জাতীয়

বাগেরহাটে ফেসবুক লাইভ চলাকালে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে

আক্তারুজ্জামান জুন ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ফেসবুক লাইভ চলাকালে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের উমাজুরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

নিহত হৃদয় ওরফে লিমন মোল্লা (২৬) ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং এক কন্যাসন্তানের জনক।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারের সময় তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

 

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তিনি কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’র পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ড’র পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে প্রবাসী ডেবিট কার্ড চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কার্ডে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। প্রবাসী কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে উদ্বোধন হবে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে। প্রথম পর্যায়ে সরকারি জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের এ কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান, ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সুবিধা। মূলত নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। প্রবাসী কার্ডও সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। তারই অংশ হিসেবে এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।’ উপপ্রেস সচিব জানান, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হচ্ছে, দেশে-বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার ও বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা। বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট। দেশে-বিদেশে ন্যায্যমূলে গাড়ি বুকিং ও সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবা। সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ ও বেসরকারিতে ডিসকাউন্ট সুবিধা। কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসনের সুযোগ ও বীমা সুবিধা। জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি, লাইসেন্স ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার। রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোসহ সহজে লেনদেন। জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার। ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধা। তিনি আরও জানান, বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিশ্বে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসীরা রয়েছেন, তারা যেন প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসে। সেজন্যও প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মাহাদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চীনের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সাপের বিষ উৎপাদন হলেও বাজারে যেতে পারছে না পটুয়াখালীর খামার

ছবি: সংগৃহীত

এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর সময় চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
গোপন পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা, সক্রিয় মানবপাচার চক্র

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। স্থানীয় মানবপাচার চক্রের সহায়তায় তারা রাতের অন্ধকারে বন ও পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে।   এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আলীকদম উপজেলার ফাত্রা পাড়া–দরিমুখ পাড়া হয়ে আলীকদম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পথ ব্যবহার করছে এসব রোহিঙ্গা। পাহাড়ি ছড়া, বনাঞ্চল ও নদীপথ অতিক্রম করে তারা দুই দিনের যাত্রায় বাংলাদেশে পৌঁছায়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে ব্যবহৃত কয়েকটি সীমান্তপথে নজরদারি বাড়ায় এখন ফাত্রা পাড়া–দরিমুখ পাড়ার রুটটি বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পথে চলাচলের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে মানবপাচারকারীরা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে।   অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সীমান্ত অতিক্রমের আগে পাচারকারীরা স্থানীয়দের মাধ্যমে নিরাপত্তা টহলের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন চেকপোস্টের কাছাকাছি এনে রোহিঙ্গাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা বিকল্প পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে চেকপোস্ট পার হয়ে অন্য পাশে আবার মোটরসাইকেলে ওঠে।   স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে আলীকদমে শতাধিক রোহিঙ্গা ও কয়েকজন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।   বাংলাদেশে প্রবেশের পর সবাই শরণার্থী শিবিরে যায় না। অনেকেই স্থানীয় বাজার, হোটেল, চায়ের দোকান ও নির্মাণকাজে স্বল্প মজুরিতে কাজ করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয় নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধের পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমবাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউনিসেফ সদর দপ্তরে তিতুমীর-সাকি, চাইলেন ঋণ পুনর্গঠনের কার্যকর উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা পরিবার, ‘বাড়ি ভেঙে গেলে কোথায় যাব’

ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এনসিপির জয়পুরহাট জেলা আহ্বায়কের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত
টানা বর্ষণে যশোরে ফের জলাবদ্ধতা, প্লাবিত ২২০ মাছের ঘের

টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিতে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে মাছের ঘের, আবাদি জমি এবং নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি। এতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।   অভয়নগর উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৫০৩ হেক্টর আয়তনের ২২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এতে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।   উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা লিপটন সরদার বলেন, অনেক ঘেরের পাড় ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে ঘের থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।   এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন জানান, ভবদহ অঞ্চলের অন্তত ৩৭ হেক্টর আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পায়রা, চলিশিয়া, শ্রীধরপুর, সিদ্ধিপাশা ও প্রেমবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চলতি মৌসুমের চাষাবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাছের ঘেরের পাড় পানিতে ডুবে গেছে। অনেক চাষি মাছ রক্ষায় ঘেরের চারপাশে বাঁশ ও জাল বসানোর চেষ্টা করছেন। মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামে বাড়ির উঠানেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে চাষ করা বিভিন্ন ধরনের সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।   স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিল ও খাল উপচে পানি ঘেরে প্রবেশ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।   মাছচাষি রনি মণ্ডল জানান, আগেভাগে জাল কেনা হলেও হঠাৎ পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তা বসানোর সুযোগ পাননি। এর মধ্যে জালের দামও বেড়ে গেছে, যা তাদের সংকট আরও বাড়িয়েছে।   ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নদী খননের কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত পানি অপসারণ হচ্ছে না, আর বিকল্প নিষ্কাশন পথ আমডাঙ্গা খালের সংস্কারও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।   কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ দ্রুত আমডাঙ্গা খালের সংস্কার, সব স্লুইসগেট সচল রাখা এবং কার্যকর টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালুর দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বছরের মতো এবারও ভবদহ অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছবি : সংগৃহীত

সরকারের ৫ মাস পূর্তি উপলক্ষে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

ছবি : সংগৃহীত

২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি কিনছে সরকার, চুক্তির দামের চেয়ে ৫০% বেশি ব্যয়

ছবি : সংগৃহীত

সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি, শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

0 Comments