আন্তর্জাতিক

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের বার্তা, রণতরি পাঠালেন ট্রাম্প

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থানকে ঘিরে। ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ ও রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তকে তেহরান সরাসরি সামরিক হুমকি হিসেবে দেখছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত—‘ট্রিগারে আঙুল’ রেখেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় অতিরিক্ত নৌবহর মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক নৌপথের সুরক্ষা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রতিরক্ষা নয়—বরং ইরানকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার কৌশল।
অন্যদিকে ইরান এই পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ, স্থল ও নৌ—সব ক্ষেত্রেই তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং যেকোনো হামলার মোকাবিলায় সক্ষম।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। পারস্য উপসাগর ঘিরে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পরিস্থিতি ঠেলে দিতে পারে।


কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই উত্তেজনা আদৌ সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে কি না। অনেকেই মনে করছেন, শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে, তবে শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলতে পারে। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক অনিশ্চিত ও অস্থির সময়ের মুখোমুখি—যেখানে যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বিনামূল্যে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না : ইরান

হরমুজ প্রণালিতে বিনামূল্যে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দিয়ে অন্যদের জন্য বিনামূল্যে নিরাপত্তা আশা করা যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি আরও বলেন, হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত রাখতে হবে, নয়তো সবাইকে বড় ধরনের খেসারতের ঝুঁকি নিতে হবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের স্থিতিশীলতা ইরান ও তার মিত্রদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তুলে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   সূত্র : আলজাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আমির হাতামি। ছবি: সংগৃহীত

শত্রুর মোকাবিলায় এক চুলও ছাড় নয়: ইরানের সেনাপ্রধান

গালিবাফ ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করলেন

ছবি : সংগৃহীত
গাজার মতো লেবাননেও ‘ইয়েলো লাইন’ ঘোষণা করল ইসরাইল

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও গাজার আদলে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি হামলা চালানো হবে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’-এর দক্ষিণ অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে।   ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সেনাদের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসীকে’ শনাক্ত করে, যারা তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল।   এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর একই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়, যা কার্যত অঞ্চলটিকে দুই সামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ভাগ করে দিয়েছে।   এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল-এর ওপর হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।   রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে লেবানন সরকার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের ‘চালাকি’র অভিযোগ ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

ইরানি জাহাজ জব্দের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীর

লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।   শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, বিন্ত জবেইল জেলার ঘানদুরিয়েহ এলাকায় ইউনিফিল বাহিনীর ওপর হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা বলেছে, ঘটনাটি নিয়ে লেবানন সেনাবাহিনীর তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। এর আগে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানায়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, এ হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চীনা মুদ্রায় ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত

বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ও দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ছবি: সংগৃহীত

কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়াম দেবে না ইরান

0 Comments