ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এরই মধ্যে নিজ দল এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর জন্য ছাড় দেওয়া আসনে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে।
তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপির সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় যাচ্ছে এমন গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হচ্ছে না। বরং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার পথে এগোচ্ছে এনসিপি। দুই দলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক বৈঠকে নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বুধবার জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দুদফায় বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বৈঠকগুলোতে আনুষ্ঠানিক জোটের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মূলত আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়। সংস্কার, বিচারসহ কয়েকটি মৌলিক ইস্যুতে দুই দল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
আসন সমঝোতা হলে এনসিপিকে কতটি আসন দেওয়া হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এনসিপি অন্তত ৫০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইলেও জামায়াতে ইসলামী ৩০টি আসনের প্রস্তাব দিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও ৩০ থেকে ৫০টি আসন ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব আসনে এনসিপির বর্তমান জোটসঙ্গী আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও থাকতে পারে।
এনসিপির সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানান, দলটি বিভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে এবং খুব দ্রুত জোট বা আসন সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় আগ্রহী ছিলেন এনসিপির অনেক নেতা। তবে বিএনপি ইতোমধ্যে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই সুযোগ আর নেই। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেই নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে এনসিপি। এতে ৩০–৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হলে এনসিপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় কিছু রদবদল হতে পারে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, এনসিপির ভেতরে ও বিভিন্ন দলের সঙ্গে রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো জোট বা আসন সমঝোতা ঘোষণা করা হয়নি। বিএনপি বা জামায়াত—উভয়ের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, তারা জোট সম্প্রসারণে আগ্রহী। বিএনপির পথ বন্ধ হলেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা দেখছেন তারা। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ কমবে এবং আসনের নিশ্চয়তাও বেশি থাকবে বলে মনে করছেন তারা। জোটে আরও কয়েকটি দল যুক্ত হতে পারে এবং চলতি সপ্তাহেই তা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এবি পার্টির এক নেতা বলেন, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় না যাওয়া দলগুলো এই জোটে যুক্ত হতে পারে। তবে নির্বাচনে বড় সুবিধা না হলে বড় কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোলা থাকবে—সেক্ষেত্রে জামায়াতই এগিয়ে আছে।
জামায়াতের সঙ্গে চূড়ান্ত জোট না হলেও গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের ব্যানারে নির্বাচন করার প্রস্তুতিও রয়েছে। এরই মধ্যে সমন্বিত প্রার্থী বাছাই, যৌথ ইশতেহার, ব্র্যান্ডিং ও প্রচার কৌশল নির্ধারণে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
এনসিপি প্রথম ধাপে ১২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪০–৫০টি আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তের পথে। এবি পার্টি ১০৯টি আসনে এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে নতুন জোটে ৪০–৫০টি আসনে প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রার্থী নিয়ে ৩০০ আসনে সমন্বিত মনোনয়ন ঠিক করার প্রক্রিয়া চলছে।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণ নেতৃত্বের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও ধারাবাহিক হুমকিতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াই এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তবে আসন সমঝোতা হলেও এনসিপি নিজেদের প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে। জোটে থাকা বা যুক্ত হতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যেও এ প্রতীকেই নির্বাচন করার আগ্রহ রয়েছে, বিশেষ করে যেসব দলের নিবন্ধন নেই। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, অন্য কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতা হলেও এনসিপির কোনো প্রার্থী ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করবেন না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের ৪১৩ নম্বর কক্ষ থেকে কনিস্ক মাঝি নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে এ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের (৫০তম আবর্তন) শিক্ষার্থী। জানা গেছে, হলের ওই কক্ষে মৃত শিক্ষার্থী কনিস্ক মাঝিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার সহপাঠীরা তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রশাসনকে অবহিত করে। পরে প্রশাসন পুলিশে খবর দেয়। ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনই ঘটনার বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।’
স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বললে আমরা সাধারণত হৃদ্পিণ্ড, পাকস্থলী কিংবা ফুসফুসের কথাই বেশি ভাবি। কারণ এসব অঙ্গের সমস্যা হলে তা দ্রুত বোঝা যায়। কিন্তু শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি, যা নীরবে প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার রক্ত পরিশোধন করে চলেছে। অথচ কিডনির সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘদিন অজানাই থেকে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিডনি রোগকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বলা হয়। কারণ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই রোগ অনেকটা এগিয়ে যায়। তাই শরীরের ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর দিলেই কিডনির সমস্যা আগেভাগে বোঝা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অনলি মাই হেলথ-এর সম্পাদকীয় টিম এ বিষয়ে কথা বলেছে নিরা ব্যালান্সের চিফ সায়েন্স অফিসার রিতেশ বাওরি–র সঙ্গে। তার মতে, কিডনি সমস্যার কিছু সূক্ষ্ম সংকেত আছে, যেগুলোকে আমরা প্রায়ই অবহেলা করি। কেন কিডনির সমস্যা দ্রুত ধরা পড়ে না? রিতেশ বাওরি বলেন, মানুষের কিডনির গঠনই এমন যে, এটি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রথম দিকে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তার ভাষায়, ‘কিডনি তার প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। এটি কোনো ত্রুটি নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। শুরুতে কিডনি অসাধারণভাবে ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায়। এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।’ তবে তিনি বলেন, শরীর যে সংকেত দেয়, শুধু সেই সংকেতগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কিডনি সমস্যার সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ ১. প্রস্রাবে পরিবর্তন কিডনি সমস্যার প্রথম লক্ষণ অনেক সময় ধরা পড়ে প্রস্রাবের পরিবর্তনে। রিতেশ বাওরি বলেন, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, প্রস্রাবে ফেনা বা বুদবুদ দেখা দেওয়া কিংবা রঙের পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সুস্থ কিডনি সাধারণত রক্তে থাকা প্রোটিন ধরে রাখে। কিন্তু কিডনির ফিল্টারিং ঝিল্লি দুর্বল হলে প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসে। আর সেই কারণেই প্রস্রাবে ফেনা দেখা যায়। ২. অকারণ ক্লান্তি পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সব সময় ক্লান্ত লাগে, সেটিও কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি শরীরে এরিথ্রোপয়েটিন নামের একটি হরমোন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এই হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, ফলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। ৩. সকালে চোখ বা পা ফোলা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের নিচে বা পায়ের গোড়ালিতে ফোলাভাব দেখা দিলে সেটিও কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। রিতেশ বাওরি বলেন, কিডনি যখন অতিরিক্ত তরল ও সোডিয়াম বের করে দিতে পারে না, তখন তা শরীরের নিচের অংশে জমে যায়। অনেকেই এটাকে ক্লান্তির কারণে মনে করেন, কিন্তু নিয়মিত হলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ৪. অকারণে রক্তচাপ বাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো হঠাৎ বা ধীরে ধীরে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া। কারণ কিডনি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কিডনি দুর্বল হয়ে পড়লে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং আবার উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, এভাবে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়। কিডনি পরীক্ষা করতে কোন টেস্ট জরুরি? কিডনির অবস্থা জানতে দুইটি পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান বিশেষজ্ঞরা— eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate) : এটি রক্তের একটি পরীক্ষা, যা কিডনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য ছেঁকে বের করছে তা জানায়। স্কোর ৬০–এর নিচে হলে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের আশঙ্কা থাকে। Urine Albumin-to-Creatinine Ratio : এটি প্রস্রাবের একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র পরিমাণ প্রোটিন লিক হওয়া ধরা পড়ে। এ ছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নজরে রাখা উচিত, কারণ এটি বেড়ে গেলে কিডনির টিউবুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিডনি সুস্থ রাখতে ৪টি অভ্যাস বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই কিডনির ওপর চাপ অনেকটা কমানো সম্ভব— ১. লবণ কম খান প্রসেসড খাবার ও অতিরিক্ত রেস্তোরাঁর খাবার কমালে কিডনির ওপর চাপ কমে। ২. নিয়মিত হাঁটুন বা শরীরচর্চা করুন অল্প সময় হাঁটলেও রক্তসঞ্চালন ও গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৩. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন ঘুম কম হলে কর্টিসল ও রক্তচাপ বাড়ে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। ৪. খাবারের সময়সূচি ঠিক রাখুন অনেকে রাতে দেরিতে ভারী ও লবণাক্ত খাবার খান। এতে রাতে কিডনির ওপর চাপ বেড়ে যায়। শেষ কথা কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে নীরব অথচ পরিশ্রমী অঙ্গগুলোর একটি। এটি দিনরাত কাজ করে শরীরকে পরিষ্কার রাখে, অথচ সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমরা এর দিকে তেমন নজর দিই না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং বছরে অন্তত একবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে কিডনি সুস্থ রাখা অনেকটাই সহজ। ছোট ছোট এসব অভ্যাসই বড় রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন আইন, ১৯৭৩’-এর ধারা ৪ (১) (এ) অনুযায়ী অধ্যাপক তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ হবে চার বছর। তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। তার যোগদানের তারিখ থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আলিফ রুদাবা।