বিনোদন

রূপালি পর্দার রানি, দর্শকের ভালোবাসায় আজও শাবানা

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৫, ২০২৬
শাবানা। ছবি - সংগৃহীত
শাবানা। ছবি - সংগৃহীত

আজ বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি শাবানা-র জন্মদিন। অভিনয়জীবনে অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি শুধু একজন সফল অভিনেত্রীই নন, হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য অধ্যায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই গুণী শিল্পীর জন্মদিনে ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভাসছে সাংস্কৃতিক অঙ্গন। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার, অসামান্য অবদান এবং অগণিত স্মৃতিময় চরিত্রকে স্মরণ করেই পালিত হচ্ছে বিশেষ এই দিন।

 

মাত্র ৯ বছর বয়সেই থেমে যায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় আরেকটি যাত্রা, যা পরে তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে। আফরোজা সুলতানা রত্না নামের সেই ছোট্ট মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন কোটি দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। অসাধারণ অভিনয়-দক্ষতা, পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতি এবং অনন্য সৌন্দর্যের কারণে তিনি পেয়েছেন ‘ঢালিউডের বিউটিকুইন’ খ্যাতি।

 

১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা। তার বাবা ফয়েজ চৌধুরী এবং মা ফজিলাতুন্নেসা। ১৯৬২ সালে পরিচালক আজিজুর রহমানের হাত ধরে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় তার। প্রথম অভিনয় করেন এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে। পরে নৃত্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। অভিনয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ বছর পরই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রত্না। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ সিনেমায় পাকিস্তানি অভিনেতা নাদিমের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই সিনেমার মাধ্যমেই পরিচালক তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শাবানা’, আর সেই নামেই তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

 

বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানাকে ঘিরে একটি বহুল প্রচলিত কথা রয়েছে ‘সেলাই মেশিন মানেই শাবানা’। কারণ, পর্দায় তিনি অসহায়, সংগ্রামী বধূ কিংবা মায়ের চরিত্রে এমন বাস্তবসম্মত অভিনয় করেছেন যে দর্শকের মনে তা স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বহু সিনেমাতে দেখা গেছে, স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীর চরিত্রে সন্তানকে মানুষ করতে তিনি সেলাইয়ের কাজ করছেন। ফলে সেলাই মেশিন যেন তার অভিনয় জীবনের এক প্রতীক হয়ে ওঠে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও সফল পদচারণা ছিল তার। ১৯৭৯ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘মাটির ঘর’ ছিল তার প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র। আজিজুর রহমান পরিচালিত এ সিনেমাতে রাজ্জাক ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং সিনেমাটি ব্যাবসায়িকভাবেও সাফল্য পায়।

 

১৯৮৮ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘বিরোধ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসেন তিনি। এ সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। পরে এটি হিন্দিতে ‘শত্রু’ নামে ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিংবদন্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল তার। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত এবং বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন বাংলাদেশ সফরে এসে এফডিসি পরিদর্শন করেন। সে সময় শাবানাসহ দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

 

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন শাবানা। পরবর্তী সময়ে তারা যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন এস এস প্রোডাকশন্স। তাদের সংসারে দুই মেয়ে—সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন রয়েছেন।

 

পুরস্কারের দিক থেকেও শাবানা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনন্য। ১৯৭৭ সালে ‘জননী’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্র বিভাগে মনোনীত হলেও তিনি সেই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। পরে ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

 

এরপর অভিনয়জীবনে তিনি মোট ১১ বার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, যা এখনো কোনো বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জন্য সর্বোচ্চ অর্জন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

১৯৯৯ সালে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়িয়ে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন শাবানা। যদিও তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। আজিজুর রহমান পরিচালিত এ সিনেমাটি ছিল শাবানা-আলমগীর জুটির শেষ সিনেমা। বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয়ের রেকর্ডও তাদের দখলে। শাবানা অভিনয় করেছেন মোট ২৯৯টি সিনেমায়, যার মধ্যে ১৩০টিতেই তার সহশিল্পী ছিলেন আলমগীর।

 

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর আর দেশে আসা হয়নি তার। পর্দা থেকে দূরে থাকলেও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকের হৃদয়ে শাবানা আজও এক অমলিন কিংবদন্তি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শাহরুখের যে জীবনমন্ত্র আজও মেনে চলেন অভিষেক

বলিউড তারকা শাহরুখ খানের কাছ থেকে ক্যারিয়ারের শুরুর আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন অভিষেক বচ্চন। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই কথাটিকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে মেনে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো স্মৃতি ও শাহরুখের দেওয়া পরামর্শের কথা জানিয়েছেন অভিষেক।   অভিষেক জানান, অভিনয়ে আসার আগে প্রতি রবিবার যশরাজ ফিল্মসের কর্ণধার আদিত্য চোপড়ার বাড়িতে ক্রিকেট খেলার আড্ডা বসত। সেখানে উদয় চোপড়া, হৃতিক রোশান ও সিকান্দার খেরসহ আরও কয়েকজন থাকতেন। সেই আড্ডায় নিয়মিত যোগ দিতেন শাহরুখ খানও।   তরুণদের সেই আড্ডায় শাহরুখকে অনেকটা বড় ভাইয়ের মতোই মনে করতেন অভিষেক। অভিনয়ের পাশাপাশি জীবনের নানা বিষয়েও তিনি অভিষেককে পরামর্শ দিতেন। বহু বছর পর সেই পরামর্শের গুরুত্ব এখনও অনুভব করেন বচ্চনপুত্র।   অভিষেক বলেন, একদিন কৌতূহল থেকে তিনি শাহরুখকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—নিজের অভিনীত কোন সিনেমাটি তার সবচেয়ে বেশি পছন্দের?   জবাবে শাহরুখ তাকে বোঝান, একজন অভিনেতার কাছে তার বর্তমান কাজটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, যে কাজটি এখন করছেন সেটিকেই সবচেয়ে ভালো কাজ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অতীতের কাজ নিয়ে পড়ে না থেকে বর্তমান কাজের প্রতি পুরো মনোযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   অভিষেকের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরুখের সেই কথাটি তার মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। এরপর থেকে প্রতিটি নতুন কাজকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার চেষ্টা করেন তিনি।   এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে শাহরুখ খান ও অভিষেক বচ্চনকে। সিনেমাটির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে শাহরুখের মেয়ে সুহানা খানের। পাশাপাশি বিশেষ একটি নাচের দৃশ্যে কারিনা কাপুর খানকে দেখা যেতে পারে—এমন গুঞ্জনও রয়েছে।   সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মেসির বিদায়ে পূর্ণিমার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সুখবর দিলেন কিয়ারা আদভানি

ছবি: সংগৃহীত

আইনি বিপাকে হানি সিং

সংগৃহীত ছবি
সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে এক বছর পর নায়িকার মুখে স্বস্তির কথা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। এই মাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার এক বছর পর জীবনে অনেক বেশি শান্তি খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিনেত্রী স্বীকার করেছেন, অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু সুবিধাও রয়েছে।   বর্তমানে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘#লাভ’-এর প্রচারে ব্যস্ত ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। সিরিজটির প্রচারে প্রযোজক সৌন্দর্যা রজনীকান্ত ও সহশিল্পী অর্জুন দাসের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে ইউটিউবের ‘দ্য পূজা তালওয়ার শো’-তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও তার প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী।   তিনি বলেন, ‘সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক জায়গায় আসছে। এই মুহূর্তে আমার জীবন যেমন আছে, তাতে আমি খুশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকার সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছি।’   অভিনেত্রী আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছিল, সেগুলো এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে সেসব বিষয় প্রতিনিয়ত দেখার এবং সেগুলোর কারণে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ এখন তার নেই।   ঐশ্বরিয়ার ভাষায়, ‘যে বিষয়গুলো আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল, সেগুলো এখনো কিছুটা আছে। কিন্তু অন্তত আমি সব সময় সেগুলো দেখছি না বা এসব বিষয়ে প্রভাবিত হচ্ছি না। সামগ্রিকভাবে জীবনের এখন অনেক ভালো একটা জায়গায় আছি।’   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এটি নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি করেছে।   ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘অনেক কনটেন্ট নির্মাতার জন্য এখন ক্ষমতাটা তাদের হাতে। সম্প্রতি একটি বিষয় পড়েছিলাম—এখন আর বলা যায় না যে ইন্ডাস্ট্রি আপনাকে সুযোগ দেয়নি। নিজের প্রতিভা দেখানোর কিংবা নিজেকে এমনভাবে তৈরি করার সুযোগ এখন আছে, যাতে মানুষ আপনাকে দেখতে পারে।’   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার সময় ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনে করতেন অভিনয় ক্যারিয়ারে টিকে থাকার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অপরিহার্য। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যও এটিকে প্রয়োজনীয় মনে করেছিলেন তিনি।   চলতি বছর ‘গাট্টা কুস্তি ২’ ও ‘আশা’ সিনেমায় দেখা গেছে ঐশ্বরিয়াকে। তার নতুন সিরিজ ‘#লাভ’ বর্তমানে নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া একটি তেলুগু সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পেল অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম ৩’

ছবি: সংগৃহীত

চোট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন সমস্যায় অমিতাভ বচ্চন

ছবি: সংগৃহীত

প্রীতম-শেহতাজের দাম্পত্য জীবনের অবসান

ছবি: সংগৃহীত
দশ বছরের পথচলার পর আলাদা হচ্ছেন প্রীতম ও শাহতাজ

দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্ক ও দাম্পত্য জীবনের পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংগীতশিল্পী প্রীতম ও শাহতাজ। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও পরিবারের সম্মতিতে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।   রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রীতম ও শাহতাজ।   বিবৃতিতে তারা জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলার পর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।   তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পেরেছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার পার্থক্য রয়েছে। তাই দুজনের জন্য আলাদা পথে এগিয়ে যাওয়াই ভালো হবে বলে তারা মনে করছেন।   প্রীতম ও শাহতাজ জানান, সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন তারা। পাশাপাশি পরিবারের সমর্থন ও সম্মতি নিয়েই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।   বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জীবনের নতুন অধ্যায়ে তারা আলাদাভাবে এগিয়ে যেতে চান। এ সময় তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, গোপনীয়তা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে বন্ধু, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।   যৌথ বিবৃতিতে তারা একে অপরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা বজায় থাকবে বলেও জানান। পাশাপাশি এতদিন যারা তাদের পাশে ছিলেন এবং ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলে দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন প্রীতম ও শাহতাজ। তবে বিয়ের আগে থেকেই তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পরও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি ও স্মৃতি শেয়ার করতে দেখা গেছে তাদের।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সবুজ-নীল শাড়িতে নজর কাড়লেন সাবিলা

ছবি: সংগৃহীত

রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমানোর সহজ উপায়

বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন এমা রবার্টস

0 Comments