ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিপর্যয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি-এর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ইস্যুর ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষ, কৌশলগত প্রচার এবং ভোটের সমীকরণের পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব।
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে টিএমসির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি বা সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা, সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ। শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মসহ একাধিক ইস্যুতে টিএমসির ভাবমূর্তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিরোধী দল বিজেপি এসব ইস্যুকে সামনে এনে জোরালো প্রচার চালায়, যা ভোটারদের একটি অংশকে প্রভাবিত করে।
অন্যদিকে বিজেপি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচার এবং বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে। বিশেষ করে নতুন ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে তারা কার্যকর প্রচারণা চালায়।
ভোট বিভাজনও বড় একটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিরোধী ভোট একদিকে না গিয়ে বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ায় টিএমসি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিজেপি তার সুবিধা পায়।
এছাড়া জাতীয় ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নয়ন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে অনেক ভোটার জাতীয় দলকে সমর্থন দেয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক মেরুকরণও নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক ধরে রাখতে টিএমসি চেষ্টা করলেও বিজেপি বিপরীত মেরুকরণ তৈরি করে ভোট টানতে সক্ষম হয়।
সব মিলিয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বিপুল হার এবং বিজেপির এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল, সংগঠন, ইস্যুভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটের গাণিতিক সমীকরণের বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই সমীকরণ আবারও বদলে যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘ প্রায় নয় মাসের মোতায়েন শেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে আরেকটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মোতায়েন থাকা লিংকনের নাবিকদের পরিবারগুলোর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে লিংকনকে মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথমে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ছিল। পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানতে চান, লিংকন কবে দেশে ফিরবে। তবে নিরাপত্তার কারণে বিমানবাহী রণতরির চলাচলের নির্দিষ্ট সময় সাধারণত প্রকাশ করে না মার্কিন নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর সচিব হাং কাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ হিসেবে লিংকন শিগগিরই দেশে ফিরবে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থানের কারণে লিংকনের নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে নৌবাহিনী এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তারা পায়নি। বরং মোতায়েনের সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা কমেছে। চলতি মাসের শুরুতে লিংকনের একজন নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। পরে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কীভাবে তিনি পানিতে পড়ে গেলেন, তা এখনো তদন্ত করছে নৌবাহিনী। এ ছাড়া গত এপ্রিল মাসে লিংকনের সঙ্গে থাকা একটি ডেস্ট্রয়ার থেকেও একজন নাবিক পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকেও দ্রুত উদ্ধার করা হয়। নাবিকদের মানসিক সহায়তা বাড়াতে লিংকনে অতিরিক্ত সমাজকর্মী ও কাউন্সেলর পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। জাহাজে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এক নাবিকের পরিবারের সদস্য জানান, মোতায়েনের শুরুর দিকে নতুন সরবরাহ আসতে দেরি হওয়ায় কিছু সময় খাবারের ঘাটতি ছিল। তবে পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। নৌবাহিনীও কিছু সরবরাহে বিলম্বের কথা স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রচলিত সরবরাহ কেন্দ্রগুলো বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাহাজে কিছু সামগ্রী পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। তবে বর্তমানে লিংকনে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও পেন্টাগনের কাছে তথ্য চেয়েছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জাহাজের পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’। তার দাবি, প্রতিটি জাহাজ, নাবিক ও কমান্ডারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এদিকে জাপানের ইয়োকোসুকা ঘাঁটিতে থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন গত মে মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে টহলের জন্য যাত্রা করে। চলতি সপ্তাহে এটিকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটন সেখানে থাকা আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে যুক্ত হবে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে চাপে আছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে থাকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও তার পাশে নেই। এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া এড়িয়ে চলছেন তিনি। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককলে ইসরায়েলের নির্বাচনি জরিপের ফল নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা দাবি করেছিলেন, ‘তিনি জিতছেন’। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। জরিপগুলোতে স্পষ্ট দেখা গেছে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয় পাওয়ার অবস্থানে নেই। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও ট্রাম্প এখনও তাকে কোনও স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন দেননি।জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট পেতে পারে ৪৯ থেকে ৫৩টি আসন, যেখানে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১ আসন। বর্তমানে তার হাতে আছে ৬৮ আসন। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো জরিপ অনুযায়ী, ৬৭ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে এবং নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইজেনকোট বেশিরভাগ জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বলে দেখা যাচ্ছে। তবে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর স্পষ্ট বা একক জয় না পেলেও চলবে। সেক্ষেত্রে তার মূল কৌশল হল, বিরোধীদের এককভাবে সরকার গঠন ঠেকাতে পর্যাপ্ত ভোট ধরে রাখা। কোনও দলই এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলে আরেকটি নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও কয়েক মাস নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যেতে পারবেন। এই মুহূর্তে এমন সম্ভাবনাই বাস্তব। ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে দূরত্ব: ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে, ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আশা করেছিলেন যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেবেন। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার শেষ করার জন্য তাকে একটি সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার পক্ষে সোচ্চারও হয়েছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই নেতার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য এবং অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ইরান, লেবানন এবং গাজা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন বড় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল হলেও, নেতানিয়াহু ইদানিং যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং যে ধরনের নীতি অবলম্বন করছেন, তা ট্রাম্প পছন্দ করছেন না এবং এ কারণে তিনি হতাশ। নেতানিয়াহুকে নিয়ে সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এমন দুই কর্মকর্তা জানান- মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "বিবি (নেতানিয়াহু) নিজেই নিজের ঘোর শত্রু।” সম্প্রতি ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা শান্তি পর্ষদ (বোর্ড অব পিস) পরিকল্পনা নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করায় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধ: যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউজ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে একটি নীতিগত ঘোষণা হিসেবে দেখার চেয়ে বরং নির্বাচনী মৌসুমের রাজনীতি হিসেবেই দেখছে। নেতানিয়াহু পরবর্তীতে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজা পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও এটিকে একটি সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি দিতে তিনি গাজায় হামলা কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও রাজি হন। তারপর থেকে, ইসরায়েল গাজায় কিছুটা কম হামলা চালিয়েছে এবং আইডিএফ হলুদ লাইন থেকে পিছু হটেছে, যেখানে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোতায়েন করার কথা ছিল। কুশনার আগামী সপ্তাহে গাজা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ইসরায়েল সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্পকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান নেতানিয়াহুর প্রতিপক্ষদের নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা, যার মধ্যে আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও রয়েছেন, তারা উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন দিয়ে দিতে পারেন। তাদের সহযোগীরা বলেছেন যে, বিরোধী দলীয় ব্যক্তিরা পারস্পরিক বন্ধু, দাতা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক মিত্রদের মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর দুর্বল অবস্থানের কারণে ট্রাম্প তার সঙ্গে কোনও বিষয়ে জড়াতে বা তাকে সাহায্য করতে আগ্রহ হারিয়ে থাকতে পারেন। ট্রাম্প ইসরায়েলে এখনও জনপ্রিয়। তবে তার ইরান চুক্তি এবং সেই চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ার পর যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কারণে ইসরায়েলে গত তিন মাসে তার অবস্থান বা ভাবমূর্তি কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। ইরান, গাজা, সিরিয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ট্রাম্প যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, ইসরায়েলিরা তাতেও আপত্তি জানিয়েছে। চারবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া এড়িয়েছেন ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পকে চারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেন কিনা। প্রতিবারই তিনি তাকে সমর্থন করা বা অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। জুলাই মাসে যখন রেডিও সঞ্চালক হিউ হিউইট জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ইসরায়েলে এ পদের জন্য আরও উপযুক্ত কেউ আছেন কিনা, তখন ট্রাম্প উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি নেতানিয়াহুর বেশিরভাগ প্রতিপক্ষকে চেনেন না। ট্রাম্প সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে একজন মহান যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি কথাগুলো বলেছেন অতীত কাল ব্যবহার করে, যা থেকে মনে হয় নেতানিয়াহুর সেই সময়ের ভূমিকা এখন আর বর্তমান নেই। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ট্রাম্প তাদের শেষ বৈঠকে নেতানিয়াহুর ক্ষমার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপন করেছিলেন, তবুও তিনি কয়েক মাস ধরে এটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেননি। ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নির্বাচনের গুরুত্ব কি? ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার শেষ দুই বছরে তার পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার জন্য ইসরায়েলের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন ইরান সংকট 'কোনও চুক্তিও নেই, কোনও যুদ্ধও নেই' এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প গাজায় তার শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অগ্রগতি আনা, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি করা নিয়ে মধ্যস্থতা করতে চান। ট্রাম্প এবং তার দল ইসরায়েলের ২০১৯ সালের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন, যে সময়ে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং পশ্চিম এশিয়ায় কূটনীতির একটি বছর নষ্ট হয়েছিল। একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে, হোয়াইট হাউজ সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না বা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন রাজনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কর্মসূচি বিলম্বিত হোক তা চাইবে না। সূত্র: নিউজ১৮/অ্যাক্সিওস
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শক্তিশালী এ ভূ-কম্পনের পর সুনামির আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের নাগেওকেও এলাকার কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার। এর কেন্দ্র ছিল নাগেওকেওর মবায়ে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। বিএমকেজি জানায়, ভূমিকম্পটির পর সুনামি সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতির নতুন তথ্য জানিয়ে সংস্থাটি জানায়, ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে জারি করা সুনামি সতর্কতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি