দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং পরবর্তীতে তা সমৃদ্ধিশালী পর্যায়ে নেওয়াই চলতি বাজেটের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (১৫ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬-এর খসড়া ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি চূড়ান্ত করেছে।
তিনি জানান, কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় মাস অন্তর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। এতে প্রকৃত উপকারভোগীরা যাতে সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যুক্ত থাকবেন না। জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারাই পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবেন, যাতে কার্যক্রমটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
সরকারের এই উদ্যোগকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন। ১২৭ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: মামলাগুলো ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে মোট ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে। এই অভিযোগে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে ১৫টি মামলা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার এসব মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। আদালতের রায়ে মির্জা আব্বাসকে সবগুলো মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিস্তারিত কারণ ও আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানা যাবে।
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। পাশাপাশি দেশের দক্ষ জনশক্তিকে ম্যান্ডারিন ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশকে বিনা খরচে সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনের প্রতিষ্ঠান সিএমইসি কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি চালু হলে আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীন সফরে যাবেন বলেও জানান মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজার, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার ও জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ এবং রাতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। মীর শাহে আলম বলেন, এ খাতে বিনিয়োগে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকার দক্ষিণেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ শুধু উত্তর সিটি করপোরেশন নয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল বর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে চীনের পাওয়ারচায়না কোম্পানিকে দ্রুত কাজ শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমিনবাজারের ৪২ মেগাওয়াট প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে। প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রকল্পটিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা পড়বে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি সামগ্রিকভাবে লাভজনক হবে। এ ছাড়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে। ফলে প্রকল্পটিতে সরকারের সরাসরি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি। দাসেরকান্দি প্রকল্পে চীনের নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ ঢাকার দাসেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্পেও নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। বর্তমানে প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে চীন। এ প্রকল্পের আওতায় গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ স্থাপনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। চীন এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর ওই অর্থের চাপ কমবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গাইবান্ধায় পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে হাবিবুর রহমান (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম। নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে। তিনি নায়েক পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন। তার একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ; পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোয় গার্ডের দায়িত্বে যোগ দেন হাবিবুর। সেখানে অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবার বিকেলে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখতে পান সহকর্মীরা। গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা কাটাকাটি: গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল জানান, দুপুরে মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন হাবিবুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন এবং ভিডিও কল চলাকালীন আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওসি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। হাবিবুরের আচরণ দেখে তার স্ত্রী বিষয়টি পুলিশকে জানাতে পারতেন বা জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারতেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হচ্ছে: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার আগে বা পরে হাবিবুর ওয়াশরুমে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।