জাতীয়

জাতি গঠনে নারীর ক্ষমতায়ন ঘর থেকে শুরু হতে হবে : জাইমা রহমান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ 0

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনে নারীর ক্ষমতায়ন শুরু হতে হবে ঘর থেকে।’

তিনি বলেন, নারী সমতা কেবল নারীদের বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও জাতীয় ইস্যু। অর্ধেক জনসংখ্যাকে গৃহস্থালির অদৃশ্য শ্রম আর সামাজিক চাপে কোণঠাসা করে রেখে কোনো দেশের প্রকৃত ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আজ রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ফোরাম ‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি নারীর ভূমিকা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতে জাইমা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসাথে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে। গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য হলো ভিন্ন ভিন্ন মত ও পথের মানুষেরা মিলে দেশের মঙ্গলের জন্য একসাথে কাজ করা।’

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তাঁর বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘নারীর ক্ষমতা ও মর্যাদা সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা এসেছে পরিবার থেকে। আমার মা একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার ও পরিবার সামলেছেন, কারণ তিনি বাড়িতে সমর্থন পেয়েছিলেন।’

তিনি তাঁর দাদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনিই প্রথম নারী ও কন্যা শিশুদের উন্নয়নের জন্য মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। এ ছাড়া পোশাক খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ নারীকে তিনি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছিলেন।’

জাইমা রহমান তাঁর দাদি বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ ও মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা কর্মসূচি বিদেশেও মডেল হিসেবে স্বীকৃত। লন্ডনের একটি হাসপাতালে দাদুকে চিকিৎসা দিতে আসা নাইজেরিয়ার একজন নার্সও বাংলাদেশে নারী শিক্ষার এই অগ্রগতির কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছিলেন।”

বর্তমান বাস্তবচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কেবল আইন বা নীতি দিয়ে সমতা আসবে না, যদি না আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটে। তিনি জানান, বাংলাদেশে নারীরা ৮৫ শতাংশ গৃহস্থালি কাজ বিনা পারিশ্রমিকে করেন, যার আর্থিক মূল্য জিডিপির ১৯ শতাংশ। অথচ শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো ৪০ শতাংশের নিচে।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিয়ের পর বা সন্তানের জন্মের পর নারীরা স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কারণ সমাজ ধরে নেয় এই ত্যাগ কেবল নারীকেই করতে হবে।

অনলাইন হয়রানির বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগের উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৭৮ শতাংশ নারী অনলাইনে হেনস্তার শিকার হন। জাইমা রহমান বিশেষ করে বাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বাবারা যদি মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলেন এবং ঘরে বৈষম্য দূর করেন, তবেই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব।’

জাইমা রহমান তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি প্রকৃত উন্নতি করতে হয়, তবে অর্ধেক জনসংখ্যাকে ঘরে বসিয়ে রাখলে চলবে না। ক্ষমতায়ন শুরু হতে হবে আমাদের ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক মানসিকতায়। তবেই একটি টেকসই ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংগৃহীত ছবি
সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।   প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।’ প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।’   তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’ তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দূষণ কমাতে বিশ্বব্যাংকের ৪,৫২৮ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটাররা কী করতে পারবেন, কী করবেন না

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ধর্মঘটের প্রভাব: নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে পাইকারি বাজারে

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা সাত দিন ধর্মঘটে থাকায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে। এই সময়ে সমস্ত পণ্য উঠা-নামা বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। সোমবার থেকে আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রমজানের ভোগ্যপণ্যে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোলা, চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি যাচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের কাছে। শুধু এ তিন পণ্যই নয়, প্যাকেটজাত খাবারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ যে বন্দরের ওপর নির্ভরশীল, সেই বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ চেইন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে। ইফতার ও সাহরির টেবিলে খাবার থাকবে কি না, বাজারে দাম কত বাড়বে—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তা অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ফলে বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, ডেলিভারি ও রপ্তানি শিপমেন্ট স্থবির হয়ে পড়ে। বহির্নোঙরে নোঙর করা জাহাজ থেকেও পণ্য খালাস বন্ধ হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই টানা অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। রমজানকে সামনে রেখে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে আসে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ, গমসহ রমজানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব নিত্যপণ্যের আমদানি ও খালাস সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকার ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নেয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও জেটি ও বহির্নোঙরের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। ক্রেন ও বার্থ অপারেশন বন্ধ থাকায় ছয় দিনের বেশি সময় ধরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কনটেইনার বন্দরে আটকে পড়ে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে, যার প্রভাব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও পড়বে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সফর করেন। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, পবিত্র রমজানের আগে বন্দর বন্ধ করা উচিত নয়। এ আশ্বাসের পর শ্রমিক নেতারা ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হতেই ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে ৮ ফেব্রুয়ারি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, জানিয়ে দেয়, শ্রমিক–কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ছোলা, ডাল, তেল, চিনি ও খেজুরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জন কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি ও তাদের স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-কে পাঠানো হয়েছে। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ মোট ১৫ জন। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই বদলি ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা অচল করে জনগণের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করার কোনো অধিকার কারও নেই। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের কৃষক, শিল্পপতি, রপ্তানিকারক ও ভোক্তাদের জীবনরেখা। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একাই বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনা করে এবং ২০২৫ সালে এই টার্মিনাল সিপিএর রাজস্ব আয়ে হাজার কোটি টাকার বেশি অবদান রেখেছে। তাই এই টার্মিনাল অচল থাকায় দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার বড় অংশ স্থবির হয়ে গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে ৩ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর বিভাগে ঝুঁকিপূর্ণ ২৫৬১ ভোটকেন্দ্র, নির্বাচন ঘিরে ৬ স্তরের নিরাপত্তা

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের আগেই বাড়ল আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহ

ছবি: সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমেছে ৪০ হাজারের বেশি জনতার চিঠি

দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া, ক্ষোভ ও স্বপ্নের এক বিশাল দস্তাবেজ এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে। কেউ চেয়েছেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার, কেউ দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেছেন। কারও লেখায় উঠে এসেছে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি, আবার কেউ তুলে ধরেছেন ব্যক্তিগত দুঃখ-দুর্দশা। কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে নিজেদের মন্তব্য জানিয়েছেন ৪০ হাজার ২০৬ জন সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়। ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে চালানো হয় একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ভোটের গাড়ি’র সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বিশেষ ‘জনমত বাক্স’। সেই বাক্সেই জমা পড়ে মানুষের হাতে লেখা হাজারো চিরকুট। ভোটের গাড়ি দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে গিয়ে প্রচারণা চালায়। গাজীপুর থেকে ১০ বছর বয়সী রাফা লিখেছে, ‘আমার পরামর্শ হলো, আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেখতে চাই। এ রকম বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন।’ কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, ‘আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে কোম্পানির মালিককে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। ঠাকুরগাঁও থেকে এক দিনমজুর লিখেছেন, ‘গরিব মানুষ দিনমজুর করে খাই। গরুর মাংস কিনে খেতে পারি না। বাজার নিয়ন্ত্রণ চাই। সিন্ডিকেট চলতেছে। বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, ‘যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না, সে দেশে আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব না। পিরোজপুর থেকে পাঠানো এক চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘সব ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বাক্‌স্বাধীনতা চাই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই একসাথে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা প্রয়োজন।’ দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা ও বৃষ্টি লিখেছেন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণের ঘটনায় ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। এসব আবেগঘন ও অকপট মন্তব্য পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা একটি অমূল্য সম্পদ। তিনি কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, পরামর্শ, সমালোচনা ও নিন্দা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে যেভাবে চ্যালেঞ্জিং প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

উৎসবমুখর পরিবেশে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট দিন : দেশবাসীর প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর স্টল ভাড়া ৫৫ শতাংশ মওকুফ

0 Comments