আন্তর্জাতিক

‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’, উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন ভোটারদের বড় অংশকেই অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কারণ, তিনি অন্য দেশে হস্তক্ষেপ না করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখতে পারেননি।

 

এখন ট্রাম্প যখন এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন তিনি তারই শিবিরের আরেক পক্ষকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

 

এই পক্ষে আছেন ট্রাম্পের নিজের দলেরই পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা নিয়ে এই মিত্রদের বিরাগভাজন হয়ে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন তিনি।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে রিপাবলিকান কট্টরপন্থিরা এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টায় ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে ফেলেছেন।

 

কট্টরপন্থি ওই রিপাবলিকানরা এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্প হয়ত ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির মতোই কোনও চুক্তি সই করতে চলেছেন, যে চুক্তিটিকে তারা এবং ট্রাম্প নিজেও এক দশকের বেশি সময় ধরে দুর্বল বলে উপহাস করে এসেছেন।

 

গত এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্প যখন তাড়াহুড়া করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তখনও কট্টরপন্থি রিপাবলিকানদের মধ্যে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আবার মে মাসের শেষদিকে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হওয়ার সময়ও তেমনটিই ঘটেছিল।

 

এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকার এই সময়ে সমালোচনা আরও তীব্র হচ্ছে।

 

গত রোববার সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্সে একটি পোস্টে এই সমালোচনার সূত্রপাত করেন, যা পরোক্ষভাবে আক্রমণাত্মক বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও ইসরায়েলপন্থি সিনেটর গ্রাহাম বলেন, তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন’। কারণ, চুক্তির বিষয়ে ইরানের দেওয়া সংস্করণের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সংস্করণের মিল নেই।

 

লিন্ডসে গ্রাহাম জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের যে কোনও চুক্তিতে অবশ্যই কংগ্রেসে ভোট হতে হবে। তিনি এমন পদক্ষেপ নেওয়া ‘অপরিহার্য’ উল্লেখ করে বলেছেন, চুক্তি সইয়ের মূল কারিগর ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং তার সহযোগী আলোচকদের অবশ্যই চূড়ান্ত চুক্তিটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।

 

জে ডি ভ্যান্সের পররাষ্ট্রনীতি লিন্ডসে গ্রাহামের তুলনায় অনেক বেশি যুদ্ধবিরোধী। আর ট্রাম্পের যে মিত্ররা তার কর্মকাণ্ড পছন্দ করছেন না, তারা সাধারণত প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে দোষারোপ না করে তার আশপাশের মানুষকে দোষারোপ করেন।

 

ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনও ইরানে যুদ্ধের একজন প্রভাবশালী সমর্থক। রোববার তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন। লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ট্রাম্প ইসরায়েলের সমালোচনা করলে মার্ক লেভিন তাতে আপত্তি জানান।

 

এরপর থেকে তিনি বারবার প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কেন শান্তি চুক্তির মূল লিখিত রূপটি প্রকাশ করছে না? লেভিন বলেন, আমি বেশ কয়েক দিন ধরে জিজ্ঞেস করছি, আমরা দেশের মানুষেরা কেন এই অসার এমওইউ দেখতে পাচ্ছি না? সত্যি বলতে, আমি এর আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। যদি এটি শান্তির জন্য দুর্দান্ত ফল বয়ে আনে, তবে তা প্রকাশ করুন।

 

রক্ষণশীল ধারার পত্রিকা ‘ন্যাশনাল রিভিউ’-এর সম্পাদকরাও জানতে চেয়েছেন, কেন সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আনা হচ্ছে না।

 

ইরানকে এখনও বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে- ট্রাম্পের এমন ইঙ্গিতকে রক্ষণশীল এই সম্পাদকরা ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাছাড়া, চুক্তির আওতায় যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না, এমন আগাম ইঙ্গিতেরও তারা সমালোচনা করেছেন।

 

সম্পাদকরা লিখেছেন, সব মিলিয়ে ট্রাম্প সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রকে ওবামার সেই ব্যর্থ ইরান চুক্তিতেই ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা তিনি নিজেই প্রথম মেয়াদে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। প্রেসিডেন্টের যতসব কড়া কথা ও হুমকির পর সেটি যদি সত্য হয়, তবে তা হবে অপমানজনক।

 

শান্তি আলোচনার আরেক সমালোচক ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সোমবার কিছুটা শান্ত থাকলেও স্পষ্টতই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, আমি প্রার্থনা করি, যে কোনও সমাধানই যেন আমাদের সব ত্যাগের মহিমা অক্ষুন্ন রাখে এবং মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে।

 

ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থি মিত্র প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তারা যেন ইরানের কথা বিশ্বাস না করে বা ইরান কোনও লিখিত চুক্তির শর্ত মেনে চলবে, এমন যেন মনে না করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার এরিক এরিকসন বলেছেন, ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। যারা মার্কিনিদের হত্যা করে, তারা এই চুক্তি পছন্দ করছে।

 

একইভাবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সাবেক সহযোগী মার্ক থিসেন সোমবার ফক্স নিউজে সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের তৈরি চুক্তির রূপরেখা অনেকটাই ওবামার চুক্তির মতো।

 

চুক্তির বিস্তারিত খুঁটিনাটিগুলো কী এবং কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা দেখতে আমি উদ্‌গ্রীব, তবে আমি শঙ্কিত, বলেন থিসেন।

 

আলোচকেরাই এখনও সমঝোতা স্মারকের ভেতরে থাকা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পুরোপুরি হাতে পাননি। আর তার মধ্যেই চলছে চুক্তি নিয়ে এই নানা আলোচনা-সমালোচনা। আসল সমস্যা সবসময় লুকিয়ে থাকে ভেতরের সূক্ষ্ম শর্তগুলোতে। সেখানে সবসময় খুঁত ধরার মতো কিছু না কিছু থাকেই।

 

কর্মকর্তারা চুক্তির মূল লিখিত বিষয় প্রকাশ না করা পর্যন্ত এতে ঠিক কী আছে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এ মুহূর্তে ট্রাম্পকে তার চুক্তিকে নিজ দলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যে চুক্তি নিয়ে বেশিরভাগই মানুষই খুশি নয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
এরদোয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে ট্রাম্পের প্রতি নেতানিয়াহুর আহ্বান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তুরস্কের কাছে উন্নত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিক্রিতে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু এ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রির বিষয়ে সতর্ক থাকতে।   চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বৈঠক হওয়ারও কথা রয়েছে। বৈঠকে তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এস-৪০০ থাকলে এফ-৩৫-এর গোপন প্রযুক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   তবে সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আইনগত শর্ত পূরণ হলে তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ বিক্রির সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পেন্টাগন।   নেতানিয়াহুর অভিযোগ, এরদোয়ান ও তুরস্কের শীর্ষ নেতারা ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। তাই এমন একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র তুলে দেওয়া উচিত হবে না।   তিনি বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী চরমপন্থি আদর্শে প্রভাবিত একটি সরকারকে এফ-৩৫ বা যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন দেওয়া উচিত নয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।   তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও হোয়াইট হাউস।   গত দুই বছরে গাজা যুদ্ধ ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এরদোয়ান সম্প্রতি জায়নবাদকে গণহত্যার মতাদর্শ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

সম্মান দিয়ে কথা বলুন, মিস্টার ট্রাম্প; হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

খামেনির মরদেহ পৌঁছেছে পবিত্র নগরী কোমে

ছবি: সংগৃহীত
সিআইএ এজেন্ট পরিচয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ভারতীয় ব্যবসায়ীর

নিজেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী গৌরব শ্রীবাস্তব। এই পরিচয়ের জোরেই তিনি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাগিয়ে নেন, যদিও শেষ পর্যন্ত জালিয়াতি ফাঁস হওয়ায় চুক্তিগুলো বাতিল হয়ে যায়। ওসিসিআরপি এবং ইন্দোনেশীয় গণমাধ্যম টেম্পো’র যৌথ অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   লখনউতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা গৌরব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ২০২০ সালে প্রাবোও সুবিয়ান্তো যখন ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই গৌরব সে দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেন। গৌরবের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ও ডাচ ব্যবসায়ী নিলস ট্রুস্ট মার্কিন আদালতে গৌরবের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির মামলা করেছেন। ট্রুস্টের দাবি, গৌরব নিজেকে সিআইএ’র এজেন্ট দাবি করে প্রভাব খাটাতেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাবোওর ওপর থাকা ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতেও তিনি সাহায্য করেছেন বলে বড়াই করতেন। প্রাবোও তাকে নিজের ‘সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।   তবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস্টোফার মিলার স্পষ্ট জানিয়েছেন, গৌরব কোনও সরকারি প্রতিনিধি ছিলেন না, বরং তিনি একজন ‘প্রতারক’, যিনি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে গৌরবের কোম্পানিগুলো ৩৬টি এফ-১৫ ফাইটার জেট ও ৩০টি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ক্রয়সহ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচটি প্রাথমিক চুক্তি পেয়েছিল।   অনুসন্ধানে দেখা যায়, অর্বিমো, জেগাসাস ও কনস্টেনটিসের মতো যেসব কোম্পানি এই চুক্তি পেয়েছিল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কোনও অভিজ্ঞতাই তাদের ছিল না। এমনকি ইন্দোনেশিয়া যেদিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, সময়ের ব্যবধানের কারণে ঠিক সেই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইমিং রাজ্যে গৌরবের দুটি কোম্পানি প্রথম নিবন্ধিত হয়! পরে কর ফাঁকির কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়। পিটি দিরগান্তারা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের আরেকটি চুক্তিও গৌরবের জালিয়াতি ধরা পড়ার পর বাতিল করা হয়।   প্রতিরক্ষা খাতের বাইরে প্রাবোওর ছোট ভাই হাশিম জোজোহাদিকুসুমোর মালিকানাধীন আরসারি গ্রুপ-এর সঙ্গেও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন গৌরব। সিআইএ’র গোপন অভিযানের কথা বলে আরসারি গ্রুপ থেকে ৫১ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, যার অর্ধেক টাকা ঘুরিয়ে গৌরব লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনতে ব্যবহার করেন। সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরসারি গ্রুপ পরবর্তীতে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।   বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ কেন্দ্র এই অর্থপাচারের বিষয়টি তদন্ত করছে। অন্যদিকে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে গৌরব ২০২২ ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে ছবিও তুলেছিলেন। অবশ্য গৌরব শ্রীবাস্তব তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অডিও রেকর্ডগুলোকে ‘বানানো’ দাবি করে ট্রুস্টের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজার শাসন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে গির্জায় হামলা চালিয়েও ‘খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা’ সাজার দাবি নেতানিয়াহুর

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি খাতে ৫১৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: সংগৃহীত
ন্যাটো সম্মেলনের আগে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ৮

ন্যাটো সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন কিয়েভ শহরের এবং একজন বুচা জেলার বাসিন্দা।   কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, সোমবার ভোরে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে জরুরি সেবাকর্মীরা।   কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, শহরের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার আহ্বান জানান।   মঙ্গলবার তুরস্কে শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে এ হামলাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়।   অন্যদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।   এদিকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকাকে ঘিরেও লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো শহরটি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে আমরা অসাধারণ সমর্থন পাই: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

তেহরানে আজ খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা, লাখো মানুষের ঢল

ছবি: সংগৃহীত

এআই চিপের চাহিদায় স্যামসাংয়ের মুনাফায় রেকর্ড উল্লম্ফনের আভাস

0 Comments