সারাদেশ

রাজশাহীর ৩২ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে এডিসের লার্ভা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্ষাকাল এলেই রাজশাহীতে প্রতিবছর বাড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। একই সঙ্গে বেড়ে যায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধি। রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ৩ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর পাঁচটি এলাকায় কীটতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়ির সূচক দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্রের মধ্যে ৪৬টিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পাত্রের সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

 

ব্রেটো সূচক একটি পরিমাপ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ও ঘনত্ব নির্ণয় করা হয়। সাধারণত ১০০টি বাড়ি বা পাত্র পরীক্ষা করে যতগুলো বাড়ি বা পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তার সংখ্যা হিসাব করে এই সূচক বের করা হয়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে, ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে ওই এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি থাকে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এডিস মশার আক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।

 

রাজশাহী মহানগরীর কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা এবং হাজরাপুকুর এলাকায় এ জরিপ চালানো হয়। এসব এলাকায় ব্রেটো সূচকের মান ছিল ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্দেশক মাত্রার তিন গুণেরও বেশি। ব্রেটো সূচক পরিদর্শন করা প্রতি ১০০টি বাড়ির মধ্যে মশা প্রজননের উপযোগী পাত্রের সংখ্যা পরিমাপ করে।

 

জরিপে মশার প্রজননস্থল থেকে ৬৮৫টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস, ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি এবং ৯৪টি অন্য প্রজাতির মশা। প্রজননের উৎসগুলোর মধ্যে ছিল ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটি ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি এবং প্লাস্টিকের বালতি।

 

এর আগে গত মে মাসে জরিপ করা হয়। ওই জরিপে দেখা যায়, ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়ির সূচক দাঁড়িয়েছিল ২০ শতাংশ। পরীক্ষা করা ৫২টি পানি রাখার পাত্রের মধ্যে ২৩টিতেই লার্ভা পাওয়া গেছে। পাত্রের সূচক দাঁড়িয়েছিল ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। ওই সময় ব্রেটো সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমা ২০-এর চেয়ে ইতোমধ্যেই বেশি। সর্বশেষ ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩, যা মে মাসের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে বাড়ি ও কন্টেইনার সূচক উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।      

 

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৩ জুন একজন ছিল। ৩০ জুলাই তা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। আগস্ট মাসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬ আগস্ট রোগী ভর্তি ছিল ১৩ জন, ৮ আগস্ট ২৩ জন, ৯ আগস্ট ২৬ জন এবং ১০ আগস্ট ৩০ জন। ১১ আগস্ট হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা যান।

 

১৪ আগস্ট আটজন নতুন রোগী ভর্তি হন এবং ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শনিবার (১৫ আগস্ট) নয়জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) হাসপাতালে সাতজন রোগী ভর্তি ছিলেন। সুস্থ হয়েছেন আরও ১৩ জন। বর্তমানে ২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছি। প্রতি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
পরকীয়ার মামলায় ডিএমপির এসআইসহ দুইজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম দায়ের হওয়া একটি মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) ওয়ারী থানার এসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্নাসহ ৩৯ বয়সী এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।   এক নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আকবরশাহ থানায় মামলাটি করেন মো. নাদিম শাহ নামে এক ব্যক্তি। এর আগে গতকাল বিকালে নগরীর বিশ্ব কলোনির আই ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।   মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামি কাজী পারভীন আক্তার তার বড় ভাই প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী। জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকে বাদী তার ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করে আসছিলেন। নুরুন্নবী মুন্না নগরীর আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় পারভীনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।   পরে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুন্নবী মুন্না নগরীর বিশ্ব কলোনি আই ব্লকের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে তিনি পারভীনের সঙ্গে অবস্থান করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দুজনকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গেলে পারভীন তাকে মারধর করেন এবং তার পরনের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন।   এ সময় নুরুন্নবী মুন্না স্থানীয়দের সামনে পারভীনকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ওই ফ্ল্যাট থেকে তার ভাইয়ের বিদেশ থেকে পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেছেন। স্বর্ণালংকারগুলোর আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পুলিশ নুরুন্নবী মুন্নাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পারভীনকেও পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।   বাদীপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ব্যভিচার শুধু নৈতিক অবক্ষয় নয়, এটি সমাজে নানা ধরনের অপরাধেরও জন্ম দেয়। এ ঘটনায় একজন প্রবাসীর দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থ ও ১৩ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ চুরি করা হয়েছে। একজন প্রবাসী পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে যে অর্থ-সম্পদ দেশে পাঠান, তা যদি প্রতারণা ও অনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে চুরি করা হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর হতে পারে না।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

ছবি: সংগৃহীত

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,১৬৫ জন

রাজধানীর মহাখালী টোবাকো ভবনে আগুন

ঝিনাইদহে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মোনায়েম হোসেন (৫০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভায়না বাজার সংলগ্ন কালিশংকরপুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।    নিহত মোনায়েম হোসেন ভায়না ইউনিয়নের কালীশংকরপুর গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে। তিনি ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি।     পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে কুষ্টিয়ার আব্দালপুরে খেলা দেখতে যান ইউপি সদস্য মোনায়েম হোসেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় ভায়না বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে কালীশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এসময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌছানোর পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।   ভায়না ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, “বিকালে মোলাম হোসেন খেলা দেখতে আব্দালপুরে গিয়েছিলেন। রাতে বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলের উত্তর পাশে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। কুষ্টিয়া নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”    নিহতের স্ত্রী শিল্পী খাতুন বলেন, “আমার স্বামী বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। গ্রামের স্কুলের পিছনে তাকে মেরে ফেলেছে। আমি বিধবা হয়ে গেলাম। সন্তানরা এতিম হয়ে গেলো। আমি এর বিচার চাই।”    হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “এ ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে তার প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবো। মরদেহ কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থেকে ফেরার পরে আমরা ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের প্রয়াণ

ছবি: সংগৃহীত

দাফন নাকি দাহ: লাশের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আদালতে চূড়ান্ত শুনানি

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২ হাজার ২৬৮ মামলা

ফাইল ছবি
মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মহাসড়কে স্লিপার বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে বাস মালিক সমিতির করা আবেদনে সাড়া দেননি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যেসব বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, কেবল সেসব বাসই সড়কে চলাচল করতে পারবে।   বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।   আদালতে বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম। পরে তিনি বলেন, স্লিপার বাস মালিক অ্যাসোসিয়েশন সড়কে এসব বাস চালানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। শুনানিতে তিনি আদালতকে জানান, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০ ধারায় যানবাহনের কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন করলে তা আইনের ৮০ ও ৮৪ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি সড়কে চলাচল করতে পারবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।   আইনজীবী মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আদালত বলেছেন, শুধুমাত্র বিআরটিএ যেসব বাস চলাচলে পারমিশন দিয়েছে, সেগুলোই রাস্তায় চলাচল করবে। স্লিপার বাস চালানোর তো পারমিশন নেই। হাইকোর্টও পারমিশন দেয়নি।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬

নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গণধোলাই

ছবি: সংগৃহীত

সস্তায় ইলিশের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, অগ্রিম টাকা নিয়েই ব্লক

ছবি: সংগৃহীত

মাদকের বিরোধে তিন ভাইয়ের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম

0 Comments