গত এক বছরে কুয়েত থেকে মোট ৩৯ হাজার ৪৮৭ জন প্রবাসীকে বিতাড়িত করা হয়েছে। কুয়েতের নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, বিতাড়িতদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে কুয়েতের আইন লঙ্ঘন, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই তাদের বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েতে বসবাসরত সব প্রবাসীর জন্য আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। যারা দেশটির নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া যেসব প্রবাসী পরিবারসহ কুয়েতে বসবাস করছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে মূল স্পন্সরকে বিতাড়িত করা হলে পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ, তাদের রেসিডেন্সি মূল স্পন্সরের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
কুয়েত সরকার জানিয়েছে, দেশটির আইন ও বিধি মেনে চললে প্রবাসীদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। তবে আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ভবিষ্যতেও নিরাপত্তা অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নীরবে কিন্তু গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক শক্তিশালী উপাদান হয়ে উঠেছে পোস্টাল ভোট। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ লাখ পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি ভোট প্রবাসী বাংলাদেশিদের, যা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি খামের ভেতরে থাকা একটি ব্যালট পেপারই বদলে দিতে পারে একটি আসনের ভাগ্য—এমনকি পুরো নির্বাচনের চিত্রও। বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট হয়ে উঠতে পারে প্রকৃত অর্থেই একটি ‘গেম চেঞ্জার’। ফলে এই ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্বেগ। স্বপ্নের ভোটাধিকার, বাস্তবের জটিলতা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশের বাইরে বসে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে বাস্তবে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ, প্রেরণ ও গ্রহণের প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা জটিলতা ও ঝুঁকি। সময়মতো ব্যালট না পৌঁছানো, ঠিকানাগত বিভ্রান্তি কিংবা মধ্যবর্তী পর্যায়ে অনিয়মের আশঙ্কা ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুল সংখ্যক এই ব্যালট যেন কোনোভাবেই ‘অদৃশ্য হাতের’ কবলে না পড়ে। পোস্টাল ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচনের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো দাবি উঠেছে—পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার। মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের ভোগান্তির বাস্তব অভিজ্ঞতা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতায়। সম্প্রতি পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তিতে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন প্রযুক্তি পেশাজীবী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার। তিনি জানান, প্রবাস থেকে দেশের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল আনন্দের। কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস Pos Laju-এর ট্র্যাকিং জটিলতায় সেই আনন্দ দ্রুত হতাশায় রূপ নেয়। অ্যাপে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভার্ড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি তা পাননি। এমনকি কোনো ফোন কল বা নোটিশও দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে কুয়ালালামপুরে Pos Laju-এর প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি বলে পার্সেলটি ‘রিটার্ন’ করা হয়েছে। তবে পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। সেখানে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, একই অভিযোগ নিয়ে আরও চার-পাঁচজন বাংলাদেশি প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা ও যাচাই নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন নিজের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে পাভেল সারওয়ার বলেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া আমার অধিকার। কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি দেখে আমি হতাশ। আমি নিজে অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকত না। তিনি পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আরেকটি বড় কনসার্ন হলো—আপনার ট্র্যাকিং নম্বর জানা থাকলে অন্য যে কেউ খুব সহজেই আপনার ব্যালট সংগ্রহ করতে পারে। Pos Laju অফিসে কোনো আইডি ভেরিফিকেশন ছাড়াই শুধু নাম ও পাসপোর্ট নম্বর লিখে সাইন করলেই পার্সেল দেওয়া হচ্ছে। এতে কার পার্সেল কে নিচ্ছে, তা কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে? একই অভিজ্ঞতা অন্য প্রবাসীরও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশি এক্সপ্যাটস ইন মালয়েশিয়া এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান রিয়াজ। তিনি জানান, এখনো তার ব্যালট হাতে পৌঁছায়নি। পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, তাকে না পেয়ে ব্যালট পেপার বাংলাদেশে রিটার্ন পাঠানো হয়েছে। রিয়াজ বলেন, যেখানে আমার ফোন নম্বর ছিল, সেখানে ডেলিভারির সময় একটি ফোন কল করলেই সমস্যা সমাধান হতো। কিন্তু তা না করে ব্যালট পেপার ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রবাসীদের সতর্কতা ও দূতাবাসের ভূমিকার আহ্বান মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে পাভেল সারওয়ার পরামর্শ দেন, শুধু অ্যাপের ট্র্যাকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে Pos Laju-এর ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নম্বর যাচাই করতে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কলের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ব্যালট বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করা যায়। সচেতন মহলের মতে, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়াকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত তথ্য প্রদান, স্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা না বাড়ালে এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটপ্রক্রিয়া ভবিষ্যতে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সব মিলিয়ে, ১৫ লাখ পোস্টাল ভোট শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক নীরব শক্তি। এই শক্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দেবে—তা নির্ভর করছে পুরো প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর।
আন্তর্জাতিক ক্যাডেট বিনিময় কর্মসূচি ২০২৬-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছে। বিএনসিসি-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ আল মাসুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গত ৩০ ডিসেম্বর মালদ্বীপে পৌঁছায়। সফরের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিনিধিদলটি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ে বিনিময় কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাইকমিশনার এই কর্মসূচিকে সামরিক 'সফট পাওয়ার' ও জনকূটনীতির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেন। এবারের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও স্বাগতিক মালদ্বীপের ক্যাডেটরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আস্থাবর্ধক সম্পর্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সফরকালে বিএনসিসি প্রতিনিধিদল মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স, পুলিশ কমিশনার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। এই সফর ক্যাডেট ও যুব পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল সামরিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককেও সুদৃঢ় করবে।
মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর এ সুযোগ পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. সোহেল পারভেজ প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত পূরণকৃত ব্যালট খাম দেশে ফেরত পাঠাবেন না। অনলাইনে পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১২৪টি দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে মালদ্বীপে মোট ৯ হাজার ১৭৩ জন ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ইতোমধ্যেই যারা আগে নিবন্ধন করেছিলেন, তাদের অনেকেই ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবার প্রবাসীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পূরণে তারা দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসীরা আগামী ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে প্রবাস বান্ধব সরকার গঠনে অংশ নেবেন। মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসীরা এই সুযোগকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।