রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শৈশবের পারিবারিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ, গান, বই ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা।
শুক্রবার (০৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
পোস্টে শামারুহ মির্জা লেখেন, ভোরবেলা তার ঘুম ভাঙত দাদির কোরআন তেলাওয়াতের শব্দে। পরে বারান্দায় গিয়ে দেখতেন দাদা-দাদি পাশাপাশি বসে আছেন, আর ট্রানজিস্টরে বাজছে মোহাম্মদ রফির গান।
তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তাদের বাসায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও বই পড়ার পরিবেশ ছিল। তার বাবা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করতেন, যা শুনে তার শরীরে শিহরণ জাগত।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, তিন গোয়েন্দা, গল্পগুচ্ছ, লোটাকম্বল, কালবেলা থেকে শুরু করে মিসির আলী— কিছুই বাদ যায়নি। বাসায় নিয়মিত দেশ, বেগম, সানন্দা, আনন্দমেলা, বিচিত্রা, রিডার্স ডাইজেস্টসহ নানা পত্রিকা রাখা হতো।
শামারুহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার মা একবার ‘সেদিন দুজনে’ গানটি রেকর্ড করেছিলেন। এছাড়া নাটক এইসব দিনরাত্রি–তে ব্যবহৃত ‘আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে’ গানটি এখনও তার কানে ভাসে।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, ‘কুতর্ক তো থাকবেই। রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথই। রবীন্দ্রনাথ আমার অস্তিত্বে আছে। শুভ জন্মদিন রবীন্দ্রনাথ।’
পোস্টের শেষাংশে এক মন্তব্যের জবাবও দেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)– এর সঙ্গে অন্য কারও তুলনা টানা ঠিক নয় এবং এ ধরনের মন্তব্য ইসলামের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঈদ মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উৎসব। তবে এ অনুভূতি কাল, পাত্র, সময় ভেদে বিভিন্ন রকম হয়। যেমন অনেকেই বলে থাকেন, বড় হয়ে গেলে ছোটবেলার ঈদআনন্দকে মিস করেন। ছোটবেলার ঈদআনন্দ তুলনাহীন। দায়িত্ব ও সময় বদলের সঙ্গে ঈদ আয়োজনের ধরনও অনেক বদলে যাওয়ার কারণে অনুভূতিরও পরিবর্তন হয়। আর এই বিষয়টি শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছোটবেলার ঈদের আনন্দ আর এখনকার ঈদের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখেন তিনি। আগের ঈদ বেশি আন্তরিক, প্রাণবন্ত এবং আবেগঘন ছিল বলে মন্তব্য তার। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় শৈশবের ঈদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন জয়া আহসান। এই অভিনেত্রী জানান, রোজার ঈদ শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যেত কোরবানির ঈদের অপেক্ষা। ছোটবেলায় ঈদ ছিল বছরের সবচেয়ে আনন্দের সময়। জয়া বলেন, ছোটবেলায় মনে হতো, প্রতি মাসেই যদি ঈদ হতো! ঈদের আসল আনন্দটা আসলে ছোটবেলাতেই ছিল।’ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, কোরবানির ঈদের আগে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে দল বেঁধে বিভিন্ন বাড়িতে গরু দেখতে যেতাম। কোথায় কেমন গরু এসেছে, কোনটি বড় বা দেখতে আলাদা—এসব নিয়েই শিশুদের মধ্যে থাকত দারুণ উৎসাহ। তিনি বলেন, তখন ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা খাবারের উৎসব ছিল না, পুরো পরিবেশজুড়েই থাকত আনন্দের আমেজ। আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া, একসঙ্গে খাওয়া আর গল্পে মেতে ওঠাই ছিল ঈদের বড় আনন্দ। বর্তমান সময়ের ঈদ অনেকটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে মন্তব্য তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্যস্ততা আর নগরজীবনের চাপের কারণে আগের সেই আবেগ আর সরল আনন্দ যেন হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
হালের আলোচিত অভিনেত্রী নাজিফা তুষির চলচ্চিত্রে আগমন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের হাত ধরে। ২০১৬ সালে ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। প্রথম সিনেমাটি প্রত্যাশিত দর্শকপ্রিয়তা না পেলেও একই নির্মাতার পরিচালনায় ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান তুষি। এবার তিনি হাজির হয়েছেন নতুন সিনেমা ‘রইদ’ নিয়ে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজিফা তুষি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জানান, নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে কাজ করা যেকোনো অভিনেতার জন্যই এক ধরনের আশীর্বাদ। নির্মাতার কাজের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াটাই আলাদা। সবকিছু এতটাই বাস্তব ও স্বাভাবিকভাবে এগোয় যে অভিনয় করতে গিয়ে জোর করে কিছু করতে হয় না। বরং চরিত্রের ভেতরে যেন অদৃশ্য এক ঘোরের মধ্যে ঢুকে পড়েন অভিনেতারা। তুষির ভাষায়, ‘উনি অভিনেতাদের একটা ট্র্যান্সে নিয়ে যান, তারপর ছেড়ে দেন।’ সিনেমায় ‘সাধুর বউ’ চরিত্রে নিজেকে গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলেন তুষি। গ্রামীণ নারীর বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তুলতে লোকাল বাজার থেকে ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করে শুটিংয়ের আগ থেকেই সেগুলো পরতেন তারা। সে সময় নিজের ব্যক্তিগত কোনো পোশাক বা জিনিসপত্র ব্যবহার করেননি তিনি। তবে তার মতে, বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল চরিত্রটির মনস্তত্ত্বকে ধারণ করা। চরিত্রের প্রয়োজনে লুক পরিবর্তন বা তথাকথিত ‘স্যাক্রিফাইস’ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তুষি অত্যন্ত সাবলীলভাবে বলেন, এসব কস্টিউম বা বাহ্যিক রূপ আসলে খুব ছোট একটি বিষয়। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপভোগ্য ছিল চরিত্রের মানসিক জগতে প্রবেশ করা। তিনি মনে করেন, কালো দেখানো, সাধারণ পোশাক পরা কিংবা নিজেকে কম আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা খুব সহজ ব্যাপার। বরং নতুন এক জগৎ, নতুন অভিজ্ঞতা এবং অদ্ভুত সুন্দর এক সময়কে নিজের জীবনের অংশ করে নিতে পেরেছেন বলেই এই কাজটি তার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।
মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শকদের দারুণ সাড়া পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রকস্টার। সিনেমাটি মুক্তির দিন স্টার সিনেপ্লেক্সের বিভিন্ন শাখায় মোট ১৮টি শো পেয়েছিল। তবে দর্শক চাহিদা ও টিকিট বিক্রির ইতিবাচক সাড়ার কারণে দ্বিতীয় দিনেই শোর সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৬টি। অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে ‘রকস্টার’-এর প্রদর্শনী। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা এক বিবৃতিতে এমন তথ্য দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দর্শকদের আগ্রহ এবং অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের চাপের কারণেই বাড়ানো হয়েছে শো সংখ্যা। বিশেষ করে তরুণ ও ফ্যানিলি দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রোমান্স, মিউজিক ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে মুক্তির আগ থেকেই আলোচনায় রকস্টার। আর মুক্তির পর দর্শক উপস্থিতি সেই প্রত্যাশাকেই আরও শক্তিশালী করেছে। সান মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে নির্মিত রকস্টার পরিচালনা করেছেন আজমান রুশ, প্রযোজনা করেছেন অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। সিনেমাটিতে শাকিব খানের সাথে অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা, সুনিধি নায়েক, রোজি সিদ্দিকী, তারিকা আনাম খান প্রমুখ। এবারের ঈদের সারা দেশে দেড় শতাধিক সিনেমা হলে নয়টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ১০৫ টি হল পেয়ে সর্বাধিক আলোচনায় রয়েছে রকস্টার।