জাতীয়

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সংকটে উদ্বেগে দেশজুড়ে

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৯, ২০২৫

এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় পুরো দেশ উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদ, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। গণতন্ত্র, দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশবাসীর কাছে তাঁর আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও খালেদা জিয়ার সুস্থতাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির, খেলাফত মজলিসের আমির, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীসহ অনেকে তাঁর জন্য দোয়া করেছেন। বিভিন্ন দলের নেতারা হাসপাতালে এসে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

হাসপাতালের সামনে গত দুই দিন ধরে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। অনেকেই ব্যানার নিয়ে গণমোনাজাতের আয়োজন করেন, ফলে সেখানে উল্লেখযোগ্য ভিড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সবাইকে অনুরোধ করেন যেন ভিড় না করে নিজেদের অবস্থান থেকে দোয়া করেন।

হাসপাতালের সিসিইউতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চললেও তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির ওপর নির্ভর করে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তাঁকে এখনো সরানো সম্ভব হয়নি।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায়ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন অব্যাহত রয়েছে। খালেদা জিয়ার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন সাদা দল কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল করেছে। রাজধানীর হোসনিদালান ইমামবাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু রাজনৈতিক নেতা গভীর রাতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর খোঁজ নিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা কুমিল্লা, বগুড়া, গাইবান্ধা, নোয়াখালী, রংপুরসহ অনেক স্থানে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত করা হয়েছে। এসব আয়োজনে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও অনেকেই গভীর স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁর বর্তমান শারীরিক সংকট সবাইকে ব্যথিত করেছে।

এদিকে, ক্রিকেটার তামিম ইকবাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও তাঁর সুস্থতার প্রার্থনা করেছেন।

 

দেশজুড়ে দোয়া ও মোনাজাতের এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করছে বেগম খালেদা জিয়া আজও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। সর্বস্তরের মানুষ তাঁর সুস্থতার অপেক্ষায় প্রার্থনায় মগ্ন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
১৬ ডিসেম্বর নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন সচিবালয়ের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।   রোববার (২৫ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানা গেছে।   গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপি’র সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, কমিটির অন্যান্য সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর এমপি, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি, এম মঞ্জুরুল করিম রনি এমপি, মো. রুহুল আমিন এমপি এবং মো. তাজউদ্দীন খান এমপি। বৈঠকের শুরুতেই প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।   শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং তদসংলগ্ন উদ্যান/প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে তা সুপারিশ করা হয়। কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জানানো হয়- কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনঃনির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পাদনের লক্ষ্যে বিবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হবে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।   এছাড়া সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য সরকারি অবকাঠামোতে রুফটপ সোলার পিপি-এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। এই রুফটপ সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে যা সংশ্লিষ্ট ভবনসমূহে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। এছাড়াও আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।   জাতীয় সংসদ ভবন কেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তর চলতি বছরে যে সকল পূর্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে তার বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয় এবং জাতীয় সংসদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মহান সংসদের যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় গত ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান আবাসিক এলাকা, বনানী আবাসিক এলাকা, উত্তরা আবাসিক এলাকা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১৪১৩ টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।   রাজউক কর্তৃক এ সময়ে প্লটসমূহ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম/বিধি বহির্ভূত কাজ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নিমিত্ত হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের রুল অনুযায়ী গঠিত কমিটি রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্লটের নথিপত্র যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। এ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ২০০টি প্লটের অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছে এবং বর্ণিত প্লটসগুলোর নথির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।   রাজনৈতিক বিবেচনা এবং অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার বিবেচনাপূর্বক এসকল বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সভায় আলোচনা হয়। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব; মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ব্যাখ্যা চায় সংসদীয় কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট: বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

উচ্চকক্ষ গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি
সৌদিতে হামলার জেরে ঢাকা থেকে দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে সব ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।রবিবার (২৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ দুই রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।   তবে সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিমান। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ঢাকা-মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে সংস্থাটি। সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ঢাকা-দাম্মাম ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় এসব রুটের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অ্যার্টনি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

টঙ্গীর থাপ্পড়কাণ্ডে মুখ খুললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

ফাইল ছবি

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন নিয়ম, পর্যটকদের দিতে হবে কত টাকা?

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ, ২৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর

  বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যাতায়াত আরও সহজ করতে ঢাকা নারিতা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে সপ্তাহে একটি ফ্লাইটের পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।   শনিবার (২৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) মো. আশরাফুল আলম।   তিনি জানান, নতুন সূচি অনুযায়ী প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে জাপানের নারিতার উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণের সুযোগ বাড়বে এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।   প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নতুন ফ্লাইট   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন। সফর শেষে ২৯ অক্টোবর নারিতা থেকে বিমানের নতুন চালু হতে যাওয়া বৃহস্পতিবারের ফ্লাইটে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, বিমান চলাচল এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।   যাত্রী চাহিদায় ফ্লাইট বাড়ানোর উদ্যোগ   ঢাকা নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রায় তিন মাসের মাথায় ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত ২৭ জুলাই দীর্ঘ বিরতির পর এ রুটে সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু হয়।   বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরাসরি ফ্লাইট চালুর পর যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে এ সেবা ব্যবহারে আগ্রহ রয়েছে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে ৪০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হয়। ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগের চাহিদাও বাড়ছে।   নারিতা হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার সম্ভাবনা   যাত্রীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক করতে জাপান এয়ারলাইন্স ও এয়ার কানাডার সঙ্গে সম্ভাব্য কোডশেয়ার ব্যবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।   এ ধরনের অংশীদারত্ব চূড়ান্ত হলে নারিতা হয়ে ভ্যাঙ্কুভার, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিউলের মতো গন্তব্যে সংযোগ ফ্লাইটে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।   বিমান কর্তৃপক্ষের আশা, অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় নমনীয়তা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও এ রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ২৫, ২০২৬

পূর্ব নির্ধারিত একনেক সভা স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

সাইবার হামলার শঙ্কা কাটিয়ে চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

এবারের পূজায় কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেনি : পূজা উদযাপন ফ্রন্ট

0 Comments