খেলা

লা লিগার ৯৭ বছরের ইতিহাসে এমন উপলক্ষ কখনো আসেনি

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

১৯০২ সালের ১৩ মে। কোপা দেল রে-এর পূর্ব সংস্করণ কোপা দেল লা করোনাসিওন-এ মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও মাদ্রিদ এফসি। স্প্যানিশ রাজধানীতে মাদ্রিদ এফসির বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। পরে এই মাদ্রিদ এফসি পরিবর্তিত হয়ে রিয়াল মাদ্রিদ নামধারণ করে। ফুটবলে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস ১২৪ বছরের পুরোনো। এখন এই দুই দলের লড়াই মানেই তুমুল উত্তেজনা, যার আরেক নাম ‘এল ক্লাসিকো’।

 

এই দীর্ঘ সময়ে রিয়াল ও বার্সেলোনার মধ্যে খেলা হয়েছে ২৬১ ম্যাচ। রিয়াল জিতেছে ১০৬ ম্যাচ, বার্সা ১০৫টি। লা লিগার দীর্ঘ ৯৭ বছরের ইতিহাসে  দুই দল খেলেছে ১৯১ ম্যাচ। রিয়াল ও বার্সার জয় যথাক্রমে ৮০ ও ৭৬। চলতি লিগ মৌসুমে প্রথম দেখায় রিয়াল ২-১ গোলে জিতেছিল। আর সবশেষ ক্লাসিকোতে জেতে বার্সা, স্প্যানিশ কাপ ফাইনালে তারা রিয়ালকে হারায় ৩-২ গোলে।

 

ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাদ্রিদ ক্লাবের মুখোমুখি হবে বার্সা। তবে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটতে পারে এদিন। এর আগে কখনো এমন হয়নি যে,  এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার কোনো ম্যাচ চলাকালে সরাসরি লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেছে।

 

আগে অনেকবার ক্লাসিকো ম্যাচের ফলের ওপর শিরোপার ভাগ্য নির্ভর করলেও মাঠেই এই দুই দলের খেলা চলাকালে গাণিতিকভাবে শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম হতে যাচ্ছে।

 

বর্তমানে বার্সেলোনা পয়েন্ট টেবিলে ১১ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। এই ম্যাচে বার্সেলোনা যদি ড্র করতে পারে, তবে হাতে থাকা বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফল যাই হোক না কেন, রিয়াল আর তাদের টপকাতে পারবে না। অর্থাৎ, মাঠেই বার্সা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষিত হবে। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলে শিরোপা জেতা তাদের জন্য নিঃসন্দেহে গৌরবের ব্যাপার হবে। বার্সার ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং বললেন সেই কথা, ‘এবারের এল ক্লাসিকো বিশেষ। কারণ আমরা লা লিগা ট্রফি জিততে পারি।’

 

এফএইচএম

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

পুরুষদের এলিট ম্যারাথন চলাকালীন প্রতিযোগীরা সিডনি হারবার ব্রিজের উপর দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স
সিডনি ম্যারাথনে আদ্দিসু গোবনার রেকর্ড ও ৪ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

একই পথে ছুটেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, অপেশাদার দৌড়বিদ, হুইলচেয়ার অ্যাথলেট এবং কেমোথেরাপি নেওয়া এক ক্যান্সার রোগী। লক্ষ্য সবার এক ছিল না।   কেউ নেমেছিলেন শিরোপা জিততে, কেউ নিজের সীমা অতিক্রম করতে, আবার কেউ প্রমাণ করতে চেয়েছেন কঠিন অসুস্থতাও মানুষের এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকে থামাতে পারে না। গতি, রেকর্ড ও জীবনজয়ের এমন সব গল্প নিয়েই রোববার সিডনিতে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ম্যারাথন। রোববার সিডনি সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে নর্থ সিডনির স্টার্ট লাইন থেকে মূল হাই-পারফরম্যান্স দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে হারবার ব্রিজসহ শহরের পরিচিত বিভিন্ন পথ পেরিয়ে ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরের সিডনি অপেরা হাউসে গিয়ে শেষ হয় প্রতিযোগিতা।     পরবর্তী সময়ে আলাদা আলাদা দলে সাধারণ প্রতিযোগীরাও দৌড় শুরু করেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সিডনির সড়ক পরিণত হয় মানুষের দীর্ঘ এক চলমান মিছিলে। আয়োজকদের হিসাবে, ১৪০টির বেশি দেশের ৪০ হাজারের বেশি দৌড়বিদ এবারের আসরে অংশ নেন। তাদের মধ্যে যেমন বিশ্বের প্রথম সারির অ্যাথলেট ছিলেন, তেমনি ছিলেন জীবনের প্রথম ম্যারাথন শেষ করার স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো সাধারণ মানুষ।     তবে দিনের সবচেয়ে বড় চমকটি জমা ছিল পুরুষদের দৌড়ের শেষ কয়েক কিলোমিটারের জন্য। তখনো পাঁচজনের অগ্রবর্তী দল কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। কে প্রথম অপেরা হাউসে পৌঁছাবেন, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ ছিল না। ঠিক সেই মুহূর্তে গতি বাড়ান ইথিওপিয়ার ২১ বছর বয়সী আদ্দিসু গোবনা। অন্যদের পেছনে ফেলে ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন তিনি।       এতে শিরোপার পাশাপাশি সিডনি ম্যারাথনের নতুন কোর্স রেকর্ডও নিজের করে নেন গোবনা। গত বছর ইথিওপিয়ার হাইলেমারিয়াম কিরোসের করা ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ডের রেকর্ড তিনি ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড কমিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো পুরুষ অ্যাথলেটের এটিই দ্রুততম ম্যারাথন। এই জয় গোবনার জন্য ফিরে আসারও গল্প। গত বছরের সিডনি ম্যারাথনে দ্বিতীয় হয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেই দৌড়ের ভুলগুলো চিহ্নিত করে দেশে ফিরে নতুনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। এক বছর পর একই শহরে ফিরে এবার শুধু শিরোপাই জেতেননি, নিজের নামও তুলে দিয়েছেন রেকর্ডের পাতায়।     শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোবনাকে চাপে রেখেছিলেন তারই স্বদেশি চিমদেসা দেবেলে গুদেতা। মাত্র চার সেকেন্ড পরে, ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তিনি দ্বিতীয় হন। লেসোথোর তেবেলো রামাকোঙ্গোয়ানা ২ ঘণ্টা ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। পুরুষ বিভাগের প্রথম তিনজনই আগের কোর্স রেকর্ডের চেয়ে কম সময়ে দৌড় শেষ করেছেন।     নারীদের বিভাগে অবশ্য শেষ মুহূর্তের কোনো অনিশ্চয়তা রাখেননি কেনিয়ার পেরেস জেপচিরচির। বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জেপচিরচির প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকটা পেছনে ফেলে ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে শিরোপা নিশ্চিত করেন।     দ্বিতীয় হওয়া কেনিয়ার ইরিন চেপতাই সময় নেন ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ১১ সেকেন্ড। অর্থাৎ তার চেয়ে ৩ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে দৌড় শেষ করেন জেপচিরচির। ইথিওপিয়ার শুর ডিমাইজ ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তৃতীয় হন।     জেপচিরচির আধিপত্য দেখিয়ে জিতলেও অল্পের জন্য নারীদের কোর্স রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। গত বছর সিফান হাসানের করা ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র ৯ সেকেন্ড পিছিয়ে ছিলেন। সিডনির এই সাফল্য জেপচিরচিরের ক্যারিয়ারে চতুর্থ ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরস শিরোপা।মূল দৌড়বিদদের আগেই অপেরা হাউসের ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে রেকর্ডের আরেক অধ্যায় লেখেন হুইলচেয়ার অ্যাথলেটরা।      পুরুষ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েল রোমানচুক ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি গত বছর মার্সেল হাগের করা ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের কোর্স রেকর্ড ভেঙে দেন।     নারীদের হুইলচেয়ার বিভাগে সুইজারল্যান্ডের প্যারালিম্পিয়ান ম্যানুয়েলা শার সময় নেন ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ৪ সেকেন্ড। সুজান্না স্কারোনির আগের রেকর্ড থেকে ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কমিয়ে দেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের আটটি কোর্সেই জয় পাওয়া প্রথম অ্যাথলেট হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন শার। বিদেশি তারকাদের রেকর্ডের ভিড়ে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য সাফল্য এনে দেন অ্যান্ডি বুকানন ও এলি প্যাশলি।      অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের মধ্যে সবার আগে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন বুকানন। নারীদের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান প্যাশলি। তার সময় ছিল ২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ২৮ সেকেন্ড।      তবে সিডনির এই সকালকে শুধু সময়ের হিসাবে ব্যাখ্যা করলে একটি বিশেষ গল্প অজানা থেকে যাবে। সেটি ফাইভ ডকের টবি ফুলারের গল্প। ২৩ বছর বয়সে মাল্টিপল মায়েলোমা নামের রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি। কেমোথেরাপির ধকল সামলেই এবারের ম্যারাথনের স্টার্ট লাইনে দাড়ান ফুলার। তার সামনে কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে হারানোর লক্ষ্য ছিল না। লড়াইটি ছিল নিজের শরীর ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে। সেই লড়াই শেষ করেন ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিটে। কেমোথেরাপি নেওয়া অবস্থায় কোনো রোগীর দ্রুততম ম্যারাথন সম্পন্ন করার কীর্তি হিসেবে তার অর্জন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছে। দৌড়ের প্রতিটি কিলোমিটার কঠিন ছিল বলে পরে জানান ফুলার। প্রত্যাশিত সময়ে শেষ করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারায় তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দীর্ঘ ও কঠিন পথ পেরিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে কারি খেয়ে অর্জনটি উদ্যাপন করার পরিকল্পনাও জানিয়েছিলেন তিনি।     অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজরসের মর্যাদায় টানা দ্বিতীয়বার আয়োজিত এবারের সিডনি ম্যারাথন মাঠের বাইরেও বড় ভূমিকা রেখেছে। আয়োজকদের হিসাবে, এই ম্যারাথনকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে দাতব্য কাজের জন্য সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ৩৮ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়েছে।     রবিবার অপেরা হাউসের সামনে তাই শুধু বিজয়ীদের নাম কিংবা সময় ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে একদিকে ২১ বছরের এক তরুণ গত বছরের ভুল শুধরে রেকর্ড গড়েছেন, অন্যদিকে হুইলচেয়ার অ্যাথলেটরা ভেঙেছেন নিজেদের সীমা। আর ক্যান্সারের চিকিৎসা চলা একজন তরুণ দেখিয়েছেন কোনো কোনো জয় পদক দিয়ে নয়, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার সাহস দিয়ে মাপতে হয়। 

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হল অব ফেমে জায়গা পেলেন টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার

সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে লর্ডসে বড় লিড ইংল্যান্ডের

ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিতের আহ্বান প্যাট কামিন্সের

ছবি : সংগৃহীত
এমবাপ্পের জাদুকরী হ্যাটট্রিকে সোসিয়েদাদকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয়ে লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে জয়ের নায়ক ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। দলের হয়ে অপর গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।   ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বেশ চাপেই ছিল স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে সোসিয়েদাদের মিকেল ওইয়ারসাবালের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ পরই সুযোগ আসে রিয়ালের সামনে। এমবাপ্পের বাড়ানো বল পেয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিয়ুস।   ৩৫তম মিনিটে সোসিয়েদাদের সার্জিও গোমেজের দুর্দান্ত ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় রিয়াল। তবে চার মিনিট পর আর ভুল করেননি এমবাপ্পে। ৪০তম মিনিটে ফেদে ভালভার্দের চমৎকার পাস পেয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।   তবে এগিয়ে থাকার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪৪তম মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতায় ফেরে সোসিয়েদাদ। ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করা বলে সুযোগ পেয়ে যান লুকা সুচিচ। ঠান্ডা মাথায় কোণাকুণি শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ক্রোয়াট মিডফিল্ডার।   দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের দাপট   বিরতির পর পুরোপুরি বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে সোসিয়েদাদকে চাপে ফেলে দেয় রিয়াল। ৬০তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে।   এর মাত্র আট মিনিট পর ব্যবধান বাড়ান ভিনিসিয়ুস। সোসিয়েদাদের অর্ধে বল হারানোর পর সেটি দখলে নিয়ে আক্রমণ তৈরি করেন বেলিংহ্যাম। তার প্রথম শট প্রতিহত হলেও দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে বাইলাইন থেকে দারুণ পাস বাড়ান তিনি। সেই বল অনায়াসে জালে পাঠান ভিনিসিয়ুস। ৮০তম মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। এবার গোলের কারিগর ভিনিসিয়ুস। তার বাড়ানো বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে ব্রাহিম দিয়াজ গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গোল ব্যবধানে লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে পরের দুই অবস্থানে রয়েছে সেভিয়া ও রিয়াল বেটিস।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স

নিষেধাজ্ঞা শেষে রিংয়ে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার মাঝেই গুলিতে নিহত তেতে

ছবি: সংগৃহীত

আরেক কীর্তি গড়ে রোনালদো, ক্যারিয়ারে গোলসংখ্যা এখন ৯৭৭

ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে কাটল অচলাবস্থা

জো রুট। সংগৃহীত ছবি
টেন্ডুলকারের রেকর্ড ছুঁলেন রুট

টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি কীর্তি গড়লেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটসম্যান জো রুট। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে ফিফটি তুলে নিয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট ফিফটির রেকর্ডে ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারের পাশে বসেছেন তিনি।   সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১১২ বলে ৬৬ রান করে আউট হন রুট। ১০টি চারে সাজানো এই ইনিংসটি টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ৬৮তম ফিফটি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকারও ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি করেছিলেন।   তবে রুট এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন টেন্ডুলকারের চেয়ে ৩৩টি টেস্ট কম খেলেই। ১৬৭তম টেস্টে এসে কিংবদন্তি ভারতীয় ব্যাটসম্যানের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।   টেস্টে সবচেয়ে বেশি ফিফটির তালিকায় রুট ও টেন্ডুলকারের পর রয়েছেন শিবনারাইন চন্দরপল। ১৬৪ ম্যাচে ৬৬টি ফিফটি করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। এরপর অ্যালান বোর্ডার ও রাহুল দ্রাবিড়ের ৬৩টি করে এবং রিকি পন্টিংয়ের রয়েছে ৬২টি ফিফটি।   বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিনের খেলা ৩৭ রান নিয়ে শুরু করেন রুট। ৯৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। পরে খুররাম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান।   দলের ২ উইকেটে ৪৮ রানের সময় ক্রিজে এসে জর্ডান কক্সের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়েন রুট। তার বিদায়ের পরও ইনিংসে নিজের অবদান রেখে যান তিনি।   এই ইনিংসের পর টেস্টে রুটের মোট রান দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৮০। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তার ওপরে আছেন শুধু টেন্ডুলকার। ভারতীয় কিংবদন্তির সংগ্রহ ১৫ হাজার ৯২১ রান।   ফলে ফিফটির রেকর্ডে টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলার পর এবার টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায়ও তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে রুটের সামনে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬

শ্রীলঙ্কা সিরিজেই আগরকরের ভাগ্য নির্ধারণ, নতুন প্রধান নির্বাচকের দৌড়ে জহির

বাবা হারানো মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

জুনিয়র এশিয়া কাপ সামনে রেখে অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলকে উপহার

0 Comments