চলমান শীত মৌসুমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া মানুষ অস্বাভাবিক আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। সকালে তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে যাচ্ছে, আবার দুপুরে তা বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে এবং উজানে একতরফাভাবে নদীর পানি প্রত্যাহারের কারণে আবহাওয়ার ধরনের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে; এর চূড়ান্ত পরিণতি এখনো অজানা।
স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৮ (খাদ্যনিরাপত্তা) প্রাপ্ত বিশিষ্ট কৃষিবিদ ড. এম এ মাজিদ এ প্রসঙ্গে বাসসকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমান আবহাওয়ার ধারা অদ্ভুত ও অনিশ্চিত আচরণ করছে, যা কৃষিসহ সব খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বছরের পর বছর ধরে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে জলবায়ুর ধরনে এক ধরনের অস্বাভাবিকতা তৈরি হচ্ছে এবং শীতে তীব্র শীত বা গ্রীষ্মে প্রচণ্ড তাপের সৃষ্টি হচ্ছে।
উজানে আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলো থেকে অব্যাহত ও একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাচ্ছে এবং কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় দশক আগের মতো যদি প্রধান নদী ও উপনদীগুলোতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন পানি প্রবাহ থাকত এবং অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর কমে না যেত, তাহলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভিন্ন ও আরও অনুকূল হতে পারত।
‘পরিবর্তিত জলবায়ুতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আমাদের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবনে বাধ্য হতে হয়েছে। কিন্তু এখন মানুষের টিকে থাকার জন্য শীত ও তাপ-সহিষ্ণু ফসল উদ্ভাবনের সময় এসেছে,’ তিনি বলেন।
পরিবেশবিদ ও ‘রিভারাইন পিপল’-এর পরিচালক এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহারের কারণে উত্তরাঞ্চল এক অদ্ভুত জলবায়ু পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, যমুনা, করতোয়া, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, পুনর্ভবা এবং আরও বহু নদী জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে উজানে দশকের পর দশক ধরে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকিয়ে যাচ্ছে এবং নদীর তলদেশ পলিতে ভরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে তিস্তা নদী শুকিয়ে গেছে, যা উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা, পাশাপাশি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।’
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পিএইচডি ফেলো পরিবেশবিদ মো. মামুনুর রশিদ বাসসকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু ইতোমধ্যে কৃষি, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জনস্বাস্থ্য ও বসবাসের ক্ষেত্রে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, তীব্র শীত ও তাপ, সমুদ্র ও ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি, পানি দূষণ, পানি ও মাটির লবণাক্ততা, জলজ ব্যবস্থার অবক্ষয়, নদীতে পলি জমা, নদী শুকিয়ে যাওয়া ও ভাঙন ঘটছে,’ তিনি বলেন।
গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সামসুজ্জামান অস্বাভাবিক হারে নদীর তলদেশে পলি জমে অকাল বন্যা ও ভাঙন সৃষ্টি এবং আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে বিভিন্ন ফসল চাষ মৌসুমের ধরন ইতোমধ্যে বদলে গেছে, যা কৃষি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
‘সামগ্রিক জলবায়ু ধরনে ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বৃষ্টিপাত, বন্যা, শুষ্ক মৌসুম, বীজ ও চারা বপন বা রোপণের সময় এবং ফসল কাটার সময় মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে,’ তিনি যোগ করেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলে ভোর থেকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ সময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।
তবে দুপুরে সূর্যের দেখা মিললে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে ২২ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার উপ-হিমালয়ীয় উত্তরাঞ্চলে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ থেকে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, এর আশপাশের এলাকা এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শন অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে না যেতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জনানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারা দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্বকাপ ফুটবল বা বড় কনসার্টের মতো ‘মেগা ইভেন্টে’ দর্শকদের যাতায়াতই সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের কারণ। তাই পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য টিকিটে ছাড় ও অন্যান্য প্রণোদনা চালু করলে এসব আয়োজনের জলবায়ুগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮২ শতাংশ এবং ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ২০২৪ সালের ইউরোপ সফরের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৯৭ শতাংশই এসেছে দর্শকদের যাতায়াত থেকে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৪২ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে, যা আইসল্যান্ডের এক বছরের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় সমান। এর মধ্যে শুধু দর্শকদের বিমান ভ্রমণের কারণেই প্রায় ৩০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক শন লারকম বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনের জলবায়ু প্রভাব কমাতে শুধু স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ ব্যবহার বা পরিচালনাগত নির্গমন কমানো যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দর্শকদের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমানো। গবেষণায় কোল্ডপ্লের ইউরোপ সফরের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। ব্যান্ডটি তাদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দর্শকদের কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে যাতায়াতকারীদের জন্য পণ্য কেনায় ছাড় দেয়। এর ফলে দর্শকদের যাতায়াতজনিত কার্বন নিঃসরণ প্রায় ৪৮ শতাংশ এবং পুরো সফরের মোট কার্বন নিঃসরণ ৪৬ শতাংশ কমে। গবেষকরা মনে করেন, শুধু কার্বন অফসেট বা ক্ষতিপূরণমূলক প্রকল্পের ওপর নির্ভর করলে যথেষ্ট হবে না। বরং শুরু থেকেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য তারা কয়েকটি সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে টিকিটে ছাড়, রেল ভ্রমণে প্রণোদনা, গণপরিবহন ও শেয়ার করা যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, এমন ভেন্যু নির্বাচন করা যেখানে দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের প্রয়োজন কম হবে এবং দর্শকদের কাছ থেকে সামান্য পরিবেশ ফি নিয়ে নির্গমন কমানোর উদ্যোগে অর্থায়ন করা। গবেষকদের মতে, বড় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আয়োজকদের শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বই নয়, দর্শকদের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট পরোক্ষ কার্বন নিঃসরণ কমানোর দায়িত্বও নিতে হবে। তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ