চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাকা করার পরের ম্যাচেই পথ হারিয়ে ফেলল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ভীষণ সাদামাটা পারফরম্যান্সে সান্ডারল্যান্ডের মাঠে পয়েন্ট হারাল মাইকেল ক্যারিকের দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে ইউনাইটেড।
লিগে টানা তিন জয়ের পথে গত সপ্তাহে লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করে ইউনাইটেড। সেই দলকেই এবার পুরোটা সময় আক্রমণে ভুগতে দেখা গেল। ৩৬ ম্যাচে ১৮ জয় ও ১১ ড্রয়ে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে তারা।
তুলনামূলক কিছুটা ভালো খেলল সান্ডারল্যান্ড। সমান ম্যাচে ১২টি করে জয় ও ড্রয়ে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে আছে তারা।
প্রথম কয়েক মিনিটে দারুণ দুটি আক্রমণ শাণায় সান্ডারল্যান্ড। ষষ্ঠ মিনিটে তো নিশ্চিত গোলের সুযোগ পায় তারা। মাঝমাঠ থেকে তড়িৎ ওঠা আক্রমণে সতীর্থের থ্রু বল ধরে, সবাইকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন নোয়া সাদিকি; তবে তার শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধে ইউনাইটেডের খেলা একদমই গোছানো ছিল না, তাদের আক্রমণগুলো ছিল ধারহীন। তাদেরকে আটকে রাখায় সান্ডারল্যান্ডের জমাট রক্ষণও প্রশংসার দাবিদার।
এই সময়ে স্বাগতিকদের আক্রমণভাগও বেশ ভীতি ছড়ায় প্রতিপক্ষের বক্সে; ১০টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখতে পারলেও অবশ্য সাফল্য পায়নি তারা। আর বিরতির আগে ইউনাইটেডের চার শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
বিরতির পরও দৃশ্যপটে তেমন পরিবর্তন আসেনি। ৭১তম মিনিটে আরেকবার এগিয়ে যাওয়ার কাছাকাছি যায় সান্ডারল্যান্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া লুতশারেলের শট পোস্টে বাধা পায়।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে ইউনাইটেড। মাথেউস কুইয়ার শট আটকে জাল অক্ষত রাখেন সান্ডারল্যান্ড গোলরক্ষক।
গত ২৪ নভেম্বরের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে গোল করতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আসরে চতুর্থবার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফুটবলকে ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়। তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও সৌহার্দ্য ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ দেখা গেছে শরীয়তপুরে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাজিলের সমর্থকেরা দলকে সমর্থন জানিয়ে মোটরসাইকেল র্যালি বের করেন। র্যালিটি শহরের একটি সড়ক অতিক্রম করার সময় রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা তাদের স্বাগত জানান। তবে ঘটনাটি ছিল না কোনো উত্তেজনা বা বাকবিতণ্ডার। বরং আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ব্রাজিল ভক্তদের হাতে কোমল পানীয় সেভেন-আপ এর বোতল তুলে দেন। হাসি-আনন্দে ভরা এই দৃশ্য মুহূর্তেই উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো র্যালিজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুই দলের সমর্থকেরা পরস্পরের সঙ্গে হাস্যরস, শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে অংশ নেন। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ঘটনাটিকে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘ফুটবল কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যেরও নাম।’ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ফুটবল শিবিরের সমর্থকদের এমন ইতিবাচক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
আয়ারল্যান্ড সফরের একমাত্র টেস্টে সহজ জয় পেল নিউ জিল্যান্ড। বেলফাস্টে মাত্র সাড়ে তিন দিনের মধ্যে আইরিশদের ইনিংস ও ৭৯ রানে হারিয়েছে কিউইরা। এ নিয়ে নিজেদের ১৩ টেস্টের মধ্যে ১০টিই হারল আয়ারল্যান্ড। ম্যাচে টস জিতে নিউ জিল্যান্ডকে ব্যাটিং করতে পাঠায় স্বাগতিকরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে ৪৯০ রান করে টম ল্যাথামের নেতৃত্বাধীন দল। এরপর তাদের আর ব্যাট করতে নামতে হয়নি। নিজেদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৮ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৩২ রান পর্যন্ত করতে পারে আয়ারল্যান্ড। পরে তাদের ফলো-অন করায় নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ১৭৯ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিক দল। কিউইদের হয়ে ২২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯২ বলে ১৮৬ রানের ইনিংস খেলেন টম ব্লান্ডেল। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। একমাত্র ইনিংসের একপর্যায়ে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউ জিল্যান্ড। পরে রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে ২১৭ রানের জুটি গড়েন ব্লান্ডেল। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১৯৪ বলে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন রবীন্দ্র। পরে আবার ডিন ফক্সক্রফটের সঙ্গে ১৫৮ রান যোগ করেন ব্লান্ডেল। টেস্ট অভিষেকে মাত্র ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি ফক্সক্রফট। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ১২৯ বলে ৯৮ রান করে আউট হন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মার্ক অ্যাডায়ার। পরে নাথান স্মিথের তোপে পড়ে মাত্র ৩৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে আয়ারল্যান্ড। সেখান থেকে অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন ও মার্ক অ্যাডায়ার মিলে গড়েন ১১৬ রানের জুটি। অ্যাডায়ার আউট হন ৪০ রান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন ম্যাকব্রাইন। সব মিলিয়ে ৪০ রানে ৬ উইকেট নেন স্মিথ। আয়ারল্যান্ডের প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে চারজনকে তিনি ফেরান শূন্য রানে। দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এর আগে যা করতে পারেননি আর কোনো বোলার। ফলো-অনে পড়ে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমেও তেমন উন্নতি হয়নি আইরিশদের। এবার ওপেনার স্টিফেন ডোহেনি খেলেন সর্বোচ্চ ৫৭ রানের ইনিংস। এছাড়া লরকান টাকারের ব্যাট থেকে আসে ঠিক ৫০ রান। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয়টিতেও দারুণ ব্যাটিং করে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন মার্ক অ্যাডায়ার। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৭৬ রানে ৫ উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার।
লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষনা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৩৮ বছর বয়সী মেসি এর আগেই নিশ্চিত করেছিলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে তিনি অংশ নিবেন। যদিও আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই সুপারস্টার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নেতৃত্বে থাকবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনার হাতে শিরোপা উঠেছিল। স্কালোনির এই দলে জায়গা হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের টিন এজার ফ্র্যাঙ্কো মাস্তানটুনোর। ১৮ বছর বয়সী মাস্তানটুনোকে ইতোমধ্যেই আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই আসর আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনের পাঁচদিন পর কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শিরোপা ধরে রাখার যাত্রা শুরু করবে। সাম্প্রতিক সময়ে মেসিকে নিয়ে ইনজুরি শঙ্কা ছিল। তার ক্লাব ইন্টার মিলান জানিয়েছে ক্লাবের মেডিকেল টিম মেসির বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তেমন কোন গুরুতর সমস্যা পায়নি। যদিও এখনও মেসি মাঠের বাইরে রয়েছেন। মিয়ামির পক্ষ থেকে তার ফেরার নির্দিষ্ট কোন তারিখও জানানো হয়নি। জাতীয় দলের কোচ স্কালোনিও মেসির ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নন। গত মাসে হাঁটুর ইনজুরিতে আক্রান্ত সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন। টটেনহ্যামের অধিনায়ক অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিকের ম্যাচ খেলতে পারেননি। কাতার বিশ্বকাপ জয়ী ১৭ জন খেলোয়াড় এবারের দলে রয়েছেন। তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে দলে সুযোগ পেয়েছেন ২১ বছর বয়সী নিকোলাস পাজ ও ভ্যালেন্টিন বারকো। গত বছর আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক হওয়া পালমেইরাসের ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। এ্যাস্টন ভিলার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এমিলিয়ানো বুয়েনডিয়া বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাননি। এছাড়া রোমা তারকা পাওলো দিবালাও বাদ পড়েছেন। আগামী ৬ ও ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে যথাক্রমে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির পাশাপাশি পর্তুগীজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও মেক্সিকান গোলরক্ষক গুইলারমো ওচোয়াও ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। স্কোয়াড : গোলরক্ষক : এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো ডিফেন্ডার : গঞ্জালো মন্টিয়েল, নাহুয়েল মোলিনা, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওটামেন্ডি, লিওনার্দো বালের্ডি, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, ফাকুন্ডো মেডিনা, নিকোলাস টাগলিয়াফিকো মিডফিল্ডার : লিনদ্রো পারেডেসে, রডরিগো ডি পল, এক্সেকুয়েল পালাকিওস, এনজো ফার্নান্দেজ. এ্যালেক্সিস ম্যাকএ্যালিস্টার, গিওভানি লো সেলসো, ভ্যালেন্টিন বারকো ফরোয়ার্ড : লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস পাজ, থিয়াগো আলমাডা, নিকোলাস গঞ্জলেজ, গুইলিয়ানো সিমিওনে, লটারো মার্টিনেজ, হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।