আন্তর্জাতিক

কাতারের মধ্যস্থতায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাথে শান্তিচুক্তি করলো কঙ্গো সরকার

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ১৬, ২০২৫

কাতারের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কঙ্গো সরকার ও দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম-টুয়েন্টি থ্রি। 

 

শনিবার (১৫ নভেম্বর) কাতারের রাজধানী দোহায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হয় এ চুক্তি। 

 

এর আগে, গত কয়েক মাস ধরেই কঙ্গোর নানা স্থানে ধারাবাহিক সহিংসতা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি। জানুয়ারিতে দখল করে নেয় পূর্ব কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমা। এরপর নিয়ন্ত্রণে নেয় উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভুর কিছু অংশ। 

 

এম-টুয়েন্টি থ্রি'কে সহায়তার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে দেশটি। চলতি বছর এ লড়াইয়ে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুতও হয়েছে কয়েক লাখ বাসিন্দা। 

 

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল থেকে কাতারের উদ্যোগে কঙ্গো সরকার ও এম২৩ বিদ্রোহীদের সরাসরি আলোচনার কয়েকটি ধাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাগুলো মূলত পূর্বশর্ত ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়গুলোতেই সীমিত ছিল। গত জুলাইয়ে নীতিমালার একটি ঘোষণায় সম্মত হয় দুই পক্ষ। তবে মূল সংঘাত তখনও অমীমাংসিত ছিল। অক্টোবর মাসে তারা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত আরেকটি চুক্তিতে পৌঁছায়।

 

সাম্প্রতিক এই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরকে কঙ্গো সরকার এবং এম২৩ বিদ্রোহীদের বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির ৩০ দিন পর খুলবে হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর হরমুজ প্রণালিতে পাতা জলমাইন অপসারণ শুরু করবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এদিকে, শান্তিচুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধ জোরদার করতে বিভিন্ন স্থানে জলমাইন স্থাপন করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। পেন্টাগনের ধারণা, প্রণালির বিভিন্ন অংশে অন্তত এক ডজনের বেশি মাইন পাতা হয়েছিল।   হরমুজে অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে।   টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইরান হরমুজ থেকে অবরোধ না সরানোয় দেশটির সামুদ্রিক বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এর আগে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। তবে কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে, সে তথ্য গোপন রাখায় কার্যক্রম পুরোপুরি সফল হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমাতে পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন চীনের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণে নৌ-মাইনবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ থামাতে কাতারে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৮৭ দিন পর ইরানে ইন্টারনেট ফের চালুর সিদ্ধান্ত

দীর্ঘ ৮৭ দিন পর ইরানে অবসান ঘটতে যাচ্ছে ইন্টারনেট ব্ল্যাকাউটের। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটিতে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সেবা চালু করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ইরানের ‘সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেস’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে আনার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ঠিক কবে এবং কীভাবে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সাথে ইরানকে পুরোপুরি যুক্ত করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’ সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সাধারণ নাগরিকরা গত প্রায় তিন মাস ধরে বিশ্ব ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। দেশটির মাত্র সামান্য কিছু মানুষ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উন্নত প্রযুক্তির ভিপিএন ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছিলেন।   ইরানে এই নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকাউটের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত চলতি বছরের শুরুতেই। গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে প্রথম দফায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় দেশটির প্রশাসন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও,  ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর দেশটিতে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকাউট কার্যকর করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ নিয়ে ইরানকে বড় ছাড়ের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধে ইরান জিতে গেছে, মুখরক্ষার উপায় খুঁজছেন নেতানিয়াহু-ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই কোনো চুক্তি নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনই কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই তথ্য জানান। সোমবারই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এমন মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। খবর বিবিসি, সিনহুয়া, আলজাজিরার।   ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি ঠিক যে, আলোচনার বিষয়গুলোর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আমরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এখনই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে বলে কেউ দাবি করতে পারবে।’   সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় মূলত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি তার প্রতিনিধিদের চুক্তির বিষয়ে ‘তাড়াহুড়া না করতে’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম গত রাতেই (রোববার) হয়তো কোনো খবর পাব। অথবা আজ পেতে পারি।’ তবে ‘এটিকে খুব বড় করে না দেখার’ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘ইরানের কাছ থেকে জবাব পেতে কিছুটা সময় লাগে।’   কাতারে উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদল : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে সোমবার দোহায় পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ অন্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধিদলের সফরের মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধ’ অবসানের জন্য সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া।   সৌদি আরব-কাতারকে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বান : এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসাবে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসাবে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার ট্র–থ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, শনিবার তিনি কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি তাদের জানিয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র এই জটিল পরিস্থিতি সমাধানে যে পরিমাণ কাজ করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করা উচিত।’ এরই মধ্যে আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো, সুদান ও কাজাখস্তান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।   হরমুজ খুলে দিলে পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত : ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়, তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে খুবই গুরুত্বসহকারে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রোববার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি সফরের সময় এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘প্রণালিটি অবিলম্বে পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং তারপর আমরা নির্ধারিত প্যারামিটারের অধীনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনায় প্রবেশ করব।’ তিনি বলেন, ‘এতে কয়েক বছর সময় লাগবে না, তবে এসব প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সমাধান করতে কিছুটা সময় লাগবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে যদি এই আলোচনা ফলপ্রসূ না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইরান জোটে কি ফাটল ধরছে?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

গাজা ফ্লোটিলা থেকে ফিরে নির্যাতনের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ানদের

0 Comments