বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ হবে: কিউবা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ সৃষ্টি হবে বলে সতর্ক করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। 

একই সময়ে ওয়াশিংটন কিউবার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ও দেশটির শীর্ষ নেতাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে দুই বৈরী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মিগেল দিয়াজ-কানেল সোমবার কিউবার আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। 

এর একদিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, হাভানা রাশিয়া ও ইরান থেকে ৩০০টিরও বেশি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের বিষয় বিবেচনা করছে। 
হাভানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে— এমন জল্পনার মধ্যেই এ তথ্য সামনে এসেছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হাভানা পূর্ব কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, মার্কিন সামরিক জাহাজ ও সম্ভবত ফ্লোরিডাতেও ড্রোন হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দিয়াজ-কানেল আবারও বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের জন্য ‘কোনো হুমকি নয়’। 

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে, তা ‘অপরিমেয় পরিণতির রক্তক্ষয়ী’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

কিউবার কথিত হামলাকারী ড্রোন মজুতের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। 

তবে তিনি বলেন, সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ‘পূর্ণ ও বৈধ অধিকার’ কিউবার রয়েছে।

জাতিসংঘে কিউবার রাষ্ট্রদূতও একই ধরণের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

ওয়াশিংটন সোমবার ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। 

দেশটি কিউবার গোয়েন্দা সংস্থা এবং যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিচার মন্ত্রীসহ নয় জন কিউবান নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং অন্তত তিন জন জেনারেলও রয়েছেন।

জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর ধারাবাহিক চাপ বাড়িয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। 

একই মাসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর পদক্ষেপের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কিউবার অন্যতম শেষ অর্থনৈতিক ভরসা ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসা অন্য দেশগুলোর ওপরও শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।

ট্রাম্পের তেল অবরোধে কিউবার মানবিক ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটিতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে।

কিউবা সরকার অভিযোগ করেছে, অর্থনীতিকে জ্বালানি অবরোধের মাধ্যমে ‘শ্বাসরোধ’ করার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করার চেষ্টা করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ইবোলা ঠেকাতে বিমানবন্দরে নজরদারি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে প্রাদুর্ভাব কবলিত অঞ্চল থেকে আসা বিমান যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাময়িকভাবে ভিসা সেবা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কঙ্গোয় এক মার্কিনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।  যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।  এক ব্রিফিংয়ে সিডিসি’র ইবোলা প্রতিক্রিয়া ইউনিটের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার সতীশ পিল্লাই সাংবাদিকদের জানান, ডিআরসিতে কর্মরত এক মার্কিনি তার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্পর্শের কারণে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘সপ্তাহের শেষে ওই ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দেয় এবং রোববার গভীর রাতে তার পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।’ ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।  এর আগে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।  ব্রিফিংকালে পিল্লাই আরও জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য আরও ছয় জনকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিআরসিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিল্ড অফিসে প্রায় ২৫ জন কর্মী কাজ করছেন। সেখানে অতিরিক্ত একজন জ্যেষ্ঠ কারিগরি সমন্বয়কারী পাঠানোর অনুরোধও পূরণ করছে সিডিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কম বলে সিডিসি’র মূল্যায়ন। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখব এবং প্রয়োজনে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা সমন্বয় করা হবে।’ সিডিসি জানায়, বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াও, গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, ডিআরসি বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন— এমন অ-মার্কিন পাসপোর্টধারীদের ওপর প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে সব ধরণের ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ে তিনি ‘উদ্বিগ্ন’। তবে এ মুহূর্তে এটি আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে বলে আমি মনে করি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত সংক্রামক রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের এই ধরণটির বিরুদ্ধে কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা রোববার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানান, চলমান প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৯১ জনের মৃত্যুর সন্দেহ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। তাদের ৬০ শতাংশের বেশি নারী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র সরকার চলতি বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) বাজেট কমানোর কারণে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কী প্রভাব পড়েছে— এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। সিডিসি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, তারা আন্তর্জাতিক অংশীদার ও আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। সংস্থাটি জানায়, সোমবার ঘোষিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আক্রান্ত অঞ্চলে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সিডিসির কর্মীদের মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও পরীক্ষাগার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে’ সহায়তার জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ পলিসি অ্যান্ড পলিটিক্সের পরিচালক ম্যাথিউ কাভানাঘ যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।  তিনি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চেয়ে বেশি নাটকীয় পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রশাসন দাবি করেছিল, তারা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে এবং ডব্লিউএইচও’র সক্ষমতার বিকল্প হিসেবে নিজেদের ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এই প্রাদুর্ভাব স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, সেটি ব্যর্থ কৌশল।’ কাভানাঘ আরও বলেন, আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোতে ইউএসএইড, সিডিসি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘এবার প্রাদুর্ভাব শুরুর কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। শত শত সংক্রমণ ও উগান্ডার রাজধানী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারছি।’  তার ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘পরিস্থিতির পেছনে ছুটছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিআর কঙ্গোয় ইবোলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত, চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইবোলা ও হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বর্তমান সময়ে ‘বিপজ্জনক’ লক্ষণ: ডব্লিউএইচও

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে বাড়ছে জাহাজ চলাচল

যুদ্ধকালীন সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে।  সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত কৌশলগত এ নৌপথ দিয়ে মোট ৫৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর আগের সপ্তাহে জাহাজ চলাচলের এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রথম হামলার পর এটি ছিল সবচেয়ে কম সাপ্তাহিক সংখ্যা।  ওই হামলার পর থেকেই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরণের বিঘ্ন দেখা দেয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার জানায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও বেশি সংখ্যক জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে।  এর একদিন আগে তারা জানিয়েছিল, ‘৩০টির বেশি জাহাজ’ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে চলাচল বাড়লেও গত সপ্তাহের সংখ্যা যুদ্ধকালীন গড় হিসাবের সঙ্গেই মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬৩টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এ সংখ্যা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫৫। গত সপ্তাহে চলাচল করা ট্যাংকারগুলোর প্রায় অর্ধেক তরল পণ্য বহন করছিল। এর মধ্যে ছিল তিনটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। সেগুলোর গন্তব্য ছিল চীন, ওমান ও জাপান। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে আরও ১৫টি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৬টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকার প্রণালী অতিক্রম করেছে। কাতারের গ্যাস বহনকারী মাত্র একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার ১২ মে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে প্রণালী পার হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এলএনজি ট্যাংকার চলাচলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে। শান্তিকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সম্পন্ন হয়। এছাড়া সারসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান বারবার সতর্ক করে বলেছে, এ নৌপথে জাহাজ চলাচল ‘যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় আর ফিরবে না।’ সোমবার তেহরান প্রণালীটির তদারকির জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে এ নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের কথাও জানায়।  যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এমনটি করছে বলে খবর রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার জানান, আগের সপ্তাহে ধীরগতির পর চীনা জাহাজগুলোকে আবারও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে চীনের পতাকা, মালিকানা বা পণ্য সংশ্লিষ্ট মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া হংকংয়ের পতাকাবাহী আরও দুটি জাহাজ চলাচল করেছে। সেগুলোর গন্তব্য ছিল ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরান সোমবার জানায়, যারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারা প্রণালী পারাপারে সমস্যার মুখে পড়বে। সংঘাত শুরুর পর থেকে চীন ও ভারত হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোর সবচেয়ে বেশি উল্লেখিত উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের গন্তব্য বা যাত্রার সূচনাস্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া। বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলোর গন্তব্য উল্লেখ করা জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলক কম।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ হবে: কিউবা

সংগৃহীত ছবি

তিন দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে ৩.৩ শতাংশ সংকুচিত ইসরায়েলের অর্থনীতি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইসরায়েলের অর্থনীতি বছরে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানেই এ তথ্য উঠে এসেছে।   ইসরায়েলি অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম তিন মাসে এ অর্থনৈতিক সংকোচন ঘটে। এর ফলে টানা দুই প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির ধারা থেমে গেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক এই মন্দার প্রধান কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় মাথাপিছু জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এটিকে সাধারণ মানুষের জীবনমান পরিমাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   এর আগে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ইসরায়েলের অর্থনীতি ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই সেই প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ধাক্কা খায়।   এ সময় ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা খাতে ব্যয় ৯ শতাংশ বেড়েছে।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইসরায়েল কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। এ সংক্রান্ত তথ্য ও দৃশ্য প্রচারে নানা বিধিনিষেধ রয়েছে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

ইবোলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে কড়াকড়ি

সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইসরায়েলে ব্যাপক অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ

0 Comments