ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ দুটি ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এদিকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া হাজারো মানুষ এখন তীব্র খাদ্য ও পানির সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এত প্রাণহানিতে দেশের ‘আত্মা ক্ষতবিক্ষত’ হয়ে গেছে।
রাজধানী কারাকাসের উত্তরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুয়াইরার অধিকাংশ ধসে পড়া ভবনে ‘ডি (ডিসিস্ট)’ চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে জীবিত কাউকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্পেনের একটি উদ্ধারকারী দলের সমন্বয়কারী হাভিয়ের রোদেস বলেন, ‘যেখানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেখানে সময় নষ্ট করা হয় না।’ তার দলের প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর নালাও ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজে পায়নি বলে জানান তিনি।
তবে এর মধ্যেও অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কমে যায়।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, প্রায় ১৩ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
খাদ্যের জন্য সংগ্রাম
৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার বহু এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে আগে থেকেই দেশটির অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুর্বল ছিল।
দুর্যোগের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল এলেও অনেক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করছেন, সরকারের সহায়তা যথেষ্ট নয়।
এখন সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সি বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ‘ত্রাণ দেওয়া হয়, কিন্তু খাবারের জন্য মানুষ প্রায় মারামারি করে। পরিস্থিতি যেন মোরগ লড়াইয়ের মতো।’
চুরি ও লুটপাটের ঘটনাও বেড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিস চুরির অভিযোগে বুধবার চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ভেনেজুয়েলা প্রধান লিয়া পোজ্জিও বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন।’
ত্রাণের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দিন দিন আরও বাড়ছে। অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া তরুণী আইসমার লোপেজ বলেন, ‘আমি যখন খাই, তখন মনে হয় কোথাও না কোথাও কেউ না খেয়ে আছে। তাই অপরাধবোধ হয়।’
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগামী তিন মাসে পাঁচ লাখ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ৫ কোটি ডলার জরুরি তহবিলের আবেদন জানিয়েছে।
রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা
ভূমিকম্পের পর সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে, কারণ ভূমিকম্পের আগেই টিকাদানের হার ছিল কম।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা আগামী ছয় মাসে ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয় ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার তহবিলের আবেদন করেছে।
এদিকে নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও স্বজনদের খুঁজছেন অনেক মানুষ। লা গুয়াইরার বাসিন্দা হেলেন গুয়েদেজ ও তার ভাই ধসে পড়া একটি ভবনে বাবা, বোন ও দাদিকে খুঁজে চলেছেন।
হেলেন বলেন, ‘আমরা খোঁজ চালিয়ে যাব। যদি জীবিত না-ও পাই, অন্তত তাদের মরদেহ উদ্ধার করে সম্মানের সঙ্গে দাফন করতে চাই।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দুবাই-তেলআবিব রুটে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ নাশকতার চেষ্টা এবং ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করা সহকারী পাইলট হামাম আলহামামিকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে আগে নিষিদ্ধ করেছিল তার নিজ দেশ ওমান। উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কায় তাকে উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাম আলহামামি ওমানের নাগরিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্ম নেওয়া তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামামি বেশিরভাগ সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি উগ্রপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে সহকারী পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় হামামির কাছে উগ্রপন্থি উপকরণ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাকে প্রশাসনিক পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে শনাক্ত করে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ওই নিষেধাজ্ঞার পরও দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়। এর ফলে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইসরায়েল রুটে উড়োজাহাজ চালানোর সুযোগ পান তিনি। প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল হামামির। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে হামামি মাত্র আট মাস ওই সংস্থায় কাজ করেছিলেন। হামাম আলহামামি নামে এখন মুছে ফেলা একটি লিংকডইন প্রোফাইলে দাবি করা হয়েছিল, তিনি সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে চাকরি ছাড়েন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে তিনি রয়্যাল এয়ার মারক-এ যোগ দেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ছাড়ার পর ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে ওই প্রোফাইলে উল্লেখ ছিল। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টার মধ্যে ওই প্রোফাইল থেকে দুটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। দুটিই ছিল সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত। প্রথম পোস্টে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ককপিটের কয়েকটি ভিডিও দেখা যায়। ভিডিওতে ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি উড়োজাহাজের দিকে ক্যামেরা জুম করা হয়। পরে ভিডিওটি আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর সংগঠনটির নেতৃত্ব দেওয়া আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতী হামলায় নয়জনকে হত্যা করা হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবি দিয়ে শেষ হয় বলে সিএনএন জানিয়েছে। অন্য একটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানের ছবি ছিল। পেছনে থাকা কবিতায় অপমান প্রত্যাখ্যান, মৃত্যুকে ভয় না পাওয়া এবং মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএনএনের আরেক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামামির মুছে ফেলা এক্স অ্যাকাউন্টে তাকে ধর্মপ্রাণ এবং নারীবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হামামি ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি নাশকতার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। যাত্রীদের মধ্যে ২৪ জন শিশু ছিল। পরে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি হঠাৎ দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামতে নামতে এটি প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর উড়োজাহাজের ক্রু ও যাত্রীরা হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়। ককপিটের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে বলতে শোনা যায়, তার সহকারী পাইলট তাকে আঘাত করেছেন। সামনের দিকে থাকা কয়েকজন যাত্রী হামামিকে ককপিট থেকে দূরে সরিয়ে নেন। তাদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন সহকারী পাইলটকে ধরে শ্বাসরোধ করে ককপিট থেকে দূরে সরিয়ে দেন। এ সময় একজন দন্ত চিকিৎসক আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে সহায়তা করেন। পেছনে বসে থাকা আরও দুইজন বিকল্প পাইলট এরপর উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেন। পরে সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি। সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের দিল্লিতে সাত শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটকের একদিনের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার মুম্বাইয়ে বড় সমাবেশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আর দিল্লির পাশাপাশি আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নতুন আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এসআইআরের মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং এ কারণে কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন। দিল্লিতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। গান্ধী জয়ন্তীর দিন যন্তর মন্তরে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরও আম আদমি পার্টি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের কর্মীরা সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সাত শতাধিক মানুষকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, এএপি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও সঞ্জয় সিং, বামপন্থি নেত্রী বৃন্দা কারাত এবং অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও ছিলেন। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে মধ্য দিল্লির ১২টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দিল্লির বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের কমিশনের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কমিশন নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এসআইআর শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলোর প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সেও বিষয়টি জানানো হয়। এ ছাড়া এসআইআর শেষ হওয়া রাজ্যগুলোতে অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফর্ম-৬ থেকে এসআইআর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটিও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আগে ওই ফর্মে নতুন আবেদনকারীর সঙ্গে তার বাবা-মা বা দাদা-দাদির আগের ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। এই বিতর্ক আরও জোরালো হয় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য- সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য পরে বলা হয়েছে, এসআইআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। এদিকে আন্দোলন দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। রয়টার্স জানিয়েছে, গোয়া, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুসহ আরও কয়েকটি শহরে কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সাত শতাধিক আটকের মধ্য দিয়ে দিল্লিতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও নাগরিক বিতর্কের দিকে এগোচ্ছে। একই সময়ে কমিশনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগও পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গণহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে এবং আশপাশের এলাকায় ১২ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ও এর ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখতে এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়ার মতো টেলিকম অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দিল্লি সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং এআইএসএ, এসএফআই, এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তাদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পিটিআইয়ের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। এর আগে গত জুলাইয়েও যন্তর মন্তর ও মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সে সময় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। তিন মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় ফের বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।