প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে কুশল বিনিময় করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ নৌবাহিনী সদর দপ্তর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে তিনি মসজিদের বাইরে সমবেত শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।’
কুশল বিনিময়ের পর প্রধানমন্ত্রী গুলশান এলাকায় যান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার বলেও জানান তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানবাধিকার ও মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। মানব পাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরো প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা চান। আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেছেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষ জনবল, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিতে আইওএম আগ্রহী। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান, উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার দিনগত রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি রাজনৈতিক সংলাপ, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কিত অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান লিউ হাইশিং। বিমানবন্দরে চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জানান, বুধবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। এরপর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে থাকবেন বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন, জনতথ্য ও যোগাযোগ ব্যুরোর মহাপরিচালক হু ঝাওমিং, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর উপমহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা লি জিনইয়ান, একই ব্যুরোর বিভাগীয় পরিচালক ওয়াং সিচি এবং আন্তর্জাতিক বিভাগের সাধারণ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় পরিচালক ও মন্ত্রীর সহকারী লিউ চেংশিয়াও। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছেন ইংরেজি দোভাষী শি মেইচি, আন্তর্জাতিক বিভাগের কর্মকর্তা চেন ইয়ংপেই, ঝাং গুয়ু, লিউ হংরু ও হে ইয়িইয়াং। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন লিউ হাইশিং। এ সময় তিনি বঙ্গভবন পরিদর্শন করবেন এবং রাষ্ট্রপতির আয়োজিত স্বাগত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। একই দিন বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে ‘হোয়্যার হিস্ট্রি ইলুমিনেটস দ্য ফিউচার : চায়না-বাংলাদেশ পলিটিক্যাল প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। এ অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’-এর উদ্বোধনী আয়োজনেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করবেন লিউ হাইশিং। এরপর তিনি ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সাবেক চ্যান্সারি ভবনের স্থান এবং বর্তমান চ্যান্সারি পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি জীবিকাসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন লিউ হাইশিং। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। সফর শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধানের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি হবে ওয়াই-টাইপের সেতু। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় সেতুর মধ্যে সমন্বয় রেখে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এরই মধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে সরকার। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং ভৌত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির জন্য সভাটি হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ব্যারাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ ও ওয়াই-টাইপ সেতুর মধ্যে কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে কি না, কিংবা একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, পদ্মা ব্যারাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলবে। একই সঙ্গে ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতুও নির্মাণ করা হবে। শেখ রবিউল আলম জানান, প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলমান রয়েছে। সমীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত নকশা (ডিটেইল ডিজাইন) তৈরি এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। এরপর শুরু হবে ভৌত কাজ। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং এরই মধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরির পর্যায়ে কাছাকাছি এলাকায় পদ্মা ওয়াই-টাইপ সেতু নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে প্রকল্প দুটির মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২০২২ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ স্থাপনে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনা সামনে আসে। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সঙ্গে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার সড়ক যোগাযোগের দূরত্ব কমবে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া সেতুর প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ২০০৫ সালের মে মাসে এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ চাওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মঙ্গলবারের সভায় পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি ওয়াই-টাইপ দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। এদিকে যমুনা দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বৃহত্তর রংপুরকে যুক্ত করতে এই সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেল, সড়ক ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।