জাতীয়

সংসদ অধিবেশন কাঁপাবে নতুন প্রজন্ম

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একঝাঁক তরুণ-তরুণী বিজয়ী হয়েছেন। এরা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংস্কার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের সিংহভাগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভোটার বিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

 

ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এদের অনেকে। আবার অনেকের ব্যক্তি ও পরিবার স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। সেসব মুখগুলো জনরায়ে এবার বিজয়ী হয়েছেন। বহুবছর পর এবারের সংসদে দেশবাসী নানা শ্রেণি, পেশার এবং বিভিন্ন বয়সের জনপ্রতিনিধিদের সংসদে দেখতে পাবেন। অংশগ্রহণমূলক সংসদ এবার জন প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

তরুণ সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), সদস্য সচিব আখতার হোসেন (রংপুর-৪), মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ (নোয়খালী-৬), যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল-আমিন। এরা সবাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে সম্মুখ সারির নেতা।

 

বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন-ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১, বিজেপি), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং টকশো ব্যক্তিত্ব জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ। তাদের মধ্যে রয়েছেন-বহুল আলোচিত বক্তা আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), আয়না ঘর থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম (আরমান) (ঢাকা-১৪), জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), ইসলামিক বক্তা ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা মো. সালাউদ্দিন (গাজীপুর-৪)।

 

উপরোক্ত তরুণ সংসদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো এবং অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন প্লাটফর্মের আলোচনায় এসব তরুণ নেতাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। তারা সমাজ, দেশ ও রাজনীতির নানা বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন। তারা দেশকে নিয়ে নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবেন। পুরাতন ধারার রাজনীতি থেকে সরে এসে বৈষম্যহীন ও সুস্থ ধারার রাজনীতির স্বপ্নের কথা বলেন। তরুণরা তাদেরকে অনুসরণ করেন; এবারের সংসদে তারা ভালো ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা নয়, চাই মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গা গণহত্যার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।   নির্বাসনে জন্ম নেওয়া একটি প্রজন্ম এখন বেড়ে উঠছে। তারা উল্লেখ করেন, মানবিক সহায়তা প্রয়োজনীয় হলেও এটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিকল্প হতে পারে না।   ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ দিবসকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ বিভাগ এই‌ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। বিশ্বের ১৭টি দেশের শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।   ‘আমাদের ছাড়া আমাদের বিষয়ে কিছু নয়: প্রত্যাবাসনের সন্ধানে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর’— শীর্ষক ওয়েবিনারটি ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের ঘটনাকে স্মরণ করে আয়োজন করা হয়। ওইদিনের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।   সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, তিনি সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য পাঁচটি মূলনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন— রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পছন্দের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ তৈরি করা, বিশ্বাসযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩ লাখের বেশি শরণার্থীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সংলাপসহ ট্র্যাক ওয়ান ও ট্র্যাক টু কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।   ২০১৭ সালের নভেম্বরে সম্পাদিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিটির সমালোচনা করে অধ্যাপক জসিম বলেন, এ চুক্তির ধারাগুলো রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়, নাগরিকত্বসহ অন্যান্য মানবিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।   রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের তিনজন আলোচক সংকটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার রক্ষাকর্মী মোহাম্মদ তোফায়েল বলেন, ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার (ইউসিআর) প্রেসিডেন্ট প্যানেলের প্রথম সদস্য সৈয়দ উল্লাহ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সমালোচনা করে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই এসব নথি তৈরি করা হয়েছিল।   তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া এবং তথাকথিত মডেল ভিলেজে পুনর্বাসনের বর্তমান ব্যবস্থা সংকটের সমাধান করবে না; বরং রোহিঙ্গাদের সীমাবদ্ধ অবস্থানকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।   ইউসিআর প্রেসিডেন্ট প্যানেলের আরেক সদস্য খিন মং বলেন, ১৯৪২ সাল থেকে চলমান কয়েক দশকের নিপীড়নের মধ্যেই এই সংকটের শিকড় রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রকৃত অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো প্রত্যাবাসন কাঠামোই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।   সাংবাদিক ও গবেষক আদিল সাখাওয়াত ২০১৭ সাল থেকে এ সংকট নিয়ে কাজ করছেন। তিনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সঙ্গে যুক্ত। এই গবেষক বলেন, রাখাইনের কর্তৃপক্ষ এখনও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিচয় অস্বীকার করে চলেছে। তিনি ২০২৪ সালে বুথিডংয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও অনুকূল নয়।   সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির রোহিঙ্গাদের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনকে একটি সম্মিলিত বার্তা তৈরি করতে হবে, যাতে তাদের অভিন্ন অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা যায়। বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাব টেকসই সমাধানের পথ তৈরিতে কাজে লাগানো যেতে পারে।   অধ্যাপক আমেনা মহসিন সংকটের মূল কারণ হিসেবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নীতিকে চিহ্নিত করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের নিজ মাতৃভূমির প্রতি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের অনুভূতি এবং ডিজিটাল প্রজন্মের রোহিঙ্গা তরুণদের প্রয়োজনীয়তা পূরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।   অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন পুনরায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগগুলোর ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আস্থায় না নেওয়ার বিষয়ে এটি একটি সতর্কবার্তা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমানে বিদ্যমান নির্বাচিত রোহিঙ্গা সংস্থাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে কি না। তিনি আরও বলেন, আলোচনার টেবিলে প্রকৃত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব ছাড়া ন্যায়সংগত প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।   নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের সদস্য ড. আনাস আনসার ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পরিণত হয়েছে, যার জন্য অব্যাহত আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।   সমাপনী বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গা তরুণদের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং কমিউনিটি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও একাডেমিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড: নওগাঁর ৭ শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরছে বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত
সাতকানিয়ায় বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল মেকানিকের

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিদ্যুতের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরমান উদ্দিন (৩০) নামে এক বৈদ্যুতিক মেকানিকের মৃত্যু হয়েছে।   বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডেঙ্গা ওয়াহিদারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত আরমান উদ্দিন ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি এক কন্যাসন্তানের বাবা ছিলেন। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক মেকানিকের কাজ করতেন এবং স্থানীয় জামায়াতের একজন কর্মী ছিলেন।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার দুপুরে পাশের একটি বাড়িতে বিদ্যুতের কাজ করছিলেন আরমান। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে গেলে ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পান।   সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এঁওচিয়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় চালু হচ্ছে কোরিয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে মুখোশধারীরা ষড়যন্ত্র করছে: আইনমন্ত্রী

মুখোশধারী অনেকেই এখনও দেশে ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।   বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।   আইনমন্ত্রী, দেশে যাতে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের কল্যাণে রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করতে হবে।   সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে এমন আয়োজনের প্রশংসার পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ষড়যন্ত্র নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আইনমন্ত্রী।   তিনি বলেন, দেশকে গণতন্ত্র, আইনের শাসনের স্বাদ দিতে এমন একটা দেশ গড়ার দিকে যেতে হবে, যাতে কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে।   সরকার ভুল করলে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৬, ২০২৬

রাতারাতি ‘বৈপ্লবিক পরিবর্তন’ আশা করতে পারি না: আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি ‘গর্হিত অপরাধ’: চিফ হুইপ

মাজার ধ্বংস করলে আমরা ঘরে বসে থাকব না: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ

0 Comments