মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষক নিয়েই চলছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পলাশবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন বছর ধরে চরম শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে বিদ্যালয়টি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষকরা চলে গেছেন।
বিদ্যালয়ের পাশেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি হওয়ায় তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি বিদ্যালয় খুলে দেন। এ সময় দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে মোট চারটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট কক্ষে ভাঙা চেয়ার-টেবিল রেখে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরেকটি শ্রেণিকক্ষও অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পুরোনো ও অগোছালো আসবাবপত্রে ভর্তি। একটি মাত্র কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চলে, অপর একটি কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্তমানে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ চলমান।
প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারীকরণ হয়।
চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে দুইজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর শিক্ষার্থী আরও হ্রাস পেয়েছে। এসব বিষয়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন।
সর্বশেষ গত বছরের ১৬ অক্টোবর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় ও শিক্ষার মানোন্নয়নে গত বছর স্লিপ (SLIP) খাত থেকে ৬৩ হাজার ৩৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কমসংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫০ জনের নিচে হলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে চলতি বছর মাত্র ১৯ জন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে অনুকূল শিক্ষা পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি রয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের শারীরিক সক্ষমতা ও বিদ্যালয় পরিচালনার দক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, এসব কারণেই গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি না হয়ে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পাশের এক অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নেই। সব শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষেই করানো হয়। তাছাড়া একজন কার্যত অক্ষম প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়টি চলছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আমার সন্তানকে আক্কেলপুর শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’
একই অভিযোগ করেন অভিভাবক রুলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘এখানে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরির মতো পরিবেশ নেই। সরকারি তদারকিও চোখে পড়ে না। এসব কারণেই গ্রামের শিশুরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়টি ভালোভাবেই চলত। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকদের আচরণ, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং গ্রামের অভ্যন্তরীণ কিছু বিরোধের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা গেলে আবার বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পেতে পারে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। আশপাশে বড় বিদ্যালয় থাকায় অনেকেই সেখানে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘গত বছরেও বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত এবং নিয়মিত তদারকি করছি। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রয়োজনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী বলেন, ‘সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী কম সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের সংখ্যা আমরা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে অধিদপ্তর থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে মাঝ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চার ঘণ্টা পর রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চরের কিনারা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আমাদের জানালে আমরা নিশ্চিত হই। বর্তমানে তিনি স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তার কাছে ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছেন। ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে থাকা কচুরিপানার সঙ্গে ভাসতে ভাসতে কবিরপুর চরে আটকে পড়েন ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা দেখে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে হেফাজতে রাখি। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আমরা তার বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি পুলিশকে জানিয়েছি। ফেরি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার বলেন, পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে তাদের ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ নদীতে দৌলতদিয়ার লাল বয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে, এক নারী ফেরির পেছন দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফেরিটি থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই এলাকায় আলো ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টদের সংবাদটি জানাই। ওই নারী ফেরিতে একাই ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন।
চট্টগ্রামে নগরীতে একটি নালা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক হাজার ৩৫০টি বুলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলা বাজার এলাকায় বিএসআরএম কারখানার ৫ নম্বর গেটসংলগ্ন নালা থেকে এসব বুলেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং এক হাজার ২৩০টি ছোট আকারের বুলেট রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো সামনের অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুলেটগুলো পরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিমের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালা পরিষ্কারের সময় একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি ভারি হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে বস্তাটি খুলে বিপুল পরিমাণ বুলেট দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি বুলেটগুলো জব্দ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া বড় বুলেটগুলো একে-৪৭সহ ভারি অস্ত্রে ব্যবহৃত হয় এবং ছোট বুলেটগুলো রাইফেল এবং এসএমজি জাতীয় অস্ত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি বুলেটের দুইটি অংশ থাকে। যেটি অস্ত্র থেকে বের হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে, সেটি সামনের অংশ এবং অপরটি খোশা। উদ্ধার হওয়া বুলেটগুলো মূলত সামনের অংশ। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। বুলেটগুলোর ধরন এবং ব্যবহৃত কিনা এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোববার বিশেষজ্ঞ টিম আসার কথা রয়েছে।’
সাভারের মজিদপুরে রাতে ঘুমানোর আগে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে এক পোশাকশ্রমিক দম্পতি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। আগুনে উভয়ের শরীরের সিংহভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সাভারের মজিদপুর দিঘীরপাড় মসজিদবাড়ি এলাকার নূর মোহাম্মদের মালিকানাধীন একটি দুই তলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন- মো. কাউসার (২৮) ও তার স্ত্রী রুবী আক্তার (২৪)। তারা দুজনই সাভারের পৃথক পোশাক কারখানায় কর্মরত। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, আগুনে কাউসারের শরীরের শতভাগ এবং রুবী আক্তারের শরীরের ৮৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতে ঘুমানোর আগে গ্যাস লাইটার দিয়ে মশার কয়েল জ্বালানোর চেষ্টা করেন কাউসার। লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। দম্পতির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ কাউসারের বাবা মো. সিমান শেখ বলেন, হাসপাতালে ছেলে তাকে জানিয়েছে, কয়েল ধরানোর জন্য লাইটার জ্বালাতেই হঠাৎ পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে তাদের পরনের কাপড়সহ ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যে কক্ষে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো গ্যাস সংযোগ ছিল না। তবে ঘরের জানালার পাশ দিয়ে একটি গ্যাসের পাইপলাইন গেছে। বাইরে থাকা ওই পাইপলাইন থেকে কোনোভাবে গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতরে জমে ছিল কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।