অর্থনীতি

মার্কিন ট্রেজারিকে টপকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ সম্পদ এখন স্বর্ণ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলো মার্কিন ট্রেজারি তথা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সম্পদের তালিকায় মার্কিন সরকারি বন্ড বা ট্রেজারিকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে স্বর্ণ।


টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কেনা এবং গত দুই বছরে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে।


ইসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বৈশ্বিক রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশই ছিল স্বর্ণ, যা এক বছর আগে ছিল ২০ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারির অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ২৫ শতাংশ।


অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশেই স্থির রয়েছে। 


মূলত বিভিন্ন দেশের ডলারের বিকল্প খোঁজার প্রবণতার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের গঠনে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে ।


ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড প্রতিবেদনে বলেন, “ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতাকে জোরালো করেছে।”


কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধি


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর হাতে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ মজুদ রয়েছে। এটি প্রায় ব্রেটন উডস যুগের (যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা স্বর্ণভিত্তিক ছিল) ৩৮ হাজার টনের কাছাকাছি।


সে সময় মার্কিন ডলারের মান স্বর্ণের সঙ্গে নির্ধারিত ছিল এবং বৈশ্বিক মুদ্রা বিনিময় হার ছিল স্থির।


ইসিবি আরও জানায়, স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।


ডলার এখনও শীর্ষে, তবে চাপ বাড়ছে


তবে সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভের সবচেয়ে বড় অংশ, যা মোটের ৪২ শতাংশ।


ইসিবি জানায়, ২০২৫ সালে স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কমে এসেছে। গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৮৫০ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা আগের তিন বছরে বার্ষিক এক হাজার টনের বেশি কেনার তুলনায় কম।


২০২২ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধি করেছে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্টেবলকয়েন কোম্পানি টেথার ২০২৫ সালে একাই ১০০ টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়েছে।


তুরস্কের রিজার্ভে বড় পরিবর্তন


প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্ক ২২০ টন স্বর্ণ মজুদ বাড়ালেও পরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় রিজার্ভ হ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


ইউরোর অবস্থান ও বৈশ্বিক আর্থিক প্রবাহ


ইসিবি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকা ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত বছর ইউরো-নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।


একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইউরো অঞ্চলের সম্পদে ৮৫০ বিলিয়ন ইউরো নেট বিনিয়োগ করেছেন, যা ইউরো চালুর পর অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবাহের মধ্যে একটি।


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ


বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণমুখী ঝোঁক এবং মার্কিন ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা হ্রাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রা ঝুঁকি এ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ট্রেজারিকে টপকে বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ সম্পদ এখন স্বর্ণ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলো মার্কিন ট্রেজারি তথা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সম্পদের তালিকায় মার্কিন সরকারি বন্ড বা ট্রেজারিকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে স্বর্ণ। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কেনা এবং গত দুই বছরে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে। ইসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বৈশ্বিক রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশই ছিল স্বর্ণ, যা এক বছর আগে ছিল ২০ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারির অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশেই স্থির রয়েছে।  মূলত বিভিন্ন দেশের ডলারের বিকল্প খোঁজার প্রবণতার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের গঠনে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে । ইসিবি সভাপতি ক্রিস্টিন ল্যাগার্ড প্রতিবেদনে বলেন, “ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতাকে জোরালো করেছে।” কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর হাতে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ মজুদ রয়েছে। এটি প্রায় ব্রেটন উডস যুগের (যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থা স্বর্ণভিত্তিক ছিল) ৩৮ হাজার টনের কাছাকাছি। সে সময় মার্কিন ডলারের মান স্বর্ণের সঙ্গে নির্ধারিত ছিল এবং বৈশ্বিক মুদ্রা বিনিময় হার ছিল স্থির। ইসিবি আরও জানায়, স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। ডলার এখনও শীর্ষে, তবে চাপ বাড়ছে তবে সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভের সবচেয়ে বড় অংশ, যা মোটের ৪২ শতাংশ। ইসিবি জানায়, ২০২৫ সালে স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কমে এসেছে। গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৮৫০ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা আগের তিন বছরে বার্ষিক এক হাজার টনের বেশি কেনার তুলনায় কম। ২০২২ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধি করেছে চীন, পোল্যান্ড, তুরস্ক ও ভারত। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্টেবলকয়েন কোম্পানি টেথার ২০২৫ সালে একাই ১০০ টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনে সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়েছে। তুরস্কের রিজার্ভে বড় পরিবর্তন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্ক ২২০ টন স্বর্ণ মজুদ বাড়ালেও পরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে। ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় রিজার্ভ হ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোর অবস্থান ও বৈশ্বিক আর্থিক প্রবাহ ইসিবি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকা ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত বছর ইউরো-নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইউরো অঞ্চলের সম্পদে ৮৫০ বিলিয়ন ইউরো নেট বিনিয়োগ করেছেন, যা ইউরো চালুর পর অন্যতম সর্বোচ্চ প্রবাহের মধ্যে একটি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণমুখী ঝোঁক এবং মার্কিন ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা হ্রাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রা ঝুঁকি এ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৫, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধ কারখানা সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল, সুদ মাত্র ৭%

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি বিনিয়োগ আনলেই মিলবে বিশেষ প্রণোদনা

ছবি: সংগৃহীত

খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতায় চাপে অর্থনীতি: ফাহমিদা খাতুন

ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার জন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।   পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন— মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যেই এ পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।   খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন মু. মহসীন চৌধুরী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন   এর আগে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: কর্তৃপক্ষ

করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন

ছবি- সংগৃহীত

অটোরিকশা নিয়ে পিছু হটলেও নব কৌশলে করজালে মোটরসাইকেল

ছবি : সংগৃহীত
কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নে ৭০ মিলিয়ন ডলারের ‘গ্রিন’ প্রকল্প

জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পুষ্টি খাতে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন)’ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি সই করেছে পিকেএসএফ এবং অর্থ বিভাগ। বুধবার (৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের পক্ষে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং  অর্থ বিভাগের পক্ষে যুগ্ম সচিব মোছা. নাজনীন সুলতানা চুক্তিতে সই করেন। প্রকল্পটির অর্থায়ন করবে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী বাস্তবায়িত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, দারিদ্র্যের হার, জলবায়ু ঝুঁকি এবং কৃষি সম্ভাবনার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রকল্পের আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। উপকারভোগীদের মধ্যে থাকবেন দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী ও যুব উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিবার এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা। প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ছাড়া, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষির সম্প্রসারণ, গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, সৃজনশীল অর্থনীতিতে অবদান রাখা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসিতে বড় পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে স্বর্ণবাজারে ধসের আভাস

ছবি: সংগৃহীত

দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিএসইসিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

0 Comments