আন্তর্জাতিক

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি বাহিনী কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার তাঁর সংক্ষিপ্ত মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করেছেন। এ সময় তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই নেতারা ভয় পাচ্ছেন যে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ানোর যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তিতে সেই সমস্যার কোনো সমাধান আসেনি।

 

‘তাঁরা আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন,’ স্বীকার করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানকে শুধু তাদের পরমাণু কর্মসূচিই সীমিত করলে চলবে না। একই সঙ্গে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনে হুতিদের সমর্থন দেওয়াও বন্ধ করতে হবে।

 

এদিকে বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংঘাতের পর এসব গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের বর্তমান কৌশলগত চিন্তাভাবনা সেই ধারণার সঙ্গে মিলে যায়।

.

তাঁরা একই সঙ্গে বলেন, যেসব অনিয়মিত যোদ্ধাকে ইসরায়েল অনেকটা এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা হলেও অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে, সামনে তাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

 

২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে হিজবুল্লাহর ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীগুলোর প্রধান ভরসা হয়েই আছে এই হিজবুল্লাহ। তবে ইরানের জন্য এই সশস্ত্র ইসলামি সংগঠনটি তাদের প্রধান কৌশলগত দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তা হলো, ইসরায়েলের সরাসরি হামলা ঠেকানো।

 

এরপরও তেহরান হিজবুল্লাহর প্রতি তাদের সমর্থন ধরে রেখেছে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সহায়তায় লেবাননে এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হানিন গাদ্দার বলেন, ‘ইরানিরা বর্তমান খারাপ সময়কে সাময়িক বলে মনে করছে এবং বিশ্বাস করে হিজবুল্লাহ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে...রেভোল্যুশনারি গার্ডের জন্য এই অঞ্চলে তাদের ছায়া বাহিনীগুলো পুনর্গঠন করা এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।’

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল করে ইরান মূলত ইসরায়েল (কারণ, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ চালিয়ে যেতে আগ্রহী) ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

 

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গেও তেহরানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা সাম্প্রতিক সংঘাতের শেষ দিনগুলোতে যোগ দিয়েছিল। যদিও তারা খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি, তবে ইসরায়েলে হামলা চালানোর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলা জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা ঠিকই দেখিয়েছে। তবে হুতিরা অনেকটা স্বাধীনভাবেই কাজ করে।

 

হানিন গাদ্দার বলেন, ‘হুতিরা অত্যন্ত কট্টরপন্থী এবং যুদ্ধের সময় তারা বেশ কাজে এসেছিল। কিন্তু তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইরানিদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।’

 

ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। সংঘাতের সময় তারা নিজেদের শক্তির জানান দিলেও কখনোই তাদের পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহার করেনি। এসব গোষ্ঠী ইরাকে মার্কিন সম্পদ ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে হওয়া কয়েক ডজন ড্রোন এবং রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু একযোগে মাঠে নামেনি। প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা এবং ইরাকের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক করে তুলেছে।

 

বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হরাইজন এনগেজের ইরাকি মিলিশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল নাইটস বলেন, ‘ইরান প্রত্যাশা করলেও তারা হয়তো বেশি ঝুঁকি নিতে চায় না।’

 

ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছিল ইরান, যাতে কুর্দিরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে বাস্তবে, কুর্দিদের যুদ্ধে না জড়ানোর পেছনে নিজস্ব কিছু কারণ ছিল।

 

অন্যদিকে জানুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের একেবারে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চেষ্টা করেছিল ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী সংগঠিত করার। এর মধ্যে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের আরব এবং দক্ষিণ-পূর্বের বালুচ সম্প্রদায়ও ছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বর্তমানে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক মাইকেল মিলশটেইন বলেন, ‘(এই সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে) সাধারণ কিছু যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু তা খুব বেশি দূর এগোয়নি।’

 

একইভাবে, উত্তর ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলও সফল হয়নি। যদিও এই দুই দেশের সঙ্গেই কুর্দিদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

 

সাবেক ঊর্ধ্বতন কুর্দি ও মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে কয়েক হাজার হালকা অস্ত্রধারী কুর্দি যোদ্ধার উত্তর-পশ্চিম ইরানে প্রবেশ করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানশক্তির সুরক্ষায় এসব যোদ্ধা যত দ্রুত এবং যত দূর সম্ভব এগিয়ে যাবে। তাদের লক্ষ্য ছিল তেহরান সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী এই অগ্রসরমাণ কুর্দিদের আক্রমণ ঠেকাবে বলে আশা করা হয়েছিল। ঠিক তখনই তাদের (ইরানি বাহিনী) ওপর ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালানো সহজ হতো।

 

এই পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিন্তাভাবনায় ছিল। তবে এর সফলতার সম্ভাবনা নিয়ে ছিল মতভেদ।

 

এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সাবেক এক উপদেষ্টা বলেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কুর্দি যোদ্ধারা ইরানকে ‘করাতের মতো চিরে ফেলতে পারত’। তবে অন্য আরেকজনের মতে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি–অধ্যুষিত এলাকার বাইরে যাওয়াটা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন হতো।

 

সেই মুহূর্তে, তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামানোর মতো মাত্র ‘কয়েক শ’ যোদ্ধা প্রস্তুত ছিল এবং কুর্দি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। কারণ, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখেছিলেন, যখন ওয়াশিংটন এমন একটি চাপিয়ে দেওয়া চুক্তিকে সমর্থন করেছিল, যার ফলে কুর্দিদের বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এবং কুর্দিদের সাবেক কর্মকর্তারা উভয়েই জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার জন্য ১২ থেকে ২৪ মাসের প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। এই সময়ে পর্যাপ্ত যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র বিতরণ এবং কুর্দিদের মধ্যে একটি একক নেতৃত্ব (কমান্ড) তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস ভেবেছিল এটি কিছু দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

 

আরেকটি চূড়ান্ত কারণ ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কঠোর ব্যক্তিগত আপত্তি। তাঁর কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন পর নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হন। ওই কয়েক দিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের থানা, সেনাঘাঁটি ও সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, যাতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সহজেই সেখানে আক্রমণ চালাতে পারে।

 

কুর্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিরিয়ার একটি নতুন দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ, তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানান, বিপদে থাকা এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্যই একটি সামরিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিষদ তাদের অঞ্চলে নতুন সিরীয় সরকারের ক্ষমতা সুসংহত করতেও বাধা দেবে, যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের স্বার্থই রক্ষা করবে।

 

এদিকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়তে ইসরায়েল একের পর এক ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া গোষ্ঠী তৈরি করেছে। ইসরায়েল গাজার ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা দখল করে আছে। এর বাইরের এলাকায় বাস করা ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে।

মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং অন্যান্য ‘খুবই সীমিত’ কৌশলগত দায়িত্ব পালন করেছে, তবে এর থেকে অত্যন্ত মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে।

 

মিলশটেইন বলেন, ‘এরা কোনোভাবেই গাজার কৌশলগত অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না... সাধারণ মানুষের কাছে তাদের বিন্দুমাত্র সমর্থন নেই... (তারা) কখনোই হামাসের বিকল্প হতে পারবে না।’

 

ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর একটি চেষ্টা চলছে। স্পষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রক্সি বাহিনী ব্যবহারের লোভ থেকেই যাচ্ছে। সিরিয়া, লিবিয়া, সুদানসহ অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রতিক ও চলমান সংঘাতগুলোতেও এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে।

 

মিলশটেইন বলেন, ‘আপনি প্রক্সি বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে পারেন না। এরা কাজে দেবে না, বরং উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি বাহিনী কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার তাঁর সংক্ষিপ্ত মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করেছেন। এ সময় তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা নিয়ে বেশ ইতিবাচক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই নেতারা ভয় পাচ্ছেন যে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ানোর যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তিতে সেই সমস্যার কোনো সমাধান আসেনি।   ‘তাঁরা আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন,’ স্বীকার করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে তেহরানকে শুধু তাদের পরমাণু কর্মসূচিই সীমিত করলে চলবে না। একই সঙ্গে গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনে হুতিদের সমর্থন দেওয়াও বন্ধ করতে হবে।   এদিকে বিশ্লেষক এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধারণা, এই সংঘাতের পর এসব গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থন আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেহরানের বর্তমান কৌশলগত চিন্তাভাবনা সেই ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। . তাঁরা একই সঙ্গে বলেন, যেসব অনিয়মিত যোদ্ধাকে ইসরায়েল অনেকটা এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা হলেও অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে, সামনে তাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।   ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে হিজবুল্লাহর ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠী ও প্রক্সি বাহিনীগুলোর প্রধান ভরসা হয়েই আছে এই হিজবুল্লাহ। তবে ইরানের জন্য এই সশস্ত্র ইসলামি সংগঠনটি তাদের প্রধান কৌশলগত দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তা হলো, ইসরায়েলের সরাসরি হামলা ঠেকানো।   এরপরও তেহরান হিজবুল্লাহর প্রতি তাদের সমর্থন ধরে রেখেছে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সহায়তায় লেবাননে এই গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।   ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির সিনিয়র ফেলো হানিন গাদ্দার বলেন, ‘ইরানিরা বর্তমান খারাপ সময়কে সাময়িক বলে মনে করছে এবং বিশ্বাস করে হিজবুল্লাহ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে...রেভোল্যুশনারি গার্ডের জন্য এই অঞ্চলে তাদের ছায়া বাহিনীগুলো পুনর্গঠন করা এবং তাদের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এখন খুবই জরুরি।’   ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিকে লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল করে ইরান মূলত ইসরায়েল (কারণ, ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ চালিয়ে যেতে আগ্রহী) ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।   ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গেও তেহরানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা সাম্প্রতিক সংঘাতের শেষ দিনগুলোতে যোগ দিয়েছিল। যদিও তারা খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি, তবে ইসরায়েলে হামলা চালানোর এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলা জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা ঠিকই দেখিয়েছে। তবে হুতিরা অনেকটা স্বাধীনভাবেই কাজ করে।   হানিন গাদ্দার বলেন, ‘হুতিরা অত্যন্ত কট্টরপন্থী এবং যুদ্ধের সময় তারা বেশ কাজে এসেছিল। কিন্তু তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইরানিদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।’   ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সমর্থন দিয়ে আসছে ইরান। সংঘাতের সময় তারা নিজেদের শক্তির জানান দিলেও কখনোই তাদের পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহার করেনি। এসব গোষ্ঠী ইরাকে মার্কিন সম্পদ ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে হওয়া কয়েক ডজন ড্রোন এবং রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু একযোগে মাঠে নামেনি। প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা এবং ইরাকের জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক করে তুলেছে।   বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হরাইজন এনগেজের ইরাকি মিলিশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল নাইটস বলেন, ‘ইরান প্রত্যাশা করলেও তারা হয়তো বেশি ঝুঁকি নিতে চায় না।’   ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছিল ইরান, যাতে কুর্দিরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে বাস্তবে, কুর্দিদের যুদ্ধে না জড়ানোর পেছনে নিজস্ব কিছু কারণ ছিল।   অন্যদিকে জানুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের একেবারে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চেষ্টা করেছিল ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী সংগঠিত করার। এর মধ্যে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের আরব এবং দক্ষিণ-পূর্বের বালুচ সম্প্রদায়ও ছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বর্তমানে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক মাইকেল মিলশটেইন বলেন, ‘(এই সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে) সাধারণ কিছু যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু তা খুব বেশি দূর এগোয়নি।’   একইভাবে, উত্তর ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলও সফল হয়নি। যদিও এই দুই দেশের সঙ্গেই কুর্দিদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।   সাবেক ঊর্ধ্বতন কুর্দি ও মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে কয়েক হাজার হালকা অস্ত্রধারী কুর্দি যোদ্ধার উত্তর-পশ্চিম ইরানে প্রবেশ করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানশক্তির সুরক্ষায় এসব যোদ্ধা যত দ্রুত এবং যত দূর সম্ভব এগিয়ে যাবে। তাদের লক্ষ্য ছিল তেহরান সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী এই অগ্রসরমাণ কুর্দিদের আক্রমণ ঠেকাবে বলে আশা করা হয়েছিল। ঠিক তখনই তাদের (ইরানি বাহিনী) ওপর ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালানো সহজ হতো।   এই পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিন্তাভাবনায় ছিল। তবে এর সফলতার সম্ভাবনা নিয়ে ছিল মতভেদ।   এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সাবেক এক উপদেষ্টা বলেন, মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কুর্দি যোদ্ধারা ইরানকে ‘করাতের মতো চিরে ফেলতে পারত’। তবে অন্য আরেকজনের মতে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি–অধ্যুষিত এলাকার বাইরে যাওয়াটা অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন হতো।   সেই মুহূর্তে, তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামানোর মতো মাত্র ‘কয়েক শ’ যোদ্ধা প্রস্তুত ছিল এবং কুর্দি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন। কারণ, মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখেছিলেন, যখন ওয়াশিংটন এমন একটি চাপিয়ে দেওয়া চুক্তিকে সমর্থন করেছিল, যার ফলে কুর্দিদের বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।   যুক্তরাষ্ট্রের এবং কুর্দিদের সাবেক কর্মকর্তারা উভয়েই জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার জন্য ১২ থেকে ২৪ মাসের প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। এই সময়ে পর্যাপ্ত যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র বিতরণ এবং কুর্দিদের মধ্যে একটি একক নেতৃত্ব (কমান্ড) তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস ভেবেছিল এটি কিছু দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।   আরেকটি চূড়ান্ত কারণ ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের কঠোর ব্যক্তিগত আপত্তি। তাঁর কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন পর নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হন। ওই কয়েক দিন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের থানা, সেনাঘাঁটি ও সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, যাতে কুর্দি গোষ্ঠীগুলো সহজেই সেখানে আক্রমণ চালাতে পারে।   কুর্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সিরিয়ার একটি নতুন দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ, তথ্য ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানান, বিপদে থাকা এই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্যই একটি সামরিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিষদ তাদের অঞ্চলে নতুন সিরীয় সরকারের ক্ষমতা সুসংহত করতেও বাধা দেবে, যা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের স্বার্থই রক্ষা করবে।   এদিকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়তে ইসরায়েল একের পর এক ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া গোষ্ঠী তৈরি করেছে। ইসরায়েল গাজার ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা দখল করে আছে। এর বাইরের এলাকায় বাস করা ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে। মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং অন্যান্য ‘খুবই সীমিত’ কৌশলগত দায়িত্ব পালন করেছে, তবে এর থেকে অত্যন্ত মিশ্র ফলাফল পাওয়া গেছে।   মিলশটেইন বলেন, ‘এরা কোনোভাবেই গাজার কৌশলগত অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে না... সাধারণ মানুষের কাছে তাদের বিন্দুমাত্র সমর্থন নেই... (তারা) কখনোই হামাসের বিকল্প হতে পারবে না।’   ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা বাড়ানোর একটি চেষ্টা চলছে। স্পষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও প্রক্সি বাহিনী ব্যবহারের লোভ থেকেই যাচ্ছে। সিরিয়া, লিবিয়া, সুদানসহ অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রতিক ও চলমান সংঘাতগুলোতেও এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে।   মিলশটেইন বলেন, ‘আপনি প্রক্সি বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে পারেন না। এরা কাজে দেবে না, বরং উল্টো ক্ষতি ডেকে আনে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

চীনা ধনকুবেরকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত

ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিল চীন

প্রতীকী ছবি

ইসরাইলে তিন গুণ বেড়েছে ইরানি সাইবার হামলা

ছবি: সংগৃহীত
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নির্ধারিত আলোচনা বাতিল

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কথা বলা হলেও তা নাকব করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি জানান, এই সপ্তাহে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কারিগরি দলের’ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।   ইরানের আধা সামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ মুহূর্ত কোনো আলোচনা অনুষ্ঠিত জবে না।   ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কাঠামোর আওতায় কারিগরি আলোচনার প্রথম পর্বটি তখনই অনুষ্ঠিত হবে, যখন প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ হবে।  আলোচনা ও বৈঠকের তারিখ ও স্থান নিয়ে সমঝোতা হবে। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   এর আগে আল-জাজিরাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্রটি জানায়, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করা কারিগরি দলগুলোর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দোহায় বৈঠক করার কথা রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা উত্তেজনা প্রশমনের জন্য স্থাপিত যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো সচল রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

সুইজারল্যন্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক নয়, জানাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

চীনে ৫ দশমিক ২৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্কে ঘর ছাড়লেন বাসিন্দারা

ছবি: সংগৃহীত
উত্তরপ্রদেশে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগে তিন নারী আটক

ভারতের উত্তরপ্রদেশে গরুর মাংস রান্না ও সংরক্ষণের অভিযোগে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার একটি বাড়িতে গরুর মাংস রান্না করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বাড়িতে থাকা কয়েকজন পুরুষ পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।   পুলিশ জানায়, বাড়িতে থাকা নারীরাও সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।   অভিযানে একটি পাতিলে রান্না করা মাংস এবং একটি পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষিত কাঁচা মাংস উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারীরা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া মাংস গরুর এবং তা রাজ্যের বাইরে থেকে পরিবারের এক সদস্য এনে দিয়েছিলেন।   জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক সিং বলেন, উদ্ধার করা মাংস পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক নারীদের স্বামী এবং পরিবারের এক আত্মীয় বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওই আত্মীয় মুম্বাইয়ে কর্মরত বলে জানা গেছে।   আটক তিন নারীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের গরু জবাই নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।   পুলিশের দাবি, অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কেজি রান্না করা এবং এক কেজি কাঁচা মাংস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই মাংস কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারটি এর আগেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আক্তারুজ্জামান জুন ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে আরামকোর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ১৪ সৌদি নাগরিকের

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সে স্কাইডাইভিংয়ের বিমান বিধ্বস্ত, ১১ জন নিহত

ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার মধ্যেই আরও উন্নত অস্ত্র তৈরি করেছে ইরান

0 Comments