বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময় বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাদ জুম্মা রাজধানীর নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বড় অবদান রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি কারাভোগ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা জানি, গত দুদিন ধরে তিনি আবার অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং গতকাল রাতেই ডাক্তাররা বলেছেন যে, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়।
মহাসচিব আরো বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য সারাদেশের জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছিলাম এবং সারা দেশের মসজিদে মসজিদ দোয়া হচ্ছে। আজকে আমরা এখানে এই নয়া পল্টনের মসজিদে নামাজ আদায় করে সবাই খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছি। আল্লাহ যেন তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেন।
এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর শেখ রহমান। টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচনে জয় পেয়ে তিনি নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই জনপ্রিয় নেতা জর্জিয়ার স্টেট সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে পুনরায় জনগণের আস্থা অর্জন করেন। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর হিসেবে আগেই ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার টানা পঞ্চম জয়ের মাধ্যমে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেলেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট ও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে শুধু একজন ব্যক্তির জয় নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজে শেখ রহমানের ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, অভিবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিরাও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটির অধিকার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এর আগে তিনি টানা চারবার নির্বাচিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিবারের মতো এবারও তিনি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন।
ভোক্তা বা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম নতুন করে বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির দেওয়া দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত ২ দিনব্যাপী এ গণশুনানি চলছে। জানা গেছে, ডিপিডিসি ৬.৯৬ শতাংশ, ডেসকো ৯.৬৭ শতাংশ, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৫.৯৩ শতাংশ, নেসকো ৪.১২ শতাংশ, ওজোপাডিকো ১০.১২ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে পাইকারি বিদ্যুতে যে দাম বাড়বে সেটিও এরসঙ্গে যুক্ত/সমন্বয় করার আবেদন করা হয়েছে। শুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ, বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন ভোক্তা অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। আলাদা আলাদা প্রস্তাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এ বিশাল ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), ডেসকো, ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো, নেসকো এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। অর্থ্যাৎ একই ব্যক্তি বা পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার দ্বৈততা (ডাবল বুকিং) বন্ধ হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অভাবি ব্যক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে যাবে। প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নাম—‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভাণ্ডার। এটি চালু হলে মাত্র একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক মানুষেরা সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা পাবেন। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। এছাড়াও বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’- এর অগ্রগতি, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মূলত ফেজ বাই ফেজ বা পর্যায়ক্রমে গ্রাজুয়ালি অগ্রসর হচ্ছি। এই কার্ডের পাইলটিং কার্যক্রম আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাইলটিং মূলত করাই হয় ট্রায়াল অ্যান্ড এরর-এর জন্য। যেন মাঠ পর্যায়ের ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো আইডেন্টিফাই করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধান করা যায়।’ কার্ড বিতরণে প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা এই কার্ড পেয়ে খুবই খুশি হয়েছেন। তবে যেহেতু আমরা একটি একটি ওয়ার্ড করে দিচ্ছি, তাই পার্শ্ববর্তী অনান্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা উপজেলার মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙক্ষা তৈরি হয়েছে। তাদেরও মনে হচ্ছে, এ সুবিধা কখন পাবেন! এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি নিয়েছি, তা সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এটি হাতে নেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে, আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ।’ তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির প্রধান কাজ হচ্ছে উপকারভোগীদের কাছে ঠিকমতো টাকা পৌঁছানো। অর্থাৎ যার টাকা সে যেন সরাসরি পায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডেটা ফাইন্ডিং করা হচ্ছে। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে এই কার্ড চালু করা হয়। ফারজানা শারমিন আরও জানান, আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে। এসব এলাকায় মাঠ পর্যায় থেকে সুবিধাভোগী নির্বাচন করে কার্ড বিতরণ করা হবে। ইউরোপ বা আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামের একটি পারিবারিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। ফলে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনেই জানা যাবে কোন কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। এতে করে এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় কার্ড বা প্রতিবন্ধী ভাতা সচল থাকবে। তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাসিক ভাতা ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা বর্তমানে ৫০০ বা ১০০০ টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি সারেন্ডার বা ত্যাগ করতে হবে। ভবিষ্যতে কৃষক ও হেলথ কার্ডসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড একীভূত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সামাজিক বাস্তবতায় একই পরিবারে কৃষক, গর্ভবতী মা কিংবা বিধবা থাকতে পারেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সময় যদি দেখা যায়, উপযুক্ত নারীটি ইতোমধ্যে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন, তবে ডাবল বুকিং বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী তাকে আগের কম অঙ্কের কার্ডটি সারেন্ডার করতে হবে। তবে তার স্বামী যদি কৃষক কার্ড নেন বা অন্য কেউ প্রতিবন্ধী ভাতা পান, তাহলে তা সচল থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সব মন্ত্রণালয় মিলে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাই, যাতে এক ক্লিকে বা একটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে উপকারভোগীর সমস্ত তথ্য চলে আসে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি এনআইডি যুক্ত থাকে। এটি করতে পারলে ভাতা নিয়ে যেসব বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়—বিশেষ করে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যায়, সেই অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি মেথডে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পদ্ধতিতে আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা কিংবা বাড়ির ছাদের অবস্থা কেমন—এমন নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে। ফারজানা শারমিন বলেন, আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হল প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। এই ফ্যামিলি কার্ডের মূল লক্ষ্যই গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠপর্যায়ের কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পাইলটিংয়ের উদ্দেশ্যই হল সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা। যেখানেই অনিয়ম বা কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, দ্রুত সেখানে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছি।