আন্তর্জাতিক

গাজার ধ্বংসস্তূপে নতুন প্রশ্ন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবে কে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শুধু শহর, হাসপাতাল ও শরণার্থী শিবির ধ্বংস করেনি; এটি ফিলিস্তিনের তিন দশকের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না।

 

১৯৪৮ সালের নাকবার পর ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু এ সংকটে তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভক্ত, অকার্যকর ও সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অসলো চুক্তির ৩০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে এবং গাজা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও অবরোধের মুখে রয়েছে।

 

ফিলিস্তিনি আইনসভা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, বহু বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং অর্থবহ সংস্কারের অভাব নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বেড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকটটি শুধু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখন মূল প্রশ্ন হলো— ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে।

 

২০০৬ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় সেই জনসমর্থনের নতুন পরীক্ষা হয়নি। তবে গাজা প্রশাসন পরিচালনা, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, বন্দি বিনিময় এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে হামাস এখনো ফিলিস্তিনি রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

একইভাবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদও নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ফাতাহ আন্দোলনও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

 

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না। বরং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-এর ব্যাপক সংস্কার, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ।

 

তাদের মতে, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো— গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির ও প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ফিলিস্তিনের জাতীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এক মরদেহের দাবিদার একাধিক, মৃতদের শনাক্তে বিপাকে নেপাল

ভোটেকোশী নদীতে ভেসে আসা বন্যার্তদের মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা। পোখরা বিজ্ঞান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত ১০০৩ নম্বর মরদেহটির দাবিদার হিসেবে একযোগে উপস্থিত হয়েছেন দুই পরিবার। এতে কোনটা কার স্বজন, তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে ডিএনএ পরীক্ষার শরণাপন্ন হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।   পোখরায় নিয়ে আসা মরদেহগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি এমন ঘটনা রয়েছে, যেখানে একটি লাশের বিপরীতে একাধিক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের দাবি করছেন। নিহত ব্যক্তি গোপাল দাহাল না দামোদর বাসিয়াল, তা নির্ধারণে উভয় পরিবারের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গের হিমঘরে সংরক্ষণে রাখবে কর্তৃপক্ষ।   কাস্কি জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র পরিদর্শক দীপক রিজাল জানান, বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাড়াহুড়ো বা বিভ্রান্তির কারণে এক স্বজন অন্য কারও মরদেহ ভুল করে নিয়ে যেতে পারেন। সে কারণেই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই এর সুরাহা করা হচ্ছে। একই ধরনের জটিলতার কারণে পুলিশ এ পর্যন্ত পাঁচটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে।   গোর্খা, তানাহু, ধাদিং ও পূর্ব নওয়ালপরাসী অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা ১০২টি লাশ পোখরায় আনা হয়েছিল। রবিবার পর্যন্ত তার মধ্যে মাত্র ১৬টি পরিবার সনাক্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া গেছে।   গোপাল দাহালের বোন মানজি থারু ও স্বজনেরা বার্দিয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই হাসপাতালে এসেছেন। অন্যদিকে রূপন্দেহীর দামোদর বাসিয়ালের ভাই রাধে শ্যাম শর্মা বাসিয়ালও সেই একই মরদেহের চেহারার সাথে নিজের নিখোঁজ ভাইয়ের তিল, ঠোঁট ও মুখের গঠন হুবহু মিলে যাওয়ার দাবি করছেন। উভয় পক্ষই লাশটি তাদের বলে নিশ্চিত করলেও ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন।   এদিকে মর্গে অতিরিক্ত মৃতদেহের চাপে ঠাঁই নেই অবস্থা তৈরি হয়েছে। পোখরা একাডেমির ৭২টি ফ্রিজিং চেম্বার থাকলেও এই মুহূর্তে সেখানে ৭৭টি মরদেহ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমাগারের ভেতর অস্থায়ী একটি কনটেইনার বসিয়ে সেখানে ২৫টি মরদেহ স্থানান্তর করতে হয়েছে।   পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জেলা কর্মকর্তা কুমার সিং গুরুং জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী চিতওয়ানের মতো এখানে পচন ধরার ভয় নেই, কারণ পোখরায় দীর্ঘ মেয়াদে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এখনই নামপরিচয়হীন মরদেহ দাফনের কোনো তাড়া নেই। অন্তত আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে স্বজনেরা না আসলে ‘অশনাক্ত ও দাবিহীন মরদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ২০২৬’ অনুযায়ী এগুলো ট্যাগ নম্বর ও ভূ-অবস্থান নির্দিষ্ট করে সংরক্ষিত স্থানে দাফন করা হবে, যেন আগামী ১২ বছরের মধ্যে কোনো দাবিদার পাওয়া গেলে ডিএনএ মিলিয়ে মরদেহ উত্তোলন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।   সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের জলবিদ্যুৎ টানেলে আটকা ৯ শতাধিক মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যস্ততম ১০ বিমানবন্দর

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর সাইপ্রাসে যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে নিহত ৮, নিখোঁজ ১৮

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ২৪১ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।   রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া বন্দরের কাছাকাছি সমুদ্রে ফেরিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।   জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে মোট ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে থাকা আটজন নাবিকসহ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে কী কারণে ফেরিটি ডুবে গেল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, ডুবে যাওয়ার আগে ফেরিটি অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। পানির ওপর বারবার ওপরে উঠে আবার জোরে নিচে আছড়ে পড়ছিল জাহাজটি। একপর্যায়ে ফেরিটির সামনের অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং সেখান দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।   একজন প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী সিএনএন তুর্ককে জানান, কয়েক মিনিট ধরে জাহাজটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপছিল। একপর্যায়ে সেটি পানির ওপর অনেকটা ওপরে উঠে যায় এবং পরে জোরে আছড়ে পড়ে। এরপর ফেরিটির সামনের বাম অংশ ফেটে গিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে।   দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেকে লাল রঙের লাইফ জ্যাকেট পরে ফেরিটির ওপর অবস্থান নেন। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিগত নৌযানও কাজে নামে।   তুরস্কের সঙ্গে সামুদ্রিক যোগাযোগ: দুর্ঘটনাটি ঘটে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় কাইরেনিয়া উপকূলের কাছে। উত্তর সাইপ্রাসের সঙ্গে তুরস্কের সরাসরি যোগাযোগকারী কয়েকটি সামুদ্রিক শাটল পরিষেবার মধ্যে দুর্ঘটনাকবলিত ফেরিটিও ছিল। এদিকে দুর্ঘটনার পর কাইরেনিয়ার একটি হাসপাতাল ও বন্দরের আশপাশে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সংকট ব্যবস্থাপনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা আটক: দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফেরিটির ক্যাপ্টেন ও সাতজন নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে উত্তর সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকেলের দিকে ফেরিটি পুরোপুরি সাগরে তলিয়ে যায়। বর্তমানে এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫১৪ মিটার গভীরে অবস্থান করছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্কের ডুবুরিরাও অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে বাগে আনতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মুসলিম বিশ্বের শত্রু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা : মোজতবা খামেনি

সংগৃহীত ছবি

নেপালের বন্যায় জলবিদ্যুৎ টানেলে নিখোঁজ ৮৯৮, উদ্ধার ৩৬১

সংগৃহীত ছবি
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যা, মৃত বেড়ে ৬৮৬; নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দুই দেশে এখন পর্যন্ত ৬৮৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ৬৭০ জন এবং চীনে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   শনিবার রাতে নেপালে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ ও শনাক্ত করতেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।   বন্যায় বেঁচে যাওয়া মানুষজন ধ্বংস হয়ে যাওয়া বসতিতে ফিরে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজছেন। স্বজন হারানো পরিবারগুলো প্রতিদিন হাসপাতাল ও মর্গে গিয়ে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন।   এদিকে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নেপাল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ৫ লাখ ডলার সহায়তার কথা জানানো হয়েছিল।   এদিকে নেপালের বন্যাকবলিত এলাকার কাছের একটি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, রসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছে।   রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়। তবে তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।   সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, বাড়ছে হতাহত

ছবি: সংগৃহীত

কিয়েভে ড্রোন হামলায় ৩৭ জন নিহত, আহত ৪২

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে মালয়েশিয়ায় ৬ দফা দাবি

0 Comments