সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় বিএডিসির ‘ভেজাল ও নিম্নমানের’ পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি, দায় কার?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজ বপনের পর ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিষ্ঠানটির বীজ ভেজাল ও নিম্নমানের বলে দাবি কৃষকের। তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

 

অভিযোগ রয়েছে ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা পাটবীজ প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। এরপর অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বীজ প্যাকেটজাত করে তা চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

এতে পাটবীজ সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম। তবে এতে দায় কার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠ পর্যায়ে আস্থা হারাচ্ছেন চাষিরা। এমন পরিস্থিতে ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

 

তবে পাটবীজ নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়ার পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বড় স্যারেরা দেখছেন। তবে আমাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।

 

সরকারিভাবে কৃষি উপকরণ সরবরাহের সিংহভাগ কার্যক্রম করে থাকে বিএডিসি। কৃষি খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিপুল অর্থও বরাদ্দ হয়ে থাকে বিএডিসির নানাবিধ খাতে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সার বীজ ও সেচ সরবরাহ খাতে বিএডিসি এসব অর্থ ব্যয় করে থাকে।

 

বিএডিসি পাটবীজ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা কর্মসূচির অনুকূলে ১৮০ টন পাটবীজ ক্রয় ও সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

যদিও কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ বিভাগের দাবি, তারা এ বছর ২৮৩ টন পাটবীজ সংগ্রহ করেছেন; যা প্যাকেটজাতের পর বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে তাদের সরবরাহ করা বীজের প্রায় সাড়ে ২৪ টন ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ কর্তৃক বাতিল করে কুষ্টিয়ায় ফেরত পাঠায়।

 

ফরিদপুর পাটবীজ বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বীজের কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন বা চারা না গজানোয় ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়।

 

তবে চিঠির অভিযোগ মানতে নারাজ কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মনিরা খাতুন। তার দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিল করছেন।

 

ওই চিঠি ধরে বিএডিসির এসব বীজের মান নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করা হয়। এতে বীজ ক্রয়, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে নানা অনিয়মসহ ভেজালের তথ্য উঠে আসে। কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত বীজের হাল দেখে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে।

 

কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলায় অবস্থিত। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে স্তূপ করে রাখা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, প্যাকেট ও প্যাকেটজাত বীজের ভিন্নতা; যা দেখেই বোঝা যায় এখানে আসলে ভালো-মন্দের মিশ্রণ রয়েছে।

 

বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধান করছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে বিপুল পরিমাণ বীজ গুদামের পিছনে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, আগে থেকে তালিকাভুক্ত চাষিদের নানাবিধ প্রণোদনা, পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে বীজ সরকারি প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত হলে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করার কথা। কিন্তু পাটবীজ গুদামে তা মানা হয়নি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাংনী উপজেলার এক উদ্যোক্তা পাটবীজ চাষি বলেন, “উনারা বলছেন ২৮৩ টন পাটবীজ ক্রয় করেছেন। কিন্তু বিপুল এ বীজ কোথাকার কোন উদ্যোক্তার কাছে থেকে নিয়েছেন দেখাতে বলেন?

 

আমার জানা মতে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ আশপাশের ১০ জেলা কুড়িয়েও ৫০ টন পাটবীজ উৎপাদন করতে পারেননি উদ্যোক্তা চাষিরা। তাহলে এত বীজ কোথা থেকে কোন মানদণ্ডে তারা ক্রয় করেছেন?

 

আসলে সিংহভাগ বীজ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা হয়। অসাধু বীজ ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব পাটবীজ সংগ্রহের পর প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। পরে প্যাকেটজাত করে চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

কৃষি বিভাগ নিম্নমানের বীজ নতুন করে প্যাকেটে ভরে চাষিদের দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের পাটচাষি আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবার তিনি পাট চাষের জন্য এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। পরে এই বীজ বপন করার পর আর চারা গজায়নি।

 

একদিকে আমার একটা বতর (মৌসুম) জমি পাকাল পড়ে থাকল, আবার গাট্যের ট্যেকাও খরচ হইলু। ইর দায় নিবি কিডা? এই বটতৈল ইউনিয়নে যত চাষি সরকারের এই পাটের বেচন (বীজ) বোনেছে, তারা কেউ দেখাতে পারবে না যে চারা গজায়ছে, বলেন তিনি।

 

চলতি মৌসুমে বিএডিসি থেকে চাষিদের সরবারহ করা প্রণোদনার পাটবীজের চারা ক্ষেতে গজায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।

 

মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএডিসির বীজ ভেজালের সঙ্গে বিশাল চক্র জড়িত। কয়জনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এরা বাজারের ব্রান্ডিং কোম্পানির বীজের নমুনা প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পরপর আমদানি করা নিম্নমানের বীজ প্যাকেটজাত করেন।

 

এরপর প্রত্যয়ন এজেন্সির নকল ট্যাগ লাগিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে বিএডিসির গুদামের সরবরাহ করেন। সেখান থেকে সারাদেশে এসব বীজ সরবরাহ করা হয়।

 

‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, শুধুমাত্র এ বছরই বিএডিসির পাটবীজ নিয়ে এত কথা হচ্ছে তা নয়। গত বছর বিএডিসির পিঁয়াজ বীজ নিয়ে সারা দেশের চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার এককভাবে বিএডিসির উপর বীজের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর যাচ্ছে তাই করেই যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নিম্নমানের পচা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিল করা বীজ নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে বিপণন ও সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতে কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচিকে শূন্য নামছে। আর প্রতিবছর কৃষি খাতে সরকারের বিপুল অর্থ তসরূপ হচ্ছে।

 

এ বছর পাটবীজের ঘটনার মধ্যদিয়ে বেড়িয়ে আসা অনিয়ম তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের এই নেতা।

 

কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “চাষি যাতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পায় এবং বীজ নিয়ে যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সি কাজ করে। বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত পর্যন্ত আমরা নানা বিচ্যুতির ঘটনা পাই।

 

সেক্ষেত্রে এজেন্সির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বীজ বিক্রয় ও সরবরাহ সংশ্লিষ্টদের বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকা প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাটবীজ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ তদন্ত করা হবে।

 

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভারতীয় বীজে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষক

 

বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজে জারমিনেশন বা অঙ্কুরোদগমের মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষকরা।

 

পাটবীজ ডিলাররা বলছেন, মেহেরপুরের চিৎলা পাটবীজ খামারের বীজে জারমিনেশন মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় বীজের চাহিদা বেড়েছে।

 

তবে প্রণোদনার পাটবীজে জারমিনেশন মাত্রা একটু কম থাকলেও কৃষক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর।

 

দেশের সবচেয়ে বড় পাটবীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান চিৎলা পাটবীজ খামার। প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমির উপর গড়ে তোলা এ খামার থেকে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ পাটবীজের চাহিদা মেটানো হয়। গুনে মানে ভাল হওয়ায় এ খামারের বীজের চাহিদাও ছিল বেশ।

 

সম্প্রতি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বীজ উৎপাদন এবং বীজের গুণগত মান রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় চাষিরা ভারতীয় বীজের দিকে ঝুঁকছেন। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিও তাদের সুনাম হারাচ্ছে। খামার অভ্যন্তরে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর লোকসান গুণছে সরকার।

 

এ জেলায় ধানের পরই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল পাট। বাজারে দাম ভালো থাকার কারণে এবার জেলায় পাটের উৎপাদনও বেশি। কিন্তু দেশি বীজের মন্দাবস্তার কারণে চাষিরা এবার চড়া দামে ভারতীয় পাটবীজ কিনেছেন। তাহলে ভাল মানের পাটবীজ সরবরাহকারী সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কাজ কি?

 

একই প্রশ্নে বারাদী গ্রামের পাটচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। দেশি বীজ ভাল না হওয়ায় ভারতের শঙ্কর জাতের বীজ কিনে বপন করেছেন তিনি। এবার পাটের মণ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

 

প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট হবে। বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার খরচের পরও এবার পাটে ভালোই লাভ হবে। এ ছাড়া পাটকাঠির চাহিদা বাড়ার কারণে শুধু পাটকাঠি বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে যায়।

 

তিনি বলেন, দেশি পাটবীজ লাগানো গেলে উৎপাদন আরও বেশি হত। কিন্তু চিৎলা পাটবীজ খামার থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালোমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষককে ভাল বীজ সহায়তা দিতে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো কাজে আসছে না।

 

মেহেরপুরের পাটবীজ ব্যবসায়ী ‘চৌগাছা পাটবীজ ভাণ্ডারের’ মালিক হাসান আলী বলেন, এবার সরকারি পাটবীজ ভালো হবে ভেবে পাঁচ টন বীজ কেনার জন্য পে-অর্ডার করার পর তা আবার ফেরৎ নিয়েছি। পে-অর্ডার করার পর চিৎলা পাটবীজ খামারের একজন কর্মকর্তা জানালেন এবার বীজে জারমিনেশন কম ধরা পড়েছে।

 

এই বীজ নিলে এবারও অঙ্কুরোদম কম হবে। চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেটা জানার পর আট টন ভারতীয় শঙ্কর, চক্র, এনএসসি জাতের পাটবীজ কিনি। সরকারি পাটবীজের বাজার এভাবেই নষ্ট হচ্ছে।

 

অপর পাটবীজ ডিলার ‘আরমান ট্রেডার্সের’ মালিক আরমান আলী বলেন, “একসময় চিৎলা পাটবীজের খুবই সুখ্যাতি ছিল। তখন ভারতীয় বীজ এ অঞ্চলে বিক্রি হত না। চলতি মৌসুমে ১০ টন চিৎলা বীজ খামারের সবুজ সোনা ও তুষা জাতের বীজ কিনেছেন।

 

সেইসঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন জাতের বীজ কিনেছি ২০ টন। শুনেছি, এবার কৃষককে বিনামূল্যে দেওয়া চিৎলার প্রণোদনার বীজের মান খারাপ। জারমিনেশন কম থাকায় কৃষক সেই বীজ বপন করে ঠকেছেন। অনেক কৃষক সেই বীজ না লাগিয়ে ভারতীয় বীজ কিনে লাগিয়েছেন।

 

প্রণোদনার বীজে জারমিনেশন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জোরালো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর বলেন, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম বীজ লাগে। কৃষককে চাহিদামতো বীজ দেওয়া হয়।

 

প্রতিবার বীজের পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ১২ কেজি সার এবং কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তবে এবার বীজ ছাড়া কৃষককে কোনও সাপোর্ট দেওয়া হয়নি।

 

প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল অভিযোগ নেই চুয়াডাঙ্গায়

 

চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল কোনও অভিযোগ নেই। তবে কোথাও কোথাও চারা না গজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

কৃষকরা বলেছেন, বীজ থেকে ঠিকমত চারা গজিয়েছে। তবে ভূট্টা কেটে চাষ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও নাবি হয়ে গেছে। কোনো কোনো কৃষক বলেছেন, চারা ভাল হয়েছে, পাটের গুণগত মান কেমন হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।

 

সদর উপজেলার কাথুলি গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বিএডিসির প্রণোদনার বীজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ভূট্টা কেটে নিয়ে সেই জমিতে পাট চাষ করেছি। মে মাসের প্রথম দিকে পাট চাষ করি। কিছুটা নাবি হয়ে গেছে। সামান্য ফলন বিঘ্নিত হতে পারে।

 

একই গ্রামের নাজমুলও পেয়েছেন প্রণোদনার বীজ। তিনি বলেন, চারা গজিয়েছে, কোনও সমস্যা হয়নি।

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এ জেলায় দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে পাট চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করবেন, সেই হিসেবেই বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া।

 

এর মধ্যে সদরে ৩০০, আলমডাঙ্গায় ৬০০, দামুড়হুদায় ৮০০ ও জীবননগরে ৫০০ কৃষককে পাটচাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির বীজ বিপণন শাখার স্টোর কিপার মোহাম্মদ ওয়ালিদ বলেন, প্রণোদনার জন্য পাটের বীজ আমাদের কাছে এসেছিল কুষ্টিয়া থেকে। দুই হাজার ২০০ কৃষককে দেওয়ার জন্য আমরা তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সরবরাহ করি।

 

একই দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, বীজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ যাওয়া যায়নি।

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, প্রণোদনার পাটবীজ পাওয়ার পর আমরা জার্মিনেশন পরীক্ষা করেছিলাম। তারপর তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোনও সমস্যা হয়নি। বরং দেশের অন্য অনেক জেলার চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষ আগে হওয়ায় ফলন ভাল হবে। কৃষকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি।

 

বিএডিসির পাটবীজে দেশের কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, সব লটে সমস্যা না-ও হতে পারে। তবে চুয়াডাঙ্গার লট ভাল ছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহারের দাবিতে গণ-অনশন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এমপি

প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার ও আগের ডিজিটাল মিটার বহাল রাখার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে গণ–অনশন করেছেন নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতা–কর্মীরা। পরে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙেন তাঁরা।   আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। গণ–অনশন চলাকালে বেলা পৌনে একটার দিকে সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান সংসদ সদস্য আবুল কালাম। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী ৭৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির দায় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই গণ–অনশনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান (ইসমাইল)। তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটার এখন গ্রাহকদের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মিটার বাতিল ও প্রত্যাহার করতে হবে। প্রিপেইড মিটারের স্ল্যাবের (আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রিপেইড মিটারের বিল কাটার প্রক্রিয়া) নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।   নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে এই গণ–অনশনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান (মাসুম)। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী তাঁদের দাবির সঙ্গে একাত্ম। তাঁরা প্রিপেইড মিটার লাগাবেন না। পাড়া–মহল্লায় যেখানেই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য আসা হবে, সেখানেই তা প্রতিহত করা হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের ‘ষড়যন্ত্র’ রুখে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। গণ–অনশনে বক্তারা বলেন, যেসব গ্রাহকের আগের ডিজিটাল মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে, তাঁদের আগের মিটার পুনঃস্থাপন করতে হবে। প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।   এর আগে ১১ আগস্ট একই দাবিতে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছিল নাগরিক অধিকার ফোরাম। ওই কর্মসূচি থেকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ না হলে হরতালসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। গণ–অনশন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আসেন। তিনি প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে তিনিও এ বিষয়ে ভুক্তভোগী। তবে প্রিপেইড মিটার স্থাপন সরকারি নীতিনির্ধারণের বিষয় হওয়ায় তিনি বিষয়টি সরকারের কাছে ও জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন বলে জানান।   আবুল কালাম বলেন, ‘আশা করি, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে।’ চলতি সংসদ অধিবেশনেই আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করবেন বলে জানান। পরে তাঁর আহ্বানে আন্দোলনকারীরা পানি পান করে গণ–অনশন ভাঙেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির নতুন মুখপাত্র হলেন মো. আকতার হোসেন

ছবি: সংগৃহীত

নিলাম ছাড়াই মাছ বিক্রির অভিযোগ সাবেক ওসির বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
ভাইয়ের লাশ নিতে ঝিনাইদহে আফগান নাগরিক, হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে উদ্ধার করা আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদির দাফনের সাড়ে চার মাস পর লাশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন তার ভাই ইমাল মোহাম্মদি। তিনি দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও দাপ্তরিক জটিলতায় কবর থেকে লাশ উত্তোলনের বিষয়টি আটকে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পর নিহতের ভাই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ সোমবার ঝিনাইদহে এসে পৌঁছালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাসমত মোহাম্মদির পরিবার।   ইমাল মোহাম্মদির বাংলাদেশি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন শাখা-১-এর উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান গত ১১ আগস্ট (স্মারক নং-৮১৯) পররাষ্ট্রসচিব, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে নিহতের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে আফগানিস্তানে পাঠানোর বিষয়ে অনাপত্তি প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমতির চিঠি না পাওয়ায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি থমকে রয়েছে।   ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের এক নাগরিক জড়িত, সে কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল। পরবর্তীতে পিবিআই মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে মেলাতে না পারায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে গত ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (মামলা নম্বর: ২০) দায়ের করা হয়।   একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাশের ছবি দেখে নিহতের স্বজনেরা নিশ্চিত হন যে লাশটি আফগানিস্তানের কাবুলের পাঞ্জাশির এলাকার কন্দুস গ্রামের ইয়াসিন মোহাম্মদি ও সকিনা মোহাম্মদি দম্পতির ছেলে হাসমত মোহাম্মদির। লাশ উদ্ধারের পর তার লন্ডনপ্রবাসী ভাই মীর ওয়াইস মোহাম্মদী লন্ডন থেকে ঝিনাইদহে আসলেও আইনি জটিলতার কারণে লাশ না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। দাফনের ৪ মাস ১০ দিন পর গত সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) নিহতের আরেক ভাই ইমাল মোহাম্মদী নিজ সহোদরের লাশ আফগানিস্তানে ফিরিয়ে নিতে ডিএনএ টেস্টের নথিপত্র, মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও পরিচয়পত্রসহ ঝিনাইদহে আসেন।   বর্তমানে ঝিনাইদহের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানত ইমাল মোহাম্মদি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে তার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তারা কেবল চান ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী লাশটি নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দাফন করতে। এমন শোকার্ত অবস্থায় এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে হওয়া স্বজনদের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।   এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া মাত্রই লাশ উত্তোলনের পর হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক রফিকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

যশোরে দুই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক পরিবার হত্যা: তদন্তভার পেল ডিবি

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।   সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য আগামীকাল (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন।   আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।    গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান।   পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।   গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।   শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।   রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।   ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।   প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

ঝড়ের কবলে পড়ে ১৬ জেলে নিয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১

ফাইল ছবি

ঢাকার আরও ৫০ সিগন্যাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা

0 Comments