মুসলিম জাতির অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা এবার ইরানের সাধারণ জনগণের জন্য এক অসহনীয় সময়ে এসেছে।
ইরানে কুরবানির পশুর গোশত খাওয়ার রীতি থাকলেও, দেশটির বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে গোটা দেশে গোশতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে।
পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর মতো ঈদুল আজহা ইরানে ততটা বিস্তারিতভাবে উদযাপিত না হলেও, মসজিদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত পশু বিক্রয় ও জবাই কেন্দ্রের মাধ্যমে কুরবানির রীতিনীতি পালন করে থাকে।
এই কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ইসলামি শরিয়ত মেনে পশু কুরবানি করা হয়। তবে এই ব্যবস্থার আরেকটি প্রধান লক্ষ্য হলো, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে গোশত সরবরাহ করে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা।
তেহরান সিটি কর্পোরেশনের একটি সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট দোকানগুলোতে কুরবানির গোশত প্রতি কেজি ৭৪ লাখ রিয়াল (৪.৩০ ডলার) মূল্যে বিক্রি করা হবে।
অথচ সাধারণ বাজারে মান এবং এলাকার ওপর নির্ভর করে এই একই পরিমাণ গোশতের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি মাসে ১০০ ডলারেরও কম।
তেহরানের একজন মধ্যবয়সী নারী বাসিন্দা আল-জাজিরাকে বলেন, তিনি সাধারণত প্রতি তিন সপ্তাহে একবার তরকারি বা অন্য পদের জন্য গোশত কেনেন। তাঁদের মহল্লার কিছু পরিবারের কাছে এটি এখন এক ধরনের বিলাসিতার পণ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, গোশতের বিকল্প হিসেবে এখন মানুষ মুরগি, ডিম এবং ডাল জাতীয় খাবার গ্রহণ করছে, তবু এসব নিত্যপণ্যের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
গোশত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’-কে জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় গোশতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তিনি জানান, মার্কিন অবরোধের প্রভাব সামাল দিতে কিছু গোশত আমদানি করা হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে চাহিদা এতটা কম যে, বাজারের সব প্রয়োজন পূরণের জন্য দেশীয় পশুই যথেষ্ট।
ইরানের শ্রমজীবী সংক্রান্ত সংবাদ সংস্থা ‘ইলনা’-র চলতি সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, ঈদে সরকার ঘোষিত গোশতের সর্বনিম্ন কেজি প্রতি মূল্য ১০ বছর আগের একটি ৫০ কেজি ওজনের জীবিত ভেড়ার দামের সমান।
দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানের একটি কসাইখানার একজন যুবক কর্মী জানান, সরবরাহকারীরা দাম বাড়ানোর পর গত কয়েক মাসে তাঁদেরও বেশ কয়েকবার গোশতের দাম বাড়াতে হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ছাপানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিসংবলিত ২৫০ ডলারের নোটের নকশা তৈরি করতে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক কর্মকর্তারা। দেশটির ইতিহাসে ১৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি দেওয়ার এমন উদ্যোগ এই প্রথম। এই রাজনৈতিক চাপের বিরোধিতা করায় খেসারত দিতে হয়েছে ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের (বিইপি) প্রথম নারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া ‘প্যাটি’ সোলিমেনকে। আইনি ও পদ্ধতিগত আপত্তির কথা তোলায় গত মাসে তাঁকে আকস্মিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদায়বেলায় সহকর্মীদের পাঠানো এক ই–মেইলে সোলিমেন লিখেছেন, ‘দ্য বাক স্টপড হেয়ার’ (অর্থাৎ সব আইনি জবাবদিহির শেষ আশ্রয়স্থলটি এখানেই ছিল এবং আমি নীতিতে অটল ছিলাম)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের (অর্থ মন্ত্রণালয়) দুজন রাজনৈতিক মনোনীত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—ইউএস ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ এবং তাঁর সিনিয়র উপদেষ্টা মাইক ব্রাউন গত বছর থেকে এই নোটের খসড়া তৈরি করতে কর্মীদের ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেন। বিষয়টি নিয়ে বিইপির কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী জানান, বর্তমান ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। ১৮৬৬ সালের পর থেকে মার্কিন মুদ্রায় কোনো জীবিত মানুষের ছবি দেওয়া হয়নি। সে সময় এক সরকারি কর্মকর্তার ছবি ৫ সেন্টের নোটে আসার পর আইন করে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ট্রাম্পের পছন্দের ব্রিটিশ শিল্পী অভিযোগ উঠেছে, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ ব্যুরোর কর্মীদের কিছু নমুনা নকশা সরবরাহ করেন। এর একটিতে ২৫০ ডলারের নোটের ঠিক মাঝখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখচ্ছবি দেখা গেছে। আর এই মুখচ্ছবির দুই পাশে রয়েছে ট্রাম্প এবং বর্তমান অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষর। যুক্তরাজ্যের চিত্রশিল্পী ইয়ান আলেকজান্ডার এই নকশা তৈরি করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নকশায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। ট্রাম্পের পরামর্শেই নকশায় মার্কিন পতাকার রং এবং দেশের ও ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর লোগো যুক্ত করা হয়। আলেকজান্ডার বলেন, ‘ট্রাম্প আমাকে তাঁর প্রিয় ব্রিটিশ শিল্পী বলে ডাকতে পছন্দ করেন।’ নোটের অপর পিঠে আমেরিকার বিপ্লবকালীন পতাকা তৈরিকারক নারী বেটসি রসের ছবি দিয়ে ‘নারী মুক্তি’ থিম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা ট্রাম্প অত্যন্ত পছন্দ করেছেন বলেও জানান এই ব্রিটিশ শিল্পী। ‘রাতারাতি মুদ্রা ছাপা সম্ভব নয়’ মুদ্রণ ব্যুরোর সদ্য অপসারিত পরিচালক সোলিমেন ও তাঁর অধীনস্থ বিশেষজ্ঞরা প্রশাসনকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে একটি নতুন নোটের নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে সাধারণত ৬ থেকে ৮ বছর সময় লাগে। জালিয়াতি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই নোট তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। একজন কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রাজনৈতিক কর্তারা মনে করেন, রাতারাতি একটা নোট ছেপে ফেললেই হলো। আর সেটা এটিএম মেশিনে কাজ করা শুরু করবে! এটা পুরোপুরি পাগলামি।’ সোলিমেন আইনি বাধার কথা বলে কাজ এগোতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২৭ এপ্রিল তাঁকে আকস্মিকভাবে বদলি করা হয়। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত পরিচালক করা হয়েছে ট্রাম্পেরই আরেক অনুগত কর্মকর্তা মাইক ব্রাউনকে। ১০০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ২৫০ ডলারের নোটে ট্রাম্পের ছবির বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকলেও, মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বর্তমান প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর–সংবলিত ১০০ ডলারের নোট ছাপানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের ডাউনটাউন কার্যালয়ে এই নোটগুলো ছাপা হচ্ছে। মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোটে স্বাক্ষর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন শুরু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই ২৫০ ডলারের বিশেষ স্মারক নোটটি চালুর মরিয়া চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসে এ–সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হলেও তা এখনো ঝুলে আছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কংগ্রেস যদি বিলটি পাস করে, তবে ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় রাখতে তারা অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে এই কাজ করছে। এদিকে গত মাসে কোনো আইনি অনুমোদন ছাড়াই স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে তারা ট্রাম্পের ছবি ও স্বাক্ষর–সংবলিত বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যু করা শুরু করবে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন তৎপরতার জেরে দেশটির বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এলাকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাতে ইরানের চারটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন পরিচালনার জন্য ওই এলাকায় একটি বিশেষ গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপন করেছিল। হামলার সময় সেখানে আরও একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন পদক্ষেপ ছিল “নিয়ন্ত্রিত ও আত্মরক্ষামূলক”, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বজায় রাখা। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তাদের দাবি, জাহাজটিকে পিছু হটাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাসনিম আরও জানিয়েছে, ওই মার্কিন জাহাজের আগে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা আরও চারটি জাহাজকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হিসেবে পরিচিত ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর বিদেশি জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে আইআরজিসি। পরবর্তীতে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। এদিকে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের আইন পাস করে ইরানের পার্লামেন্ট, যার তীব্র বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী।
ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পিগেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটকে দেওয়া যুদ্ধবিমান, কৌশলগত বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ন্যাটো জোট অভ্যন্তরীণ চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে জোট থেকে সরে যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে গত সপ্তাহে এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এক দূত সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় অর্ধেক কৌশলগত বোমারু বিমান সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হবে। নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও কম সংখ্যক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ দেওয়া হবে এবং সাবমেরিন আর সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপকে নিজস্ব নজরদারি ড্রোনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহও কমিয়ে দিতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন, তিনি মনে করেন তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না। জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ইউরোপের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ন্যাটো কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন জোটের সামরিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। তবে ইউরোপ ও কানাডা এখন প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে, ফলে ভবিষ্যতে জোটের দায়িত্ব নতুনভাবে ভাগ করা হতে পারে।