ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটা হতাশার। জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার ও এই নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মিডিয়া সেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছিলাম, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা করে আয়োজন করতে। জাতীয় নির্বাচনসহ সবকিছুই জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বরাতেই বৈধতা পেয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের ফলে গণভোটের আলোচনা আড়ালে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণতি এখন স্পষ্ট। জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটা হতাশাজনক। জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন না এলে অন্তর্বর্তী সরকার ও এই নির্বাচনসহ সব ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখতে হবে।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনতা কেবল নির্বাচনের জন্য জীবন দেয়নি; একটি মহৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখে রাজপথে লড়াই করেছে। জুলাই সনদে সেই প্রত্যাশা পুরোটা না হলেও বহুলাংশে প্রতিফলিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতির দেশ গড়ার যে সুযোগ আমরা পেয়েছি, তার কৃতিত্ব ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের। তরুণ শিক্ষার্থী ও জনতা জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছিল বলেই আমরা ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও সংস্কৃতির বিলোপ এখনো হয়নি। ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট প্রয়োজন। সেই গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে “হ্যাঁ”-কে বিজয়ী করতেই হবে।’
এ জন্য তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারের প্রতি জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোনসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর পল্টন মডেল থানা। এর আগে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. জহুরুল ইসলাম (৩৮)-কে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১৭টি স্মার্টফোন ও বাটন ফোন এবং ২০টি পুরোনো চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ও ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন কম দামে সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের অপরাধচক্র চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সরকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করার চিন্তা রয়েছে। সেই কমিশনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা হলে শিক্ষাব্যবস্থার মান আরও উন্নত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল নিয়ে চলমান সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, লটারি কখনোই মেধা বা অমেধা নির্ধারণ করতে পারে না। এটি ধনী-গরিব বৈষম্যও পুরোপুরি দূর করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কী শেখানো হবে সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা যথাযথভাবে পাঠদান না করায় অভিভাবকদের অতিরিক্ত কোচিং বা প্রাইভেট টিউটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে—এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। এর আগে লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, লটারি নিয়ে নানা মত থাকলেও বাস্তবে এতে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সব এলাকায় ভালো স্কুল থাকা সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা সন্তানদের নিজ এলাকার স্কুলে না পাঠিয়ে অন্যত্র ভর্তি করান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির। সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহযোগিতায় শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থিত সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় ভাবধারাপন্থী ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে লেখক-প্রকাশকের দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থ সুরক্ষায় কপিরাইট আইন-২০২৩’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক ও কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এবং একাডেমিয়া পাবলিশিং হাউস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস. এম. আরশাদ ইমাম। বাপুস-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচালক এবং কপিরাইট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সচিব আবুল বাসার ফিরোজ শেখের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং কপিরাইট বোর্ডের সদস্য মো. মনজুরুর রহমান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাপুস-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ গোলাম এলাহী জায়েদ এবং মাহমুদুল হাসান। সেমিনার প্রবন্ধে বলা হয়, মানুষের সমাজ-সভ্যতা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কাঠামো নির্মাণে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Property বা IP)-এর অবদান অসীম ও অনস্বীকার্য। দৈনন্দিন জীবনে সভ্য ও স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। সচেতন বা অসচেতনভাবে সবাই IP ব্যবহার করে থাকে। বাস্তব সম্পদ যেমন মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যায় না, তেমনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে তা পাইরেসি, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধান অতিথি বলেন, কপিরাইটের ব্যাপ্তি বাংলাদেশে খুবই সীমিত। এক্ষেত্রে বৃত্তকে ভাঙতে হবে। সাহিত্য, প্রকাশনা ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত সমাজ গঠনে সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কপিরাইট সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে পারে। একটি সৃজনশীল সমাজ তখনই গড়ে ওঠে, যেখানে জয় হয় সৃজনশীলতার। সভাপতির বক্তব্যে বলা হয়, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়াতে হবে। কপিরাইট আইনকে যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে হবে এবং এর প্রয়োগ বাড়াতে হবে। বইয়ের ভবিষ্যৎ ভালো করতে হলে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। ভালো আইন থাকলেই হবে না, বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচাতে এবং সংশ্লিষ্টদের জীবনমান উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।