রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক করতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়াচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আগামী কয়েক মাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটির ট্রাফিক বিভাগ।
বর্তমানে শহরটির সড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ৩৭টি এআই ক্যামেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ৮০টি পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মতিঝিল, উত্তরা, শাহবাগ-আবদুল্লাহপুর ভিআইপি সড়ক, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) এবং মিরপুর এলাকায় নতুন পর্যায়ের এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
জানা যায়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে এসব এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবারই ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আগামী চার মাসে ৬০টি এবং তারপরের চার মাসে আরও ৬০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বাকি ৮০টি পর্যায়ক্রমে বসানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের ২০০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকা শহরকে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’
চালকদের ট্রাফিক আইন মানা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাজধানীর সড়কের পরিস্থিতির উন্নতি করাই এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দেশ্য।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, এআই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারে থাকা সংশ্লিষ্ট যানের তথ্য ডিএমপির সার্ভারে আসে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ঘটনা যাচাই করে ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার নোটিশ পাঠান। পাশাপাশি সরকারি দুটি নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও মামলার তথ্য জানানো হয়।
৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম এআই ক্যামেরা চলমান যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে। এটি অপটিক্যাল জুম প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকেও স্পষ্টভাবে নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে।
ডিএমপি সূত্র আরও বলেছে, ‘স্মার্ট পুলিশিং’ চালু প্রকল্পের আওতায় পুরো রাজধানীতে এআই ক্যামেরা, ফেস রিকগনিশন (চেহারা চেনা) সিসিটিভি, ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মোট ১২ হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বাকিগুলো অপরাধ তদন্তে ব্যবহৃত হবে।
মৎস্য ভবন, সুগন্ধা, পুলিশ ভবন, শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, সায়েন্স ল্যাব, ফার্মগেটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন ৩৭টি এআই ক্যামেরা রয়েছে। আর সব মিলিয়ে ডিএমপির অধীনে ১১৭টি ক্যামেরা কাজ করছে।
রাজধানীর ১০ শতাংশের কিছু বেশি এলাকায় এ প্রযুক্তি চালু হয়েছে। আর গত ৭ মে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। মামলার ভয়ে রাজধানীর এসব মোড়ে ইতোমধ্যে যানবাহনের চালকেরা খুবই সতর্ক থাকছেন।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাসের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বাসের লেন ছেড়ে অন্য লেনে যাওয়া এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে এসব মামলা করা হয়েছে। সিগন্যালে থামার জায়গায় ঠিকমতো না থামার মামলায়ও এগিয়ে বাস। তারপর রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।
তবে সব ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে মামলা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলেছে, যেসব এলাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থাই অকার্যকর, সেখানে সিগন্যাল অমান্যের ঘটনায় মামলা দেওয়ার অবকাশ নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস’ কার্যক্রম চালু করল ডাক বিভাগ। এতে করে ডাক বিভাগের পরিচালনা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় মন্ত্রী বলেন- পোস্ট অফিস ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা নতুন কোনো ধারণা নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরে এটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এ উদ্যোগের মাধ্যমে ডাকসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে আরও উদ্যোক্তা এ কার্যক্রমে যুক্ত হন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব পোস্ট অফিসকে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে, এতে একদিকে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোক্তাদের শুভকামনা জানিয়ে আশ্বস্ত করেন, কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হলে ডাক বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার অভ্যন্তরে ৪টি এবং ঢাকার বাইরে ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালু করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে দেশের সকল অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এরপর মন্ত্রী ডাক বিভাগের অবিভাগীয় (ইডি) এজেন্টদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কাজী আসাদুল ইসলামসহ ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) মেয়াদি চুক্তির আওতায় ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব অর্থায়নে বহন করা হবে। বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের সম্ভাব্য জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় এই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপিসি জি-টু-জি ভিত্তিতে থাইল্যান্ডের ওকিউটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং ভারতের আইওসিএল থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করবে। আমদানির তালিকায় যা থাকছে অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী মোট আমদানির মধ্যে রয়েছে— ৯ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-ওয়ান ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ১ লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন-৯৫ (আনলোডেড) ৩০ হাজার মেট্রিক টন মেরিন ফুয়েল প্রিমিয়াম নির্ধারণ চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন জ্বালানির জন্য প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে— গ্যাস অয়েল: প্রতি ব্যারেল ৯.৫০ মার্কিন ডলার জেট এ-ওয়ান: প্রতি ব্যারেল ১০.১৫ মার্কিন ডলার গ্যাসোলিন-৯৫: প্রতি ব্যারেল ৮.৪৯ মার্কিন ডলার ফার্নেস অয়েল: প্রতি মেট্রিক টন ৬৬ মার্কিন ডলার মেরিন ফুয়েল: প্রতি মেট্রিক টন ৮৫ মার্কিন ডলার সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে একই ধরনের জি-টু-জি ব্যবস্থায় ১২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার বরুড়ায় এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আতিক উল্লাহ নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে বরুড়া থানার আট পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বরুড়া উপজেলার আড্ডা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরুড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড্ডা এলাকার ফয়জুনে মদিনা মডেল মাদরাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদরাসা ও আড্ডা বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। ভুক্তভোগী শিশুর অভিযোগ, রাতের খাবারের পর অন্য শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে তাকে ও আরেক শিক্ষার্থীকে অফিসকক্ষে ডাকা হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থী চলে গেলে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেন এবং কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বরুড়া থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার কয়েকজন তাকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে উপপরিদর্শক (এসআই) মিশন চৌধুরীসহ আট পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়। আটক আতিক উল্লাহ উপজেলার শশাইয়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় সরকার বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করতে গেলে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। এতে কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।” পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে।