সর্বশেষ

কারাগারে থাকা হলমার্ক এমডি তানভীর মাহমুদের মৃত্যু

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫

 

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) বন্দি ও হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

কারা কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, তিনি সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতা বাড়লে শনিবার বিকেলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর বিরুদ্ধে রমনা থানার একটি মামলাসহ কয়েকটি অভিযোগ চলমান ছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি। ছবি : সংগৃহীত
বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আবেগঘন পোস্ট

নারীর বৈবাহিক জীবন, মাতৃত্বকালীন সংগ্রাম এবং সম্পর্কের বিশ্বস্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি।   বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি বিয়ে ও পরকীয়া নিয়ে এক দীর্ঘ পোস্ট করেন। পোস্টে উম্মে কুলসুম পপি লেখেন, একটি পরিবারকে আগলে রাখা কিংবা সন্তান লালন-পালন কখনোই শুধু নারীর একার দায়িত্ব হতে পারে না। পোস্টে তিনি বর্তমান সমাজে বেড়ে যাওয়া পরকীয়া এবং এর ফলে নারীদের মানসিক বিপর্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন। পপির ভাষ্য, বিয়ের পর একজন নারীকে নিজের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নিতে হয়। নতুন সম্পর্ক ও পরিবেশে সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে অনেক নারী নিজের ভালো থাকা এবং ব্যক্তিসত্তাকে বিসর্জন দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ সময় একজন নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা বাইরের মানুষের পক্ষে পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। পোস্টে পপি লিখেছেন, একজন মা নিজের স্বপ্ন ও জীবনের বড় একটি অংশ নিঃস্বার্থভাবে ত্যাগ করেই নতুন প্রাণের জন্ম দেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে নারীরা জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করার মধ্যেই কিছু পুরুষ ‘ভদ্র’ বা ‘পারফেক্ট স্বামী’র মুখোশ পরে আড়ালে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পরকীয়া শুধু একটি ভুল নয়; এটি একজন মানুষের আত্মসম্মান ও ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। তিনি বলেন, বিশ্বস্ততা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং একটি সম্পর্কের মৌলিক দায়িত্ব। স্ট্যাটাসের শেষাংশে এই উদ্যোক্তা নারীর ত্যাগ ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সব পুরুষ এক রকম নন, তবে চারপাশে ঘটে যাওয়া বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪০ প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত

কার গাফিলতিতে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে ট্রাফিক মনিটরিং, এক সপ্তাহে ৩০০’র বেশি মামলা

ছবি: সংগৃহীত
নদী–সাগরে জেলেরা কত ধরনের মাছ ধরেন?

নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ মাছ ধরা। এটি জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কেবল পেশা নয়, বরং বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশও। আর জাতীয় মাছ ইলিশ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। উপকূলীয় এলাকায় মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস মাছ। বছরের পর বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন জেলেরা। তবে নদী ও সমুদ্রে কত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় কিংবা কত ধরনের মাছ ধরেন জেলেরা, তা অনেকের অজানা। তা নিয়ে আমাদের এ প্রতিবেদন।   নদী-সমুদ্রে কত প্রজাতির মাছ ধরেন জেলেরা মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের নদ-নদী ও সমুদ্রে সবমিলিয়ে ৭৩৫টির বেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্বাদু পানির ২৬০টি এবং সামুদ্রিক ৪৭৫টি প্রজাতি রয়েছে। সমুদ্রগামী জেলেরা গভীর ও অগভীর সমুদ্র থেকে প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ধরে থাকেন। আর বাণিজ্যিকভাবে নিয়মিত অন্তত ৪০ ধরনের মাছ ধরে থাকেন। বঙ্গোপসাগরের গভীর এবং অগভীর অংশ থেকে মাছগুলো ধরে আনেন তারা। এর মধ্যে জনপ্রিয় প্রজাতি হলো ইলিশ। পাশাপাশি রুপচাঁদা, কালোচাঁদা, লইট্টা এবং কোরাল উল্লেখযোগ্য। রফতানিযোগ্য মাছ টুনা, ম্যাকারেল, সুরমা এবং লাক্ষা ধরেন। সেইসঙ্গে কালো পোপা, লাল পোপা, সাদা পোপা, ছুরি, ফাইস্যা, তাইল্লা, শাপলাপাতা এবং বাইমও ধরেন। দামি মাছের মধ্যে জাভা ভোল বা ভোল কোরাল, যা অত্যন্ত মূল্যবান।      নদীর মাছের মধ্যে আইড়, বাগাড়, রিটা, বোয়াল, রুই, কাতলা, পাঙাশ, চিতল, চিংড়ি, কাঁকড়া, হাঙর, পাবদা, গুলশা, চেওয়া, বউরানি, ট্যাংরা, কাকিলা, বাটা, বেলে, তপসে, ফলি, বৈরালী, মেনি, শোল, গজার, পুঁটি, মলা, ঢেলা, কাঁচকি, চান্দা, চেলা, শিং, মাগুর এবং কই উল্লেখযোগ্য।   কী মাছ পাওয়া যায় পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ছাড়াও পদ্মা-মেঘনায় আরও অনেক ধরনের মাছ পাওয়া যায়। তবে মাছের প্রজাতির জন্য সমৃদ্ধ পদ্মা। বহু ছোট-বড় নদী-খাল পদ্মা থেকে জন্ম নিয়েছে, মিশেছে অনেক। বড় বড় বিলের যোগ আছে পদ্মার সঙ্গে। পদ্মায় আছে মাছের ডিম ছাড়ার পরিবেশ, আর আছে খাবার।    ২০১৪ সালের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) মূল্যায়ন বলছে, প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল পদ্মা। এর মধ্যে আছে কাকিলা (কাইক্কা), ফাসা, কাচকি, চাপিলা, খয়রা, রানি (বউ মাছ), পুইয়া (গুতুম), পইয়া (পুইয়া), মলা (মোয়া), পিয়লি (জয়া), মোরারি, কাতলা, মৃগেল, রাইখোর (রেবা), বাঁশপাতা, বাটা, ভাঙ্গান, কালবাউশ, নান্দিনা, রুই, চেলা, চেলা (কাটারি), ঢেলা, চোলাপুঁটি, কাঞ্চনপুঁটি, সরপুঁটি, জাতপুঁটি, ভাতপুঁটি, তিতপুঁটি, ডারকিনা (ডারকা), খরশোলা, চিতল, ফলৈ, চান্দা, লম্বা চান্দা, রাঙা চান্দা, কই, নাপিত কই, গজার, গাছুয়া (চ্যাং), টাকি, শোল, বেলে, খলিশা, চুনা খলিশা, লাল খলিশা, মেনি, ট্যাংরা, গুলসা ট্যাংরা, বাজারি ট্যাংরা, রিটা, আইড়, গইজা, চেকা, মাগুর, শিং, কাজুলি, ঘাউরা, মুরিবাচা, বাচা, কাটা বাতাসি, শিলং, কানি পাবদা, মধু পাবদা, বোয়াল, বাগাড়, চেনি, গাং ট্যাংরা, বাইম, তারা বাইম, পাকাল বাইম, গোচি, পটকা (টেপা)। এ ছাড়া আছে বেশ কয়েক প্রজাতির চিংড়ি।   নিষিদ্ধ সময় সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে ২০২৪ সাল থেকে সরকার প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন (বর্তমানে ৫৮ দিন বা পরিবর্তন সাপেক্ষে) সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখে।    নদী-সাগরে ৭০ প্রজাতির মাছ ধরেন টেকনাফের জেলেরা নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর ঘেরা সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফের মানুষের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মাছ ধরা। উপজেলার মানুষের একটি বড় অংশ জীবিকা নির্বাহ করেন এই পেশায়। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত নৌকা ও ট্রলার নিয়ে তারা পাড়ি জমান নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে। দুই-চার দিন কিংবা এক সপ্তাহ গভীর সমুদ্রে অবস্থানের পর ফিরে আসেন ঘাটে। সঙ্গে থাকে ৭০ প্রজাতির মাছ। মৌসুমভেদে এই মাছের ধরনও বদলায়। তবে বৈচিত্র্যময় এই মাছের ভান্ডারে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগের ছাপ। কারণ গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। সেগুলো কমই পাওয়া যায়।   জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলায় নিবন্ধিত (কার্ডধারী) জেলের সংখ্যা ১০ হাজার ৬৮৩ জন। এসব জেলের রয়েছে মোট ১ হাজার ৫৩২টি নৌযান। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ শিকার শেষে জেলেরা সেন্টমার্টিনসহ মোট ৪৭টি ঘাটে ফিরে আসেন। যেখানে তাদের ধরা মাছ বেচাকেনা হয় এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।    তবে উপকূলীয় জেলে ও গভীর সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। উপকূলের জেলেরা সাধারণত ছোট নৌকা ও কমশক্তির ইঞ্জিনচালিত নৌযান ব্যবহার করেন, যেখানে নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রায় অনুপস্থিত। অপরদিকে গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা বড় ট্রলার নিয়ে সাগরে যান, যেখানে জিপিএস, রাডার এবং উন্নত জালসহ তুলনামূলক আধুনিক ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা থাকে। একসঙ্গে ১০-১৫ জন জেলে যান সাগরে।   জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুম ও জালের ধরন অনুযায়ী সাধারণত ৭০ প্রজাতির মাছ শিকার করে থাকেন তারা। এসব মাছ নৌ-ফিশারি ঘাটে এনে জেলে ও ট্রলার মালিকরা বিক্রি করেন। সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। নাফ নদী ও সাগরের মাছ ধরার ধরন ও পরিমাণে রয়েছে পার্থক্য। নাফ নদীর তুলনায় সাগরে মাছের পরিমাণ অনেক বেশি। সেখানকার মাছের বৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ।   টেকনাফের একাধিক জেলে জানিয়েছেন, তাদের জালে প্রায় সময় ধরে পড়া মাছের মধ্যে রয়েছে ছয় ধরনের পোপা (লাল, কালো, সাদা, দাঁতালো, সিল, মাথা), ছুরি, কালা ছুরি, তাইল্যা, বগা ছুরি, বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর (যেমন কেলা, বলি, কান হাঙর), চিংড়ি, লবস্টার, বাগদা, গলদা, লইট্টা, কেট টাইগার, ফাইস্যা, চার প্রজাতির চান্দা, কোরাল, আইড়, বাগাড়, বেলে, অলুয়া, স্যালমন, মাইট্টাসহ ৭০ প্রজাতির মাছ। এ ছাড়া ইলিশ ও ফুইট্যা ইলিশও ধরেন। তবে মাছের ভান্ডারে এখন ধীরে ধীরে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।    মাছ ধরতে নানা ধরনের জাল তবে একই জাল দিয়ে সব মাছ ধরা যায় না। প্রধানত পাঁচ-ছয় ধরনের জাল দিয়ে জেলারা মাছ ধরেন— (১) কারেন্ট জাল (বোয়াল, আইড়, বাইম, বাটা, বাইলা, পুঁটি মাছ ধরার জন্য); (২) বেড় জাল (বোয়াল, আইড়, বাটা, কাতলা, মৃগেলসহ সব ধরনের ছোট মাছ); (৩) খেপলা জাল (পুঁটি, ইচা, ট্যাংরা, বাইলাসহ অন্যান্য ছোট মাছ); (৪) মোই জাল (বাইম, বাতাসি, টাকি, শোল, গজাল); (৫) ঠেলা জাল (পুঁটি, ট্যাংরা, গুলসা, ইচা)। এ ছাড়া বড় জাল, ভেসাল, ঝাকি, টোইরা, খোরা ও ছটকা জালের ব্যবহার করা হয়।   জেলেরা জানান, যেসব জায়গায় স্রোত, সেখানে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। স্বচ্ছ পানিতে মাছ ধরতে কোচ এবং কম পানিতে পলোর ব্যবহারও আছে। আর আছে ইলিশ ধরার জাল। জেলেরা মাছ ধরতে কোন জাল ব্যবহার করবেন, তা নির্ভর করে পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতার ওপর। তবে খেপলা জাল সারা বছর ব্যবহার করা হয়।   হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতি একাধিক জেলে জানিয়েছেন, পাঁচ বছরে আগে যেসব মাছ নিয়মিত ধরা পড়তো, এখন সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো আর জালে উঠছে না। এর মধ্যে রয়েছে বেঙ গুইজ্জা, চড়া গুইজ্যা, পাড়পুলা, চান্দা গুইজ্যা, দনদনা ও চাপিলা ইলিশসহ কয়েকটি প্রজাতি। যেগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে। অতিমাত্রায় মাছ ধরা, পরিবেশদূষণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রজননক্ষেত্রের বিলুপ্তি, পানিপ্রবাহে বাধা, নদী ভরাট হওয়া—এসব কারণে মাছগুলো কমে যাচ্ছে।    যা বলছেন জেলেরা টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সৈকতের সঙ্গে লাগোয়া মহেশখালীয়া ঘাট। সেখানে ১০০-২০০ নৌকা সারি সারি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তিন দিন সাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়া ঘাটে ফেরেন জেলে নুর আমিন ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় মাছ কিনতে ভিড় করেন মাছ ব্যবসায়ীরা।   মহেশখালীয়া ঘাটের জেলে ও মাছ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩০ বছর ধরে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কখনও ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাই। কখনও নিজে মাছ কিনে বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিই। ঘাটে জেলেদের মুখ দেখলে বুঝতে পারি কী ধরনের মাছ ধরে এনেছেন।’   তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী মিলে এখানকার জেলেরা ৭০ প্রজাতির মাছ ধরেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কিছু মাছ নাই হয়ে গেছে। এটি আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ।’     এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী মিলিয়ে জেলেদের জালে বর্তমানে ৬০-৭০ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিয়ম মেনে মাছ আহরণ নিশ্চিত করতে জেলেদের সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছি আমরা।’ 

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত

দলবল নিয়ে ইউনূসের আজারবাইজান সফরে ব্যয় কত?

ছবি: সংগৃহীত

নেতৃত্বে সফলতার জন্য নবীজির কালজয়ী ১০ নীতি

ছবি: সংগৃহীত
কাঁটাতার ভয় পায় না বাংলাদেশ’: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, সীমান্তে আর নতজানু হবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার কাঁটাতারের বেড়ার ভয় পায় না।   সোমবার (১১ মে) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।   সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচনী বক্তব্য অনেক সময় উগ্র হতে পারে, তবে সরকার পরিচালনা ভিন্ন বিষয়। বাংলাদেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চায় না।   তিনি বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সময় শেষ। বাংলাদেশের মানুষও ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না। যেখানে কথা বলা দরকার, সেখানে বাংলাদেশ কথা বলবে।’   হুমায়ুন কবির আরও বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আগ্রহী সরকার।   ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশ্বস্ত হয়েছে।   তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় আলোচনায় আগের তুলনায় কম বাধা থাকবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।   এ ছাড়া তিস্তা প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করবে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশই আগ্রহী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম

ছবি: সংগৃহীত

আইনজীবী হত্যা মামলায় হাই কোর্টে জামিন খারিজ, জেলমুক্তি হলো না চিন্ময়কৃষ্ণের

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো কিং আবদুল আজিজ কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন নারীরা

0 Comments