আইএল টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় পেয়েছে মোস্তাফিজের দল দুবাই ক্যাপিটালস। তাসকিনের দল শারজা ওয়ারিয়র্সের দেওয়া ১৩৪ রানের লক্ষ্য ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে টপকে নেয় মোস্তাফিজের দুবাই, ফলে তাদের প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনাও বেশ শক্ত হয়েছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে শারজা তোলে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান। দুবাইয়ের হয়ে চার ওভার বল করে ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। তৃতীয় ওভারে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন সিকান্দার রাজাকে। শেষ ওভারে কিছুটা খরচা হলেও মাঝের ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ‘দ্য ফিজ’।
রান তাড়ায় দুবাইকে এগিয়ে নেন শায়ান জাহাঙ্গীর ও জর্ডান কক্স। শায়ান ৫১ রান করে ফিরে গেলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন কক্স—৫০ বলে ৬১ রান করে। পুরো ইনিংসজুড়েই নিয়ন্ত্রণে ছিল দুবাই।
তবে ম্যাচে নাটকীয়তা আসে ইনিংসের ১৮তম ওভারে। বল হাতে তুলে নেওয়া তাসকিন আহমেদ সেই ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ফলে শেষ ১২ বলে দুবাইয়ের প্রয়োজন দাঁড়ায় ২১ রান—মুহূর্তের জন্য জমে ওঠে ম্যাচ।
কিন্তু পরের ওভারে টিম সাউদির বলে ১৮ রান আদায় করে নেয় দুবাই, কার্যত সেখানেই ম্যাচ শারজার হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ ওভারে রোভম্যান পাওয়েলের ছক্কায় নিশ্চিত হয় দুবাইয়ের জয়।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে দুবাই ক্যাপিটালস। অন্যদিকে ৯ ম্যাচে ছয় হার নিয়ে ৬ পয়েন্টে তালিকার ছয় নম্বরে অবস্থান করছে শারজা ওয়ারিয়র্স।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গোল করছেন, করাচ্ছেন– তবুও কিছুতেই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চলতি আসরটা ঠিকঠাক যাচ্ছে না লিওনেল মেসিদের। তার দৃষ্টিনন্দন একটি গোলে ইন্টার মায়ামি লিড নিলেও শেষটা ছিল হতাশার। যোগ করা সময়ে ন্যাশভিলের কাছে গোল হজম করে (২-২) পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বাঁ পায়ের শটে গোল করে মেসি যখন মায়ামিকে ন্যাশভিলের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে প্রথম জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় আসে। যোগ করা সময়ে প্রথম মিনিটেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ন্যাশভিলেকে সমতা ফেরান স্যাম সারিজ। ফলে চলতি মৌসুমে মায়ামির বিপক্ষে খেলা চারটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল ন্যাশভিলে। এ ছাড়া সর্বশেষ ড্র’র কল্যাণে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মায়ামির চেয়ে ন্যাশভিলে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেল। এর আগে ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই অ্যান্ডি নাজারের পাস পেয়ে মায়ামির জাল কাঁপান সারিজ। চলতি মৌসুমে এটি তার ১৪তম গোল। ১৯তম মিনিটে মায়ামি সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষের রিড বাকের-হোয়াইটিংয়ের আত্মঘাতী গোলে। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির একটি শট বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ৬২ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় মায়ামি। রদ্রিগো ডি পল বক্সের বাইরে কয়েকজনের মাঝে থাকা মেসিকে বল বাড়ালে, তিনি একমুহূর্তও দেরি না করে প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ন্যাশভিলের জালে জড়ান। যা চলতি মৌসুমে এমএলএসে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ১৯তম গোল। তবে যোগ করা সময়ে সেই স্বস্তি উড়ে যায় মায়ামির। তবে মেসির দুটি শট গোলবারে লেগে না ফিরলে দৃশ্যটা অন্যরকম হতে পারত।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিন ম্যাচের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১ ওভার খেলে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতেই ভেস্তে গেছে। তাই তৃতীয় ম্যাচটিই ছিল সিরিজ নির্ধারণী। আর এই ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ১৮৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯২ রান। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় সফরকারীরা। দুই ওপেনারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। ৫৩ বলে ৬১ রান করেন সাইফ হাসান। আর ৭৭ বল খেলে ৬০ রান করতে পেরেছেন মোহাম্মহ নাঈম শেখ। এদিকে আউট হওয়ার আগে পারভেজ হোসেন ইমন ১৭, নুরুল হাসান সোহান ১৬ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ৩ রান করেন। পরে রিশাদ হোসেনকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন আফিফ হোসেন। ৬ রানে আফিফ ও ৫ রানে রিশাদ অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। কিন্তু আলিস এবং রিশাদের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটাররা। আসা-যাওয়ার মিছিলে রিভালদো মুনসামি ১, সিনেথেম্বা ৫, ম্যাথিউ ডি ভিলিয়ার্স শূন্য, মিহলাই ৪ ও ডিয়ান ফরেস্টার ৬ রান করেন। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো ইনিংস খেলেন মার্কুয়েস অ্যাকেরম্যান ও ইমরান মানাক। ফিফটি পূরণের পর ৫৪ রানে থামেন অ্যাকেরম্যান। শেষদিকে ৪৩ রান করেন ইমরান। এছাড়া কাইল সিমন্ডস ১৫, মারেকি ৯ ও ওকুহলে চেলে ৪ রান করেন। ১৮২ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন। ৪৫ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তিনি। মাত্র ৩৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।
গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই দেশের সাবেক ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে এ শাস্তি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের দায়ে দুজনকেই আজীবন নিষিদ্ধ করেছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও নির্দিষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফিফার দেওয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহামারির সময়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে অবশ্য এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০১১ সালেও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। এসব ঘটনার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে। আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে আরও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। জালিলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, আগিলের বিরুদ্ধে ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।