জাতীয়

বাংলাদেশে পিয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, ভারতের ব্যবসায়ীরা বিপাকে

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ৩০, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে বাংলাদেশে পিয়াজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ভারতীয় রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অগ্রিম চাহিদার ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ পিয়াজ সীমান্তে আনা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এসব পিয়াজ বর্তমানে বন্দর ও গোডাউনে জমে পচন ধরতে শুরু করেছে।

 

ঘটনাস্থল ধরা পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মাহদিপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোজাডাঙ্গা ও পেট্রোপোল সীমান্ত এলাকায়। এসব সীমান্তে ট্রাক ও গোডাউনে অন্তত ৩০ হাজার টন পিয়াজ আটকে রয়েছে। ক্ষতি রোধে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পানির দরে পিয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

মাহদিপুর সীমান্তের এক রফতানিকারক জানান, বাংলাদেশ থেকে আমদানির বরাত পেয়ে আমরা মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পিয়াজ এনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ নিষেধাজ্ঞার কারণে পিয়াজ গুদামে রাখা হয়েছে এবং এখন তা পচছে। ফলে প্রতি কেজি মাত্র ৬ রূপি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমরা নাসিক ও ইন্দোর থেকে এক ট্রাকের বদলে ৫০–৭০ ট্রাক পিয়াজ এনেছিলাম। দাম ২২ রূপি কেজি হলেও এখন পচন শুরু হওয়ায় ২–১০ রূপি কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু দাম পাওয়া যায়, সেটাই অনেক।

অন্য একজন রফতানিকারক বলেন, নাসিক, ইন্দোর, বেঙ্গালুরু থেকে ২৩ রূপি কেজি দরে আনানো পিয়াজের খরচ মিলিয়ে ২৪ রূপি। রফতানি বন্ধ হওয়ায় পচন শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পিয়াজ বাছাই ও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছি।

এক্সপোর্ট কমিটির রাজ্য সম্পাদক জানান, বাংলাদেশে আমদানির কথা জানিয়ে পিয়াজ আনা হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ভারতের রফতানিকারকরা সমস্যায় পড়েছে। সীমান্তে মজুত পিয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক চেম্বারে লিখিত অভিযোগ করেছি এবং আশা করছি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার সীমান্তে থাকা পিয়াজ আমদানি অনুমোদন দেবে।

বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ হওয়ায় দিল্লির গাজিপুর পাইকারি বাজারেও পিয়াজের দাম ব্যাপকভাবে কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, নাসিক, আলওয়ার, মধ্যপ্রদেশ ও বেঙ্গালুরু থেকে প্রচুর পিয়াজ আসলেও রফতানি বন্ধ থাকায় কেজি প্রতি ২ রূপি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এক বস্তা ৫০ কেজি পিয়াজ উৎপাদন খরচ এবং কমিশন মেটাতে না পারায় তাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ও মজুত থাকা পণ্য বাজারে ছাড়তে পারছে না, ফলে আর্থিক চাপের পাশাপাশি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।

 

পণ্য রফতানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত সরকারকে মজুতসীমা নির্ধারণ ও বাজারকে বহুমুখী করতে হবে। রফতানি ব্যবস্থাকে এমন করা উচিত যাতে কোনো এক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হলে অন্য দেশে সরবরাহ করা যায়, যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
মাইক বিকল, সংসদে কার্যক্রম বন্ধ—৪০ মিনিট মুলতবি অধিবেশন

জাতীয় সংসদে সাউন্ড সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি ও মাইক বিভ্রাটের কারণে অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ ঘোষণা দেন।   অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে স্পিকার জানান, স্পিকারের মাইক্রোফোনসহ সংসদ সদস্যদের ব্যবহৃত মাইকগুলো হঠাৎ করে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হলে অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাইক বিভ্রাটের সময় স্পিকার বলেন, “আবারও স্পিকারের মাইক কাজ করছে না। সদস্যবৃন্দ, আপনাদের মাইকও কাজ করছে না। এই কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো।”   তিনি আরও জানান, নির্ধারিত ৪০ মিনিটের মধ্যে প্রথম ২০ মিনিট মাগরিবের নামাজের বিরতি হিসেবে এবং পরবর্তী ২০ মিনিট মাইক্রোফোন মেরামতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হঠাৎ এই কারিগরি ত্রুটিতে সংসদের কার্যক্রমে সাময়িক ছন্দপতন ঘটে এবং উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়। তবে সমস্যা সমাধানের পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হবে বলে জানানো হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: ২২ দিনে মৃত্যু ১১৩, আক্রান্ত ৭৬১০ শিশু

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

এলডিসি উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত
শ্রম মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার

বকেয়া বেতনের দাবিতে আজ রাজধানীর মহাখালী-নাবিস্কোর মধ্যবর্তী তেজগাঁও লিঙ্ক রোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন নাসা মেইনল্যান্ডের প্রায় ৭০০-৮০০ পোশাক শ্রমিক।  উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের দাবি পূরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।  ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সভা শেষে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি।  আমরা আগামীকাল সকাল ১১টায় শ্রমিক প্রতিনিধি, নাসা মেইনল্যান্ডের মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএ সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেছি। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে বিষয়টি নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। তাই এমন একটি সমাধান বের করা হবে যাতে শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং মালিকপক্ষও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক শ্রমিকদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় অন্যান্য সময়ের মতো রাস্তা অবরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।  এ সময় তিনি আরও বলেন, আপনারা জনদুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা ছেড়ে দিন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই এবং আপনাদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা কামনা করছি। আলোচনাকালে নাসা মেইনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে তাদের ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পদ জব্দ থাকায় কারখানা পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে তারা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধে সক্ষম।  অন্যদিকে, শ্রমিকদের পাওনা ‘আর্নড লিভ’ এর টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শ্রম মন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ও আগামীকালের সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করে রাস্তা ছেড়ে দেন।  এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ইস্যুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে হাম ছড়াচ্ছে, আক্রান্ত ৬৪৭৬, মৃত্যু ১১৪

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।    স্বাস্থ্য অধিদফতরের (ডিজিএইচএস) ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৬,৪৭৬ জন সম্ভাব্য হামে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪,৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২,৬৫৪ জন। একই সময়ে দেশে মোট ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এবং বাকি ৯৮ জন সম্ভাব্য হামজনিত জটিলতায় মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮৭ জন সম্ভাব্য রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম ধরা পড়েছে ৬০ জনের এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।  সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ সকাল ৯টা থেকে ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় জরুরি ‘মিজলস-রুবেলা (এমআর)’ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, এমনকি যারা আগে টিকা নিয়েছে তারাও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (এনআইটিএজি) সুপারিশে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কোনও ধরনের গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সরকার আগামী ২১ মে’র মধ্যে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও ৫ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৫টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করবে। এখানে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। 

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ 0
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোগো | ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সিরাত প্রতিযোগিতা শুরু, অংশগ্রহণের সুযোগ যাদের

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ইস্যুতে ক্ষোভ: ‘প্রস্তাব প্রত্যাহার জনমানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’— এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ৬৪ জেলায় ৬৪টি প্রকল্পের ঘোষণা

0 Comments