সর্বশেষ

কার গাফিলতিতে মাঝ দরিয়ায় আটকে আছে বাংলার জয়যাত্রা?

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর পর আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে; সেই যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া হাজার দেড়েক জাহাজের ২০ থেকে ২২ হাজার নাবিক এখনো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনে চলেছেন।

 

তবে বার বার চেষ্টা করেও প্রণালি পার হতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকরা বলছেন, অন্য জাহাজের ক্রুদের তুলনায় নিজেদের আরো বেশি দুর্ভাগা মনে হচ্ছে তাদের।

 

তুলনামূলক ‘কম খরচায়’ বিপদজনক এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ তারা হাতছাড়া হয়ে যেতে দেখেছেন কয়েক দিন আগে। এখন তারা দেখতে পাচ্ছেন, ভারত ও পাকিস্তানসহ অন্য দেশগুলো যেখানে তাদের জাহাজে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা নাবিকদের বদলি হিসেবে ‘রিলিফ ক্রু’ পাঠাচ্ছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

 

৫ লাখ ৭৮ হাজার ডলার টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার একটি সুযোগ দিয়েছিল ইরান। ওই অর্থকে নাবিকরা ‘তুলনামূলক কম খরচ’ বলছেন, কারণ এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে বন্ধুপ্রতীম কিছু দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এর পাঁচগুণ টোল দিতে হয়েছিল।

 

সে সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, একটি মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা ছাড় চেয়েছিলাম।

 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, টাকা কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ইরানকে টোল দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়ার ঝুঁকি ছিল, তাই আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না।

 

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের ‘অতি সতর্ক অবস্থান’ শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে পেশাদার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ নষ্ট করেছে। কূটনৈতিকভাবে বারবার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ।

 

বাংলার জয়যাত্রায় আটকে থাকা ৩১ নাবিকের মধ্যে অন্তত এক ডজন ক্রু ইতোমধ্যে দেশে ফেরার আবেদন করেছেন। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে থাকার জন্য প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫ ডলার ‘যুদ্ধ ভাতা’ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা আর চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন।

 

রাশিয়াসহ অনেক দেশই দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক ঝুঁকি কমাতে ক্রু পরিবর্তনের ব্যবস্থা করছে।

 

মাহমুদুল বলেন, আমাদের নাবিক ও জাহাজকে বিপদজনক এলাকা থেকে বের করে আনতে সাধ্যমতো সব কিছুই আমরা করছি। তবে বদলি ক্রু পাঠানোর কোনো চিন্তা আমাদের নেই। আমরা এটাকে কোনো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছি না।

 

তার মানে হল, জাহাজটি যতদিন ওই এলাকায় আটকে থাকবে, ততদিন বর্তমান নাবিকদেরই জাহাজে রাখার পরিকল্পনা করেছে বিএসসি।

 

সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকট কোন দিকে যাবে তা বলা কঠিন। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে এটা কয়েক বছর ধরেও চলতে পারে।

 

তাদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তখন জ্বালানি সরবরাহ থেকে শুরু করে আটকে থাকা নাবিকদের উদ্ধারের মত বিষয়ে আপৎকালীন পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

 

আর বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলছেন, আমাদের দেশে ফিরতেই হবে। আমরা অনির্দিষ্টকাল এভাবে আটকে থাকতে পারি না।

 

‘রিলিভার’ পাঠাচ্ছে অন্য দেশ

বাংলাদেশি জাহাজটির ৩১ নাবিকের এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে টানা নয় মাস সমুদ্রে কাটিয়েছেন। আরও ১০ জন সাত মাস ধরে জাহাজে আছেন। এর মধ্যে দুই মাস কেটেছে দিন-রাত আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে যেতে দেখে, আতঙ্কের মধ্যে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তো খুব কাছে এসে পড়েছে।

 

স্বাভাবিক সময়ে অনেক নাবিকই ছয় থেকে দশ মাস সমুদ্রে থাকেন। জাহাজের যে নাবিকদের সঙ্গে ফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়েছে, মানসিকভাবে তাদের স্থিতিশীল মনে হলেও তারা বলছেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে থাকলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

আবদ্ধ জায়গায় বারবার একই কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে প্রায়ই পিঠ, ঘাড় ও জয়েন্টে পেশি ও হাড়ের ব্যথা হয়।

 

অনিয়মিত শিফট ও রাতের পাহারার কারণে ক্লান্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাও একটি সাধারণ বিষয়। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ায় মোশন সিকনেস, মাথা ঘোরা ও পানিশূন্যতাও দেখা যায়।

 

চাপপূর্ণ কর্মপরিবেশ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি একটানা রোদ, লবণাক্ত পানি ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, রোদে পোড়া ও নানা ধরনের সংক্রমণ হতে পারে।

 

একজন নাবিক বলেন, এখনও কেউ অসুস্থ হয়নি। কিন্তু উদ্ধার করা না হলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। এই পরিস্থিতিতে চিরকাল থাকা যায় না।

 

কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা আছে, এমন নাবিকরাও বলছেন, ধেয়ে আসা মিসাইলের ভয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার মত এমন মানসিক চাপ তাদের আগে কখনো সহ্য করতে হয়নি।

 

যুদ্ধ যখন পুরোদমে চলছিল, তখন নোঙর করার মত নিরাপদ জায়গা খুঁজতে গিয়ে পরিস্থিতির জটিলতা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন এই নাবিকরা।

 

হরমুজ প্রণালির যতটা সম্ভব কাছাকাছি থাকার পাশাপাশি নাবিকদের জিপিএস ও মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে থাকাও প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ঘন ঘন নেটওয়ার্ক জ্যামিংয়ের কারণে সেটা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

আবার যে দেশের সীমানায় জাহাজ নোঙর করা হচ্ছে, সেই দেশকে ফি দিতে হয়। বাড়তি খরচ এড়াতে উপকূলের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে থাকার চেষ্টা করেন নাবিকরা।

 

কারিগরি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বাংলার জয়যাত্রার নোঙর ২৭০ মিটার। এ জাহাজ ৫০ মিটারের বেশি গভীর পানিতে নিরাপদে নোঙর করে থাকতে পারে না।

 

দুবাই ও শারজাহ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা এই জাহাজের ক্রুরা ভালো করেই জানেন, বাংলাদেশ থেকে বিশেষ কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে নামতে পারবেন না।

 

অনেক বিদেশি নাবিকের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে নিরাপদ এবং পালানোর সহজ পথ হয়ে উঠেছে। তারা নৌকায় করে তীরে গিয়ে এরপর বিমানে চড়ে দেশে ফেরেন।

 

তবে মানবিক কোনো কারণ না থাকলে সাধারণত বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না।

 

দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরতে সৌদি আরব বা আশপাশের অন্য কোনো দেশে যেতে হলেও সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিতে হবে।

 

যে যাত্রা রূপ নিল দুঃস্বপ্নে

বিএসসির মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি দাওয়া শিপিংয়ের অধীনে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। জাহাজটির ৩১ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি।

 

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বহির্নোঙরে আসে জাহাজটি। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়।

 

ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে ২০০ মিটার দূরত্বে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার পর আগুন ধরে যায়। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজটির ৩১ বাংলাদেশি নাবিকের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে কয়েকদিন পর জাহাজ থেকে পণ্য খালাস শুরু হয়।

 

কথা ছিল পণ্য খালাস শেষে জাহাজটির পুনরায় কাতারে যাবে। যুদ্ধ পরিস্থিতে সেটি বাতিল হয়। এরপর বাংলার জয়যাত্রার মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল।

 

সেখানে যেতে হলে জাহাজটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হত। সেই উদ্দেশ্যে রওনাও দেয় জাহাজটি। কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেনি।

 

দাওয়া শিপিং পরে নির্দেশনা দেয়, মুম্বাই নয়, সার নিয়ে যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে। কিন্তু হরমুজ না খোলায় জটিলতা থেকেই যায়।

 

মার্চে একবার এবং এপ্রিলে দুবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলার জয়যাত্রা, কোনোবারই সফল হতে পারেনি।

 

জাহাজটি সবশেষ মে মাসের শুরুতে শারজাহ থেকে পানি কেনার জন্য মিনা সাকর বন্দরে ছেড়েছিল। ওই বন্দর ইরানের ফায়ারিং লাইন থেকে ৪৭ নটিক্যাল মাইল এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ৭০ মাইল দূরে।

 

শারজাহ থেকে ১৯০ টন পানি কিনে ফিরে যাওয়ার পথে নাবিকরা আইআরজিসির নতুন এক ঘোষণা শুনতে পান। সেখানে বলা হয়, আগে যেখানে জাহাজ নোঙর করা ছিল, সেদিকে এগোলে হামলার ঝুঁকিতে পড়বে।

 

ফলে ৫ মে জাহাজকে নতুন অবস্থানে নিয়ে যেতে বাধ্য হন নাবিকরা। কিন্তু যুদ্ধে অবসান না হলে বাংলার জয়যাত্রাকে আবারও জায়গা বদলাতে হবে, অন্তত পানি কেনার জন্য হলেও।

 

সাধারণত জাহাজগুলো নিজেদের পানি নিজেরাই শোধন করে নিতে পারে। বাংলার জয়যাত্রাও মূল ইঞ্জিনের তাপ ব্যবহার করে পানযোগ্য পানি উৎপাদন করতে পারে। কিন্তু জাহাজ নোঙর করে থাকায় এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।

 

পানির ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার পর জাহাজে এখন প্রায় এক মাস চলার মত পানি রয়েছে। গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

 

স্বাভাবিক অবস্থায় এ জাহাজে প্রতিদিন ১২ টন পানির প্রয়োজন হয়। ইঞ্জিনের জরুরি কার্যক্রমের জন্য সবসময় ৪০ টন পানির মজুত রাখতেই হয়।

 

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান বলছেন, জাহাজে থাকা খাবার দিয়ে আরও দুই মাস চলতে পারে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবে আছে ৪০০ টন হেভি ফুয়েল অয়েল এবং প্রায় ১৫০ টন ডিজেল।

 

কূটনীতিতে ‘ভুল’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতিগুলো থেকে দেখা যায়, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে জ্বালানি পরিবহনের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পারাপারের জন্য বাংলাদেশ মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।

 

এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামসহ বিভিন্ন জায়গায় বার বার বলেন যে, সমস্যার সমাধান হয়েছে। পরে তা সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

 

ইরানি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক কূটনৈতিক অবস্থানে তেহরানের ক্ষোভ তৈরি হলেও পরে আলোচনার জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর একদিন পর বাংলাদেশ একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে ইরানের পাল্টা হামলাকে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানানো হয়, যদিও ইরান বলেছিল তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণেই যে এ সংঘাত শুরু করেছিল, সে কথাও বিবৃতিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়।

 

যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মেয়েদের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় শতাধিক শিশু নিহত হলেও বাংলাদেশ তার নিন্দা জানায়নি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশু হত্যার নিন্দা না করে আমরা কার্যকর ও পেশাদার কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশও ধরে নিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট দ্রুত যুদ্ধে জয়ী হবে।

 

কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেক জটিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় ইরান পথ খুলে দিতে আগ্রহী হলেও ছাড় দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে।

 

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদের প্রশ্ন, এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে? নিজের অস্তিত্বই যখন হুমকির মুখে, তখন ইরান কীভাবে অন্য জাহাজগুলোকে পার হতে দেবে?

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান অনুমতি দিলেও কিছু দেশ হয়ত হরমুজ প্রণালি পার হতে চাইবে না, কারণ তাতে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

 

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসির শিক্ষক সৈয়দ জাকারিয়া বকশ ইমরান বলেন, এই সংকটের একটি বড় শিক্ষা হল, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিই বাংলাদেশের সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি পাওয়ার একমাত্র পথ। সেই বাস্তবতায় ন্যূনতম নৈতিক অবস্থান বজায় না রেখে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রঘেঁষা অবস্থান নেওয়ায় জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

জাকারিয়া বলেন, আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমাদের নিরপেক্ষ ও নৈতিক হতে হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম, যিনি পশ্চিম এশিয়া ডেস্কেরও দায়িত্বে ছিলেন, সাম্প্রতিক বদলির কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

জ্বালানি বিভাগ বা বিদেশে বাংলাদেশের মিশনের কর্মকর্তারাও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করেননি।

 

বিএসসির এমডি মাহমুদুল বলেন, কোনো এক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হয়ত যুদ্ধ নিয়ে আইআরজিসি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার

  সংসদীয় সহযোগিতা জোরদার এবং শিক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বুধবার (২৪ জুন) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট হাউজে সেদেশের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) স্পিকার মিল্টন ডিকের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এফ এম বোরহান উদ্দিন। এসময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।   বৈঠকে মিল্টন ডিক চলতি বছরের এপ্রিলে তার ঢাকা সফরকালে পাওয়া উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।   উভয় পক্ষ শিক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নেওয়ার যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।   তারা সর্বোত্তম গণতান্ত্রিক চর্চা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বৈঠক বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতিশীলতার প্রতিফলন। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় দেশের গুরুত্বও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, লাইনচ্যুত বিজয় এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরে সিএনজি-নোহা মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, আহত ৮ ডিবি সদস্য

দেশে সোনার পর রুপার দামেও বড় পতন

বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যেন বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতকে আলিঙ্গন করতে পারে।   আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।   মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরো ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।   তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।     দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরো সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।   তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়।     ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি।    তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।   জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবেলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।   তিনি আরো বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।   বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সঙ্গে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।   তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি। সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।   তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদ প্রকাশে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যাকাণ্ডে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পিকআপভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যানটি জব্দ করেছে পুলিশ।   মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার সন্দলপুর ইউনিয়নের সোনাপুর-কবিরহাট সড়কের ভারী পুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।   স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, একটি মালবাহী পিকআপভ্যান সোনাপুর থেকে কবিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। পথে ভারী পুকুরপাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপভ্যানটির সামনের অংশে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত সুজুকি জিকজার মডেলের মোটরসাইকেলটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নিহত দুই যুবকের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে চলছিল।   কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া জানান, নিহতদের মরদেহ থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু, এখন কয়েক হাজার কোটির মালিক শশী

ছবি: সংগৃহীত

কঠিন কাজের আগে মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ডে চমক, মিলল বিরল খনিজের সন্ধান

0 Comments