আন্তর্জাতিক

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘চাইলেই নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি’

আক্তারুজ্জামান জুন ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম। তবে এমন পদক্ষেপকে তিনি প্রয়োজনহীন ও অযৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেছেন।

 

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে থাকা ইউরেনিয়াম দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন কোনো বিষয় নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ অব্যাহত আছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করছে।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, কোনো শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে তার কোনো আপত্তি নেই।

 

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টুডে

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
২৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে ডিভোর্স মামলায় শতকোটি টাকা পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

দীর্ঘ ২৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে যুক্তরাজ্যের এক আলোচিত বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার রায় পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী বর্ষা গোহিল।   মামলার সূত্রপাত ২০০২ সালে, যখন তিনি স্বামী ভদ্রেশ গোহিলের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সে সময় একটি আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি হলেও বর্ষার সন্দেহ ছিল, তার সাবেক স্বামী প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।   পরবর্তীতে অর্থপাচার ও জালিয়াতি সংক্রান্ত এক তদন্তে ভদ্রেশ গোহিলের বিপুল পরিমাণ গোপন সম্পদের তথ্য সামনে আসে। তদন্তে জানা যায়, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ব্যবসা ও অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি পাউন্ডের সম্পদ আড়াল করে রাখা হয়েছিল।   এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে বর্ষা গোহিল পুরোনো আর্থিক সমঝোতা চ্যালেঞ্জ করে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।   ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনরায় চালুর অনুমতি দেয় এবং পর্যবেক্ষণে জানায়, সম্পদ গোপন করে কেউ আইনি সুবিধা ভোগ করতে পারে না।   দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর লন্ডনের হাইকোর্ট জব্দ করা সম্পদের একটি অংশকে বৈধ বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। আদালত প্রায় ৬৬ লাখ পাউন্ডের বেশি সম্পদ বর্ষা গোহিলের প্রাপ্য বলে রায় দেন।   রায়ে বিচারক ভদ্রেশ গোহিলের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন এবং সম্পদ গোপনের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এ রায়ের বিরুদ্ধে আর কোনো আপিলের সুযোগ নেই। ফলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আল-আকসার তত্ত্বাবধানে জর্ডানের ভূমিকা সম্মানের আহ্বান যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘চাইলেই নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি’

ছবি : সংগৃহীত

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে সৌদির অভিনব উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ওপর চাপ, প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা সীমিত করতে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেজল্যুশন পাস হয়েছে। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।   রেজল্যুশনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের ইরানসংক্রান্ত সামরিক অভিযানে সম্পৃক্ত রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রত্যাহারের সুপারিশও করা হয়েছে।   ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ২১৫ জন আইনপ্রণেতা এবং বিপক্ষে ২০৮ জন ভোট দেন। ডেমোক্রেট সদস্যদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যও এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাব পাস হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। এটি ইরান ইস্যুতে কংগ্রেসের ভেতরে বিদ্যমান উদ্বেগ ও বিভাজনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে রেজল্যুশনটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের পর এটি এখন সিনেটে যাবে। সেখানে আলোচনা ও ভোটের পর অনুমোদন পেলে তবেই এটি কার্যকর হওয়ার পথ সুগম হবে।   বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও তা খুব বেশি নয়। ফলে সিনেটে প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ থামাতে পুতিনকে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জেলেনস্কির

ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনিকে নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

১৫ বিলিয়ন ডলারে তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের ‘ভাসমান শহর’

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত বহু যাত্রী ও কর্মী

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার সকালে বিমানবন্দরের একটি টার্মিনাল ভবনে একাধিক ড্রোন আঘাত হানে।   কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ এলাকায় বিস্ফোরকবাহী কয়েকটি ড্রোন আঘাত করে। এতে স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।   তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার পর বিমানবন্দরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।   এদিকে হামলার জন্য ইরানি ড্রোনকে দায়ী করা হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।   উল্লেখ্য, একই দিনে ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেই হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।   সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আক্তারুজ্জামান জুন ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা ইরানের

0 Comments