নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ বিশ্বকাপ শুরু করছে আসরের অন্যতম ফেভারিট স্পেন। আটলান্টায় আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। তার আগেই স্প্যানিশ শিবিরে স্বস্তি দিচ্ছেন লামিনে ইয়ামাল। স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষেই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত বার্সেলোনার এই বিস্ময়বালক।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ফুয়েন্তে বলেন, ‘ভালো খবর হলো লামিনে একদম নিখুঁত শারীরিক অবস্থায় আছে। আমরা তাকে ঠিক যে অবস্থায় দেখতে চেয়েছিলাম, এই মুহূর্তে সে সেই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, সে ভালো আছে।’
স্পেন কোচ আরও জানান, মেডিকেল টিম ইয়ামালকে খেলার অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘লামিনে কোনো সমস্যা ছাড়াই আগামীকাল খেলতে পারবে। যদিও পুরো ৯০ মিনিট নয়। তবে ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় সে মাঠে থাকতে পারবে।’
তবে বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকার মাঠে নামা নির্ভর করবে ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর। ফুয়েন্তে বলেন, ‘ম্যাচ কীভাবে এগোয়, তা আমাদের দেখতে হবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে, তারা দলে কীভাবে অবদান রাখতে পারে।’
গত ২২ এপ্রিল বার্সেলোনার হয়ে খেলতে গিয়ে চোট পান ইয়ামাল। এতে বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও ইয়ামালকে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিল স্পেন। দলটির অন্য দুই ফরোয়ার্ড নিকো উইলিয়ামস ও ভিক্টর মুনোজকে নিয়েও সুখবর দিয়েছেন স্পেনের কোচ। তিনি বলেন, ‘নিকো (উইলিয়ামস) ও ভিক্টর (মুনোজ) ভালো আছে। তারা সবাই আগামীকালের ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুরো ম্যাচ খেলবে না। ম্যাচের পরিস্থিতি দাবি করলে তারা মাঠে নামবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মেহেদি হাসান মিরাজের বয়স তখনও আট হয়নি। তবে টিভি পর্দায় ঐতিহাসিক জয়টি দেখার স্মৃতি তার মনে পড়ে। সেই যে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ! সেই জয়ের ২১ বছর পর এবার মিরাজের নেতৃত্বেই ধরা দিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়। এবার শুধু একটি ম্যাচ নয়, সিরিজ জয়। বাংলাদেশের টানা চতুর্থ সিরিজ জয়। তবে এসব সিরিজ কেবলই ওপরে ওঠার সিড়ি। অধিনায়ক বললেন, বড় আসরে বড় কিছু করার জন্যই পরিকল্পনার পথ ধরে ছুটছেন তারা। আট মাস আগেও ওয়ানডে সংস্করণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিল আঁধার। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনিশ্চয়তার দোলাচলে। কিন্তু টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে শঙ্কা দূর হয়েছে অনেকটাই। আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এখনও। তবে অতি নাটকীয় কিছু না হলে, ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য বাছাই খেলতে হবে না মিরাজদের। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে অবশ্য র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ডকে টপকে আটে উঠে আসতে পারত বাংলাদেশ। সাতে ওঠার হাতছানিও ছিল সামনেই। আপাতত সেসব হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ও তাদেরকে কাছ থেকে সমীহ আদায় করতে পেরে খুশি মিরাজ। “সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট। অধিনায়ক হিসেবে অবশ্যই আমার কাছে ভালো লাগার জিনিস এগুলো। পাশাপাশি, যারা ক্রিকেট খেলা দেখছে এবং আপনারা যারা আছেন, সবাই ভালো অনুভব করছে। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে যদি আমরা ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ থাকে।” “তারা কিন্তু আমাদেরকে নিয়ে কথা বলছে, প্রশংসা করছে বোলারদেরকে নিয়ে, ব্যাটসম্যানদেরকে নিয়ে এবং তাদেরকে যে আমরা কঠিন সময়টা দিচ্ছি, সেটা নিয়ে তারা আমাদেরকে সেই সম্মানটা দিচ্ছে। এটা অবশ্যই উন্নতির একটা লক্ষণ এবং আশা করি, এভাবে যদি চালিয়ে করতে পারি, আরও ভালো একটি দল হবে।” গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এই বছর পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছিল মিরাজের দল। সেই পথ ধরে এবার সিরিজ জয় ধরা দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে। এবারের জয়ের আনন্দ একটি অন্যরকমও। ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দেশ, বরারই দারুণ পেশাদার দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এমন জয় মিরাজের কাছে বিশেষ কিছু। “এটা অবশ্যই অনেক স্পেশাল। কারণ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে আমরা কখনোই সিরিজ জিতিনি। একটা ম্যাচ আমরা হয়তো জিতেছিলাম, সেই ২০০৫ সালে। আমি অনেক ছোট ছিলাম, আমি দেখেছিলাম ম্যাচটা। আমার এখনও মনে আছে। এবার যেহেতু আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সিরিজ জিতেছি, এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা অর্জন।” “আরও সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই মনে করি যে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা আমাদেরকে নিয়ে প্রশংসা করছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে এবং বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে, উইকেট নিয়ে, ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে। এটা আমাদের একটা বিরাট অর্জন।” এসব অর্জনেই অবশ্য তৃপ্ত থাকতে চান না মিরাজ। এশিয়ান ও বিশ্ আসরে বড় কিছু করতে না পারার যে আজন্ম আক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিতেই এই দল ছুটছে বলে জানালেন অধিনায়ক। “আমাদের কিন্তু দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত এক বছরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। এটা আসলে একদিনে সম্ভব নয়। এর আগেও বলেছি, একটা দল যখন আমরা (গঠন) করি, তখন অবশ্যই আমাদের একটা পরিকল্পনা থাকে যে, আমরা কীভাবে দলটাকে বানাব এবং কী কম্বিনেশনে আমরা খেলব।” “গত এক বছর আমরা ওভাবেই পরিকল্পনা করেছি, সামনে আমাদের বিশ্বকাপ আছে, কোন পজিশনে কাকে সেট করব এবং কোন পজিশনে একটা ক্রিকেটারকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ দেব। এটা আমরা করেছি এবং বিভিন্ন সময় আপনারাও দেখেছেন যে, বিভিন্ন পজিশনেও খেলতে হয়েছে অনেক ক্রিকেটারকে। এটা শুধু আমাদের (দ্পিাক্ষিক) সিরিজ না, সামনে যে বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ আছে, সেটাকে লক্ষ্য করেই আমরা এগোতে চাচ্ছি এবং সেই পরিকল্পনাগুলো সাজাচ্ছি এবং আশা করি যে, আমরা ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি এখন।” বাংলাদেশের পরের ওয়ানডে সিরিজ আগামী মাসে জিম্বাবুয়েতে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দারুণ শুরু করল সুইডেন। তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা সুইডেনের হয়ে ইয়াসিন আয়ারি দুটি গোল করেন। আলেক্সান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেশ ও মাতিয়াস সভেনবার্গ একটি করে গোল পান। ম্যাচের মাত্র ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইডেন। আক্রমণ ঠেকাতে বক্সের মধ্যে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক এগিয়ে এসেছিলেন। একটি শট ঠেকালেও ফিরতি শটে ইয়াসিন আয়ারিকে থামাতে পারেননি তিনি। বল সমস্ত তিউনিসিয়ান রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে জালে যায়। গোল খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল তিউনিসিয়া। গোলের ২ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরার কাছাকাছি গিয়েছিল তারা। কিন্তু সুইডিশ গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ড পরপর দুটি সেভ করে দলকে বাঁচান। ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আলেক্সান্ডার ইসাক। বাম দিক থেকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তার জোরালো শট ডান পোস্ট দিয়ে জালে ঢোকে। তবে হাল ছাড়েনি তিউনিসিয়া। ৪৩ মিনিটে ওমার রেকিক ডান দিক থেকে আসা ক্রসে দারুণ হেড করেন। বল গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটি ছিল প্রথমার্ধে তিউনিসিয়ার প্রথম লক্ষ্যে শট। ২-১ নিয়ে বিরতিতে যায় সুইডেন। সে গোল দ্বিতীয়ার্ধে রোমাঞ্চের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু হলো তার উল্টোটা। এক এক করে আরও ৩ গোল করে সুইডিশরা ম্যাচটা নিজেদের করে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পান ইসাক। তার বাড়ানো বল বক্সে ফাঁকায় পান ভিক্টর ইয়োকেরেশ। বক্সের ডান পাশ থেকে দূরের পোস্টে তার শট থামাতে পারেননি তিউনিসিয়ান গোলরক্ষক মুহিব শামাখ। ফের ২ গোলের ব্যবধান ফিরে পায় সুইডেন। এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামা সভেনবার্গ মাঠে প্রথম ছোঁয়াতেই গোল করেন আয়ারির পাস থেকে। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠেছিল। তবে ভিএআরে দেখা যায় বলটি সভেনবার্গের কাছে যাওয়ার আগে ইসাক পা ছুঁইয়েছিলেন এবং দুজনেই অনসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বহাল থাকে। সুইডেন ৪-১-এ এগিয়ে যায়। এরপর পঞ্চম গোলের সুযোগ আসে সুইডেনের সামনে। তবে শামাখের দারুণ সেভে সেটি হয়নি। শেষ পর্যন্ত আয়ারি নিজেই ম্যাচের দ্বিতীয় গোল করেন বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে। ম্যাচ শেষ হয় ৫-১ গোলে। ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ করেছিল তিউনিসিয়া। এবারের বিশ্বকাপে তাদের শুরুটা মোটেও ভালো হলো না।
তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ের পর আবারও আলোচনায় এসেছে দুই তরুণ ফুটবলারের অনন্য জীবনের গল্প—নেস্টোরি ইরানকুন্ডা ও মোহামেদ তুরে। শরণার্থীশিবির থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া এই দুই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় এখন ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ২০ বছর বয়সী ইরানকুন্ডা এবং ২২ বছর বয়সী তুরে শুধু প্রতিভার কারণে নয়, তাদের জীবনের সংগ্রামের কারণেও হয়ে উঠেছেন সকারুজদের নতুন প্রজন্মের প্রতীক। ইরানকুন্ডার জন্ম তানজানিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে। তার পরিবার বুরুন্ডি থেকে পালিয়ে দীর্ঘ সময় বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকার পর শিশুকালেই অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমায়। অন্যদিকে মোহামেদ তুরের জন্ম গিনির রাজধানী কোনাক্রির একটি শরণার্থীশিবিরে। তার পরিবার লাইবেরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে মাত্র সাত মাস বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসে। দুজনই অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নেন। বর্তমানে তারা ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছেন, যেখানে তুরে নরউইচ সিটির হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন—মাত্র ১১ ম্যাচে ৯ গোল করে তিনি নজর কাড়ছেন সবার। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানকুন্ডার করা প্রথম গোলটি তাদের ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হয়ে আছে। এই জুটি এখন অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের গল্প শুধু ফুটবলের নয়, বরং অভিবাসন, সংগ্রাম এবং নতুন দেশে নতুন জীবনের সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি। ২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে অন্তত ১৫টি ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পটভূমির খেলোয়াড় রয়েছেন, যা আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার বহুজাতিক পরিচয়কে তুলে ধরে। ইরানকুন্ডা বলেন, শরণার্থী পটভূমি থেকে উঠে এসে জাতীয় দলে খেলা তার কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হয়। একইভাবে তুরে জানান, অস্ট্রেলিয়া তাদের সুযোগ দিয়েছে বলেই তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াতে পেরেছেন। দুজনই আবার যুক্ত আছেন ইউএনএইচসিআরের ‘গেমচেঞ্জিং টিম’-এ, যেখানে শরণার্থী পটভূমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের নিয়ে একটি প্রতীকী বিশ্ব একাদশ গঠন করা হয়। তাদের সতীর্থ আওয়্যার মাবিলও একই ধরনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন। এই গল্পগুলো ফুটবলকে ছাড়িয়ে যায়—এগুলো স্বপ্ন, বাস্তবতা এবং সীমান্ত পেরোনো সম্ভাবনার গল্প। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে আজ তারা শুধু খেলোয়াড় নয়, বরং এক নতুন সামাজিক বাস্তবতার প্রতিনিধিও।