পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিও চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার রাতে বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা ১৫ জন পুলিশ সদস্য হতাহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জঙ্গি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শূন্যে ডিগবাজি খাওয়া স্পোর্টস কারের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক। তবে তার গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ফিরে আসার মানে হচ্ছে বিশ্বের এ শীর্ষ ধনী ব্যক্তি আগের বছরগুলোর মতো আর নিঃশর্ত প্রশংসা পাচ্ছেন না। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সেলেপাক বলেন, ‘১৯৫০-এর দশক থেকে মহাকাশ ভ্রমণ ও উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে আমাদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলোই বাস্তবে করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অথচ আমরা তাঁকে সেই মনোযোগ দিচ্ছি না, সেই বিস্ময় প্রকাশ করছি না, যা সম্ভবত তাঁর প্রাপ্য।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাস্ককে যেন সবখানেই দেখা যাচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করে। পরে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মাস্কের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এই রকেটের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভূরাজনীতিতেও মাস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। এমনকি একসময় টুইটার নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিও নতুন করে জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে। মাস্কের মালিকানাধীন এক্স এখন সিলিকন ভ্যালির অভ্যন্তরীণ মহলে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও ডানপন্থি রাজনীতির প্রতি মাস্কের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার তাঁর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাস্কের করাতযন্ত্র হাতে নাড়ানোর দৃশ্যের চেয়ে এ পরিবর্তনের প্রতীকী ছবি আর নেই। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তাঁকে যন্ত্রটি উপহার দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে সরকারি দক্ষতাবিষয়ক দপ্তরের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর উদ্যোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওই করাত। ডিওজিইর মাধ্যমে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় ছড়িয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্যোগে ব্যাপক ব্যয়সংকোচন কার্যক্রম চালানো হয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) কার্যত ভেঙে পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান হারানোর পেছনেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখে। ‘জাতীয় সম্পদ’ সরকারি ব্যয় কমানোর ওই আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তির প্রতিফলন দেখা যায় এক্সে মাস্কের পোস্টগুলোতেও। সেখানে তাঁর কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও ডানপন্থি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পাশাপাশি রকেট উৎক্ষেপণ এবং টেসলার রোবোট্যাক্সি নিয়ে পোস্টও থাকে। ২০২৫ সালের মে মাসে ডিওজিই থেকে সরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের নাটকীয় অবনতি ঘটে। তবে এখন তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুসম্পর্ক ফিরে পেয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাস্কের হাতে দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান পদক তুলে দেন। এ সময় তাঁকে ‘জাতীয় সম্পদ’ এবং ‘আমাদের সময়ের টমাস এডিসন’ বলে অভিহিত করেন প্রেসিডেন্ট। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক প্রচারে অন্তত ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে মাস্কের নিজ রাজ্য টেক্সাসে বড় ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারে। সেখানে জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী পিছিয়ে রয়েছেন। বামঘেঁষা ভাষ্যকারদের কাছে মাস্ক এখন মানবকল্যাণে নিয়োজিত প্রযুক্তিপ্রতিভা হিসেবে নয়, বরং ট্রাম্প ও প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ক্রমেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছেন। অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত ‘মাস্ক’ নামের চার ঘণ্টার একটি প্রামাণ্যচিত্রে এ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত ছবিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এ ধনকুবেরের জীবন ও কর্মজীবন তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থিত মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক পডকাস্টার কারা সুইশারকে বলেন, ‘একসময় আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছিলাম, যিনি পাহাড়ের কিনারা থেকে লাফিয়ে পড়ে নিচে নামতে নামতেই প্যারাস্যুট আবিষ্কার করতে পারেন। আমার মনে হয়, বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি নিজের শক্তি খুঁজে পান।’ তবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই ধরে নিই, তাঁর আপাত উন্মাদনার পেছনে কোনো না কোনো পরিকল্পনা রয়েছে।’ তাঁর মতে, মাস্কের অনেক আলোচিত কর্মকাণ্ড আসলে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল কিংবা চোখের ধাঁধা হতে পারে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর মাস্কের মতো এতটা নির্ভরশীল উদ্যোক্তা খুব কমই আছেন। জুনে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্পেসএক্স নাসা ও পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি থেকে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার আয় করে। অন্যদিকে, টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চালকবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়, তার ওপর। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়কে রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনের চেয়ে বিনিয়োগ হিসেবেই বেশি দেখা যেতে পারে।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কিন্ডারগার্টেনের ২৪৭ শিশুর রক্তে অস্বাভাবিক মাত্রায় সিসা পাওয়ার ঘটনায় ছয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শিশুদের খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগে শুক্রবার এই রায় দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গানসু প্রদেশের লানঝৌ শহরের মধ্যবর্তী গণ আদালত কিন্ডারগার্টেনটির দায়িত্বে থাকা লি হুইফাংকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার আজীবনের জন্য রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত সম্পদের পাঁচ লাখ ইউয়ান জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইজি জেলার হেশি পেইশিন কিন্ডারগার্টেনের নির্বাহী প্রধান ঝু জিংলিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও তিন লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে। রান্নাঘরের চার কর্মীকে ছয় থেকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদেরও জরিমানা করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, খাবারকে আরও রঙিন ও আকর্ষণীয় করে বিপণনের উদ্দেশ্যে শিশু ও কর্মীদের জন্য তৈরি খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর নির্দেশ দেন লি ও ঝু। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত প্রাদেশিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দূষিত পেস্ট্রি শিশু ও কর্মীদের পরিবেশন করা হচ্ছিল। পরীক্ষা করা ২৫১ শিশুর মধ্যে ২৪৭ জনের রক্তে সিসার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি পাওয়া যায়। আক্রান্ত সব শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় অথবা বাড়িতে পুষ্টিভিত্তিক পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ জুলাইয়ের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু চিকিৎসার প্রথম ধাপ শেষ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পায়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নয় মাসের যুদ্ধের পর নিজেদের সদস্যদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ অবস্থায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে ইরাকের কয়েকটি গোষ্ঠী, নিজেদের তহবিল থেকে আইআরজিসিকে অর্থ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তেল রপ্তানি আয় কমেছে। ফলে আইআরজিসি, তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সামরিক অভিযানে অর্থ জোগানোর সক্ষমতা কমেছে তেহরানের। তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেন্টকম ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ক্রিপ্টোকারেন্সিতে থাকা ইরানের প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থসংকটের কারণে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের কয়েকটি ইরানপন্থী গোষ্ঠী নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে সেই অর্থ আইআরজিসিকে দিচ্ছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও সদস্যদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়েছে। কুপার আরও দাবি করেন, ইরান সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা আটকে রেখেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সদস্যরাও রয়েছেন। তার মতে, অর্থসংকট থেকে তৈরি হওয়া মরিয়া পরিস্থিতির কারণেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলা বেড়েছে। শুক্রবার সেন্টকম জানায়, আগের সাত দিনে প্রায় ৪০০ বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় মিত্রদের মাধ্যমে ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহনেও সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। সূত্র: শাফাক নিউজ