সারাদেশ

জয়পুরহাটে ২ শিক্ষক আর ১৯ শিক্ষার্থী নিয়েই চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৮, ২০২৬

মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক নিয়েই চলছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন বছর ধরে চরম শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে বিদ্যালয়টি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষকরা চলে গেছেন।

 

বিদ্যালয়ের পাশেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ায় তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বিদ্যালয় খুলে দেন। এ সময় দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে মোট চারটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট কক্ষে ভাঙা চেয়ার-টেবিল রেখে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

আরেকটি শ্রেণিকক্ষও অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পুরোনো ও অগোছালো আসবাবপত্রে ভর্তি। একটি মাত্র কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলে, অপর একটি কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমানে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ চলমান।

প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারীকরণ হয়।

 

চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে দুইজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর শিক্ষার্থী আরও হ্রাস পেয়েছে। এসব বিষয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন।

 

সর্বশেষ গত বছরের ১৬ অক্টোবর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গত বছর স্লিপ (SLIP) খাত থেকে ৬৩ হাজার ৩৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কমসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০ জনের নিচে হলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে চলতি বছর মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে অনুকূল শিক্ষা পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের শারীরিক সক্ষমতা ও বিদ্যালয় পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, এসব কারণেই গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি না হয়ে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।

 

বিদ্যালয়ের পাশের এক অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নেই। সব শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষেই করানো হয়। তাছাড়া একজন কার্যত অক্ষম প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আমার সন্তানকে আক্কেলপুর শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’

 

একই অভিযোগ করেন অভিভাবক রুলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘এখানে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরির মতো পরিবেশ নেই। সরকারি তদারকিও চোখে পড়ে না। এসব কারণেই গ্রামের শিশুরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।’

 

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়টি ভালোভাবেই চলত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকদের আচরণ, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে আবার বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পেতে পারে।’

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আশপাশে বড় বিদ্যালয় থাকায় অনেকেই সেখানে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছরেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত এবং নিয়মিত তদারকি করছি। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রয়োজনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী বলেন, ‘সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী কম সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের সংখ্যা আমরা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ মিনারে তোফায়েল আহমেদের শেষ শ্রদ্ধা বিএনপির ‘অগ্নিপরীক্ষা’ : ইমি

বিএনপি সরকার কারিনা কায়সারের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দিলেও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদকে একই সম্মান দেবে কি না, সেটাই এখন পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। সোমবার (১ জুন) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তুলে বলেন, এটাই হবে বিএনপির 'লিটমাস টেস্ট' বা অগ্নিপরীক্ষা। ওই পোস্টে ইমি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, 'বিএনপি সরকার আমাকে বিনা কারণে ৬০ দিন জেল খাটিয়েছে। আমার জীবন থেকে অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নিয়েছে। আমার পরিবারের একজন সদস্যকে আমি শেষ দেখাও দেখতে পারিনি জেলে থাকার কারণে।' তবে এত কিছুর পরেও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে শত্রুতার পথে যাননি বলে জানান ইমি। তার ভাষায়, 'তার পরও আমি ওদের সঙ্গে শত্রুতা করিনি এখন পর্যন্ত। একজন নাগরিকের জায়গা থেকে সরকারকে ট্রিট করতেছি যেভাবে করার দরকার।' তোফায়েল আহমেদের প্রসঙ্গ টেনে ইমি স্পষ্ট করেন যে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা তোফায়েল আহমেদ—কোনোটিই শুধু আওয়ামী লীগের একার সম্পদ নয়। তিনি লেখেন, 'মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়। তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়। 'জয় বাংলা' স্লোগানও আওয়ামী লীগের একার সম্পত্তি নয়।' এর পাশাপাশি সরকারের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ইমি লেখেন, 'কোনটা দলীয়, কোনটা সর্বজনীন—এইটুকু বিবেচনা করার মতো সততা যদি সরকার না দেখাতে পারে তাহলে তারা প্রতিবাদ না, প্রতিঘাত ডিজার্ভ করে।'

মারিয়া রহমান জুন ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে উঠে আসা ‘স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক যান’ নিয়ে কৌতূহল

হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে ফেরি মহানন্দায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। ছবি: ভিডিও থেকে

সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের জন্য ফেরি ছাড়তে দেরি, যাত্রীদের ভোগান্তি

কেরানীগঞ্জে রহস্যজনক পরিত্যক্ত প্রাইভেট কার উদ্ধার

হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি (ছবি: সংগৃহীত)
এবার মাজারের দিঘির কুমির টেনে নিলো ৭ বছরের শিশুকে

বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে রাতের বেলা গোসল করার সময় ফাতেমা (৭) নামে এক শিশুকে কুমির ধরে নিয়ে গেছে। সোমবার (১ জুন) দিনগত রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ঘটনার পর মাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা গেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে শিশুটি মায়ের সঙ্গে মাজারের দিঘির ঘাটে গোসল করতে নামে। হঠাৎ কুমির আক্রমণ করে শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায়। খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম জানান, শিশুটি দিঘির পানিতে নামার পরপরই কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে বের করতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও উদ্ধারকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু ফাতেমার মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তারা মাজার এলাকায় তিন দিন ধরে ঘোরাঘুরি করছে। রাতে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে শিশুটি ঘাটে নামে। সে সময় দিঘিতে থাকা কুমির তাকে কামড় দিয়ে টেনে নিয়ে যায়। ফাতেমার চিৎকারে মাজারে থাকা স্থানীয়রা দ্রুত এসে নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল বিকালে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয়, লাঠি ছুড়ে মারে। এর ফলে কুকুরটি দৌড়ে নারীদের ঘাট থেকে বের হয়ে প্রধান ঘাটের চলে যায়। সেখানে কুকুরকে তাড়া দিতে এগিয়ে আসেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার। তার পায়েও কুকুরটি আঁচড় দেয়। এ সময় ফোরকান পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে দিঘির ঘাটে পানির নিচে থাকা কুমিরটি কুকুর ধরে নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরের মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে।

মারিয়া রহমান জুন ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১২

ছবি : সংগৃহীত

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ: কী লিখলেন সর্ব মিত্র চাকমা?

ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

২ ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে সরিয়েছি, মেজরকেও চেইঞ্জ করছি: এমপি মাসুদ

ছবি: সংগৃহীত
রামিসা হত্যা মামলায় সামনে এলো নতুন নাম, কে এই ডলার?

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজ স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন।   যদিও এই ‘ডলার’ কে- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে মামলায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।   সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন সকাল থেকেই তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তাদের উপস্থিত করা হয়।   আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, তিনি একা নন, বরং ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তাকে ভুলভাবে আসামি করা    তিনি আরও দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষা সঠিকভাবে না করে অটোমেটিকভাবে লেখা হয়েছে।   ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন অনেক টাকাওয়ালা ব্যক্তি। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে।   ‘ডলার’ কে, তদন্তে অজানা পরিচয় এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি।   ফলে সোহেল রানার উত্থাপিত ‘ডলার’ পরিচয় এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে যাচাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।   ‘ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।   তিনি বলেন, আসামি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার (ম্যাটার অব ট্রায়াল) বিষয়।   তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।   তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই মামলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে।   স্পেশাল পিপি জানান, আসামির বক্তব্য বিচার চলাকালীন সময়ের বিষয়, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় সাপের কামড়ে জামায়াত নেতা শাফায়াত উল্লাহর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে সচল বেনাপোল স্থলবন্দর, শুরু আমদানি-রপ্তানি

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ হাসনাত-আসিফের বিরুদ্ধে

0 Comments