জাতীয়

জুলাই সনদ রক্তের বিনিময়ে তৈরি, সরকার গণভোটের প্রচার করতেই পারে : আলী রীয়াজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ কেবল কাগজে কালো অক্ষরে ছাপা কোনো দলিল নয়, এটি ১৬ বছরের বেশি সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার-পরিজনের হাহাকার এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদের ভিত্তিতে গণভোটের পক্ষে প্রচার করতেই পারে।

আজ শনিবার রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘এই সনদ তৈরি হয়েছে ১৬ বছরের বেশি সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার-পরিজনের হাহাকার থেকে। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে, তার প্রতিদিনের যে অশ্রু, তা দিয়ে তৈরি হয়েছে এই জুলাই সনদ। তরুণ শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যেভাবে প্রাণ দিয়েছেন, সেই প্রাণের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে এই সনদ। এটিই ভবিষ্যতের পথরেখা।’

গণভোট প্রশ্নে সরকারের নৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন কি না। সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং আরপিও, কোথাও এটি নিয়ে কোনো বাধা নেই। এ ছাড়া গণভোট সংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেখানেও কোনো বাধার বিষয় নেই। সরকার যদি কিছু প্রস্তাব করে, তবে সেই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন চাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, যার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিকে সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করা ভুল হবে। এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি হলো ১৪০০ মানুষের আত্মদান এবং হাজার হাজার আহত মানুষের ত্যাগ। সরকার জুলাই জাতীয় সনদ চাপিয়ে দিচ্ছে না, বরং ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার ভিত্তিতে এটি তৈরি হয়েছে।’

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি হলেও গণভোটের প্রয়োজন মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, সব রাজনৈতিক দল দেশের সব জনগণের পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না। দলের বাইরেও বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সম্মতি নেওয়াটাও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো আইনি সুরক্ষা। এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংস্কারের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট বা ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো- ভবিষ্যতে যাতে কেউ আদালতে প্রশ্ন তুলতে না পারে যে, এই সংসদের কি সংবিধানের এত বড় সংস্কার বা সংশোধনী আনার এখতিয়ার আদৌ ছিল? জনগণ যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দেয়, তবে সেই ক্ষমতা তারা পাবে এবং আদালত এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রথম ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা জুলাই সনদের সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে। এরপর বাকি সময় তারা সাধারণ জাতীয় সংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও দুদক গঠন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মতো মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, এক জীবনে এক ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের বেঞ্চ বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিচার পায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার বা কথা বলার সুযোগ থাকে না। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, বাজেট ও অনাস্থা প্রস্তাব ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারবেন। এতে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তারা তাদের এলাকার সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে পারবেন।’

বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সোহেল রানার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সোহেল রানা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ফ্যাসিবাদের অবসান। সোহেল রানার মতো ১৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তেই এই রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের আয়োজন।’

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা) মনির হায়দার। এছাড়াও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি রেশনিং প্রত্যাহার, জরুরি সেবায় স্বস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ জরুরি সেবাগুলোতে স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।   সরকারি সূত্র জানায়, জরুরি সেবা খাতে রেশনিং চালুর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় জ্বালানি সময়মতো পাচ্ছিল না। বিশেষ করে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধার কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।   সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে জরুরি খাতগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ বজায় থাকে। একই সঙ্গে শিল্প ও পরিবহন খাতেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি সেবায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা শুধু জনস্বার্থেই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক আজ, অনুমোদনের অপেক্ষায় ১৭ প্রকল্প

ছবি: সংগৃহীত

৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

ইউএনওর ওপর হামলা: ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
এসএসসি প্রশ্ন বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’, গুজব রোধে কঠোর নজরদারি: মাহদী আমিন

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস নিয়ে অপপ্রচার থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালাতে না পারে।   তিনি বলেন, ভুয়া প্রশ্ন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্র ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গ্রেফতার করেছে।   মাহদী আমিন জানান, প্রতারকরা প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে এবং শেষ পর্যন্ত উধাও হয়ে যায়। অনেক সময় পরীক্ষার পর প্রকৃত প্রশ্ন সংগ্রহ করে তা আগেই দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।   ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বরাতে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস নিয়ে ছড়ানো তথ্যগুলো মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতিবেদন পরবর্তীতে ত্রুটির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত প্রশ্নফাঁস নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা।   শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফলাফলের আশায় অসৎ পন্থায় না জড়িয়ে সততা বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো কিছু বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন তিনি।   সরকার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণে শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার অবস্থান ১৭তম

ছবি: সংগৃহীত

এমপির গাড়িতে হামলা: জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: সংগৃহীত

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন পরিকল্পনা কৃষকদের জন্য ‘যুগান্তকারী’: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে শিক্ষিকাকে মারধর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেই ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে এক নারী শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি কর্মী শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে আগেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দাওকান্দি সরকারি কলেজে। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদ আলী কলেজে গিয়ে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।   জানা যায়, সেদিন একটি তাফসির মাহফিলের আয়োজন উপলক্ষে কলেজ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি ও চাঁদা চাওয়ার জন্য কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহাদ আলী স্থানীয় একটি হিমাগার থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।   তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার জানান, “কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে আগের একটি মামলায় শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তা কার্যকরে পুলিশ কাজ করছে।”   অভিযুক্ত শাহাদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অন্য একটি গণমাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, পূর্বের দেনা-পাওনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান।   এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট একটি ইউনিটের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোনের দাম ২,৫০০ টাকায় নামাতে চায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর সমষ্টিগত জ্ঞানচর্চাই ভবিষ্যৎ সভ্যতার কৌশলগত শক্তি

0 Comments