জাতিসংঘের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো খবর ছেপেছে যে—ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও দেশটির রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়েছে। গত মঙ্গলবার এক বার্তায় জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক দূত হ্যান্স গ্রুডবার্গ জানিয়েছেন যে ওমানের রাজধানী মাসকাটে প্রায় দুই সপ্তাহ আলোচনার পর এই চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে।
মাসকাট থেকে হুতি প্রতিনিধিদলের এক কর্মকর্তা আবদুলকাদের আল-মোর্তাজা এক্স বার্তায় জানান, তাদের ১৭ শ ও অপরপক্ষের ১২ শ বন্দিকে হস্তান্তর করা হবে। আরব উপকূলের সবচেয়ে দুর্ভাগা দেশ ইয়েমেন নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের কাছে এটি একটি ইতিবাচক সংবাদ। আশা করা যায়—এটি ভবিষ্যতে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনার পাশাপাশি শান্তি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের পথ দেখানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে।
তাহলে গত ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত ইয়েমেন ‘ভেঙে’ যাওয়া নিয়ে সংবাদটি আসলে কী বার্তা দেয়? প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল—‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন পাওয়া গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণ ইয়েমেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারে।’ এতে বলা হয়, আমিরাত-সমর্থিত ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) হাতে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার সেনা। তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশ, যেখানে রয়েছে তেলের খনি। এসটিসির লক্ষ্য সৌদি আরব ও ওমান সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ে আগের মতো একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠন করা।
এমন পরিস্থিতি শুধু ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি নয়, এটি আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ইয়েমেন সরকার বর্তমানে সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকে ‘প্রবাসী সরকার’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভোগ করছে।
দক্ষিণ ইয়েমেন যদি আবার পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তবে তা এই প্রবাসী সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ইয়েমেন ঘিরে সৌদি আরবের প্রভাবও দুর্বল করতে পারে।
ইয়েমেনে বিদেশিদের চোখ
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেন বলতে হুতি বিদ্রোহীদের কথাই বেশি শোনা যায়। আন্তর্জাতিক পরিসরে এই শিয়া মতাদর্শী গোষ্ঠীকে ইরান-সমর্থিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের দাবিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাসীর নজরে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে শিয়াদের পেছনে ইরান এবং সুন্নিদের পেছনে সৌদি আরবের সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, এই দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশই ইয়েমেনকে নিজেদের কর্তৃত্ব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় এই ধনী দেশটির বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের এমন একটি ভৌগোলিক স্থানে অবস্থিত, যেখান থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত ইয়েমেনের সঙ্গে খনিজসমৃদ্ধ সৌদি আরব ও ওমানের স্থলসীমাও রয়েছে।
এই কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলো সবচেয়ে গরিব দেশ ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। পাশাপাশি, দূরবর্তী হলেও ইরানও রাজনৈতিকভাবে সেখানে প্রভাব বজায় রেখেছে। এখন যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি।
‘খনিজের বিনিময়ে খাদ্য’
প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের ইয়েমেনের সমুদ্র উপকূল প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। আয়তনের দিক থেকে এটি আরব উপদ্বীপের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও জনসংখ্যা তুলনামূলক কম।
তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকা পাথুরে পাহাড়ে ঢাকা। কৃষিজমি কম হলেও সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য ফসল পাওয়া যায়। ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ইয়েমেন লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের তীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।
প্রাচীনকালে রোমানরা ইয়েমেনকে ‘সমৃদ্ধ আরব’ নামে ডাকত। একসময় সম্পদশালী এই দেশটি বর্তমানে আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
তবে ভৌগোলিক অবস্থান ও খনিজসম্পদের কারণে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর কাছে ইয়েমেন এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, খনিজসম্পদের বিনিময়ে খাদ্য বা সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়ে বিশ্বের কয়েকটি দরিদ্র দেশকে চুক্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার মধ্যে ইয়েমেনও রয়েছে। অন্য সূত্র অনুযায়ী, ইয়েমেনে সোনা, রুপা, গ্রানাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের বিশাল মজুত রয়েছে।
ইয়েমেনের গুরুত্ব
গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ লোহিত সাগর হয়ে ইয়েমেনের পাশ দিয়ে চলাচল করে। এই নৌপথে বছরে ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবহন হয়।
গাজার পরিস্থিতি ঘিরে হুতিদের হামলায় এই নৌপথ একাধিকবার বিঘ্নিত হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে ইয়েমেন আরব উপদ্বীপের এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যার নিয়ন্ত্রণ মানেই লোহিত সাগরের ওপর প্রভাব। তাই খনিজতেল কম থাকলেও কৌশলগত কারণে ইয়েমেনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আবারও ‘দক্ষিণ ইয়েমেন’?
ইতিহাস বলছে, একসময় ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত ছিল। ১৯৯০ সালে দুটি দেশ একত্রিত হয়ে আধুনিক ইয়েমেন রাষ্ট্র গঠন করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, গৃহযুদ্ধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ দেশটিকে আবার বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়।
বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের আটটি প্রদেশ আমিরাত-সমর্থিত এসটিসির নিয়ন্ত্রণে থাকায় সৌদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি বাহিনী ইতোমধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে সরে এসেছে।
ফলে দক্ষিণ ইয়েমেনের পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তবে এই নতুন রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে কিনা, তা নির্ভর করবে মূলত আমিরাতের সিদ্ধান্তের ওপর।
জাতিসংঘ ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা ইয়েমেন বিভাজনের বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে হুতিসহ সব গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকবে।
এ অবস্থায় ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আজ রাত থেকেই সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে বলে জানিয়েছে ইরান। খবর টাইমস অব ইসরায়েল। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও আজ রাত থেকেই শুরু হবে। ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘারিবাবাদির বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ঘারিবাবাদি আরও জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানান। তবে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পূরণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে শেহবাজ শরিফ জানান, চুক্তির আওতায় সব পক্ষের মধ্যে চলমান সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। লেবাননসহ সংঘাতের বিভিন্ন ফ্রন্টেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আলোচনায় সহায়তার জন্য কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি শিগগিরই ইসরাইল সফর করতে পারেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সফরটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে তার প্রথম তেল আবিব সফর। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি ইসরাইলে পৌঁছাতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো সোমালিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ইসরাইল স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই পক্ষের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভাব্য এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমালিল্যান্ডের কূটনীতিক ইসমাইল শিরওয়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তেল আবিবে প্রদর্শিত সোমালিল্যান্ড ও ইসরাইলের পতাকার ছবি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য সফরের ইঙ্গিত দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশমুখে অবস্থিত সোমালিল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেই ইসরাইল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লোহিত সাগর অঞ্চলে চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং হুথি গোষ্ঠীর কার্যক্রমও ইসরাইলের কৌশলগত হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হুথিরা এর আগে ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সম্ভাব্য সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।