জাতীয়

২৫ জানুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা পূর্বক টিকা গ্রহণ করতে হবে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১১, ২০২৬

২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হজযাত্রীরা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সময়মতো সম্পন্ন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হজযাত্রীদের যেসব পরীক্ষা করাতে হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউরিন আর/এম/ই, র‌্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), এক্স-রে চেস্ট (পি/এ ভিউ) রিপোর্টসহ, ইসিজি রিপোর্টসহ, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি উইথ ইএসআর) এবং ব্লাড গ্রুপিং ও আরএইচ টাইপিং।

এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু পরীক্ষা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, হৃদযন্ত্রের অকৃতকার্যতার সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, কিডনি জটিলতায় এস ক্রিয়েটিনিন ও ইউএসজি অব কিইউবি, লিভার সিরোসিসের সন্দেহে ইউএসজি হোল অ্যাবডোমেন ও আপার জিআইটি এন্ডোস্কপি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তে স্পুটাম ফর এএফবি, সিটি স্ক্যান অব চেস্ট, সিরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি ও অ্যালবুমিন গ্লোবিউলিন রেশিও পরীক্ষা।

স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইলের কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে জমা দিয়ে টিকা গ্রহণ করতে হবে। টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সনদ প্রদান করা হবে।

হজসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির সাধারণ কর্মী: শাহে আলম

  পরিবার, সম্পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বন্ধুত্ব হিসেবে দেখানো ঠিক নয়; তিনি বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন।   বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপে’ তিনি এসব কথা বলেন। বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।   সংলাপে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও কারণেই আমাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন— এটুকুই আমাদের সম্পর্ক।’   দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে মীর শাহে আলম জানান, ক্ষমতায় আসার পরও তার পরিবারকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের কেউ কোনও দায়িত্ব পেলে সেটিকে অযথা বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করেছি। শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই তার সঙ্গে বহুবার দেখা হয়েছে, সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি আমাদের স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।’   মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এইটুকু যোগাযোগ আছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন— এটুকুই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কিন্তু ‘‘তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম’’— এভাবে উপস্থাপন করা হলে আমি, আমার পরিবার কিংবা সমাজের অন্য মানুষ সেটি নিশ্চয়ই ভালোভাবে নেবেন না। এ বিষয়টি থেকে দূরে থাকার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি।   নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিনি স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে হওয়ায় তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন।   স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।   সংলাপে নিজের ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হওয়া নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ছেলে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে তিনি নিজেই তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। প্রথম বোর্ড সভার পরদিনই তার ছেলে পদত্যাগ করেন। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।   সম্পদ নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাবে মীর শাহে আলম জানান, তার নির্বাচনি হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ব্যক্তি নামে নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করতে পারে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা উচিত।’ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বক্তব্যের আংশিক অংশ ব্যবহার না করে পুরো বক্তব্য তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।   সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে মীর শাহে আলম জানান, সমালোচনা থাকলেও তিনি কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা সরকারের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।   সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কোনও ভুল বা অনিয়ম নজরে এলে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অবহিত করলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ের জবাবের অপেক্ষায় পুলিশ

ছবি : সংগৃহীত

নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন ৩০ কর্মদিবসে আনার উদ্যোগ রাজউকের

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

টানা ভারী বর্ষণের কারণে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানে সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।   বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে সাতটায় জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে গত ৬ই জুলাই জারিকৃত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির অনুবর্তিতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১২ই জুলাই ২০২৬ তারিখ (রবিবার) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হলো।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হলো।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার’

মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনৈতিক কার্যক্রম সমর্থন করে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

বগুড়ায় হবে সামরিক ড্রোন কারখানা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ৩ বাহিনীর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৃহত্তর বগুড়াতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ড্রোন) কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক নজরদারী প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সামারিক বাহিনীর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রক্রিয়ায় কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।   বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপির প্রশ্নে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সভাপতিত্ব করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আগামী ১০ বছরে ৮৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। জাতীয় প্রতিরক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন সংযোজন করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামরিক শিল্পাঞ্চল (ডিআইজি) স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক নির্ভরতা হ্রাস এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।   অধিকতর উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, ড্রোন প্রযুক্তি, সেন্সর ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের কার্যক্রমও চলছে। নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীন সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিন বছর এবং সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৮, ২০২৬

চামড়া রফতানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে রোডম্যাপ হবে: শিল্পমন্ত্রী

তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত, মাঝপথে স্থগিত হলো সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

0 Comments