জাতীয়

'লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে চলবে ২৫০০ কোটির ইলেকট্রিক বাস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কমাতে এবং বায়ুদূষণ রোধে এবার ঢাকায় ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎ-চালিত) বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বায়ুর গুণগত মান ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন এবং পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

 

নগরবাসী বলেছেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চালু করার উদ্যোগ ইতিবাচক। পরিবেশ রক্ষায় এটি নিঃসন্দেহে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তবে পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর বাসের সঙ্গে ইলেকট্রিক বাসের পাল্লা দিয়ে চলা বড্ড বেমানান। তাই ইলেকট্রিক বাস চলাচলের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে রাজধানীর গণপরিবহনের বেহাল দশা সংশোধন করা জরুরি। একইসঙ্গে ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতেও জোর দেওয়ার দাবি তাদের।

 

 

পুরোনো বাসের জায়গায় ইলেকট্রিক বাস প্রতিস্থাপন

 

 

রাজধানীতে যত পুরোনো বা লক্করঝক্কর বাস রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে পুরোনো বাসগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।

 

পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন কীভাবে হবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে— রাজধানী থেকে পুরোনো বাস সরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু ধরেই তো তা সম্ভব নয়। এ নিয়ে আবার বাস মালিকদের তোপের মুখে পড়তে হবে। তাই ধীরে ধীরে এ কাজ করা হবে। মানুষ যখন আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা পাবে, তখন এমনিতেই পুরোনো জিনিস বাদ দেবে। সরকারের পক্ষ থেকে লক্করঝক্কর বাস চলাচল কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চলাচলের বিষয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। প্রযুক্তি নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর পুরোনো সব বাসকে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হবে।

 

যা আছে ইলেকট্রিক বাস প্রকল্পে

 

ইলেকট্রিক বাস প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে। এসব বাস চলবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে। অপারেটর দিয়ে পরিচালনা করা এসব বাস। এসব বাসের জন্য মোট তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে।

 

জানা গেছে, পূর্বাচলে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ১ দশমিক ৩ একর জায়গায় চার্জিং স্টেশনসহ ডিপো হবে। এই ডিপোতে বাসগুলো থাকবে। আরেকটি ডিপো হবে রাজউকের ঝিলমিল এলাকায়। আরেকটি ডিপো কাঁচপুরে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া বিআরটিএ তাদের অংশে ভেহিকেল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) করাসহ আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন, বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি পরিবেশদূষণ রোধে জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন খাত থেকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বৈশ্বিক জলবায়ুসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো এবং টেকসই নগর পরিবহনকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশদূষণ রোধ ও বায়ুমান উন্নয়ন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা, সবার জন্য উপযোগী গণপরিবহন সম্প্রসারণ, যানজট হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

 

কারা আনবে, কেমন হবে ইলেকট্রিক বাস?

 

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাস অনুমোদন দেওয়ার পদ্ধতি, বাসের ধরন ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। তা থেকেই ইলেকট্রিক বাস নামানোর এই পরিকল্পনা।

 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র জানা গেছে, ইলেকট্রিক বাস নামানোর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া হবে ২১৩৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে বাকি ৩৬৫ কোটি টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ডিটিসিএ।

 

এই প্রকল্পের আওতায় কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের অধীনে ইলেকট্রিক বাস (ই-বাস) চালু করা হবে। ঢাকা শহরের যানজট কমানো, গণপরিবহনের সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ডিটিসিএসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

 

জানা গেছে, ইলেকট্রিক বাসে স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলা-বন্ধের (অটো-ডোর) এবং ই-টিকেটিং ব্যবস্থা থাকবে। বাস থাকবে একেবারে চকচকে। সুশৃঙ্খল বাস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালু হবে। বাসের গায়ে রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম লেখা থাকবে। একই কোম্পানির সব বাসের রং অভিন্ন হবে। বাসগুলো চলবে বড় কোম্পানির অধীন ফ্রাঞ্চাইজির ভিত্তিতে।

 

রাজধানীর রাস্তা থেকে পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিভিন্ন সরকার। কিন্তু কোনও সরকারই তা করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে অনেকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজশকে দায়ী করলেও মূলত সরকারের সদিচ্ছার অভাবে যুগ যুগ ধরে চলছে পুরোনো ও লক্করঝক্কর বাস।

 

বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ হাজার ১৯৮টি। ঢাকায় নিবন্ধিত বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ৫৪ হাজারের মতো। অর্থাৎ ৩০ শতাংশ বাস-মিনিবাস মেয়াদোত্তীর্ণ (২০ বছরের বেশি বয়সী)।

 

তবে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে রাজধানীতে চলাচলকারী মেয়াদোত্তীর্ণ বাস-মিনিবাসের হার আরও বেশি। কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও যানবাহনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। সে হিসাবে সংখ্যাটা আরও বেশি হবে। এছাড়া ফিটনেস সনদ হালনাগাদ নেই, এমন যানবাহন এই মেয়াদোত্তীর্ণ যানের মধ্যে পড়ে না।

 

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুরোনো ও লক্করঝক্কর বাস রাজধানীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। একইসঙ্গে এসব বাসের বেপোরোয়া চলাচল যানজট যেমন বৃদ্ধি করছে তেমনই মানুষের জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করছে। রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস নামানোর যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। তবে তার আগে পুরোনো বাসে একটা হিল্লে করা দরকার।

 

সরকারের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তবে কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে তার। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বিগত সময়েও আমরা দেখেছি, সরকার কোনও উদ্যোগ নিলে কেবল বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে। যাত্রীদের অংশীজন হিসেবেই মনে করে না সরকার। যার কারণে আমাদের কোনও পরামর্শ নেয় না।’’

 

তিনি আরও বলেন, ‘‘সব প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বাধা প্রতিকূলতা থাকে। সেসব বিষয় মাথায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বিদেশি এক্সপার্টদের মতামত নেওয়া দরকার। কারণ দেশের অভ্যন্তরে যাদের মতামত নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, দিনশেষে তার ফলাফল ব্যর্থতার রূপ নেয়। বিগত সময়েও সরকার হকার উচ্ছেদ বাস টার্মিনাল এসব স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু সঠিকভাবে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর কারণ সরকারের অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী লোকরা এসব কিছু হতে দেয় না, ফলে বদনাম হয় সরকারের।’’

 

মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘‘প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে বুঝে-শুনে লোকজন নিয়োগ দেওয়া দরকার।’’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : পিআইডি
প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া ও চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার পথে রওনা হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার দুপুর পৌনে ৩টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করে।   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন বলে জানান সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।   বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।   এর আগে, সোমবার (২১ জুন) দুপুর ২টার পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ত্যাগ করেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছয় দিনের সফরে তিনি ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন। সফর শেষে ২৬ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে।   সফরটিতে ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল রয়েছে।

মারিয়া রহমান জুন ২১, ২০২৬

জামিন পেলেন ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

ছবি: সংগৃহীত

'লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে চলবে ২৫০০ কোটির ইলেকট্রিক বাস

ছবি : সংগৃহীত

তিন মাসে যে উন্নয়ন হয়েছে, আ.লীগের ১৫ বছরেও তা হয়নি: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সরকার

সরকার যেকোনো মূল্যে জনসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।   এতে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দেখা দেয়। যেটি কোনোভাবে সরকারের কাম্য নয়। এ জন্য জনসেবা নিশ্চিত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর হচ্ছে সরকার।   জনসেবা নিশ্চিত করা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে বাধ্যতামূলক অবসর, ২৫ বছর পূর্ণ না হলে সাময়িক বরখাস্তের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।   জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের কোনো কোনো সিদ্ধান্ত, আদেশ বা সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যসহ বিবৃতি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী।   সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০-এ নম্বর বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী— (এ) সরকারের অথবা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ পালনে জনসমক্ষে আপত্তি উত্থাপন করিতে বা যেকোনো প্রকারে বাধা প্রদান করিতে পারিবেন না, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে তাহা করার জন্য উত্তেজিত বা প্ররোচিত করিতে পারিবেন না।   (বি) সরকারের বা কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা আদেশ সম্পর্কে জনসমক্ষে কোনো অসন্তুষ্টি বা বিরক্তি প্রকাশ করিতে অথবা অন্যকে তাহা করার জন্য প্ররোচিত করিতে অথবা কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করিতে বা অন্যকে অংশগ্রহণ করার জন্য প্ররোচিত করিতে পারিবেন না।’   সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তর সচিবালয়ে দেখা গেছে, সচিবালয়ের কর্মচারী নেতারা বিভিন্ন সময় সরকারি চাকরি আইন ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা ও কর্মবিরতি পালন করছেন। তাঁরা তাঁদের কর্মসূচির মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা, সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং দলবদ্ধভাবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার মতো কর্মসূচিও দিচ্ছেন। এই পদক্ষেপগুলো সরকারি সেবায় সরাসরি ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক কর্মীকে তাঁর দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়।   কিন্তু কর্মচারী নেতারা প্রায়ই নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যৌক্তিক বা অযৌক্তিক দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলন ও কর্মবিরতির ডাক দেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে এবং বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশগ্রহণ করছেন।    এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন পদমর্যাদার কিছু সরকারি কর্মচারী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন, কলমবিরতিসহ বিবিধ কর্মসূচি পালনের কারণে সরকারি কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে জনসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির কারণে সচিবালয়ের বাইরে বিশেষ করে ডিসি অফিস এবং ইউএনও অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।    তিনি আরও জানান, বিভিন্ন কারণে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হচ্ছে। শুধু পে স্কেল নয়, বিভিন্ন  রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সমন্বয়ে একাধিক সংগঠন সচিবালয়ের অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে। সহকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাঁদের জোর করে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ।   জানতে চাইলে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ে সব নিয়ম মেনেই কর্মচারীদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ ও ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর বিধানাবলি লঙ্ঘিত হয় বলে মনে করি না।’     জানা গেছে, কর্মচারীদের বিশৃঙ্খলা রোধে সরকার আইন আরো কঠোর করছে। এর অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছে সরকারি চাকরি আইন বা সংশোধিত অধ্যাদেশ। যার অধীনে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বেআইনি ধর্মঘট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করা সরাসরি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবে কাজ বন্ধ রেখে বা অন্য সহকর্মীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের নামে আইন লঙ্ঘন করতে পারেন না। সরকার এসব বিষয়ে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিধান রেখে এর আওতায় দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বরখাস্তের মতো কঠোর শাস্তির আইন রাখা হয়েছে।   সূত্র জানায়, সরকার কর্মচারীদের পেশাগত শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।   এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ আমরা সপ্তাহে সাত দিন কাজ করি। সরকার গঠনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের পাইলট কর্মসূচির সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইভাবে খাল কাটার পাইলট কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে জনসেবা ব্যাহত হয়।’   অর্থমন্ত্রী জানান, যেকোনো মূল্যে দ্রুততম সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূইয়া জানান, সরকারি কর্মচারীরা কোনোভাবেই বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ রেখে বা অন্য সহকর্মীদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের নামে আইন লঙ্ঘন করতে পারেন না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারের সর্বস্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০এ নম্বর বিধিসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। জনসেবা প্রদান এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকারি কর্মচারীদের সুশৃঙ্খল, দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণের ওপর জনপ্রশাসনের সফলতা নির্ভর করে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হাসিনা-সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ হলেও ৮০ শতাংশে নেই দুদকের নিয়ন্ত্রণ

ছবি : সংগৃহীত

হাতিরঝিলের নিরাপত্তায় মোতায়েন হবে আনসার: প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ভারত সফরে কবে যাবেন প্রধানমন্ত্রী? জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত
বিমানের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান? তৃতীয় টার্মিনালের সেবায় আসছে বৈশ্বিক জায়ান্টরা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের অন্যতম লাভজনক এই এভিয়েশন ব্যবসায় প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্তকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী-সংক্রান্ত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য বিমান অথবা অন্য একটি অপারেটরকে বেছে নিতে পারবে। তবে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের কাজ এককভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।   বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানান, গত ৩-৪ জুন বেবিচক ও তৃতীয় টার্মিনালের সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   'যাত্রীসেবার জন্য দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়টি এককভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে,' বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক টিবিএসকে বলেন।   এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টার্মিনালটির যাত্রী ও কার্গো—উভয় সেবার জন্যই দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগ করা হবে বলে আগে যে ধারণা করা হচ্ছিল, তা থেকে সরে আসা হলো। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান ও দক্ষতার অভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ছে বিমান।   বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশন, তুরস্কের চেলেবি অ্যাভিয়েশন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্টসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   গত কয়েক মাসে কূটনীতিক ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা লবিং তৎপরতা জোরদার করেছেন। নিজ নিজ দেশের কোম্পানিগুলোর পক্ষে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে বিমান চলাচলমন্ত্রী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।   সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম   বেবিচক সূত্র জানায়, সম্ভাব্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। সেখান থেকে চূড়ান্ত বাছাই করবে বাংলাদেশ।   নাম না প্রকাশের শর্তে বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী একাধিক কার্গো হ্যান্ডলার রাখার সুযোগ নেই।'   তিনি কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান কার্গো টার্মিনালের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ করা হলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় কার্গো হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।   ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'জাপানি পক্ষ সম্ভাব্য অপারেটরদের সংক্ষিপ্ত তালিকা দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তাদের যোগ্যতা, লাইসেন্স, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।'   জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচালনার মান পর্যালোচনা করা হবে  বেবিচক ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধের কারণে তৃতীয় টার্মিনাল প্রায় ১৮ মাস ধরে অলস পড়ে আছে। এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন।   বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।   কনসোর্টিয়াম-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, 'সম্ভাব্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের তালিকা থেকে বেবিচক মূলত দুটি বিষয় খতিয়ে দেখবে: জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে কোম্পানিটি গ্রহণযোগ্য কি না, আর তাদের পরিচালনার মান কেমন।'   চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেছিলেন, এ বছরের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে টার্মিনালটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে বিমানের লাভজনক ব্যবসা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রধানত যাত্রী ও কার্গো সেবা—এই দুই ভাগে বিভক্ত। যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে রয়েছে বোর্ডিং, ব্যাগেজ ও উড়োজাহাজের সহায়তামূলক কার্যক্রম।    ঢাকা বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদ টিবিএসকে বলেন, মোট কাজের প্রায় ৭৫ শতাংশই যাত্রীকেন্দ্রিক, বাকি ২৫ শতাংশ কার্গো-সংক্রান্ত।   গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বিমানের অন্যতম লাভজনক খাত। এখান থেকে তাদের বছরে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় হয়। এয়ারলাইন্সগুলো প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য বিমানকে ২ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ডলার ও কার্গোর ক্ষেত্রে কেজিতে ০.০৭ ডলার দেয়।    তা সত্ত্বেও সেবার মান নিয়ে বিমানকে ক্রমাগত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সেবার মান উন্নত করতে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল।   ৩৮টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটি ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করে।   তাদের এই দাবি এখন আংশিকভাবে পূরণ হতে চলেছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের একক নিয়ন্ত্রণ বিমানের হাতেই থাকছে, তবে যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলো নিজেদের পছন্দমতো অপারেটর বেছে নিতে পারবে।    বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এত আগ্রহী কেন ঢাকা বিমানবন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী ও ২ লাখ ৫০ হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষম।   ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের তৃতীয় টার্মিনাল এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা বছরে আরও ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৫ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের বাড়তি সক্ষমতা যোগ করবে।   খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমাগত যাত্রীসংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অপারেটরদের কাছে এদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   বিমানবন্দরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে যেখানে যাত্রীসংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ও ২০২৪ সালে ১ কোটি ২৫ লাখ, সেখানে ২০২৫ সালে ঢাকা বিমানবন্দর ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী হ্যান্ডল করেছে। মোট যাত্রীর মধ্যে ১ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ছিলেন আন্তর্জাতিক রুটের এবং ২৪ লাখ ১১ হাজার ছিলেন অভ্যন্তরীণ রুটের। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) প্রক্ষেপণ অনুসারে, আগামী এক দশকের মধ্যে ঢাকার যাত্রী চলাচল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে।   তিনি টিবিএসকে বলেন, 'বিশ্বের অধিকাংশ দেশে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট কাজ করে। এতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়, সেবার মান উন্নত হয় ও এয়ারলাইন্সগুলোও পছন্দমতো সেবাদাতা বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়া। যাত্রীরাও সুফল পান।'   বিদেশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার বাছাইয়ের বিষয়ে ওয়াহিদুল আলম বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়া যোগ্যতা ও পরিচালনগত সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।   তিনি আরও বলেন, যোগ্য অপারেটরদের সংক্ষিপ্ত তালিকা করার পর উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা উচিত, যাতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়া ভালো আর্থিক ও কারিগরি সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।   জোরালো হচ্ছে কূটনৈতিক লবিং বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় তুরস্কের চেলেবি অ্যাভিয়াশনের আগ্রহের বিষয়টি নিয়া আলোচনা করতে ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত রামিস শেন গত মাসে বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দুবার সাক্ষাৎ করেছেন।   ১২ মে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রীরা আশ্বস্ত করেছেন, বাছাই প্রক্রিয়ায় চেলেবি অ্যাভিয়েশনের প্রস্তাবটি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।   মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ মার্চ ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বিমান চলাচলমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মেঞ্জিস অ্যাভিয়েশনের আগ্রহের কথা জানান।   গত ২১ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আব্দুল্লাহ আলহমুদি দুবাই-ভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডনাটার পক্ষে মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   এরপর ১৬ জুন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সুইসপোর্টের আগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করেন।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী: মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ছয় দিনের যাত্রা

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের পাশে থাকার আহ্বান, সমর্থন চাইলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার তিন আলোচিত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসির চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে

0 Comments