‘ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান’- সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর ফেরার পথে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের গাড়িবহর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে- এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে কমিশনারের গমনাগমন নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ।
ডিএমপির দাবি, মিন্টো রোড কোনো একমুখী সড়ক নয়; বরং এটি দ্বিমুখী চলাচলের সড়ক। সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কিছুদিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক ব্যারিকেড ব্যবহার করে অস্থায়ী ইউ-টার্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটি স্থায়ী কোনো ট্রাফিক নিষেধাজ্ঞা নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে দেওয়া ও পুনরায় বন্ধ করা হয় এবং এটি নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ফলে ঘটনাস্থলে নিয়ম ভঙ্গের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
ডিএমপি জানায়, কমিশনারের গাড়িবহরের চলাচলও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা গ্রহণ বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ পথ শুধু কমিশনারের গাড়িবহরের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে- যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
‘ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান’- সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর ফেরার পথে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের গাড়িবহর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে- এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা দিয়েছে ডিএমপি। বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে কমিশনারের গমনাগমন নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ। ডিএমপির দাবি, মিন্টো রোড কোনো একমুখী সড়ক নয়; বরং এটি দ্বিমুখী চলাচলের সড়ক। সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কিছুদিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিক ব্যারিকেড ব্যবহার করে অস্থায়ী ইউ-টার্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটি স্থায়ী কোনো ট্রাফিক নিষেধাজ্ঞা নয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে দেওয়া ও পুনরায় বন্ধ করা হয় এবং এটি নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ফলে ঘটনাস্থলে নিয়ম ভঙ্গের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ডিএমপি জানায়, কমিশনারের গাড়িবহরের চলাচলও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা গ্রহণ বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন সাধারণের জন্য নিষিদ্ধ পথ শুধু কমিশনারের গাড়িবহরের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে- যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ডিএমপি আরও জানিয়েছে, গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যেকার দ্বিপক্ষীয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিশেষ বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রাত সোয়া ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি অবতরণ করলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল গালিচা সংবর্ধনা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষ করে ফিরতি সফরে বাংলাদেশে আসা হাকান ফিদানের এই সফরটি ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। একই সাথে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো শক্তিশালী দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম ঢাকা সফর হওয়ায় কূটনৈতিক মহলে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার সকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর শুক্রবার দুপুরের পর তিনি সরাসরি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শনে যাবেন এবং সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও তুর্কি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন। সফর শেষ করার আগে আগামী শনিবার (৬ জুন) তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আঙ্কারায় এক সফল দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন, যারই ধারাবাহিকতায় এই ফিরতি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তুরস্ক দ্রুত ঢাকার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে। বিশেষ করে, সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দেশ। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআইটি’ এর সাবেক প্রধান হাকান ফিদানকে দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে বিশ্ব রাজনীতি ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তার এই ঢাকা সফরকে কেবল সাধারণ কূটনৈতিক প্রোটোকল হিসেবে না দেখে, দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন। কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার অনুষ্ঠেয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে আগে থেকে নির্ধারিত কোনো কঠোর আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা নেই। তবে দুই দেশের গভীর হৃদ্যতার কারণে এই মুক্ত আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সমন্বয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রসঙ্গগুলো জোরালোভাবে সামনে আসতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন, সামরিক প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্ববাজারে একচ্ছত্র অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশও তার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে তুরস্কের সাথে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক বাংলাদেশকে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের একটি অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এক সম্ভাবনাময় কৌশলগত পার্টনার হিসেবে মূল্যায়ন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আঙ্কারা আন্তর্জাতিক প্রতিটি ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি তাদের সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান সমর্থন জানিয়ে আসছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হাই-প্রোফাইল সফরের মধ্য দিয়ে তুরস্ক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ঢাকা ও আঙ্কারা তাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে সাধারণ বাণিজ্যিক সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এক দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিসরে নিয়ে যেতে চায়। ফলে হাকান ফিদানের এই ঢাকা সফরকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ‘প্রতি মঙ্গলবার বসতেন কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্যরা। এখানে ওনারা ইনফরমাল আলোচনা করতেন। তবে কারা করবেন সেটা নির্ধারিত ছিল। সব দেশের সরকারের মধ্যে এ ধরনের ইনার গ্রুপ ছিল। তবে তারা স্ট্রাকচার ফর্মে বসে পড়ছিল। যদিও কোনো গ্যাজেট হয়নি। মঙ্গলবার সাংবাদিক সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় ‘চরচা সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শপথ নিয়েছিলাম সংবিধান অনুসারে কাজ করব। সে সংবিধানে বলা আছে প্রজাতন্ত্রের কাজ কিভাবে হবে। রাষ্ট্রপতি বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাকে কোথায় বদলি করা হবে এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়তো প্রধান উপদেষ্টা দেবেন। কিন্তু এমন কাউকে কাউকে নেওয়া হলো, যাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জনপ্রশাসনের দায়িত্বে ছিলাম না। প্রধান উপদেষ্টা আমাকে আগস্টের ১২ তারিখে ডেকে পাঠালেন। উনি আমাকে ওই দিন থেকে কাজ শুরু করতে বলেন। উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন কয়েক দিন পরে হবে, তখন উপদেষ্টা করে নেওয়া হবে। এবারের সরকার পরিবর্তনটা একটা বিশেষ প্রেক্ষিত আছে। এটা আপনারা জানেন। আমরা যখন সমালোচনা করি, তখন কিন্তু বিবেচনায় নেই না। এবারে কিন্তু রাষ্ট্রের ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। পুলিশ কাজ ছেড়ে চলে এসেছিল। অনেক পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক হতাহত হয়। অনেক সচিব পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কেউ বিদেশে চলে গেছেন। কেউ দেশের ভেতরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। ’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রধান উপদেষ্টার অধীনে যে মন্ত্রণালয়গুলো, তার কাজ নিষ্পত্তিতে তাকে সহযোগিতা করতাম। ওই অফিসে আমার অবস্থান ছিল ৮৯ দিন। যদিও শুরুতে উনি বলেছিলেন, আমাকে একটা মন্ত্রণালয় দেবেন। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা হলে ফসলের ক্ষতি হয়। ’ আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরিচালনা খুবই চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। রাজনৈতিক সরকার রাজনৈতিক দলের যিনি প্রধান থাকেন তিনি সরকারপ্রধান হন। তিনি এক ঘরানার লোক দিয়ে সরকার গঠন করেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারে বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে লোকজন পিকাপ করা হয়। এটা কঠিন ব্যাপার ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জিং।