রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শীতের সবজি এখন ভরপুর শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, টমেটো, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাউ, মুলাসহ নানা ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবুও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কৃষক ন্যায্য দাম পান না, ভোক্তাও ন্যায্য দামে কিনতে পারেন না; লাভের বড় অংশটি হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট। এদের নিয়ন্ত্রণে আনার মতো উদ্যোগ কোথাও দেখা যায় না। ফলে কৃষকের ঘাম আর ভোক্তার কষ্ট দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে এই চক্রটি। প্রশ্ন থেকে যায়, তাদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, আর কবে স্বস্তি ফিরবে সাধারণ মানুষের জীবনে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত অক্টোবরে অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে সারা দেশে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক জায়গায় সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেড়েছে।
এক ক্রেতা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শীতের সবজি বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস হলো, কিন্তু দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। অন্য বছর এ সময়ে সবজির দাম অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যেত।
বর্তমানে ভালো মানের বেগুন এক কেজি ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা সাধারণত গরমকালে হয়ে থাকে। মাঝারি ফুলকপি বা বাঁধাকপি ৪০–৬০ টাকা, আর নতুন শিম ৮০–১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের বছর এ সময় এসব সবজি পাওয়া যেত প্রায় অর্ধেক দামে। নতুন আলু সবসময়ই একটু বেশি দামে আসে এবারও কেজিপ্রতি ১০০–১২০ টাকায় মিলছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যেও রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। বরবটি ৭০–৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৬০–৮০ টাকা, আর একটি মিষ্টি কুমড়া ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের দামও চড়া—এক আঁটি ২০ টাকার নিচে খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে।
যদিও সবজি দাম কমেনি, পেঁয়াজের বাজারে সামান্য স্বস্তির দেখা মিলেছে। অনেক জায়গায় দেশি পেঁয়াজ ১১০–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ফার্মের ডিমের দাম সহনীয় প্রতি ডজন ১২৫–১৩০ টাকা।
তবে মুরগির বাজারে বেড়েছে চাপ। এক সপ্তাহেই ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩০০–৩৩০ টাকা, দেশি ৫৫০–৬৫০ টাকা এবং লেয়ার ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের মতে, ফিডের দাম বৃদ্ধিসহ খামারের অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় এ পরিস্থিতি।
মাছের বাজারেও বড় পরিবর্তন নেই। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি; মাঝারি ইলিশ ১৫০০ টাকা এবং বড় ইলিশ ২০০০–৩০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই, কাতল, মৃগেল ৩০০–৭৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া ১৯০–২৫০ টাকার নিচে নেই। অন্যান্য মাছের মধ্যেও একই প্রবণতা মাগুর ৫০০, কৈ ২০০–২৫০, সিলভার কার্প ২৫০–৩০০, বোয়াল ৫০০–৭০০, কালিবাউশ ৪৫০, আইড় ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট মাছের দামও বেশি কাঁচকি ৪৫০, মলা ৩০০, পাবদা ৩০০–৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০–১০০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীতে সবজির নিয়মিত সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি। আরও ৭–১০ দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে এবং তখন দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি বছর বছর একই থাকে সরবরাহ থাকে স্বাভাবিক, তবুও দাম কমে না। শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরা থাকলেও দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে। কে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, কারা দাম বাড়িয়ে লাভ লুটছে সে প্রশ্নের উত্তর আজও অস্পষ্ট। কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পান না, আর ক্রেতাও স্বস্তি পান না। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। রোববারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২ জুন ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমেছিল। শেয়ারবাজারে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচকটি এ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্ত নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। তদন্তের এই পরিস্থিতিতে অনেক বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন। এতে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। তবে সূচকের বড় পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা লেনদেন বৃদ্ধিকে আপাতত ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনে বেশ কিছু শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপের পাশাপাশি কিছুটা ক্রয়চাহিদাও তৈরি হয়েছে।
সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। সংস্থাটি আরও বলেছে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকাসহ কোনও সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রক্রিয়াকরণ ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও। এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে কিংবা কোনো অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএফআইইউ বলেছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।
ব্যাংকগুলোর জন্য টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) ডিসকাউন্টিং সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন (অবরুদ্ধ) রাখার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালের বিভিন্ন নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সিকিউরিটি বন্ধক রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়া হতো। কোনো ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সিকিউরিটি না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবের অর্থে লিয়েন রেখে এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের জন্য অনুমোদিত টিটি ডিসকাউন্টিং সীমার ২০ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে লিয়েন রাখতে হতো। এ অর্থ ব্যাংকের বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) হিসাবের অংশ হিসেবে গণ্য হতো না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য কল মানি মার্কেট, রেপো, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং আন্তঃব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস সহজলভ্য রয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা চালু রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এ সুবিধা ব্যবহারকারী ব্যাংকের সংখ্যাও খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা ব্যবহার না করলেও অনুমোদিত সীমার ২০ শতাংশ অর্থ লিয়েন অবস্থায় থাকত। ফলে ওই অর্থ সিআরআর হিসাবে গণনা না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক অনুপাত বজায় রাখতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবে লিয়েন রেখে টিটি ডিসকাউন্টিং সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।