এছাড়া বঙ্গভবন, জিআই পণ্য জামদানি শাড়ি, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, আমবাগান, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর, বান্দরবানের নীলগিরি এবং নারায়ণগঞ্জের পানাম নগরীর ছবিও রাখা হচ্ছে। বর্তমানে থাকা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নৌকাসহ একটি ছবিও পরিবর্তন করা হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাদ পড়ছে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির, বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা সেতু), পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি।