মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভয়াবহ মর্টারশেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ শব্দে কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের পূর্বে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু শহর থেকে এ শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এক তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি কর্তৃক দখল করা এলাকাগুলো পুনরায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই সেখানে অবস্থিত মিয়ানমারের বাহিনীগুলো ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দ্বন্দ্বের জেরে মর্টারশেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। ওই বিস্ফোরণের আওয়াজ টেকনাফ সীমান্তে ভেসে আসছে।
হ্নীলার স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসাইন জানান, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ৫ থেকে ৭ মিনিট পর পর উপর্যুপরি বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে আতঙ্কিত হচ্ছি।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবির) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভুইয়া তাৎক্ষণিক যুগান্তরকে জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে শাহপরীর দ্বীপের পূর্বে মংডু শহরে বোম্পিং বা বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে বলে শুনে আমরা ব্যাটালিয়ন থেকে সীমান্তের শাহপরীর দ্বীপে যাচ্ছি। বিস্তারিত আরও পরে জানাব। তবে মিয়ানমার প্রান্ত থেকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ টেকনাফে শোনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে আতাউল কবির (৪৪) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে দি গ্রান্ড ঢাকা হোটেল নামে আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, আতাউল কবির পিরোজপুর জেলার রাজবাড়ির নেছরাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। দি গ্র্যান্ড হোটেলের ব্যবস্থাপক জিন্টু বড়ুয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় পুলিশ সদস্য আতাউল কবির এ হোটেলের ৪০১ নাম্বার কক্ষে ওঠেন। সকাল ১১টায় চেক আউটের জন্য তার দরজা খুলতে বলার পরও ডেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রুমের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে দেখেন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে ঝুলানো অবস্থায় রয়েছেন তিনি। পরে তার এনআইডি অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, আতাউল কবির পুলিশ সদস্য। যার কর্মস্থল হোয়াইকং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে। এরপর মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার বলেন, পুলিশ সদস্য আতাউল কবির হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানায় একবছর কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সমস্যায় ছিলেন তিনি। ৪ মাস আগে বিষয়টি জেনেছি। কয়েকদিন আগে ছুটিতে যান তিনি, হয়তো বাসা থেকে আসতেই এধরনের প্লান করে এসেছেন। পারিবারিক বিষয়টি জানার পর, আমিও ওনাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। তবে আত্মহত্যার ছবি প্রচার পাবার পর অনেকেই বলছেন- গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় খাটে দাঁড়ানো রয়েছেন আতাউল। এতে একে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। নিচে পায়ের তলায় কিছু লাগলে, ফাঁস লাগার কথা না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আতাউল কবিরের পরিবারের কাছে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে বলে জানিয়েছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হবার চেষ্টা করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জজুড়ে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় পুলিশ, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের তিনটি প্রবেশপথ ও ফটকের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কমপ্লেক্সের সামনে, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, চৌরঙ্গী ও কলেজ রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গত ১ আগস্ট থেকে জেলায় কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। ১৫ আগস্ট যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই তারা টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এদিকে শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল বের করা হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এতে নেতৃত্ব দেন। টহলে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা অংশ নেন। টহলটি জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড ও চৌরঙ্গী হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকায় যায়। পরে টহলটি আবার জেলা শহরে ফিরে আসে।
হিন্দু ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবে না– মর্মে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হওয়ার অধিকার চেয়ে এক দেওয়ানি রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া রায়ে এমন তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন আদালত। অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম। রায় প্রদানকালে আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত। বিবাদী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি জমি সংক্রান্ত সিভিল রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত ২০০৮ জারি করা রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন। মামলার প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার অধিবাসী রামকান্ত বিশ্বাসের এক পুত্র ও তিন কন্যা সন্তান ছিল। তিনি ১৯২০ সালে নিজের অর্থ দিয়ে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে পটিয়া উপজেলাধীন ১.৩৫ একর নালিশি জমি ক্রয় করেন। পরে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাস তার বাবার জীবদ্দশাতেই মারা যান। আর ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাস মারা যান। এরপর মৃত রামকান্ত বিশ্বাসের কন্যা শৌল বালা দাস উক্ত জমির মালিকানা (উত্তরাধিকারী হিসেবে) দাবি করেন। অন্যদিকে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী সাবিত্রী বালা জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৬ সালে ড. মনোরঞ্জন মহুরী নামে একজনের কাছে জমিটি বিক্রি করে দেন। পরে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে (চৌকি আদালত) এই জমির উত্তরাধিকার দাবি করে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন শৌল বালা দাস। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, উক্ত বিক্রয় দলিলটি জাল, প্রতারণামূলক এবং আইনি বাধ্যবাধকতা ছাড়া হস্তান্তরিত হয়েছে। পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে ২০০০ সালের ২২ জুন বাদীপক্ষের মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদী বিচারিক আদালতের উক্ত রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা জজের আদালতে আপিল দায়ের করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিলটি খারিজ করে রায় দেন। আপিল আদালতের উক্ত রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে বাদী (আপিলকারী) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। শুনানি শেষে একই বছর রুল জারি করেন আদালত। ২০০৮ জারি করা রুলটি গত ৯ জুলাই খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়েছে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার নেই। রায়ে দায়ভাগা স্কুল অব হিন্দু আইনের অধীনে বিধবার অধিকার ও উত্তরাধিকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হাইকোর্ট বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তির স্বত্ব বা অধিকার পান। তবে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত। বিধবা নারী যদি এই সম্পত্তি কারও কাছে হস্তান্তর করেন, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সবার থাকে না। সেই হস্তান্তরের আইনি বৈধতা নিয়ে কেবল তিনিই প্রশ্ন তুলতে বা আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন, যিনি বিধবার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী (যাকে আইনি ভাষায় 'রিভার্সনার' বলা হয়) হওয়ার অধিকারী। যে ব্যক্তি বা যার উক্ত সম্পত্তিতে বর্তমানে বা ভবিষ্যতেও উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো আইনগত স্বার্থ বা অধিকার নেই, তিনি এই সম্পত্তি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি– কেবল এই যুক্তি দেখিয়ে সম্পত্তিতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি আদালতে মামলা বা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না।