পশ্চিম এশিয়ার যে যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা আরও ৬০ দিন স্থগিত রাখতে রাজি হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
মধ্যস্থতাকারীদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, ৮ এপ্রিল এক নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে তা থামে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পাকিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে তেহরান-ওয়াশিংটন মতবিরোধ কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার ইরানে পরিকল্পিত হামলার পথ থেকে সরে এসেছেন।
এরপর শনিবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানাল।
মধ্যস্থতাকারীরা এখন অন্তর্বর্তীকালীন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার দ্বার খুলে দিতে পারে, বলছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।
অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- পর্যায়ক্রমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সংলাপ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি শনিবার বলেছেন, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার প্রথম ধাপ হিসেবে তেহরান একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ চূড়ান্ত করছে, যা পরের ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ করে দেবে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। ট্রাম্প চাইছেন, ইরান তার উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিক এবং নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে তা ভেঙে ফেলুক।
অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে।
দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং তারা আলোচনায়ও আন্তরিক নয়। এরপরও তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
মধ্যস্থতাকারীদের আশা, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানো হলে তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে বিস্তৃত পর্যায়ে কূটনীতির সুযোগ করে দেবে।
আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, চুক্তি ঠিকঠাক দিকেই এগুচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান তাদের পারমাণবিক শক্তি নিয়ে আরও ছাড় দিতে প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ চলাকালে তারা তা করবে না। চুক্তি ওই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করবে।
পাকিস্তান আর কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর থমকে থাকা আলোচনা গতি পায়। আলোচনায় ‘উৎসাহব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে পরে জানায় ইসলামাবাদ।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো ওয়াশিংটন-তেহরান দূরত্ব কমাতে তৎপর হয়ে ওঠে।
আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করতে পারে, যার পাল্টায় তেহরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ছুড়তে পারে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিধিনিষেধ অনেকদিন অব্যাহত থাকতে পারে—এসব আশঙ্কাই তাদের তৎপর করেছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।
ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়েই তাদের মতবিরোধ এখনও প্রকট।
ওয়াশিংটনের দিক থেকে ‘পরস্পরবিরোধী বিবৃতি’ আসছে জানালেও বাঘেয়ি বলেছেন, পরস্পরের জন্য সন্তোষজনক একটি সমাধানের পথে দুই পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাছাকাছি আসছে’।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চালানো বলে দাবি করা রোববারের (১১ অক্টোবর) হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যাত্রী টার্মিনালের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে একজন পাকিস্তানি বাসিন্দার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। এর আগের দিন শনিবারও একই বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, চার সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন বলে জানানো হয়। এদিকে, হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দুই দিনের হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর ও আকাশসীমায় আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব অভিযান পরিচালনা করছে। দাম্মাম বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনাতেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে এসব হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২২ সালের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি প্রশাসনের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তেহরান সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে দেশটিকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত অস্ত্র কেনার একটি কর্মসূচি স্থগিত এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রোববার এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করতে কিয়েভ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার ফোন পাওয়ার কথা জানানো এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন কিয়েভসহ ইউরোপের সবাইকে ফোন করছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ন্যাটোর সমন্বয়ে পরিচালিত অস্ত্র কেনার কর্মসূচিটির নাম ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ (পিইউআরএল)। এর আওতায় ন্যাটোর সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর অর্থায়নে ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়। ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য মিত্রদেশগুলো ৬০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরই মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এ ধরনের সমঝোতায় রাজি থাকলেও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াকেও এ সমঝোতায় সম্মত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার বাহিনী এখনো ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের উচ্চমূল্যের পেছনে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ কারণেই তিনি হামলা বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের জন্য রাশিয়া ডিজেল সরবরাহ করবে। জ্বালানির সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: শাফাক নিউজ
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি জানানোর পরপরই এ তথ্য নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। তবে হামলায় হতাহত কিংবা বিমানবন্দরের কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। দাম্মাম সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। দেশটির রাজধানী রিয়াদ থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ৪১০ কিলোমিটার বা ২৫৪ মাইল উত্তর-পূর্বে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে দাম্মাম বিমানবন্দরে এ হামলাকে। এর আগে হুথিরা কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি জানায়। এরপরই সৌদি কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল কিংবা এতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা