আন্তর্জাতিক

গাজার ধ্বংসস্তূপে নতুন প্রশ্ন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবে কে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শুধু শহর, হাসপাতাল ও শরণার্থী শিবির ধ্বংস করেনি; এটি ফিলিস্তিনের তিন দশকের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না।

 

১৯৪৮ সালের নাকবার পর ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু এ সংকটে তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভক্ত, অকার্যকর ও সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অসলো চুক্তির ৩০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে এবং গাজা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও অবরোধের মুখে রয়েছে।

 

ফিলিস্তিনি আইনসভা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, বহু বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং অর্থবহ সংস্কারের অভাব নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বেড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকটটি শুধু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখন মূল প্রশ্ন হলো— ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে।

 

২০০৬ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় সেই জনসমর্থনের নতুন পরীক্ষা হয়নি। তবে গাজা প্রশাসন পরিচালনা, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, বন্দি বিনিময় এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে হামাস এখনো ফিলিস্তিনি রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

একইভাবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদও নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ফাতাহ আন্দোলনও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

 

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না। বরং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-এর ব্যাপক সংস্কার, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ।

 

তাদের মতে, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো— গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির ও প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ফিলিস্তিনের জাতীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ।

 

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
‘পরিবারের সঙ্গে হয়তো এটাই শেষ কথা’, কেন উইটকফকে এমন কথা কেন বললেন আরাগচি?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় ইরানি আলোচক দলকে সব সময় যে বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে চলতে হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর নেতৃত্বেই ইরানি আলোচক দল যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের নেতৃত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এক কথোপকথনের কথা তুলে ধরে আরাগচি বলেন, ‘আমি উইটকফকে বলেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকি তেহরানের আলোচকদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।’   মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।   উইটকফের সঙ্গে সে কথোপকথন স্মরণ করে আরাগচি আরও বলেন, ‘আমি উইটকফকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কি কখনো এমন কোনো বৈঠকে ছিলেন, যেখানে প্রতিমুহূর্তে আপনার মনে হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে পুরো বৈঠকটি বোমা হামলার শিকার হতে পারে? ফোনে কথা বলার সময় আপনি কি কখনো এমন অবস্থায় ছিলেন, যখন আপনার মনে হয়েছে, আপনি বিস্ফোরিত বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারেন, যেমনটা তারা বলে থাকে। ফোনে পরিবারের খোঁজ নেওয়ার সময় কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, এটিই হয়তো (তাদের সঙ্গে) শেষবারের মতো কথা?’   ইরানের প্রতিরোধ আরাগচি বলেন, অব্যাহত হুমকি সত্ত্বেও তেহরান পিছু হটতে অস্বীকৃতি জানায়।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবির জবাবে আমরা প্রতিরোধ জানিয়েছি এবং নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থেকেছি। তারা যখন দেখল আলোচনার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব নয়, তখন তারা যুদ্ধ শুরু করে।’   প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আরাগচি আরও বলেন, ‘আপনাদের আলোচনা করতে হবে। আমাদের হুমকি দেওয়া যাবে না আর ঘুষ বা প্রলোভন দিয়েও আমাদের প্রভাবিত করা যাবে না।’   যুক্তরাষ্ট্র গত বছর প্রথম পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানান ইরানের এই মন্ত্রী। এর পর থেকে মাঝেমধ্যেই যোগাযোগ হতো। আরাগচি দাবি করেন, আলোচনার টেবিলে তেহরানের দৃঢ় অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।   আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তারা ১২ দিনের যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে ইরান ভয় পায় না।   ‘ইরান ভেনেজুয়েলা নয়’ সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা সম্ভব, ওয়াশিংটনের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।   এ ঘটনার কথা উল্লেখ করে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানে একক ক্ষমতাকাঠামো ব্যবস্থায় চলে না। তাই একজন নেতাকে সরিয়ে দিলেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে না।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ভেনেজুয়েলা নয় যে একজনকে ধরে নিয়ে গেলে বাকিরা ভয় পেয়ে পিছু হটে যাবে।   তেহরানের ক্ষমতাকাঠামোয় ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে দেওয়া আছে বলে উল্লেখ করেন আরাগচি।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানি নেতা এ মন্তব্য করেছেন। আজ সোমবার টানা নবম দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে মার্কিন অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সংঘাতের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ানের আশপাশে চীনা জাহাজের তৎপরতা বেড়েছে: কোস্ট গার্ড

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচ চলাকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবানলের ধোঁয়ার ক্ষতিপূরণ চাইলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
গাজার ধ্বংসস্তূপে নতুন প্রশ্ন, ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করবে কে?

গাজায় এক হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শুধু শহর, হাসপাতাল ও শরণার্থী শিবির ধ্বংস করেনি; এটি ফিলিস্তিনের তিন দশকের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আর ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না।   ১৯৪৮ সালের নাকবার পর ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু এ সংকটে তাদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিভক্ত, অকার্যকর ও সংস্কারবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অসলো চুক্তির ৩০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে, পূর্ব জেরুজালেমে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে এবং গাজা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও অবরোধের মুখে রয়েছে।   ফিলিস্তিনি আইনসভা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, বহু বছর ধরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতি এবং অর্থবহ সংস্কারের অভাব নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা বেড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংকটটি শুধু প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখন মূল প্রশ্ন হলো— ভবিষ্যতে পুরো ফিলিস্তিনি জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্ব কীভাবে পুনর্গঠন করা হবে।   ২০০৬ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। এরপর আর কোনো নির্বাচন না হওয়ায় সেই জনসমর্থনের নতুন পরীক্ষা হয়নি। তবে গাজা প্রশাসন পরিচালনা, ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা, বন্দি বিনিময় এবং প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে হামাস এখনো ফিলিস্তিনি রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।   একইভাবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদও নির্বাচনি রাজনীতির বাইরে থাকলেও পশ্চিম তীরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ফাতাহ আন্দোলনও অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটে দুর্বল হয়ে পড়েছে।   বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না। বরং ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা (পিএলও)-এর ব্যাপক সংস্কার, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ।   তাদের মতে, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি উঠে এসেছে, তা হলো— গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির ও প্রবাসী ফিলিস্তিনিদের নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ফিলিস্তিনের জাতীয় আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের গতিপথ।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১,৭০০ কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সংসদ অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা ককরোচ পার্টির

ছবি: সংগৃহীত

ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, বিদায় নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ সোমবার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।   দায়িত্ব ছাড়ার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ ভাষণ দেবেন স্টারমার। এরপর তিনি ও বার্নহ্যাম বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।   এরপর ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের প্রথম ভাষণ দেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম। সেখানে তিনি ব্রিটেনের মানুষকে আরও স্বস্তির সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক অবশ্য নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বার্নহ্যাম স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করছেন।   বার্নহ্যাম শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। অন্য কোনো এমপি তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ না করায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলীয় প্রধান হন। এর আগে গত মাসেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন।   সূত্র: বিবিসি

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খাবার ডেলিভারি কর্মীর কবিতা জিতে নিল চীনের শীর্ষ সাহিত্য পুরস্কার

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া সীমান্তের কাছে ড্রোন ভূপাতিত করল ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে তৃতীয় তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪৫ ডিগ্রিতে

0 Comments