সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় বিএডিসির ‘ভেজাল ও নিম্নমানের’ পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি, দায় কার?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজ বপনের পর ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিষ্ঠানটির বীজ ভেজাল ও নিম্নমানের বলে দাবি কৃষকের। তবে এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

 

অভিযোগ রয়েছে ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা পাটবীজ প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। এরপর অসাধু ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব বীজ প্যাকেটজাত করে তা চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

এতে পাটবীজ সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ হতে বসেছে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম। তবে এতে দায় কার, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঠ পর্যায়ে আস্থা হারাচ্ছেন চাষিরা। এমন পরিস্থিতে ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন কৃষকরা।

 

তবে পাটবীজ নিয়ে সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়ার পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের বড় স্যারেরা দেখছেন। তবে আমাদের বীজের গুণগত মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।

 

সরকারিভাবে কৃষি উপকরণ সরবরাহের সিংহভাগ কার্যক্রম করে থাকে বিএডিসি। কৃষি খাতের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের বিপুল অর্থও বরাদ্দ হয়ে থাকে বিএডিসির নানাবিধ খাতে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে সার বীজ ও সেচ সরবরাহ খাতে বিএডিসি এসব অর্থ ব্যয় করে থাকে।

 

বিএডিসি পাটবীজ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা কর্মসূচির অনুকূলে ১৮০ টন পাটবীজ ক্রয় ও সংগ্রহে কৃষি মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

যদিও কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ বিভাগের দাবি, তারা এ বছর ২৮৩ টন পাটবীজ সংগ্রহ করেছেন; যা প্যাকেটজাতের পর বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে তাদের সরবরাহ করা বীজের প্রায় সাড়ে ২৪ টন ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ কর্তৃক বাতিল করে কুষ্টিয়ায় ফেরত পাঠায়।

 

ফরিদপুর পাটবীজ বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বীজের কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন বা চারা না গজানোয় ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়।

 

তবে চিঠির অভিযোগ মানতে নারাজ কুষ্টিয়ার উপপরিচালক মনিরা খাতুন। তার দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ডিল করছেন।

 

ওই চিঠি ধরে বিএডিসির এসব বীজের মান নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করা হয়। এতে বীজ ক্রয়, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনে নানা অনিয়মসহ ভেজালের তথ্য উঠে আসে। কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত বীজের হাল দেখে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে।

 

কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলায় অবস্থিত। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একই স্থানে স্তূপ করে রাখা প্রতি কেজি প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, প্যাকেট ও প্যাকেটজাত বীজের ভিন্নতা; যা দেখেই বোঝা যায় এখানে আসলে ভালো-মন্দের মিশ্রণ রয়েছে।

 

বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীরা অনুসন্ধান করছেন, এমন তথ্য জানতে পেরে বিপুল পরিমাণ বীজ গুদামের পিছনে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। নিয়মানুযায়ী, আগে থেকে তালিকাভুক্ত চাষিদের নানাবিধ প্রণোদনা, পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে বীজ সরকারি প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে নমুনা পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত হলে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করার কথা। কিন্তু পাটবীজ গুদামে তা মানা হয়নি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাংনী উপজেলার এক উদ্যোক্তা পাটবীজ চাষি বলেন, “উনারা বলছেন ২৮৩ টন পাটবীজ ক্রয় করেছেন। কিন্তু বিপুল এ বীজ কোথাকার কোন উদ্যোক্তার কাছে থেকে নিয়েছেন দেখাতে বলেন?

 

আমার জানা মতে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরাসহ আশপাশের ১০ জেলা কুড়িয়েও ৫০ টন পাটবীজ উৎপাদন করতে পারেননি উদ্যোক্তা চাষিরা। তাহলে এত বীজ কোথা থেকে কোন মানদণ্ডে তারা ক্রয় করেছেন?

 

আসলে সিংহভাগ বীজ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে হ্যাচারি ফিড হিসেবে স্বল্প মূল্যে আমদানি করা হয়। অসাধু বীজ ব্যবসায়ী এবং বিএডিসির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব পাটবীজ সংগ্রহের পর প্রথমে গুদামে সরবরাহ করা হয়। পরে প্যাকেটজাত করে চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

 

কৃষি বিভাগ নিম্নমানের বীজ নতুন করে প্যাকেটে ভরে চাষিদের দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামের পাটচাষি আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবার তিনি পাট চাষের জন্য এক বিঘা জমি প্রস্তুত করতে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। পরে এই বীজ বপন করার পর আর চারা গজায়নি।

 

একদিকে আমার একটা বতর (মৌসুম) জমি পাকাল পড়ে থাকল, আবার গাট্যের ট্যেকাও খরচ হইলু। ইর দায় নিবি কিডা? এই বটতৈল ইউনিয়নে যত চাষি সরকারের এই পাটের বেচন (বীজ) বোনেছে, তারা কেউ দেখাতে পারবে না যে চারা গজায়ছে, বলেন তিনি।

 

চলতি মৌসুমে বিএডিসি থেকে চাষিদের সরবারহ করা প্রণোদনার পাটবীজের চারা ক্ষেতে গজায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।

 

মিরপুর উপজেলার আমলা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিএডিসির বীজ ভেজালের সঙ্গে বিশাল চক্র জড়িত। কয়জনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন? এরা বাজারের ব্রান্ডিং কোম্পানির বীজের নমুনা প্রত্যয়ন এজেন্সির মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়ে অনুমোদন পাওয়ার পরপর আমদানি করা নিম্নমানের বীজ প্যাকেটজাত করেন।

 

এরপর প্রত্যয়ন এজেন্সির নকল ট্যাগ লাগিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে বিএডিসির গুদামের সরবরাহ করেন। সেখান থেকে সারাদেশে এসব বীজ সরবরাহ করা হয়।

 

‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কারশেদ আলম বলেন, শুধুমাত্র এ বছরই বিএডিসির পাটবীজ নিয়ে এত কথা হচ্ছে তা নয়। গত বছর বিএডিসির পিঁয়াজ বীজ নিয়ে সারা দেশের চাষিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সরকার এককভাবে বিএডিসির উপর বীজের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর যাচ্ছে তাই করেই যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নিম্নমানের পচা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বাতিল করা বীজ নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করে প্যাকেটজাতের মাধ্যমে বিপণন ও সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এতে কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচিকে শূন্য নামছে। আর প্রতিবছর কৃষি খাতে সরকারের বিপুল অর্থ তসরূপ হচ্ছে।

 

এ বছর পাটবীজের ঘটনার মধ্যদিয়ে বেড়িয়ে আসা অনিয়ম তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সামাজিক আন্দোলনের এই নেতা।

 

কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, “চাষি যাতে গুণগত মানসম্পন্ন বীজ পায় এবং বীজ নিয়ে যাতে প্রতারিত না হয় সেজন্য বীজ প্রত্যায়ন এজেন্সি কাজ করে। বীজ উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত পর্যন্ত আমরা নানা বিচ্যুতির ঘটনা পাই।

 

সেক্ষেত্রে এজেন্সির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া ছাড়াও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চলতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বীজ বিক্রয় ও সরবরাহ সংশ্লিষ্টদের বিধি বহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকা প্রায় ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, চাষিদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাটবীজ নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ তদন্ত করা হবে।

 

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ভারতীয় বীজে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষক

 

বিএডিসির সরবরাহ করা পাটবীজে জারমিনেশন বা অঙ্কুরোদগমের মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় পাটবীজ ক্রয় ও রোপণে ঝুঁকছেন মেহেরপুরের কৃষকরা।

 

পাটবীজ ডিলাররা বলছেন, মেহেরপুরের চিৎলা পাটবীজ খামারের বীজে জারমিনেশন মাত্রা কম হওয়ায় ভারতীয় বীজের চাহিদা বেড়েছে।

 

তবে প্রণোদনার পাটবীজে জারমিনেশন মাত্রা একটু কম থাকলেও কৃষক খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর।

 

দেশের সবচেয়ে বড় পাটবীজ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান চিৎলা পাটবীজ খামার। প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমির উপর গড়ে তোলা এ খামার থেকে দেশের প্রায় ৬০ ভাগ পাটবীজের চাহিদা মেটানো হয়। গুনে মানে ভাল হওয়ায় এ খামারের বীজের চাহিদাও ছিল বেশ।

 

সম্প্রতি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বীজ উৎপাদন এবং বীজের গুণগত মান রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় চাষিরা ভারতীয় বীজের দিকে ঝুঁকছেন। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিও তাদের সুনাম হারাচ্ছে। খামার অভ্যন্তরে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর লোকসান গুণছে সরকার।

 

এ জেলায় ধানের পরই দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল পাট। বাজারে দাম ভালো থাকার কারণে এবার জেলায় পাটের উৎপাদনও বেশি। কিন্তু দেশি বীজের মন্দাবস্তার কারণে চাষিরা এবার চড়া দামে ভারতীয় পাটবীজ কিনেছেন। তাহলে ভাল মানের পাটবীজ সরবরাহকারী সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কাজ কি?

 

একই প্রশ্নে বারাদী গ্রামের পাটচাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। দেশি বীজ ভাল না হওয়ায় ভারতের শঙ্কর জাতের বীজ কিনে বপন করেছেন তিনি। এবার পাটের মণ চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

 

প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট হবে। বিঘায় ১০ থেকে ১২ হাজার খরচের পরও এবার পাটে ভালোই লাভ হবে। এ ছাড়া পাটকাঠির চাহিদা বাড়ার কারণে শুধু পাটকাঠি বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠে যায়।

 

তিনি বলেন, দেশি পাটবীজ লাগানো গেলে উৎপাদন আরও বেশি হত। কিন্তু চিৎলা পাটবীজ খামার থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালোমানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষককে ভাল বীজ সহায়তা দিতে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো কাজে আসছে না।

 

মেহেরপুরের পাটবীজ ব্যবসায়ী ‘চৌগাছা পাটবীজ ভাণ্ডারের’ মালিক হাসান আলী বলেন, এবার সরকারি পাটবীজ ভালো হবে ভেবে পাঁচ টন বীজ কেনার জন্য পে-অর্ডার করার পর তা আবার ফেরৎ নিয়েছি। পে-অর্ডার করার পর চিৎলা পাটবীজ খামারের একজন কর্মকর্তা জানালেন এবার বীজে জারমিনেশন কম ধরা পড়েছে।

 

এই বীজ নিলে এবারও অঙ্কুরোদম কম হবে। চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেটা জানার পর আট টন ভারতীয় শঙ্কর, চক্র, এনএসসি জাতের পাটবীজ কিনি। সরকারি পাটবীজের বাজার এভাবেই নষ্ট হচ্ছে।

 

অপর পাটবীজ ডিলার ‘আরমান ট্রেডার্সের’ মালিক আরমান আলী বলেন, “একসময় চিৎলা পাটবীজের খুবই সুখ্যাতি ছিল। তখন ভারতীয় বীজ এ অঞ্চলে বিক্রি হত না। চলতি মৌসুমে ১০ টন চিৎলা বীজ খামারের সবুজ সোনা ও তুষা জাতের বীজ কিনেছেন।

 

সেইসঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন জাতের বীজ কিনেছি ২০ টন। শুনেছি, এবার কৃষককে বিনামূল্যে দেওয়া চিৎলার প্রণোদনার বীজের মান খারাপ। জারমিনেশন কম থাকায় কৃষক সেই বীজ বপন করে ঠকেছেন। অনেক কৃষক সেই বীজ না লাগিয়ে ভারতীয় বীজ কিনে লাগিয়েছেন।

 

প্রণোদনার বীজে জারমিনেশন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জোরালো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি দাবি মেহেরপুর সদর উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমান আলীর বলেন, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম বীজ লাগে। কৃষককে চাহিদামতো বীজ দেওয়া হয়।

 

প্রতিবার বীজের পাশাপাশি বিঘাপ্রতি ১২ কেজি সার এবং কৃষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তবে এবার বীজ ছাড়া কৃষককে কোনও সাপোর্ট দেওয়া হয়নি।

 

প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল অভিযোগ নেই চুয়াডাঙ্গায়

 

চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির প্রণোদনার পাটবীজ নিয়ে জোরাল কোনও অভিযোগ নেই। তবে কোথাও কোথাও চারা না গজানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

কৃষকরা বলেছেন, বীজ থেকে ঠিকমত চারা গজিয়েছে। তবে ভূট্টা কেটে চাষ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও নাবি হয়ে গেছে। কোনো কোনো কৃষক বলেছেন, চারা ভাল হয়েছে, পাটের গুণগত মান কেমন হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।

 

সদর উপজেলার কাথুলি গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বিএডিসির প্রণোদনার বীজ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ভূট্টা কেটে নিয়ে সেই জমিতে পাট চাষ করেছি। মে মাসের প্রথম দিকে পাট চাষ করি। কিছুটা নাবি হয়ে গেছে। সামান্য ফলন বিঘ্নিত হতে পারে।

 

একই গ্রামের নাজমুলও পেয়েছেন প্রণোদনার বীজ। তিনি বলেন, চারা গজিয়েছে, কোনও সমস্যা হয়নি।

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এ জেলায় দুই হাজার ২০০ জন কৃষককে পাট চাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করবেন, সেই হিসেবেই বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া।

 

এর মধ্যে সদরে ৩০০, আলমডাঙ্গায় ৬০০, দামুড়হুদায় ৮০০ ও জীবননগরে ৫০০ কৃষককে পাটচাষে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির বীজ বিপণন শাখার স্টোর কিপার মোহাম্মদ ওয়ালিদ বলেন, প্রণোদনার জন্য পাটের বীজ আমাদের কাছে এসেছিল কুষ্টিয়া থেকে। দুই হাজার ২০০ কৃষককে দেওয়ার জন্য আমরা তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সরবরাহ করি।

 

একই দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, বীজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ যাওয়া যায়নি।

 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, প্রণোদনার পাটবীজ পাওয়ার পর আমরা জার্মিনেশন পরীক্ষা করেছিলাম। তারপর তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি। চুয়াডাঙ্গা জেলায় কোনও সমস্যা হয়নি। বরং দেশের অন্য অনেক জেলার চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষ আগে হওয়ায় ফলন ভাল হবে। কৃষকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি।

 

বিএডিসির পাটবীজে দেশের কোথাও কোথাও সমস্যা দেখা দিয়েছে এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, সব লটে সমস্যা না-ও হতে পারে। তবে চুয়াডাঙ্গার লট ভাল ছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি - সংগৃহীত
আড়াইহাজারে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক প্রবাসীর স্ত্রীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ষণচষ্টোর ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলারও অভিযোগ করা হয়েছে।   ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার স্বামী দুবাই প্রবাসী। স্বামী বিদেশে থাকায় একই এলাকার ইলিয়াস তাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় প্রায় ১০ মাস আগে গোপনে তার গোসলের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বারবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায় এবং সেগুলোরও ভিডিও ধারণ করে। এসব ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে স্বামীর পাঠানো পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ইলিয়াস।    অভিযোগে আরও বলা হয়, সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইলিয়াস ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চাপ দেয়। এতে রাজি না হলে আরও টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ইলিয়াসকে আটক করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী আড়াইহাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।    তার দাবি, অভিযোগের তদন্ত শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাতেই অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তার দেবরের স্ত্রী, বড় ভাই, চাচাতো ভাই ও ছোট ভাইকে মারধর করে আহত করেন।    থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ হওয়ায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ দায়েরের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পরও সেটি মামলা হিসাবে নথিভুক্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন ঘিরে ‘অপপ্রচার’: আনিস আলমগীরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ছবি : সংগৃহীত

সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু, রোববার প্রথম ফ্লাইট

ছবি - সংগৃহীত

সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

ছবি - সংগৃহীত
মুকসুদপুরে হ্যান্ডকাফ ও খেলনা পিস্তলসহ ভুয়া পুলিশ আটক

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পুলিশের পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাকিব শেখ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে পুলিশের কটি (ভেস্ট), হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।   শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ননীক্ষির ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক রাকিব উপজেলার বড়ভাটরা গ্রামের মৃত হাই শেখের ছেলে।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনগ্রাম গ্রামের গণবালা (৪২)-এর বাড়ির আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন রাকিব। তিনি উপজেলার বড়ভাটরা গ্রামের মৃত হাই শেখের ছেলে। তার আচরণ ও পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।   খবর পেয়ে সিন্দিয়াঘাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকিব শেখকে হেফাজতে নেয়। পরে তার কাছ থেকে একটি পুলিশের কটি (ভেস্ট), একটি হ্যান্ডকাফ, একটি খেলনা পিস্তল এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে। কী উদ্দেশ্যে তিনি পুলিশের সরঞ্জামসদৃশ সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।   এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর ডিবির ডিসি হিসেবে যোগ দিলেন রাকিব খান

ছবি : সংগৃহীত

চকবাজারে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৬ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ পালালেন আসামি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ ফরিদ হোসেন (২৮)  নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার  সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পলাতক ফরিদ হোসেন একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তিনি উপজেলা চুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। ​পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সময় স্থানীয় বাজারের পাশে একটি স্কুলের পেছন থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ওই রাতেই তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান।  এই বিষয়ে জানতে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, ফরিদ হোসেন নামের এক আসামি হাতকড়াসহ পালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তিনি ঠিক কোন মামলার আসামি, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

মারিয়া রহমান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিবগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিজিবির প্রতিরোধ

ছবি: সংগৃহীত

আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল করা হচ্ছে হাজারো সিম

ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তের শূন্য রেখায় নথিহীন মানুষ: ‘পুশ ইন’ নিয়ে আইনগত প্রশ্ন

0 Comments