মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার তাঁর সংক্ষিপ্ত মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করেছেন। এ সময় তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই নেতারা ভয় পাচ্ছেন যে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ানোর যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তিতে সেই সমস্যার কোনো সমাধান আসেনি।
‘তাঁরা আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন,’ স্বীকার করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানকে শুধু তাদের পরমাণু কর্মসূচিই সীমিত করলে চলবে না। একই সঙ্গে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনে হুতিদের সমর্থন দেওয়াও বন্ধ করতে হবে।
এদিকে বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংঘাতের পর এসব গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের বর্তমান কৌশলগত চিন্তাভাবনা সেই ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।
.
তাঁরা একই সঙ্গে বলেন, যেসব অনিয়মিত যোদ্ধাকে ইসরায়েল অনেকটা এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা হলেও অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে, সামনে তাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে হিজবুল্লাহর ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীগুলোর প্রধান ভরসা হয়েই আছে এই হিজবুল্লাহ। তবে ইরানের জন্য এই সশস্ত্র ইসলামি সংগঠনটি তাদের প্রধান কৌশলগত দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তা হলো, ইসরায়েলের সরাসরি হামলা ঠেকানো।
এরপরও তেহরান হিজবুল্লাহর প্রতি তাদের সমর্থন ধরে রেখেছে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সহায়তায় লেবাননে এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হানিন গাদ্দার বলেন, ‘ইরানিরা বর্তমান খারাপ সময়কে সাময়িক বলে মনে করছে এবং বিশ্বাস করে হিজবুল্লাহ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে...রেভোল্যুশনারি গার্ডের জন্য এই অঞ্চলে তাদের ছায়া বাহিনীগুলো পুনর্গঠন করা এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল করে ইরান মূলত ইসরায়েল (কারণ, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ চালিয়ে যেতে আগ্রহী) ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গেও তেহরানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা সাম্প্রতিক সংঘাতের শেষ দিনগুলোতে যোগ দিয়েছিল। যদিও তারা খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি, তবে ইসরায়েলে হামলা চালানোর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলা জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা ঠিকই দেখিয়েছে। তবে হুতিরা অনেকটা স্বাধীনভাবেই কাজ করে।
হানিন গাদ্দার বলেন, ‘হুতিরা অত্যন্ত কট্টরপন্থী এবং যুদ্ধের সময় তারা বেশ কাজে এসেছিল। কিন্তু তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইরানিদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।’
ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। সংঘাতের সময় তারা নিজেদের শক্তির জানান দিলেও কখনোই তাদের পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহার করেনি। এসব গোষ্ঠী ইরাকে মার্কিন সম্পদ ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে হওয়া কয়েক ডজন ড্রোন এবং রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু একযোগে মাঠে নামেনি। প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা এবং ইরাকের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক করে তুলেছে।
বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হরাইজন এনগেজের ইরাকি মিলিশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল নাইটস বলেন, ‘ইরান প্রত্যাশা করলেও তারা হয়তো বেশি ঝুঁকি নিতে চায় না।’
ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছিল ইরান, যাতে কুর্দিরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে বাস্তবে, কুর্দিদের যুদ্ধে না জড়ানোর পেছনে নিজস্ব কিছু কারণ ছিল।
অন্যদিকে জানুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের একেবারে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চেষ্টা করেছিল ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী সংগঠিত করার। এর মধ্যে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের আরব এবং দক্ষিণ-পূর্বের বালুচ সম্প্রদায়ও ছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বর্তমানে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক মাইকেল মিলশটেইন বলেন, ‘(এই সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে) সাধারণ কিছু যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু তা খুব বেশি দূর এগোয়নি।’
একইভাবে, উত্তর ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলও সফল হয়নি। যদিও এই দুই দেশের সঙ্গেই কুর্দিদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
সাবেক ঊর্ধ্বতন কুর্দি ও মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে কয়েক হাজার হালকা অস্ত্রধারী কুর্দি যোদ্ধার উত্তর-পশ্চিম ইরানে প্রবেশ করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানশক্তির সুরক্ষায় এসব যোদ্ধা যত দ্রুত এবং যত দূর সম্ভব এগিয়ে যাবে। তাদের লক্ষ্য ছিল তেহরান সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী এই অগ্রসরমাণ কুর্দিদের আক্রমণ ঠেকাবে বলে আশা করা হয়েছিল। ঠিক তখনই তাদের (ইরানি বাহিনী) ওপর ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালানো সহজ হতো।
এই পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিন্তাভাবনায় ছিল। তবে এর সফলতার সম্ভাবনা নিয়ে ছিল মতভেদ।
এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সাবেক এক উপদেষ্টা বলেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কুর্দি যোদ্ধারা ইরানকে ‘করাতের মতো চিরে ফেলতে পারত’। তবে অন্য আরেকজনের মতে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি–অধ্যুষিত এলাকার বাইরে যাওয়াটা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন হতো।
সেই মুহূর্তে, তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামানোর মতো মাত্র ‘কয়েক শ’ যোদ্ধা প্রস্তুত ছিল এবং কুর্দি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। কারণ, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখেছিলেন, যখন ওয়াশিংটন এমন একটি চাপিয়ে দেওয়া চুক্তিকে সমর্থন করেছিল, যার ফলে কুর্দিদের বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এবং কুর্দিদের সাবেক কর্মকর্তারা উভয়েই জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার জন্য ১২ থেকে ২৪ মাসের প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। এই সময়ে পর্যাপ্ত যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র বিতরণ এবং কুর্দিদের মধ্যে একটি একক নেতৃত্ব (কমান্ড) তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস ভেবেছিল এটি কিছু দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
আরেকটি চূড়ান্ত কারণ ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কঠোর ব্যক্তিগত আপত্তি। তাঁর কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন পর নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হন। ওই কয়েক দিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের থানা, সেনাঘাঁটি ও সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, যাতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সহজেই সেখানে আক্রমণ চালাতে পারে।
কুর্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিরিয়ার একটি নতুন দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ, তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানান, বিপদে থাকা এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্যই একটি সামরিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিষদ তাদের অঞ্চলে নতুন সিরীয় সরকারের ক্ষমতা সুসংহত করতেও বাধা দেবে, যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের স্বার্থই রক্ষা করবে।
এদিকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়তে ইসরায়েল একের পর এক ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া গোষ্ঠী তৈরি করেছে। ইসরায়েল গাজার ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা দখল করে আছে। এর বাইরের এলাকায় বাস করা ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে।
মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং অন্যান্য ‘খুবই সীমিত’ কৌশলগত দায়িত্ব পালন করেছে, তবে এর থেকে অত্যন্ত মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে।
মিলশটেইন বলেন, ‘এরা কোনোভাবেই গাজার কৌশলগত অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না... সাধারণ মানুষের কাছে তাদের বিন্দুমাত্র সমর্থন নেই... (তারা) কখনোই হামাসের বিকল্প হতে পারবে না।’
ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর একটি চেষ্টা চলছে। স্পষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রক্সি বাহিনী ব্যবহারের লোভ থেকেই যাচ্ছে। সিরিয়া, লিবিয়া, সুদানসহ অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রতিক ও চলমান সংঘাতগুলোতেও এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে।
মিলশটেইন বলেন, ‘আপনি প্রক্সি বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে পারেন না। এরা কাজে দেবে না, বরং উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস। শুক্রবার এ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমাও অতিক্রম করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ের লিখিত অনুলিপিতে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চালু বা স্থগিত রাখার নীতি মার্কিন ভিসা নীতি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত আইনগত এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়াসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছে। একই নীতির আওতায় গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পর্যালোচনা এবং গ্রিনকার্ড প্রস্তুতের প্রক্রিয়াতেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন যুক্তি দেখানো হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানহাটান জেলা আদালতে মামলা করে অভিবাসী অধিকার সংগঠন Catholic Legal Immigration Network এবং African Communities Together। মামলাটির শুনানি শেষে শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানান বিচারক জ্যানেট ভার্গাস। এর আগে গত ৩ আগস্ট কলাম্বিয়া জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। সাম্প্রতিক এসব আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
সম্প্রতি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক চুক্তি করেছে পাকিস্তান। এতে বলা হয়েছে অন্য কোনো দেশ যদি এ তিন দেশের কারও ওপর হামলা চালায় তাহলে এটি সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ধারার সঙ্গে মিল থাকায় অনেকে তিন দেশের এ জোটকে ‘সুন্নি ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছে। ভারতের মেজর জেনারেল (অবঃ) গগন দ্বীপ বক্সি বলেছেন, চুক্তি করার আগ থেকেই তুরস্ক পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সহায়তা করছে। যা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের সময়। ওই সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন জানাতে করাচি বন্দরে নিজেদের একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় তুরস্ক। এছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে এক হাজারের বেশি ড্রোন দিয়ে ও সেগুলো পরিচালনা করে তুরস্ক সহায়তা করেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। কিন্তু অবস্থান দূর হওয়ার কারণে তুরস্ক তাদের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে আসতে পারবে না বলে জানান তিনি। ভারতের সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, যদি তুরস্ক কখনো পাকিস্তানকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে সহায়তা করতে আসে তাহলে তাদের নৌসেনারা তার্কিস নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে। তিনি বলেন, “পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করা তুরস্কের সেনাদের ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগর হয়ে আসতে হবে। পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করতে আসা তুরস্কের নৌবহরকে ভারতের নৌবাহিনী ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে।” সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে দুই পাইলটসহ মোট আটজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২১ আগস্ট) এবং স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি জানায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, সেসনা ৪৪১ ফ্লাইটটি আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজ শহর থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কেপ নিউনহামের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (NTSB) আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন জানান, সিকিউরিটি অ্যাভিয়েশনের পরিচালিত বিমানটিতে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা বেঁচে আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, কেপ নিউনহাম বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি মাটিতে বিধ্বস্ত হয়। ওই স্থাপনাটি মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এয়ারস্ট্রিপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে দূরপাল্লার রাডার সাইটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেপ নিউনহাম এলাকায় সাধারণ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের পরিবর্তে মূলত সামরিক ও বিশেষ চার্টার্ড বিমান অবতরণের অনুমতি রয়েছে। সূত্র: সিএনএন