পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আজ সোমবার, ৮ জিলহজ থেকে হজের মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজযাত্রীরা মক্কা থেকে মিনার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। খবর সৌদি গেজেটের।
গতকাল রোববার রাত থেকেই হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান হিসেবে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মিনার দিকে রওনা হন। মিনাকে তাঁবুর নগরী বলা হয়, যেখানে হজের প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীরাও যুক্ত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় জানায়, হজযাত্রীদের মিনায় স্থানান্তর, থাকা-খাওয়া এবং পরিবহন ব্যবস্থা আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁবুতে প্রবেশ, নির্দেশনা প্রদান এবং সেবা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সমন্বিত ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এছাড়া মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে হজযাত্রীদের কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এবং সব সেবা নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করা যায়।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’ দিন থেকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়, যা পরবর্তী কয়েক দিনে হজের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মুম্বাইয়ের পুরনো ধাঁচের বেশিরভাগ ইরানি ক্যাফেগুলোর অবস্থান রাস্তার ঠিক মোড়ে বা কোণায়। যেন তারা চারদিক থেকে ধেয়ে আসা শহরটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং একটি চমৎকার রূপকও বটে। কারণ যে মানুষগুলো এই ক্যাফেগুলো তৈরি করেছিলেন, তারা একদিন নিজেদের মাতৃভূমি ইরানেও এভাবেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। আজ ভারতই তাদের ঘর, আর মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটি তাদের চেনা আঙিনা। অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে পারস্যের কাজার রাজবংশের (১৭৮৯-১৯২৫) শাসনামলে তীব্র দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে জরাথ্রুস্টবাদী ইরানিদের একটি দল মুম্বাইতে পাড়ি জমায়। অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে ভারতে আসা পার্সিদের সাথে তাদের পারস্যের মূল ও ধর্মীয় মিল থাকলেও, এই ইরানিরা ছিল মুম্বাইয়ের একেবারেই ভিন্ন এবং সাম্প্রতিক এক অভিবাসী জনগোষ্ঠী। আজ মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটির মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের এই আইকনিক ক্যাফেগুলোর পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। বাস্তুশাস্ত্র ও সস্তা জমির সমীকরণ মুম্বাইয়ের আকাশচুম্বী আবাসন ব্যবসার রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই ইরানি ক্যাফেগুলো ত্রিকোণাকার প্লট বা রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে। মুম্বাইয়ের রন্ধনশিল্প নৃবিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিক কুরুশ দালালের মতে, ঐতিহ্যবাহী বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এই ধরণের জমির পার্সেল বা কোণাগুলোকে একসময় অপয়া বা অশুভ মনে করা হতো। ফলে প্রচলিত প্লটের চেয়ে এগুলোর দাম ছিল অনেক কম। কুরুশ দালাল বলেন, খারাপ বাস্তুর কারণে হিন্দুরা ওই প্লটগুলো নিতে চাইতো না। ফলে যুক্তি অনুযায়ী যে জায়গাগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই ইরানিরা নামমাত্র মূল্যে কিনে নেয়। মূলত বাস্তুশাস্ত্র নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও বিশ্বাসই অবলীলায় জন্ম দিয়েছিল মুম্বাইয়ের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য সংস্কৃতির। সীমিত পুঁজি নিয়ে আসা নতুন ইরানি অভিবাসীদের জন্য পানির দরে পাওয়া এই কোণাগুলোই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এই মোড়ের দোকানগুলোই একেকটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। সংস্কৃতি ও চেনা স্বাদের মেলবন্ধন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত হলেও দুটি ইরানি ক্যাফে দেখতে কখনোই একরকম নয়, তবে কিছু চিরচেনা সাদৃশ্য এদের এক সুতোয় বেঁধেছে। লাল-সাদা চারকোনা চেকের টেবিলক্লথ, সাদা-কালো লবণ ও গোলমরিচের দানি, দেওয়ালে টাঙানো জরাথ্রুস্টবাদের প্রতীক ফারভাহার এবং পুরনো বাসনকোসন। এছাড়া ক্যাফেগুলোতে রয়েছে ফেলে আসা স্বদেশের স্মৃতি, যেমন ইয়াজদ অগ্নি মন্দিরের ছবি কিংবা ২৬০ খ্রিস্টাব্দের এডেসার যুদ্ধের পর রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে বন্দী করার ঐতিহাসিক দৃশ্য সংবলিত নকশ-ই রোস্তমের ফ্রেম। মুম্বাইয়ের আর কোনও রেস্তোরাঁয় এত সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় না। এখানকার খাবারও অনন্য; যা পুরোপুরি পার্সিয়ান নয়, আবার পুরোপুরি মুম্বাইয়ের চেনা স্বাদও নয়, বরং দুইয়ের মাঝামাঝি। ব্রুন-মাস্কা, আকুরি, মিষ্টি ও দুধেল ইরানি চা, খীমা পাও, মাওয়া কেক, ক্যারামেল কাস্টার্ড এবং বেরি পোলাওয়ের মতো খাবারগুলো পারস্যের প্রভাবে তৈরি হলেও, স্থানীয় উপাদান এবং মুম্বাইয়ের কর্মজীবী মানুষের রুচির সাথে মিলিয়ে এর স্বাদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মারাঠি কবি দিলীপ চিত্রে এই ক্যাফেগুলোর একাকীত্ব ও শান্ত মানবিক আবহ নিয়ে ‘অ্যাট মিডনাইট ইন দ্য বেকারি অ্যাট দ্য কর্নার’ নামে একটি বিখ্যাত কবিতাও লিখেছেন। হারিয়ে যাচ্ছে চেনা ঐতিহ্য ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে কেবল মুম্বাইয়ের আইল্যান্ড সিটিতেই ৩৫০টিরও বেশি ইরানি ক্যাফে ছিল। কিন্তু আজ পুরো মুম্বাই ও তার শহরতলি মিলিয়ে মাত্র ৩৫টির মতো ক্যাফে টিকে আছে। এই বিলুপ্তি অবশ্য অনেক আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ২০০৫ সালে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐতিহাসিক জের মহল ভবনে অবস্থিত ক্যায়ানি অ্যান্ড কোং-এর দ্বিতীয় প্রজন্মের মালিক আফলাতুন শোকরিয়ে বলেছিলেন, আমাদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষিত এবং তারা এই ব্যবসা চালিয়ে নিতে আগ্রহী নয়। ২০১৫ সালে তার মৃত্যুর পর আজ সেই কথাটিই নির্মম সত্যে পরিণত হয়েছে। আজকের আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং কৃত্রিম আতিথেয়তার যুগেও স্যাসানিয়ান বোলাঞ্জেরি, ক্যাফে মিলিটারি, ক্যাফে এক্সেলসিয়র কিংবা ব্রিটানিয়া অ্যান্ড কোং-এর মতো টিকে থাকা ক্যাফেগুলো মানুষকে এক টুকরো চেনা অতীত ও মানবিকতার ছোঁয়া দেয়। কাঠের চেয়ার, মার্বেল টপ টেবিল আর দেয়ালের চটা ওঠা রঙের মাঝে ক্যাফেগুলোর সাইনবোর্ডে লেখা থাকে স্পষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা, যেমন কেবল নগদ টাকা নেওয়া হয়, বেশি সময় বসা নিষেধ, উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ। প্রখ্যাত কবি নিসিম এজেকিয়েল এই বোর্ডগুলো দেখেই লিখেছিলেন তার বিখ্যাত কবিতা ‘ইরানি রেস্টুরেন্ট ইনস্ট্রাকশনস’। তবে সব ক্যাফে অপরিবর্তিত থাকেনি। সময়ের সাথে সাথে ক্যাফে লিওপোল্ড এবং ক্যাফে মোনদেগার-এর মতো জায়গাগুলো বার-ক্যাফেতে রূপান্তরিত হয়েছে। আবার ভারত ও যুক্তরাজ্যে সোডাবোটলওপেনারওয়ালা বা ডিশুমের মতো চেইন রেস্টুরেন্টগুলো ১৯৬০-এর দশকের ইরানি ক্যাফের আবহ আধুনিক প্রজন্মের কাছে নতুন ব্র্যান্ডিংয়ে ফিরিয়ে এনেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যখন মুম্বাইয়ের কিংবদন্তি বি মারওয়ান অ্যান্ড কোং চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, তখন প্রবেশদ্বারে কেবল একটি হাতে লেখা নোট ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল- আমরা বন্ধ। আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। গত বছর বন্ধ হয়ে গেছে জিমি বয়। কোনও ঢাকঢোল না পিটিয়ে নিরবেই বিদায় নিচ্ছে পুরনো মুম্বাইয়ের এই স্মৃতিগুলো। কবি ইমতিয়াজ ধারকার তার কবিতায় হারিয়ে যাওয়া নাজ ক্যাফের স্মৃতিচারণ করে যে হাহাকার প্রকাশ করেছিলেন, তা যেন আজ প্রতিটি ইরানি ক্যাফের ভাগ্যলিপি। তবে শেষ ট্র্যাজেডি এটাই যে, বাস্তুশাস্ত্রে একদা যে কোণগুলোকে অপয়া বলে অবহেলা করা হয়েছিল, আজ তাই মুম্বাইয়ের নস্টালজিয়া ও সবচেয়ে ভালোবাসার সাংস্কৃতিক স্থান হয়ে টিকে আছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ইরানের জব্দকৃত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড় করতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করাকে এড়িয়ে গেছেন। গত শুক্রবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মহসেন রেজাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দেজফুলে অনুষ্ঠিত একটি স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের খবর অনুযায়ী, রেজাই বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাত তেহরানের বৈশ্বিক অবস্থানকে ‘শক্তিশালী’ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ভয় পান। মহসেন রেজাই। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রেজাইর এ মন্তব্যের আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা স্মারক সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাবে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ সমঝোতা স্মারক ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ নিয়ে আলোচনার পথও প্রশস্ত করবে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলুপ্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলেছেন কর্মীরা। দেশটির একটি ফেডারেল আদালত এই নামকরণকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা পর শনিবার (১৩ জুন) এই কাজ শুরু হয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। কেনেডি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা আদালতে দাখিল করা এক নথিতে জানান, ভবন ও এর আশপাশে থাকা ট্রাম্পের নামসংবলিত সব সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ভবনের বাইরের অংশে থাকা ট্রাম্পের নাম একটি সাদা ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। নাম অপসারণের কাজ চলাকালে ভেতর থেকে জোরে শব্দ শোনা যাচ্ছিল। অনেক পথচারী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজটি পর্যবেক্ষণ করেন। এর আগে কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদ শেষ মুহূর্তে আদালতের মাধ্যমে নাম অপসারণ ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও পরিচিতি যুক্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, এই রায় তার বিপরীতে গেছে। শুক্রবার রাতে কেনেডি সেন্টারের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কর্মীরা যখন সাইনবোর্ড খুলতে মাচা স্থাপন করছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেন। এ ছাড়া হাজারো মানুষ অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার দেখে ঘটনাটি অনুসরণ করেন। তবে বজ্রঝড় ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীদের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে জানান নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা। গত ২৯ মে দেওয়া এক রায়ে মার্কিন জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার বলেন, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নামে করার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। বিচারক প্রশাসনকে ১৪ দিনের মধ্যে ভবনের মার্বেল নির্মিত সামনের অংশ এবং প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সব জায়গা থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টার কয়েক দিন আগেই তাদের ওয়েবসাইট থেকেও ট্রাম্পের নাম মুছে ফেলেছিল।