মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মা নদীতে গরুবাহী ট্রলারডুবিতে ২৩টি গরুসহ আইয়ুব আলী নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর মিস্ত্রির পুত্র। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন থেকে ১৫ জন পাইকার ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে কালবৈশাখী শুরু হলে ট্রলারটি পদ্মায় ডুবে যায়। লৌহজং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুমন আলী জানান, ট্রলারডুবির পর ১৪ জন পাইকার সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পাঁচটি গরুও বেঁচে যায়। তবে একজন পাইকার নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি গরুর সন্ধান মেলেনি।
শিমুলিয়া ঘাটের ১০ রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড
লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে কালবৈশাখীতে ১০টি রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হয়। ঝড়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ঝড়ের পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ।
মাওয়া কুটুমবাড়ি ও ইলিশ বাড়ি রেস্তোরাঁর মালিক মো. মাসুদ বলেন, কয়েক মিনিটের ঝড়ে আমাদের রেস্তোরাঁসহ পাশের ১০টি রেস্তোরাঁর চাল উড়িয়ে গেছে। ঈদের আগে এ ঝড়ে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। মেরামত করতে দোকানপ্রতি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা লাগবে। ২-৩ দিন পরেই ঈদ। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসাই মাটি হয়ে গেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আমরা সরকারিভাবে সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।
চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, আহত ১০
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই যাত্রীবাহী ‘ময়ূর ২’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল-৭ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসআই বিল্লাল আজাদ জানান, লঞ্চ থেকে নামার সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। লঞ্চ ও পন্টুনে পড়ে থাকা যাত্রীদের মালামাল তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রচণ্ড ঝড়ে পন্টুন ও জেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় পদ্মা নদীতে গরুবাহী ট্রলারডুবিতে ২৩টি গরুসহ আইয়ুব আলী নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ হয়েছেন। আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সালিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর মিস্ত্রির পুত্র। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন থেকে ১৫ জন পাইকার ২৮টি কোরবানির গরু নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে কালবৈশাখী শুরু হলে ট্রলারটি পদ্মায় ডুবে যায়। লৌহজং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুমন আলী জানান, ট্রলারডুবির পর ১৪ জন পাইকার সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পাঁচটি গরুও বেঁচে যায়। তবে একজন পাইকার নিখোঁজ রয়েছেন। ২৩টি গরুর সন্ধান মেলেনি। শিমুলিয়া ঘাটের ১০ রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে কালবৈশাখীতে ১০টি রেস্তোরাঁ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হয়। ঝড়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ঝড়ের পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ। মাওয়া কুটুমবাড়ি ও ইলিশ বাড়ি রেস্তোরাঁর মালিক মো. মাসুদ বলেন, কয়েক মিনিটের ঝড়ে আমাদের রেস্তোরাঁসহ পাশের ১০টি রেস্তোরাঁর চাল উড়িয়ে গেছে। ঈদের আগে এ ঝড়ে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। মেরামত করতে দোকানপ্রতি ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা লাগবে। ২-৩ দিন পরেই ঈদ। ঈদ সামনে রেখে ব্যবসাই মাটি হয়ে গেল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। আমরা সরকারিভাবে সাধ্যমতো সহযোগিতা করব। চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ, আহত ১০ হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনই যাত্রীবাহী ‘ময়ূর ২’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল-৭ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসআই বিল্লাল আজাদ জানান, লঞ্চ থেকে নামার সময় কয়েকজন যাত্রী আহত হলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। লঞ্চ ও পন্টুনে পড়ে থাকা যাত্রীদের মালামাল তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। প্রচণ্ড ঝড়ে পন্টুন ও জেটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা এখন মুসলমানদের দরজায়। ঢাকার কুরবানির পশুর হাটগুলোয় বিক্রি জমে উঠেছে। দামাদামি করে সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও খুশি। এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোয়। সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর হাঁকডাক, দরদাম আর মানুষের ভিড়ে মুখর হাটগুলো। দুই সিটির আওতায় এবার ২৭টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলী রয়েছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। ডিএসসিসির আওতাধীন অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে পোস্তগোলা, শাহজাহানপুর, রহমতগঞ্জ, আমুলিয়া, শ্যামপুর, আফতাবনগর, কাজলা-মাতুয়াইল, দয়াগঞ্জ-জুরাইন, বনশ্রী, গোলাপবাগসহ বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে ডিএনসিসির অধীনে মিরপুর, কালশী, বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ি, ভাটারা, বাড্ডা, মহাখালী ও বসুন্ধরাসংলগ্ন এলাকাগুলোয় বসেছে অস্থায়ী পশুর হাট। সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর পশুর হাটগুলোয় ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কোলাহল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ আসছে হাটে। ভালো দামের আশায় কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কুমিল্লা, নওগাঁ, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার খামারিরা তাদের পশু নিয়ে রাজধানীর বাজারে এসেছেন। দেশি মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি : মধ্যবিত্ত ও নিুমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের বড় একটি অংশ সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু খুঁজছে। অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে পশু দেখছেন, দরদাম করছেন এবং পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ শুধু হাটের পরিবেশ উপভোগ করতেও আসছেন। ক্রেতার কাছে মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তারা বলছেন, কয়েক দফা দরদামের পর তুলনামূলক সহনীয় দামে পশু পাওয়া গেলেও বড় আকারের গরুর দাম এখনো বেশ চড়া। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর খামারিদের আনা পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে নানা দামের পশু পাওয়া যাচ্ছে। তবে ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই সবচেয়ে বেশি বিক্রির আশা করছেন তারা। গাবতলী হাটে কথা হয় যশোরের মনিরামপুরের ব্যবসায়ী মনিরুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, খাদ্য ও পরিবহণ খরচ বেড়েছে। তাই কিছুটা বেশি দাম চাইতেই হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের সাধ্যের কথাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পশুখাদ্যের কারণে একেবারে কমে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে যে দামে ক্রেতারা গরু পাচ্ছেন, তা স্বাভাবিক সময়ের পশুর দামের চেয়ে খুব বেশি না। যুগান্তরের ডেমরা প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল থেকে ডেমরা হাটে ক্রেতাদের বিপুল পদচারণা লক্ষ করা গেছে। তবে কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এখনো নদীপথ ও সড়কপথে প্রতিনিয়ত কুরবানির পশু আসছে ডেমরার ঐতিহ্যবাহী সারুলিয়া ও আমুলিয়া মডেল টাউন পশুর হাটে। তবে রোববার বিকাল থেকেই হাটগুলোয় ক্রেতারা নেমেছেন তাদের পছন্দের কুরবানির পশু কিনতে। ধীরে ধীরে বেচাকেনাও জমে উঠছে। সারুলিয়া ও আমুলিয়া পশুর হাটে সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিদিনই গরু আনছেন ব্যাপারী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিরা। হাট দুটিতে সোমবার সকাল থেকেই উৎসুক জনতাসহ ক্রেতাদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। সারুলিয়া হাটে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গরু রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট পরিচালক মো. আহাদুল্লাহ। আমুলিয়া মডেল টাউন হাটে এরই মধ্যে বিক্রির পরও ১০ হাজারের বেশি গরু তোলা হয়েছে। নানা জাতের পছন্দসই ছোট-বড় অনেক গরু উঠেছে ডেমরায়। আমুলিয়া মডেল টাউন গরুর হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদীন রতন বলেন, আমাদের হাটে অনেক জায়গা। ফলে ক্রেতাদের সুবিধার্থে ফাঁকা-ফাঁকা করে পাইকারদের গরু রাখার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। সারুলিয়া হাটে পাবনা থেকে আসা বড় পাইকার সিদ্দিক মেম্বার বলেন, বৃহস্পতিবার ১১০টি গরু এবং সঙ্গে বেশ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সারুলিয়া হাটে এসেছি। ইতোমধ্যে কয়েকটি গরু বিক্রি করতে পারলেও মঙ্গল ও বুধবারের মধ্যে আশা করছি সব বিক্রি হয়ে যাবে। এ বছর গরুর খাদ্যের দাম অনেক। তাই দামও আগের তুলনায় বেশি। এদিকে হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাল টাকার ব্যবহার ঠেকাতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রতিটি বড় হাটে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক স্থাপন করেছে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও টাকা গণনার মেশিন। অনেক ব্যাংক মাত্র পাঁচ মিনিটে হিসাব খোলার সুবিধাও দিচ্ছে পশু ব্যবসায়ীদের। রাজধানীর কুরবানির পশুর বাজার পরিদর্শন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশে এবার কুরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। তিনি জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নের বড় ছত্রগাছা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করায় গাইবান্ধা ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর এমন পদক্ষেপ নেয়। রোববার (২৪ মে) দুপুরে বড় ছত্রগাছা খালেক পাইকারের হলুদ মিলে ভোক্তা অধিকার, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও র্যাব সদস্য-১৩’র সদস্যরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী পারভীন বেগমকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ভেজাল মিশ্রিত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া ধ্বংস করা হয়। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র জানান, ধাপেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হলুদ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়। একটি অসাধু চক্র মিল স্থাপন করে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারজাত করছে। খবর পেয়ে ওই মিল থেকে ভেজাল মিশ্রিত প্রায় ৬০ মণ হলুদ ও মরিচের গুঁড়া জব্দের পর তা ধ্বংস করা হয়।