কনকনে শীতে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে প্রায় তিন শতাধিক শীতার্ত পরিবারের মধ্যে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মো. মুসাহিদ মাসুম।
এ সময় তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থাকা বিজিবির দায়িত্বের অংশ। মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তারাগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে রোজার শিক্ষা, তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব এবং সমাজে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস। এই মাসের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় তিনি তারাগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামুলক আলোচনা করেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম পরিচিতি সভা ও মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কাছে জনগণ সর্বপ্রথম সম্মানজনক আচরণ ও সৌজন্যপূর্ণ ব্যবহার প্রত্যাশা করে। সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানি বা অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার না হন—সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান করেন। উপজেলা পরিষদ হলরুমে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি আজহারুল ইসলাম বলেন, জনসেবার মান কেবল কাজের গতি দিয়ে নির্ধারিত হয় না; কর্মকর্তাদের আচরণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একজন নাগরিক যদি সম্মান পান, তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা হয় এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি ভাষা দিবস নিয়ে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি হলো বাঙ্গালি জাতির উপর হওয়া এক বড় অন্যায়ের প্রতিবাদ। নিজের ভাষাকে রক্ষা করা, মানে নিজের অস্তিত্বকে রক্ষা করা। এ সময় তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি না করার জন্য থানা পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, আমার দলেরও কেউ অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যায়কারীকে আমরা ছেড়ে দেব না। মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। মাদক জীবন ধ্বংস করে, মাদক দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে। তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সড়ক উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সহজীকরণে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের সার্বিক বিষয় আইনশৃঙখলার গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এসময় সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের ভেতর যারা গোপনে মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, সরকার তাদের চিহ্নিত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় দেশে এখনো একটি মহল ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে প্রশ্রয় দিতে চায় বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যেন কোনো ভুল-বোঝাবুঝি না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তথ্যমন্ত্রী। জনকল্যাণে কাজ করার জন্য উভয়ের মাঝে সমঝোতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন আপনাদের বিরুদ্ধেই কোনো আন্দোলন গড়ে না ওঠে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।’ চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করবে বলে ঘোষণা দেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারীর ক্ষমতায়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাংবাদিকদের যেকোনো সমস্যার সমাধান সাংবাদিকতার নিজস্ব পরিসরের মধ্যেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ তিনি চান না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা, সংকট বা বিরোধ সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এর বাইরে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ হলে পেশাগত স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’ গণমাধ্যমের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ সাংবাদিকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ডকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। দ্রুত এটি সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশীদ বলেছেন, দীর্ঘদিন পর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। জনগণের অনেক আশা ও আকাঙ্ক্ষা এ সরকারের কাছে। আগামীর বাংলাদেশ বাকস্বাধীনতার ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। সরকার এ লক্ষ্যেই কাজ করবে। আজ শনিবার বেলা ১২ টার দিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। আমিন উর রশীদ বলেন, সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লা অঞ্চলে ড. আখতার হামিদ খান সর্বপ্রথম কৃষিকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছেন। কৃষিতে আখতার হামিদ খান উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ এখনো দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আমিও একজন কৃষক, আমি জানি কীভাবে ধান ফলাতে হয়। কুমিল্লাসহ সারাদেশের কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা আমি স্থাপন করেছি। আপনারা উৎসাহ দিয়েছেন। এখন কুমিল্লায় এক প্রকার শিল্প বিপ্লব হয়েছে, অনেক কারখানা হয়েছে। এর অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারি বেতন-ভাতা নেই না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি না, তেল খরচও নেই না। আগামীতেও করবো না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। শিক্ষা নগরী হিসেবে কুমিল্লাকে গড়ে তুলতে চাই। মন্ত্রী হিসেবে আমি আমার জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে চাই। কুমিল্লার সমস্যা নিয়ে কাজ করবো। এ অঞ্চলের গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কুমিল্লা বিভাগ। তা বাস্তবায়ন করতে আমার জায়গা থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কীভাবে আমার স্ব স্ব বিভাগে কাজ সঠিকভাবে করতে পারি। সেজন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনারা সহযোগিতা করলে আমি ভালো কিছু করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইউমসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।