সর্বশেষ

বিএটিবিসির ‘মালিকানা জালিয়াতি’ অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান, নথি তলব

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) ‘মালিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলার’ পাচারের একটি অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমে কোম্পানিটির বিভিন্ন নথি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

এসব নথি ও তথ্য চেয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিটি এবং যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজিআরসি) গত বৃহস্পতিবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এসব নথির সত্যায়িত অনুলিপি ও তথ্য দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

 

এর আগে দুদকে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বিএটিবিসির বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি ও মানি লন্ড্রারিংয়ের’ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একজন সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয় অনুসন্ধান কর্মকর্তার।

শনিবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অভিযোগটি নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে। বেশ কিছু নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি তিনি।

সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুসন্ধানের কাজ শুরুর অংশ হিসেসে সহকারী পরিচালক সাজিদ-উর-রোমান এ বিষয়ক নথি তলব করেছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৪০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি বিএটিবিসির মোট শেয়ারের মধ্যে ৭১ দশমিক ৯১ উদ্যোক্তা পরিচালকদের এবং শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ বাংলাদেশ সরকারের। বাকিটা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের।

পাকিস্তান আমলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি কারখানা খুলে ব্যবসা চালু করা বহুজাতিক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি নথি ও কাগজপত্র ‘জালিয়াতির’ মাধ্যমে এর মালিকানা বিএটির (ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো) হাতে রেখে দেওয়ার অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে।

তবে কে বা কারা এ অভিযোগ করেছেন তা বলেননি দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি এ অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে যাচাইবাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, পাকিস্তান আমেরিকান টোবাকো (পিএটি) নামে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় সিগারেট উৎপাদন করা কোম্পানিটি স্বাধীনতার পর ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে পুরোপুরি বাংলাদেশের মালিকানায় থাকার’ কথা থাকলেও তা হয়নি।

‘জাল কাগজপত্র তৈরি ও প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানিটিকে’ বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখিয়ে বিএটিবিসি গত ৫৫ বছরে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে বিদেশে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, অথচ কারখানাগুলো আইনত বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন হওয়ার কথা ছিল।

যে অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে তাতে বলা হয়, পিএটি ১৯৪৭ সালে করাচিতে প্রথম কারখানা স্থাপন করে। পরে ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামে এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকায় কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামের ওই দুই কারখানা পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় যাওয়ার কথা ছিল। পিএটির ১৯৭২, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে তাদের দুটি কারখানা হারানোর কথা তুলে ধরেছে।

অভিযোগে দাবি করা হয়, ওই তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কর ছাড় ও ক্ষতিপূরণও নেয় কোম্পানিটি। এরপর জাল কাগজপত্র তৈরি ও প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানিটিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কারখানাসহ কোম্পানিটির মালিকানা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর হাতে বহাল থাকে।

দুদকে করা অভিযোগে বলা হয়, সাবেক পিএটির তৎকালীন ফাইন্যান্স ম্যানেজার কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি ও দাখিলে ভূমিকা রাখেন। তখন আরজেএসসি এসব নথি গ্রহণে আপত্তি তুললেও সেসব প্রভাবশালীদের চাপে শেষ পর্যন্ত নথি নিতে বাধ্য হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানে নিবন্ধিত কোম্পানির স্থলে বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি বা বিএটিসিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেখানো হয়। এর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই কারখানাসহ কোম্পানির মালিকানা বিএটির অধীনে বহাল থাকে।

এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং কর ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ আড়াল করতে বিএটি গত তিন দশকে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা সচিবদের বোর্ডে নিয়োগ বা মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি রাজনীতিকদের লাভজনক এজেন্সি ব্যবসার মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে দুদককে ঢাকার যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নথির পাশাপাশি পাকিস্তানের করাচিতে পিটিসির ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য ইসলামাবাদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও করাচিতে কনস্যুলেটের মাধ্যমে নথি সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে এটিকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং’ বলে দাবি করা হয়েছে।

 

যেসব নথি চেয়েছে দুদক

অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বাংলাদেশ টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড, পাকিস্তান টোবাকো কোম্পানি লিমিটেড ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ কোম্পানির নিবন্ধন সম্পর্কিত সব রেকর্ডপত্র চেয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন, কোম্পানির মালিকানা, নিবন্ধিত অফিস, কারখানার তালিকা, সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশনের নম্বর ও তারিখ, অনুমোদিত মূলধন, পরিশোধিত মূলধন এবং শেয়ারের সংখ্যা।

এছাড়া কোম্পানির পরিচালক, পরিচালকদের সম্মতিপত্র এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযোগের বিষয়ে বিএটিবিসি এর বক্তব্য জানতে চাইলে কোম্পানির তরফে প্রথমে বলা হয় তাদের গণমাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
এআইয়ের ধাক্কায় মাইক্রোসফটে বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৪৮০০ কর্মী

  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। এর ফলে চাকরি হারাবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী। প্রযুক্তি খাতে এআই প্রযুক্তির প্রসারের কারণে চলমান কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়ার সর্বশেষ শিকার হলো উইন্ডোজ নির্মাতা এই মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।   চলতি বছর বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই খাতের ঐতিহাসিক ব্যয় ৭০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে এই বিশাল বিনিয়োগ থেকে দ্রুত মুনাফা তুলে আনার এবং ব্যবসা সচল রাখার ক্রমবর্ধমান ব্যয় পুষিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাইক্রোসফটের পাশাপাশি অ্যামাজন এবং মেটাও চলতি বছর তাদের হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে।   সোমবার এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় মাইক্রোসফট। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে, যা ২০২২ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে তাদের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স।   এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সফটওয়্যার জায়ান্টটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। সাধারণত জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়ে মাইক্রোসফট কর্মী ছাঁটাইয়ের এই কাজটি করে থাকে, কারণ এই সময়ে তারা নতুন বছরের জন্য ব্যয়ের পরিকল্পনা নির্ধারণ করে।   এআই-এর ব্যাপক চাহিদার কারণে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসা অ্যাজিউর-এর প্রবৃদ্ধি তরান্বিত হয়েছিল। গত এপ্রিল পর্যন্ত এই অ্যাজিউর ছিল ওপেনএআই-এর মডেলগুলোর একমাত্র একচেটিয়া বিক্রেতা। তবে এই সেবাগুলো পরিচালনার জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এখন প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের টান ফেলছে।   চলতি মাসের শেষের দিকে মাইক্রোসফটের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ত্রৈমাসিক অ্যাজিউর বিক্রির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জন্য ১৯ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের একটি প্রাক্কলনও প্রকাশ করে তারা, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।    তা ছাড়া, এআই টুলগুলো দিন দিন সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলোকে স্বয়ংক্রিয় করে তুলছে, যা মাইক্রোসফটের অন্যতম লাভজনক সফটওয়্যার ব্যবসার জন্য একধরনের হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে, ডেটা সেন্টারের উচ্চ চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের দাম বাজারে অনেক বেড়ে গেছে। আর এর ফলে মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্স কনসোলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে; অথচ বাজারে এই কনসোলের চাহিদা আগে থেকেই বেশ মন্দা ছিল।   সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬

সার্ক বাংলাদেশের ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শিশু জন্মের পরই পাবে আইডি, মিলবে মৃত্যু পর্যন্ত সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সোহেল তাজের স্ট্যাটাস

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, এ বছরই দেশে ফিরছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে দেশে-বিদেশে। এবার এতে যুক্ত হলেন শেখ হাসিনার সরকারের এক সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজও।    শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।   সোহেল তাজ বলেন, ‘একজন মানুষের ইগো বা অহঙ্কার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে, তার প্রমাণ হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।   শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে, ছাত্র-জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি ও লুটপাট করে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে, সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।’   দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার জয় পান তিনি।   সোহেল তাজ ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তবে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে একই বছরের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। সে সময় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না হলেও একই বছর ৭ জুলাই তিনি আবার পদত্যাগপত্র দিলে সেটি গ্রহণ করা হয়।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় কোনো আইনি বাধা নেই, বললেন চিফ প্রসিকিউটর

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের কি আগাম ভিসা লাগবে?

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর | ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের মুসলিমদের জীবনযাপন কেমন চলছে?

ছবি: সংগৃহীত
ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, উড্ডয়নের পর ফিরে এলো নভোএয়ারের ফ্লাইট

ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটির কারণে উড্ডয়নের পর নিজেদের একটি ফ্লাইটের ফিরে আসার তথ্য দিয়েছে নভোএয়ার।   বেসরকারি এয়ারলাইন্সটির ভাষ্য, কক্সবাজারমুখী ফ্লাইটটি ওড়ার পরেই পাইলট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনেন।   ‘ভিকিউ-৯৩৫’ নামে ফ্লাইটটি শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।   নভোএয়ারের একজন মুখপাত্র বলেন, “ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রটোকল অনুযায়ী পাইলট সেটিকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।   “পরে যাত্রীদের অন্য উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার পাঠানো হয়।”   বর্তমানে নভোএয়ারের বহরে পাঁচটি এটিআর ৭২-৫০০ টার্বোপ্রপেলার উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফিরে আসা উড়োজাহাজটির ল্যান্ডিং গিয়ার চাকাসহ ভাজ হয়ে নির্ধারিত স্থানে ফিরছিল না।   পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ার গুটিয়ে নেওয়ার কমান্ড দেওয়ার পর হাইড্রোলিক যন্ত্রগুলো কিছু অযাচিত শব্দ করলেও ভাজ হচ্ছিল না।   কক্সবাজারের সাংবাদিক তানবীরুল মিরাজ রিপন ওই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন বলে ফেইসবুকে লিখেছেন।   তার বক্তব্য, “ফ্লাইটটি ঠিক সময়ে উড়েছে বটে। প্রায় ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ইমার্জেন্সি আমাদের ঢাকা ফিরতে হয়েছে, কারণ ফ্লাইটের ল্যান্ডিং গিয়ার বাইরে রয়ে গিয়েছিল এবং সেটি কাজ করছিল না, সেই সাথে বিকট শব্দ করছিল।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপিতে ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার রদবদল, নতুন দায়িত্বে পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত

লালবাগে সড়ক দুর্ঘটনা: বুলডোজারের চাপায় প্রাণ গেল অজ্ঞাত বৃদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

কাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

0 Comments