খেলাধুলা

মেসি, রোনালদো ও নেইমার: তিন মহাতারকার তিন ভিন্ন বিদায়গাঁথা

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০২, ২০২৬
লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র—একই প্রজন্মের তিন তারকা-মহাতারকা।
লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র—একই প্রজন্মের তিন তারকা-মহাতারকা।

একজনের বিদায় হচ্ছে রাজকীয় আয়োজনে। আরেকজনের শেষটা এখনো অনিশ্চিত। তৃতীয়জনের বিদায় যেন ঠিক বিদায়ও নয়—বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের পরই ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাওয়া এক অধ্যায়।

 

 

লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। একই প্রজন্মের তিন তারকা-মহাতারকা। তিনজনই জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস বদলেছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় এসে তাঁদের গল্প তিনদিকে চলে গেছে।

 

 

মেসির জন্য আর্জেন্টিনা সাজিয়েছে বিদায়ের মঞ্চ। ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্টালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেবে আর্জেন্টিনা। রোনালদো সেখানে পর্তুগালের ক্যাম্পই ছেড়ে চলে গেছেন কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে। নেইমার? ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে নেমে পেনাল্টিতে গোল করেও দলকে বাঁচাতে পারেননি।

 

 

প্রশ্ন হলো, মেসির শেষটা এত সুন্দরভাবে সাজানো গেল, রোনালদো-নেইমারের ক্ষেত্রে কেন হলো না?

 

 

এর উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে তাঁদের শেষ কয়েক বছরের গল্পে। মেসি শেষটা নিজের হাতে লিখেছেন। বিদায়ের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য সম্ভবত এখানেই—তিনি যখন সরে দাঁড়ালেন, তখন তাঁর গল্পে আর কোনো বড় অপূর্ণতা ছিল না। ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থেকেই বিদায় নিচ্ছেন। ফুটবলে প্রবাদ আছে—ফুটবল তোমাকে ছাড়ার আগে তুমি তাকে ছেড়ে দাও। মেসি যেন তা-ই করলেন।

 

 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা। ফিনালিসিমা। তারপর ২০২২ বিশ্বকাপ। ২০২৪ কোপা আমেরিকা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন মেসি।

 

 

বিশ্বকাপ জেতার পর মেসির জাতীয় দলের ক্যারিয়ার আর ‘কিছু একটা প্রমাণ করা বাকি’ অবস্থায় ছিল না। বরং তিনি ছিলেন এমন এক জায়গায়, যেখান থেকে সরে দাঁড়ানো মানেই একটি পূর্ণাঙ্গ গল্পের সমাপ্তি।

 

 

৩১ আগস্ট মেসি নিজেই আন্তর্জাতিক অবসরের সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু সময় এসেছে—এটা তিনি বুঝতে পারছেন। তারপর আর্জেন্টিনা যা করেছে, সেটাই মেসির বিদায়কে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

 

 

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মেসিকে নিয়ে আলাদা ম্যাচ আয়োজন করেছে। মনুমেন্টাল বেছে নেওয়া হয়েছে। ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁর শেষ ম্যাচ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ মেসির বিদায় কোনো ম্যাচের পর হঠাৎ তৈরি হওয়া আবেগ নয়; আগে থেকেই পরিকল্পিত একটি জাতীয় উদ্‌যাপন।

 

 

এখানেই রোনালদোর গল্পটি এসে আটকে যায়।

 

 

রোনালদোর সমস্যা শুধু বয়স নয়

৪১ বছর বয়সে রোনালদো এখনো গোল করতে পারেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি গোল করেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, রোনালদোর চারপাশের দলটি তাঁর বয়সের সঙ্গে বদলেছে।

 

 

একসময় পর্তুগালের আক্রমণ মানেই ছিল রোনালদোকে খুঁজে নেওয়া। তাঁর জন্য বল তৈরি করা। তাঁর দৌড়ের দিকে তাকানো। তাঁকে গোল করার জায়গায় পৌঁছে দেওয়া।

 

 

এখন পর্তুগালের হাতে ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, রাফায়েল লেয়াও, গনজালো রামোসদের মতো একঝাঁক খেলোয়াড়।

 

 

তাই প্রশ্নটা বদলে গেছে। পর্তুগাল কি রোনালদোর জন্য খেলবে, নাকি রোনালদো পর্তুগালের জন্য অন্যদের মতোই খেলবেন? ২০২৬ বিশ্বকাপেই এই দ্বন্দ্বটা স্পষ্ট হয়েছিল।

 

 

ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১–১ ড্রয়ের পর রোনালদোর গতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন সতীর্থ ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রোনালদোর দিকে বল দেওয়ার কোনো চাপ তাঁরা অনুভব করেন কি না।

 

 

উত্তরটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, তাঁরা রোনালদোকে বল দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন না; যে সতীর্থ ভালো অবস্থানে থাকে, তাকেই পাস দেন। একই সঙ্গে রোনালদোকে দলের ‘আর দশজনের মতোই’ একজন সদস্য হিসেবে দেখার কথাও বলেন।

 

 

এই বক্তব্যকে সতীর্থদের রোনালদোকে অপছন্দ করার প্রমাণ বলা যাবে না। কিন্তু একটা পরিবর্তন বোঝা যায়। রোনালদো আর পুরো আক্রমণব্যবস্থার কেন্দ্র নন। এটাই হয়তো তাঁর শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

 

 

রোনালদো কি আরও আগে বিদায় নিলে ভালো হতো? এখানে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলা সহজ। কিন্তু ফুটবলের বাস্তবতা এতটা সহজ নয়।

 

 

২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদো পর্তুগালের সব ম্যাচে খেলেছেন না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে গোলও করেছেন। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ষোলোর ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলেও পর্তুগাল গোল করতে পারেনি, হেরে যায় ১–০। পুরো টুর্নামেন্টে পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোতেই থামে।

 

 

তাই বিশ্বকাপের ব্যর্থতার দায় একা রোনালদোর ওপর চাপানো ঠিক হবে না। তারপরও ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর এই বিশ্বকাপে না খেললেই কি হতো? কিন্তু কোচ রবার্তো মার্তিনেজ এমন একজন মহাতারকার ব্যাপারে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিশ্চয় সহজ হতো না। কারণ, বিশ্বকাপ বাছাইয়েও দলের সর্বোচ্চ স্কোরিার ছিলেন রোনালদো।

 

 

পর্তুগালের সমস্যা ছিল আরও বিস্তৃত—গোলের জন্য এক খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতা, আক্রমণের ভারসাম্য, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এবং দলটির সামগ্রিক পারফরম্যান্স।

 

 

 

তবে এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই, রোনালদোর উপস্থিতি কোচের জন্য একটি আলাদা কৌশলগত প্রশ্ন তৈরি করে। তাঁকে খেলালে দলের কাঠামো কীভাবে বদলাবে?

 

 

তাঁকে বেঞ্চে রাখলে দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে কীভাবে সামলানো হবে? তাঁকে বাদ দিলে ড্রেসিংরুমের নেতৃত্ব কীভাবে বদলাবে? এই প্রশ্নগুলো অন্য কোনো ৪১ বছর বয়সী খেলোয়াড়কে ঘিরে উঠত না।

 

 

সুতরাং রোনালদো বিশ্বকাপের ব্যর্থতার ‘কারণ’—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া কিছুটা অতিরঞ্জিত হলেও। কিন্তু তাঁর বয়স, ভূমিকা ও দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পর্তুগালের কৌশলগত সমস্যার একটি অংশ ছিল কি না—সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ ছিল। কোচ কেন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি!

 

 

আর তারপর এল জর্জ জেসুস বিশ্বকাপ শেষ। রবার্তো মার্তিনেজ নেই। নতুন কোচ জর্জ জেসুস। এখানে গল্পটা আরও নাটকীয়। জেসুস রোনালদোর সঙ্গে আগে ক্লাব ফুটবলেও কাজ করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলে এসে তিনি একটা বিষয় পরিষ্কার করেছেন—নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

 

 

 

নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রাখলেন। এর পরের ম্যাচ ডেনমার্কের বিপক্ষেও তাঁকে শুরুতে রাখবেন না—জেসুস সেটি প্রকাশ্যে জানালেন।

 

 

রোনালদো তারপরই ক্যাম্প ছাড়লেন। তিনি বলেছেন, পরে পর্তুগালের মানুষকে তাঁর চলে যাওয়ার ‘সত্য’ জানাবেন। জেসুস অবশ্য বলেছেন, এটি তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং রোনালদোকে না খেলানো নিয়ে কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই। শেষ বেলায় এমন অস্থির অবস্থা নিশ্চয় রোনালদোর সমর্থকেরাও প্রত্যাশা করেননি।

 

 

এখানেই মেসির সঙ্গে রোনালদোর গল্পের পার্থক্য সবচেয়ে স্পষ্ট। মেসি বিদায় নেওয়ার আগে তাঁর দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে উদ্‌যাপনের জায়গায় নিয়ে গেছেন। রোনালদোর শেষ অধ্যায় এখনো চলছে কোচের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে।

 

 

নেইমারের গল্পটা আরও নির্মম

নেইমারের সমস্যা ছিল অন্যরকম। তিনি কোনো একদিন হঠাৎ করে নিজের জায়গা হারাননি। তাঁর জায়গাটা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে— চোটে। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এসিএল চোট। তারপর দীর্ঘ পুনর্বাসন। জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষা। ক্লাব ফুটবলেও ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলার সমস্যা।

 

 

২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময়ও নেইমারের জায়গা নিশ্চিত ছিল না। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি তাঁকে নেন অভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু একই সঙ্গে বলে দিয়েছিলেন, নেইমারের জন্য কোনো মিনিট নিশ্চিত নয়। অনুশীলন ও শারীরিক অবস্থাই তাঁর খেলার সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

 

 

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আনচেলত্তি নেইমারকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেননি। বরং শেষ সুযোগটাই দিয়েছিলেন। কিন্তু নেইমার সেই সুযোগকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না।

 

 

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ মিনিট খেলেছেন। জাপানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে। নরওয়ের বিপক্ষে, ব্রাজিলের শেষ ম্যাচে, নামেন দ্বিতীয়ার্ধে। খেলেন ২৪ মিনিট। পেনাল্টি থেকে গোলও করেন।

 

 

তাঁর শেষ বিশ্বকাপের মোট গল্প দাঁড়াল—৬০ মিনিটেরও কম। একজন খেলোয়াড়, যিনি একসময় ব্রাজিলের পুরো আক্রমণের কেন্দ্র ছিলেন।

 

 

আনচেলত্তি কি নেইমারকে অবহেলা করেছেন? এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ। নেইমারের ভক্তদের চোখে মনে হতে পারে, এমন একজন তারকাকে আরও বেশি সময় দেওয়া উচিত ছিল।

 

 

কিন্তু আনচেলত্তির দৃষ্টিকোণও বোঝা দরকার। তিনি যখন দায়িত্ব নেন, তখন ব্রাজিলের হাতে ছিল ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক, রায়ান, মার্টিনেল্লি, রাফিনিয়াদের মতো গতিশীল আক্রমণভাগ। আনচেলত্তি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, তিনি শুধু তারকার ওপর নির্ভর করতে চান না; দল হিসেবে জিততে চান।

 

 

জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে না নামানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন ব্রাজিলের হাতে ছিল, তাই কাঠামো বদলাতে চাননি।

 

 

এখানে আনচেলত্তির দর্শন পরিষ্কার—নেইমার অতীতের ব্রাজিলের মুখ। কিন্তু আনচেলত্তি ভবিষ্যতের ব্রাজিল তৈরি করছিলেন। আর এই দুই ব্রাজিলের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নেইমার।

 

 

শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তিই কি নেইমারের দরজা বন্ধ করে দিলেন? পুরোপুরি নয়। বরং আরও কঠিন সত্য হলো—চোট নেইমারকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে কোচের সিদ্ধান্তের সঙ্গে লড়াই করার মতো ধারাবাহিক ফুটবল তাঁর পায়ে ছিল না।

 

 

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল—এমন একজন নেইমারকে নেওয়া উচিত কি না, যিনি পুরোপুরি ফিট নন। আনচেলত্তি তাঁকে নিলেন অভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর তাঁকে নিয়মিত খেলানোর মতো অবস্থায় পাননি।

 

 

আর নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নামার পর আনচেলত্তি পরে স্বীকারও করেছেন, ওই ম্যাচে তাঁর কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দলের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট করেছিল। নেইমারকে নামানোর সিদ্ধান্তটি ছিল আক্রমণে মান বাড়ানোর চেষ্টা।

 

 

নেইমারের শেষটা শুধু ‘কোচ সুযোগ দেননি’—এতটা সরল নয়। এটা ছিল চোট, ফিটনেস, বয়স, নতুন প্রজন্ম এবং কোচের কৌশল- সবকিছুর যোগফল।

 

 

তিনজনের শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় পার্থক্য

মেসির গল্পে একটা ব্যাপার ছিল— সময়টা তিনি নিজে বেছে নিয়েছেন। রোনালদোর ক্ষেত্রে সময় তাঁকে ছাড়ছে, কিন্তু তিনি এখনো নিজে দরজা বন্ধ করেননি। নেইমারের ক্ষেত্রে দরজাটা অনেক দিন ধরেই চোটে আধখোলা ছিল।

 

 

তাই মেসি যখন বললেন, ‘এবার সময় হয়েছে’, আর্জেন্টিনা বলল—তাহলে আমরা আপনাকে বিদায় জানাব। রোনালদো যখন এখনো খেলতে চান, তখন পর্তুগালকে ঠিক করতে হচ্ছে- কীভাবে তাঁকে ব্যবহার করবে?

 

 

আর নেইমারের ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে ভাবতে হয়েছে, পুরোনো নেইমারকে কতটা অপেক্ষা করা যায়, যখন নতুন ব্রাজিল সামনে এগিয়ে যেতে চায়?

 

 

 

মেসি কেন এত সুন্দর বিদায় পেলেন?

কারণ মেসি তাঁর দেশের সঙ্গে বিচ্ছেদ করছেন না কোনো দ্বন্দ্বের জায়গা থেকে। তিনি যাচ্ছেন একজন সম্পূর্ণ নায়ক হিসেবে।

 

 

বিশ্বকাপ তাঁর হাতে। কোপা আমেরিকা তাঁর হাতে। রেকর্ড তাঁর হাতে। অধিনায়কের বাহুবন্ধনী তাঁর হাতে। আর দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অভিমানও নেই।

 

 

তাই মনুমেন্টালে তাঁর জন্য বিদায়ের মঞ্চ বানানো সম্ভব হয়েছে। রোনালদোর ক্ষেত্রে এখনো কোচের সঙ্গে সংঘাত। নেইমারের ক্ষেত্রে চোটের দীর্ঘ ছায়া। এই কারণেই একই প্রজন্মের তিন মহাতারকার শেষটা এত আলাদা।

 

 

মেসির বিদায় একটি উদ্‌যাপন। রোনালদোর বিদায় এখনো একটি প্রশ্ন। নেইমারের বিদায় একটি অপূর্ণতার গল্প। আর সম্ভবত এখানেই মেসির শেষটা সবচেয়ে আলাদা। তিনি শুধু জাতীয় দল ছাড়ছেন না।

 

 

তিনি এমন এক সময়ে সরে দাঁড়াচ্ছেন, যখন আর্জেন্টিনা তাঁকে হারানোর জন্য প্রস্তুত নয়—তাঁকে স্মরণ করার জন্য প্রস্তুত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রুটকে ছাড়িয়ে স্মিথের রেকর্ড

ডেভিড বেডিংহ্যামের ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল যাচ্ছিল প্রথম স্লিপের দিকে। দ্বিতীয় স্লিপ থেকে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সতীর্থের সামনে থেকে ছোঁ মেরে বল মুঠোয় জমালেন স্টিভেন স্মিথ। চোখধাঁধানো সেই ক্যাচে একটি রেকর্ডও গড়লেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা।   ইংল্যান্ডের জো রুটকে পেছনে ফেলে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার (কিপার ব্যতিত) এখন আবারও স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্টে রোববার এই কীর্তি গড়েন তিনি।   নামের পাশে ২১৯ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচটি শুরু করেন স্মিথ। তৃতীয় দিন ২৮তম ওভারে টেম্বা বাভুমার ক্যাচটি নিয়ে রুটের (২২০) পাশে বসেন তিনি। ওই ক্যাচটি ছিল তার বিচক্ষণতার প্রমাণ। স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে বাভুমা রিভার্স সুইপ করবেন বুঝে আগেই ডান দিকে সরে যান স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের শটে ঠিক স্মিথ বরাবর আসে বল। মুঠোয় জমাতে ভুল করেননি দুর্দান্ত ফিল্ডার স্মিথ। ৩ রানে বিদায় নেন বাভুমা।   দুই ওভার পর প্যাট কামিন্সের ওভারে চমৎকার ক্যাচে বেডিংহ্যামকে ফেরান তিনি। ৯ চারে ৪৯ রান করেন বেডিংহ্যাম। টেস্টে ফিল্ডারদের মধ্যে দুইশ ক্যাচ আছে আরও তিন জনের। ভারতের রাহুল দ্রাবিড়ের ক্যাচ সংখ্যা ২১০টি। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে ক্যাচ নিয়েছেন ২০৫টি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসের ক্যাচ ঠিক ২০০ টি।   আর উইকেটকিপারদের মধ্যে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচারের, ৫৩২টি। চারশ ক্যাচও নিতে পারেননি আর কেউ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক, দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে আফগানিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

সমর্থকদের কাগুজে বিমান নিক্ষেপ, প্রতিবাদে পরিত্যক্ত রায়ো-অ্যাথলেটিক বিলবাও ম্যাচ

ছবি: সংগৃহীত

টানা আট জয়ে ১৩ বছরের রেকর্ড স্পর্শ বার্সার, এবার ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উন্মাদনা, শুরু হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬

দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করার পাশাপাশি  বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি)। সে লক্ষ্যে এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর উন্মোচন করেছেন ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’-এর লোগো। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক আয়োজনকে সামনে রেখে শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজির চেয়ারম্যানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’।   এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি করছে সম্ভাবনাময় মঞ্চ।   প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’, যেখানে রাতের ফ্লাডলাইটের আলোয় একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট।    আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা আসরে অংশ নেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রিকেট ও ফুটবলে পৃথক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দলগুলো লড়বে শিরোপা জয়ের জন্য।   এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এই টুর্নামেন্টকে দেখা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে। বসুন্ধরা কিংসের আন্তর্জাতিক সাফল্য থেকে শুরু করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এবিজি স্পোর্টস সিটি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে, ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ সেই প্রচেষ্টাকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করবে।   টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (IUB), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (UIU), ফেয়ারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।   টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক আয়োজনকে সামনে রেখে শনিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজির চেয়ারম্যানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির ডিরেক্টর ইমরুল হাসান, অ্যাডভাইজার বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। এ ছাড়া ক্রিকেট ও ফুটবলের ২০টি দলের অধিনায়ক এবং শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।   তরুণদের পেশাদার ক্রীড়া চর্চায় উৎসাহিত করতে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে। এই আকর্ষণীয় প্রাইজমানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও টুর্নামেন্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা প্রমাণের এমন সুযোগ তাঁদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তাঁরা মনে করেন, এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ তারকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে রোনালদোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

ছবি: সংগৃহীত

রেনশর ১৯০ ও রেকর্ড জুটিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ৩৯০

ছবি: সংগৃহীত

আবু ধাবিতে বাংলাদেশের হতাশার দিন

ছবি: সংগৃহীত
ক্লাব মালিকের বিরুদ্ধে সমর্থকদের প্রতিবাদে পণ্ড লা লিগার ম‍্যাচ

কর্নারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল আথলেতিক বিলবাও। হঠাৎ গ্যালারি থেকে একের পর এক কাগজের বিমান ছুড়তে শুরু করলেন রায়ো ভাইয়েকানোর সমর্থকরা! তাদের বাগড়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি স্থগিত করতে বাধ্য হলেন রেফারি।   ভাইয়েকানোর ঘরের মাঠ এস্তাদিও দে ভায়েকাসে এটি ছিল চলতি মৌসুমের প্রথম লিগ ম্যাচ।   নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর স্টেডিয়ামটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ভাইয়েকানোর সমর্থকরা এর জন্য ক্লাবের মালিক রাউল মার্তিন প্রেসার অবহেলাকে দায়ী করছেন। আর প্রেসা আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তার ক্লাবকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলেছেন।   শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই প্রেসার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে ভাইয়েকানোর সমর্থকরা। ‘প্রেসা, এবার বিদায় হও’, স্লোগান দিতে থাকে তারা।   তবে পরিস্থিতি খারাপ হয় ত্রয়োদশ মিনিটে। তখন দর্শকরা কাগজের বিমান ছুড়তে শুরু করেন। সঙ্গে বিভিন্ন রংয়ের রাবারের বলও ছোড়েন তারা।   তখন প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ রাখেন রেফারি। এ সময় মাঠকর্মীরা দ্রুত মাঠ থেকে বিভিন্ন বস্তু সরিয়ে নেন। তখন স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে দর্শকদের মাঠে কোনো কিছু না ফেলার আহ্বান জানানো হয়।   কিছুক্ষণ পর খেলা পুনরায় শুরু হলে দক্ষিণ স্ট্যান্ডের দর্শকরা আবারও মাঠের ঘাসের ওপর বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন এবং রেফারি ম্যাচ বাতিল করে দেন।   ভক্তদের এই কাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছে লা লিগা। তারা বলেছে, শিগগির এই ম‍্যাচ আয়োজনের নতুন তারিখ ও সময় ঘোষণা করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬

২০৩৪ পর্যন্ত চেলসিতেই থাকছেন পালমার

ছবি: সংগৃহীত

পিছিয়ে পড়েও লিডসকে ২-১ গোলে হারাল আর্সেনাল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের জন্য জিম্বাবুয়ের স্কোয়াড ঘোষণা

0 Comments